# সন্তান ও জীবন এবং বার্ধক্য

- Author: [রিতু জাহান](https://sonelablog.com/author/mounata/)
- Published: 2019-03-10T05:43:18+00:00
- Updated: 2019-03-10T06:53:30+00:00
- Category: [সমসাময়িক](https://sonelablog.com/category/current_affairs/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%93-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%95%e0%a7%8d/

---

*সন্তান ও জীবন এবং বার্ধক্য *  
আমরা মা বাবা এক সময় সন্তানকে অন্যান্য সকল সন্তানদেন চেয়ে শ্রেষ্ঠ বানানোর জন্য একটা রেসএ ছেড়ে দেই। সন্তান দৌড়ায়ও প্রাণপন। কোনো কারনে দুই একজন বাদে প্রত্যোকেই গন্তব্যে পৌছায় একটু আগে বা পরে।  
এই আমি স্বপ্ন দেখি সন্তান আমার একজন সায়েন্টিস্ট হবে। আকাশ মহাকাশ নিয়ে গবেষণা করবে। নাসায় যাবে। দশটা মানুষ তাকে চিনবে তার আলাদা বৈশিষ্ট্য নিয়ে। বিশ্ব চিনবে তাকে সেও চিনবে বিশ্বকে। ছোটোবেলা থেকে তার সাথে গল্প করে করে তার চিন্তা চেতনাকে সে পর্যায়ে পৌছে নিয়ে যাই আমার মতো অনেক মা। যার যার আলাদা স্বপ্ন ও আশা নিয়ে।  
সন্তান দৌড়ায় সে স্বপ্নের গন্তব্য পর্যন্ত।  
অধিকাংশ সন্তানই কিন্তু পৌছে যায় সে গন্তব্য পর্যন্ত।  
সেদিন আমরা মা ছেলে হসপিটালে বসে গল্প করছিলাম। সে আমাকে নেট ঘেটে অদ্ভুত সব জিনিস দেখাচ্ছিলো মহাকাশ নিয়ে বিভিন্ন গ্রহ নিয়ে। তার ডায়রির পাতায় লেখা মৌমাছির জীবন বৈশিষ্ট্য নিয়ে। যেটা সে নিজে লিখেছে।  
কথার এক ফাঁকে আমি বললাম,’ তুই চাঁদে বা মঙ্গলে গেলে আমি কি করে থাকব! নাসায় গেলে তো তুই আমাকে ফোনও করতে পারবি না।’  
সে অবাক হয়ে আমাকে বলল,’তুমি তোমার কথা থেকে সরে আসতেছো আম্মু।’  
আমি বললাম,’কেমন!’  
সে আমাকে বলতেছে, ‘তুমিই না সেদিন আমাকে বললা একটা রিপোর্ট এসছে সিনিয়র সিটিজেনদের নিয়ে যে, অমানুষদের তালিকায় উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই বেশি। এক কথায় উচ্চ শিক্ষিতরাই বেশি। বিশেষ করে যারা বিদেশে এরকম স্বপ্ন নিয়ে তাদের সন্তানদের পড়তে পাঠায়। আর এটা পড়ে তুমি সে সব মা বাবা ও যে রিপোর্ট করেছে আর যারা নেগেটিভ মন্তব্য করেছে তাদের বকা দিলা।’  
আমার সন্তানের সামনে আমিই আমার কথার ও ভাবনার জালে আটকে গেলাম। তাই তো!!  
বাবা মা স্বপ্ন দেখে উচ্চ আকাঙ্ক্ষায় তাদের সন্তানদের বিদেশে বড় বড় প্রতিষ্ঠানে পড়তে পাঠিয়ে দেয়। তারা পড়াশুনা শেষ করে সেখানে তাদের মতো একটা জীবন গড়ে নেয়। গড়ে নেয় বলতে, হয়ে যায়।  
পড়াশোনা করতে গিয়ে একটা দীর্ঘ সময় সেখানে তাদের থাকতে হয়। সেখানকার পরিবেশ পরিস্থিতি আবহাওয়া বন্ধু বান্ধব সব মিলায়ে তাদের একটা জীবন। একটা কথাই আছে ছাত্র বয়সের যে সময়টা তা জীবনের অন্যতম সময়। এ সময়টাও কিন্তু দীর্ঘ একটা সময়। আর এ সময়টাতে তাকে ঘিরে থাকা পরিবেশটাকেই তারা বড় আপন করে নেয়।  
বিদেশে দৈনন্দিন জীবন চলায় প্রতিটা জিনিস একটা সিস্টেমে চলে। পথে ঘাটে চলতে তাদের তেমন কোনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় না। হাঁটতে চলতে তাদের দেখতে হয় না কোনো সাধারণ মানুষ লুঙ্গি তুলে পস্রাব করতে বসেছে পথে ঘাটে যেখানে সেখানে। বা কোনো লোক লুঙ্গির মধ্যে হাত দিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে এস্তেঞ্জা করছে, কেউ দেদারসে বিড়ি টানছে। ধোয়া ছাড়ছে মুখের উপরে। একটা পাবলিক বাসের কোনো নির্দিষ্ট বাস স্টপ নেই। যার যখন যেখানে ইচ্ছা বাস থামিয়ে নেমে পড়ছে।  
বিশেষ করে এই যাতায়াত ব্যাবস্থাই প্রধান আমি বলব। বিদেশ কোনো সামাজিক বৈষম্য। সব থেকে বড় কথা অসুস্থ প্রতিযোগিতা নেই। নিত্য পারিবারিক কলহ নেই।  
আর যে সন্তান এ দেশে থেকে শৈশব কৈশোরে বাবা মা, পরিবার ও সমাজে অস্বাভাবিক অস্বস্তিকর এক কলহ দেখে বড় হয়ে যখন বিদেশে পড়তে গিয়ে ও দেশে সেটেল হয়, তখন সে মানুষটি আসলে আর চায় না তার সন্তানও অন্ততপক্ষে তার মতো একটা শৈশব ও কৈশোর পাক।  
আরো একটা ব্যাপার যেখানে স্কুল ভর্তি যুদ্ধ। এবং একটা সময় এসে যেখানে একটা বাচ্চা নিজে থেকে ঠিক করতে পারে না যে সে কোন সাবজেক্ট পড়তে চায়।  
পাঠ্য বইগুলোতে এমন সব বিষয় উপস্থাপন যেটা পড়ে একটা বাচ্চার কোনো কাজেই আসে না। যে দেশে কিছু গোষ্ঠী ঠিক করে দেয়, পাঠ্য বইএ গোড়া ধর্মীয় কিছু বিষয়বস্তু উল্লেখ থাকতে হবে।  
যে দেশে ক্লাসরুমে একটা বৈষম্য তৈরি হয় সে অমুকের বাচ্চা, ও অমুকের বাচ্চা।  
তখন একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কখনোই পড়াশুনা শেষ করে এ দেশে এসে মায়ের পছন্দ করা একেবারে বাঙলা ঘরনার কোনো মেয়েকে বিয়ে করে নিত্য সংসারে পেন্সিল দিয়ে লেখা অমলিন খসড়া খাতা রাবার দিয়ে বার বার সে মুছে ঠিক করবে।  
বা সে তার সন্তানকে এ দেশে অসুস্থ সামাজিক পরিবেশে বেড়ে উঠতে দিবে।  
এমন একটা স্কুলে কি ভর্তি করাবে যে স্কুলে প্রতিনিয়ত অসুস্থ প্রতিযোগিতা হয়?  
বা স্কুলে যেতে আসতে তাকে যে প্রতিনিয়ত মৃত্যুপুরি দিয়ে যেতে হবে সে পরিবেশ দিতে?  
এমন কোনো দিন নেই যেখানে আমরা একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু দেখি না। বাসের চাপায় পিষ্ট হতে দেখি না।  
সেদিন উলিপুরে একটা ছোট্ট ফুটফুটে মেয়েকে মরে যেতে দেখলাম অটো রিক্সার চাপায় পিষ্ট হয়ে।  
আমি কিন্তু নির্দিষ্ট করে আমার দেশের দোষ দিচ্ছি না। বা স্কুলেরই দোষ দিচ্ছি না।  
আমি দোষ দিচ্ছি আমাকেই। পুরো সিস্টেমকে। এবং আমরা যারা সাধারণ, যাদের মানসিকতা এখনো সে রকম তৈরি হয়নি যেখানে আমরা আমাদের সন্তানদের উন্মুক্ত একটা সু শৃঙ্খল পরিবেশ দিতে পারছি না তাদের। আমরা চাচ্ছি আমাদের পরিবর্তন হোক কিন্তু আমরা সে পরিবর্তন নিজেরাই করছি না।  
বা রাস্ট্র কি মূল্যায়ন করছে একটা মেধার?  
প্রতিদিন আমার দেশের মেধা বিক্রি হচ্ছে সামান্য কিছু অর্থে।  
আবার অনেকে এমনও আছে কিছু মায়েরা তাদের সন্তানকে পড়াশুনা করা এবং কোনো কাজ করা থেকে বিরত রাখে। এটা আমার চোখে দেখা বাস্তব উপলব্ধি। সে সব নিন্ম মধ্যবিত্তের সংসারে একজন যদি কোনো রকম একটা অবস্থানে যায় তখন সে বাবা মা তার অন্যান্য সন্তানদের কোনোরকম প্রতিষ্ঠিত সন্তানের ঘাড়ে উঠায়ে দেয়। কলুর বলদের মতো সে সন্তান সবাইকে টানতে টানতে একসময় হাঁপিয়ে ওঠে। তখনও বাবা মায়ের উল্টা সুর শুরু হয়। তখন তাদের ভাষ্য হয় এরকম যে, বাবা মা সব সন্তানকেই সমান ভালবাসে শুধু দুর্বল যে তার প্রতি একটু সদয় হয়!  
এতে করে আসলে বাবা মা সে সন্তানের কাছেই অশ্রদ্ধায় পরিণত হয়। অনিচ্ছা সত্ত্বেও একটা বিরক্ত চলে আসে বাবা মায়ের উপর। একসময় পরিবার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটা চলমান সত্য এ দেশের নিন্মবিত্তের পারিবারিক প্রেক্ষাপট।  
হ্যাঁ, আমরা আবেগ প্রবণ। অনেকেই বলেন আমাদের আবেগ অত্যন্ত বেশি অন্য দেশের তুলনায়। সেদিন একটা মন্তব্যে মেহেদি ভাাই এর কথাতেই মাথায় আসলো।  
কথাটা আসলে ঠিক না। বিদেশিদেরও আবেগ আছে। তারাও বাবা মা। কিন্তু তাদের আবেগটা অবাস্তব নয়। যখন আপনার আবেগের সাথে বাস্তব একেবারে থাকবে না তখন আপনি আর প্রকৃত মানুষ থাকবেন কি?  
এই যে, পরকিয়া নামক শব্দের কারনে হোক আর মেয়ে সন্তান হবার কারনে হোক বা পারিবারিক অন্যান্য কলহের কারণে হোক এ অতি আবেগপূর্ণ দেশের মানুষই তার কোলের সন্তানকে বেশী হত্যা করে। এ দেশের বেশির ভাগ বাবা মা তার সন্তানকে বড় করে একটা পারিবারিক কলহের মধ্যে। সন্তানের সামনে প্রতিনিয়ত মার খায় মা, গালি শোনে মা, আবার অনেক ক্ষেত্রে মাও চিৎকার করে সংসারে। এসব দেখে দেখে শিশু বড় হয় একটা অসুস্থ মানসিকতা নিয়ে।  
বিদেশে হলে কি হতো? সেখানে তথাকথিত সামাজিক বেড়াজাল না থাকার কারণে, সে মা সন্তানের সামনে নিজের ও সন্তানের  অস্তিত্ব টিকাতে সাইকো সে স্বামীকে লাত্থি মেরে বের হয়ে আসতো।  
আর আমার সমাজে হলে আমিই বলতাম, এই সন্তানের জন্যই আর একটু ধৈর্য্য ধরতে আর একটু মাইর খেতে। সন্তানের সাহস নামক মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিতে। সন্তানও যদি ছেলে হয় তখন সেও শিখে নিতো বউ কিভাবে পিটাতে হয়। আর মেয়ে হলে সে শিখে নিতো একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে এমন দৈব বাণীতে কি করে মাইর হজম করতে হয়।  
মধ্যবিত্ত দেশ, মধ্যবিত্ত পরিবার তাই মধ্যবিত্ত মানসিকতা। এখান থেকে বের হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়।  
বিদেশে যারা পড়তে গিয়ে আর এ দেশে ফিরে আসেনি তাদের আমি কখনোই কোনোমতেই দোষ দেই না।  
কারণ, তারা বেশিরভাগই তাদের বাবা মাকে তাদের কাছে নিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু তাদের বাবা মায়েরা যেতে চায় না এ দেশ ছেড়ে। আর যারা যেতে চান না তারা অযথা সন্তানের দিকে আঙ্গুল তুলে সন্তানকে কলুষিত করারই বা কি দরকার?  
যদি তারা না যেতে চায় সে ক্ষেত্রে করণীয় কি, তা ভাবতে হবে। এমনও আছে তারা প্রচন্ড অভিমানে সন্তানের কাছ থেকে তখন টাকা পয়সাও নিতে চায় না।  
যদি বাবা মায়ের আচরণ ও অভিযোগটা এমন হয় যে সন্তান আর দেশে আসে না বা এসে আর তাদের কাছে থাকে না তবে কেনো রেসএ উঠায়ে দেয়া? সন্তানের মধ্যে বড় বড় স্বপ্নের বীজ বোনা?

,,,রিতু,, কুড়িগ্রাম  
১০.০৩.১৯.

---

Comments: 22 — https://sonelablog.com/%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%93-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%95%e0%a7%8d/#comments
