# সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি!

Author: তৌহিদুল ইসলাম
Published: 2019-12-01
Category: সোনেলা বার্তা
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%9b%e0%a6%bf/

সুলেখক এবং সুপাঠক বেষ্টিত সোনেলার সৌন্দর্য লেখায় বর্ণনা করা আমার মত অতি নগন্য লেখকের পক্ষে অত্যন্ত দূরহ আর কঠিন কাজ বলে মনে হয় সবসময়। আর তাই কুঁড়েমিরাও আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরে রাখে সবসময়। লেখার আলস্যতায় মাঝেমধ্যে একটি-দুটি কুঁড়েমির দিনকে পিছনে রেখে যাই। ছন্দে গাঁথা কুঁড়েমির কারুকাজে সজ্জিত করি অপ্রকাশিত শব্দগুলিকে। শব্দ ছন্দে-গাঁথার কুঁড়েমির কারুকার্যে খচিত এই যে চলতি মুহূর্ত এটি বর্তমানে আবদ্ধ নয়, নির্দিষ্ট কালের গন্ডিতেও এটি পড়ে না। তাই সোনেলাকে নিয়ে লেখার শব্দগুলি থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। কারণ সোনেলা নিজেই নিজের সৌন্দর্যে উদ্ভাসিত এবং এটাই চিরন্তন সত্য।

ইতিহাস সাক্ষী- আত্মজয়ী বিশ্বজয়ী নীরব নির্ঘোবনে লেখকেরা পরাজয়ের গ্লানি মাথায় ভরে কখনতো মাথানত করেনি এবং করবেওনা। সোনেলা আজ ঊর্ধ্বগিরি চূড়ায় বসে আছে তার ভক্তিমান তুষারশুভ্র নিরবতার মধ্যে। সোনেলার আকাশে নক্ষত্ররা নিদ্রাহীন চোখ নিয়ে খোঁজে আলোকের ইঙ্গিত। অকাল ঘনীভূত মেঘ আর নিশাচর পাখির চিৎকার শব্দে সোনেলার অপূর্ণতাগুলি উড়াউড়ি করছে বারংবার।

> সোনেলা আশ্বস্ত করে বলে- “ভয় নেই, তোমরা মহান সত্য প্রকাশ করে পূর্ণ হও! নিশ্চয় প্রত্যক্ষিত হবে আপন আলোতে। শব্দের গান ভাসিয়ে নিয়ে চলো সমুদ্রপথে, যেখানে সোনালি আভায় উদ্ভাসিত ঐ কাশের চামর দোলে নব সূর্যোদয়ের দিকে।”

তবে ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ব্লগে কিছু ব্লগার শুধু নিজেদের লেখা পোষ্ট করে চলে যাচ্ছেন, পোস্টে অন্যদের মন্তব্যের উত্তর দিচ্ছেন না। কেন? আমরা তা জানতে চাই। আপনার কি অন্য লেখকদের-

– লেখার বিষয় ভালো লাগছেনা?  
– যার তার লেখা আপনি পড়েননা?  
– আপনি অন্যদের চেয়ে ভালো লেখেন?

আবার কেউ কেউ অন্য লেখকদের লেখাও পড়তে চাইছেন না, কারন পড়লেতো মন্তব্য করতেন তাইনা? তাহলে লেখায় আপনি কি চান বা কেমন ধরনের লেখা পড়তে চান তা আমাদের বলুন? বা যারা লিখছেন তার লেখায় মন্তব্য করে জানান। কি করলে, কিভাবে লিখলে লেখাটি আরও চমৎকার হতো সেটা বলাও আপনার লেখকীয় নৈতিক দায়িত্ব তা নিশ্চই জানেন?

ব্লগে যারা লেখকীয় গুণাবলীর অন্যতম এই নিগুর সত্যটি মানছেন না, সোনেলা ব্লগ কর্তৃপক্ষ তাদের অনেকের এহেন স্ব-পক্ষপাতদুষ্ট কর্মটিকে কিছুতেই সমর্থন করতে পারছেনা।

আপনি নিজের পাঠক নিজেই তৈরী করুন। ব্লগে লেখায় মন্তব্য করলে লেখক এবং পাঠক দুজনেরই একটি মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্ক তৈরী হয় যাতে আদতে আপনারই লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই। একটি নির্দিষ্ট গন্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে আপনার লেখাকে ছড়িয়ে দিন পাঠক থেকে পাঠকের মনে। তবেইতো ভালো ব্লগার হতে পারবেন।

আপনি ভালো লেখক হলে দু’টি গুন আপনার মধ্যে অবশ্যই বিদ্যমান থাকতে হবে।

এক- অন্য লেখকদের লেখা বেশি বেশি পড়া এবং তাতে আপনার সুগঠিত মতামত প্রদান করা এবং

দুই- অন্য লেখকদের যথাযত সম্মান দিয়ে নিজে গুণান্বিত হওয়া।

এখন আপনিই ভাবুন- আপনি কোন পর্যায়ে আছেন?

সোনেলা ব্লগ আপনাদের লেখা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেবার জন্য যে প্লাটফর্ম আপনাদের দিয়েছে সেটাকে বুদ্ধিদীপ্ততার সাথে কাজে লাগান। প্রতিদিন আমাদের এডমিন এবং মডারেটরগণ নিজের নাওয়াখাওয়া ভুলে দিবারাত্রি ২৪ ঘন্টা আপনাদের লেখাগুলির বিভিন্নপ্রান্তে ছড়িয়ে দেবার জন্য যে পরিশ্রম করছেন তা যদি চোখে দেখতেন তাহলে আমি নিশ্চিত আপনাদের নাভিশ্বাস উঠতো।

বিনা পারিশ্রমিকে পাবেন এমন সহযোগীতা? এডমিনরা আপনাদের জন্যই এত ব্যস্ত থাকেন যে হয়তো নিজেরা অনেকেই আপনাদের লেখায় মন্তব্য করতে সামান্য দেরী করে ফেলেন তবে তাও কিন্তু এই ব্লগের জন্য আর আপনাদের জন্যই। এইসব কাজে ব্যস্ততার জন্যই আপনাদের লেখা পড়েও মন্তব্য করতে কিছুটা দেরী হয় আমাদের।

কিন্তু আপনারা অন্য লেখকদের লেখায় মন্তব্য না করে এবং নিজেদের লেখার পরিচর্যা না করে যে ভুল করছেন তা আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিনা। আমরা দশকদম এগোলে আপনাদেরকেও কিন্তু দু’কদম এগোতে হবে তাইনা?

আমরা দশের লাঠি একের বোঝা হয়ে থাকতে চাই। হুট করে একদিন দেখবেন আপনি পাঠকশুন্য! কি করবেন তখন? লেখালিখি ছেড়ে দেবেন? পারবেন তো থাকতে? আমি কিন্তু পারবোনা। এই যে আপনাদের জন্য নিরলস রাতদিন আমরা পরিশ্রম করছি তার মুল্যায়ন কি আপনাদের কাছে চাইতে পারিনা? এই চাওয়াটা কি অযৌক্তিক?

অনেকদিন আগে একবার বলেছিলাম আজ আবারও বলছি- যেদিন দেখবো সোনেলায় আমার লেখা পাঠকশুন্য হয়েছে তোমরা জেনে রেখো সেদিন আমার লেখকীয় সত্তারও মৃত্যু হবে। মৃত্যু হবে আমার অস্তিত্বের। অবসান হবে আমার চিরঞ্জীবী মনুষ্যত্বের।

আমার কথাটি ভেবে দেখবেন কিন্তু! কারন এটি আপনার জন্যেও প্রযোজ্য।
