# সবাই সমান নয়, পুরুষরাও শোষিত হয় !

Author: অরুণিমা মন্ডল দাস
Published: 2016-11-30
Category: একান্ত অনুভূতি
Tags: অরুনিমা মন্ডল দাস এর লেখা, পুরুষরাও শোষিচাত, সবাই সমান নয়
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a7%9f-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%93-%e0%a6%b6%e0%a7%8b%e0%a6%b7/

আমরা সবাই সামাজিক কেন না আমরা সমাজে বাস করি । আবার আমরা কেমন সমাজে বাস করি যে সমাজে নারী ও পুরুষ উভয় বসবাস করেন । কিন্তু আমরা নারী-সমাজ বলছি না ! সব সময়ই বলে থাকি পুরুষতান্ত্রিক সমাজ?

পুরুষতান্ত্রিক বাস করি সত্য কিন্তু সব পুরুষরাই খারাপ নন আবার সব মেয়েরাই মহীয়সী নন।

আসলে ব্যাপারটা হল এটাই ভালো মানুষ রা সব সময়ই ভালো হয়ে থাকেন। পুরুষ মহিলা সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

আপনি ট্রামে গেলেন বাসে গেলেন কোন মহিলাকেই দেখবেন না যে নিজের সীট ছেড়ে বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা মানুষকে দিচ্ছে ¡ একজন পুরুষ দেখবেন সীট আগে ছেড়ে দেবে?  
তাই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ বলে থাকি বটে কিন্তু আদপে কিছু ক্রিমিনাল গোছের লোক ছাড়া বেশীরভাগ পুরুষকে মহিলাদেরই স্বীকার হতে দেখা গেছে?

আপনি দেখুন সব জায়গায় কিন্তু মহিলা-তান্ত্রিক নিয়মই চলছে? এমনকি একটা মেয়ে কখনই আর একটা মেয়েকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে না? কারণ দেখুন মেয়েরা মেয়েদের সব থেকে বেশী হিংসে করে ,প্রকৃতপক্ষে মেয়েরাই মেয়েদের বেশী শত্রু হয়ে থাকে?

বধূ নির্যাতনে দেখুন শ্বশুরের থেকে শাশুড়ি বেশী অত্যাচার করে?  
পতিতালয়ে মেয়েদের সর্বনাশ কিন্তু সেই মায়ের জাত মাসি রাই করে থাকে?  
যে মেয়ের মা নেই তঁার মতো হতভাগী মনে হয় পৃথিবীতে নেই?  
এখানে বাবা অত্যাচার করছেন না করছেন সেই “মা ”–তঁারা নাকি আবার মমতাময়ী নারী¡ কাকিমা জ্যাঠিমা সবাই মেয়েটাকে খাটিয়ে নিতে পারলে ভালো মনে করে! নিজের সন্তান ছাড়া কিছু মায়ের জাতেরা পরের সন্তানকে খুন করতে , ছলনা করে সম্পত্তি হাতিয়ে সোনার সংসার নষ্ট করতে ও দ্বিধাবোধ করে না ¡ কিছু মহিলা আবার নিজের ছেলে বৌকে পুড়িয়ে মারতেও পিছপা হন না?

ছেলেদের ক্ষেত্রে মা না থাকলে একটু কষ্ট হয় কিন্তু একটা মাতৃহীনা অভাগী মেয়ের মতো নরকযন্ত্রণা প্রতিপদেপদে ভোগ করতে হয় না ।

শাস্ত্রে আছে নারী হল কামিনী। শ্রীরামকৃষ্ণদেব বলেছেন মানুষ কামিনীকাঞ্চন মুক্ত হয়ে যেদিন জীবনযাপন করবেন সেদিন তিনি প্রকৃত জ্ঞান লাভ করবেন। লোভ মোহ মায়া মমতা ত্যাগী মানুষ ই চিরসুখী এবং পবিত্র আত্মার অধিকারী।  
তিনি আরও বলেছেন সংসারী মানুষ কখনই শান্তিতে থাকতে পারবেন না। কামনা বাসনা অর্থ দম্ভের বিষ পিঁপড়ে তঁাকে সর্বক্ষন তাড়িয়ে বেড়াবেই? আপনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা পর্যবেক্ষন করে দেখবেন —আপনার অনেক টাকা বিপুল সম্মান কিন্তু আপনি জীবনে পরম সুখ পাননি। আপনাকে শুধু জীবন ট্রেনের পিছনে ছুটে ছুটেই দিন কাটাতে হয়েছে?

একটি ঘটনা/অরুণিমা মন্ডল দাস

প্রকৃতির নিয়ম বড় নিষ্ঠুর । কারও জীবনে সুখের পর সুখ আবার কারও দুখের সীমা নেই।  
এক মধ্যবিত্ত পরিবারে সুকল্যানের জন্ম । জন্ম থেকে তঁাকে সবাই ভালোবাসে খুব । মাথায় ঝাকড়া চুল । বড় বড় চোখ। বেজায় বুদ্ধি। যাইহোক সুকল্যান বাবার সপ্তম সন্তান। তাই সুকল্যানের জ্যাঠামশাই সুকল্যানকে নিজের ছেলে হিসেবে মানুষ করেছে।

যাইহোক সে যেমন পড়াশোনায় ভালো তেমনি খেলাধুলায় । স্কুলে শিক্ষকদের খুব ছাত্র ছিল সে । সবাই খুব ভালোবাসত। বই পত্র আর যাবতীয় খরচপাতি জ্যাঠা ই চালাত।

যাইহোক মাধ্যমিকে স্টার মার্ক নিয়ে পাশ করল। উচ্চমাধ্যমিকেও তাই । পরিবারের ইচ্ছে ছেলেকে ডাক্তারী পড়াবে । তাই হল । গ্রামের ছেল শহরে আ্যডজাস্ট করতে কষ্ট হলেও পরের দিকে সব সয়ে গেল। সুকল্যাণ পরিবারের মুখ রাখল ডাক্তার হয়ে গ্রামে ফিরল। গ্রামের সবাই খুশি। সুকল্যান টাকা হাতে পেয়ে দুহাতে টাকা ওড়াতে শুরু করল । নিজের পরিবার থেকে গ্রামের লোকেদের বিলোতে লাগল।

এরপরে যা ঘটল তা সত্যিই বেদনাদায়ক ও খুব দুঃখের। সুকল্যান শহরে ডাক্তারী করা কালীন এক পেশেন্ট অল্প বয়শী সুন্দরী মেয়ের প্রেমে পড়লেন আর বিয়েও করে নিলেন এমনকি মায়ের মৃত্যুর সময় ও আসতে পারলেন না ।

বেশ কিছুদিন ভালোই কাটছিল । আসলে সুখী সংসার ভগবানেরও মনে হয় সহ্য হয় না ! সুকল্যাণ খুব সুদর্শন একজন দয়ালু সরল মানুষ ছিলেন । হাসপাতালের একজন নার্স এবং একজন মহিলা টিচারের নজর পড়ল ওদের সুন্দর সংসারের প্রতি । কথায় আছে মেয়েদের ছোবল আর নজর সর্বদা এক হয়ে থাকে—কালসাপের থেকেও বিষাক্ত?

একজন ডাক্তার যতই মহাপুরুষ চরিত্রবান হন না কেন মেয়ের প্রলোভন থেকে কেউই সচরাচর বাঁচাতে পারেন না । যাই হোক সেই থেকে উনার পতন শুরু । এদিকে উনার মনে দুঃখ একটা তো ছিলই । উনার মেয়ে দুটো। কোন ছেলে নেই । সেই নিয়ে বাড়িতে অশান্তি মারধোর প্রায়ই লেগেই থাকত । তাতে মদত দিত ওই দুই প্রেমিকা । টাকার অর্ধেক ওদের পিছনে উড়িয়ে দিত । মেয়েদের আর বৌর নামে একটা টাকা ও রাখার প্রয়োজন মনে করেন নি !

অবশেষে কি হল ? মেয়েরাই মেয়েদের শত্রু? সুকল্যান নেশাগ্রস্থ ,অর্ধ পাগলের মত থাকতেন । প্রেমিকাদের পিছনে সময় নষ্ট করে বেড়াতেন

কিছুদিন বাদে দেখা গেল মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রেমিকা গন পালিয়ে গেল । আবার এদিকে বৌ ও টরচার সহ্য করতে না পেরে ডিভোর্স দিল —

বাকী থাকল দুজন মেয়ে —তাঁদের জীবন নরক– কোনরকমে এ ওর লাথি ঝাঁটা খেয়ে মানুষ হতে লাগল। আর সুকল্যান দুঃখে শোকে পুরো পাগল হয়ে বাড়ীতে বসে । চাকরিহীন একজন নির্জীব শিক্ষিত !

\============  
অরুনিমা মন্ডল দাস  
কোলকাতা, ভারত  
২৯ নভেম্বর’ ২০১৬
