# শেষ থেকে শুরু_পর্ব দশ

Author: সুরাইয়া পারভীন
Published: 2020-09-30
Category: একান্ত অনুভূতি
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%81_%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a6%a6%e0%a6%b6%e0%a6%ae/

#### [শেষ থেকে শুরু\_পর্ব নবম](/%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%81_%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%ae/)

\-কী হলো চুপ করে আছেন কেনো? বলুন না সবটা। আমার জানা খুব দরকার। প্লীজ বলুন

\-হ্যাঁ আমার মামু সাইক্রিয়াটিস্ট শায়ন আহমেদ শিমুল। আপনার মামুনির ক্লাসমেট ছিলেন। খুব ভালোবাসতেন আপনার মামুনিকে, বাসতেন কী এখনো খুব ভালোবাসেন। কিন্তু কখনো বলে উঠতে পারেননি। আর তাই এতো গুলো বছর ধরে একা একা নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছেন। আর ওদিকে দেখুন আপনার মামুনিকে দিব্যি সুখের সংসার করছেন।

\-আপনি আমাকে নিয়ে যাবেন উনার কাছে?

\-মানে! কী বলছেন আপনি মামুর কাছে যাবেন?

\-হ্যাঁ যেতে চাই এবং এক্ষুনি!

\-এখন কী করে সম্ভব? এখন তো আমার ক্লাস। আর তাছাড়া আপনি মামুর কাছে গিয়ে কেনো শুধু শুধু তাঁর যন্ত্রণা বাড়াবেন বলুন?

সেঁজুতি আর একটাও কথা না বলে শ্রাবণের হাত ধরে গট গট করে বেড়িয়ে এলো ক্যাম্পাস থেকে। সেঁজুতি একটা রিক্সাকে ডেকে উঠে পড়লো এবং শ্রাবণকেও উঠতে বললো। শ্রাবণ পড়লো চরম অস্বস্তিতে। সেঁজুতি ব্যাপারটা বেশ ভালো করেই বুঝতে পেরে মৃদু হেসে বলল দেরী হচ্ছে উঠুন প্লীজ! শ্রাবণ কী করবে ভেবেই অস্থির? সেঁজুতি অনেকটা ধমক দিয়ে বললেন উঠুন তো দ্রুত।

শ্রাবণ বাধ্য ছেলের মতো উঠলো রিক্সায় এবং গুটিসুটি হয়ে বসলো। রিক্সা চালক কই যাইবেন বলে জিজ্ঞেস করলে সেঁজুতি শ্রাবণকে এ্যাড্রেস দিতে বললেন। শ্রাবণ এ্যাড্রেস বলে দিল।

সেঁজুতির এইসব কর্মকাণ্ড দেখে শ্রাবণ মনে মনে ভাবছে। এ কেমন মেয়েরে বাবা! এতোটুকু ভয় ডর নেই প্রাণে? সম্পূর্ণ অপরিচিত একটা ছেলের হাত ধরে হির হির করে টেনে রিক্সায় তুলে নিল। কী দুর্দান্ত সাহস মেয়েটির?

শ্রাবণকে চুপ থাকতে দেখে সেঁজুতি জানতে চাইলো ভাবছেন তো কতো বাজে মেয়ে আমি!

\-না সেটা ভাবছি না। তবে আপনার সাহস দেখে আমি অবাক! সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষ আমি। আপনার ক্ষতির কারণ হতে পারি তবুও এতোটুকু ভয় নেই দেখে আশ্চর্য হচ্ছি!

\-সে আপনি আমার কেনো অন্য কোনো মেয়ের ক্ষতির কারণ হতে পারবেন না তা খুব ভালো করেই বুঝে গেছি।

\-বাহ্! তা কী করে বুঝলেন?

\-ঐ যে আমার মামুনির প্রতি অভিমান। যে অমন অভিমানী হয় তার পক্ষে কারো ক্ষতি অসম্ভব। আর তাছাড়া এই যে একটা মেয়ের পাশে আই মিন এতো কাছে বসেও সুবোধ বালকের মতো গুটিসুটি মেরে বসে আছেন।

শ্রাবণ লজ্জায় লাল হয়ে গেল এবং ইজি হয়ে বসার চেষ্টা করলো দেখে সেঁজুতি অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। শ্রাবণ আরো বেশি অস্বস্তিতে পড়লো। রিক্সা পৌঁছে গেলো গন্তব্যে। শ্রাবণ রিক্সা ভাড়া দিতে চাইলে না করলো সেঁজুতি। অনেকটা জোর জবরদস্তি করে শ্রাবণই ভাড়া মিটিয়ে দিল।

শ্রাবণ কলিং বেল চাপতেই শায়ন বেড়িয়ে এলো।

শ্রাবণকে দেখেই বলে উঠলো…

\-তুমি এখন বাসায় ফিরলে যে! ক্লাস ছিল বললে

শায়ন মাথা নিচু করে রইল। এমন সময় সেঁজুতি সামনে এসে শায়নকে ছালাম দিল। শায়ন সালাম নিয়ে শ্রাবণকে বলতে যাবে মেয়েটি কে? এমন সময় সেঁজুতি বলে উঠলো আমি আপনার মায়াবতীর একমাত্র কন্যা।

হকচকিয়ে উঠলো শায়ন! অস্ফুটিত শব্দে বললো মানে! 

সেঁজুতি বললো…

\-সরি আংকেল মজা করলাম। আমি সুনয়নার মেয়ে সেঁজুতি। আমি ভেতরে আসতে পারি!

শায়ন হতভম্ব সাথে বিস্মিত হলো। সেঁজুতি দারুণ মিষ্টি দেখতে, অনেকটায় সুনয়নার মতো। শায়ন দরজা থেকে সরে দাঁড়িয়ে সেঁজুতিকে ভিতরে যেতে বললো। সেঁজুতি ভিতরে গেলে শায়ন জিজ্ঞাসু চোখে শ্রাবণের দিকে চেয়ে রইল। শ্রাবণ তার মামুনকে বললো পরে বলবে সব ঘটনা। শায়ন শ্রাবণ দু’জনেই ঘরে ঢুকলো।

সেঁজুতি খুব ইজিলি কথা বলতে শুরু করলো শায়নের সাথে যেনো কত বছরের পরিচিত ওরা। শায়নের মনে পড়ে গেলো কলেজের প্রথম দিনের কথা। সুনয়নাও ঠিক এমনই ছিলো। কত সহজেই শায়নের ভালো বন্ধু হয়ে গেছিল। সুনয়না স্বভাবে একটু রাগী তবে ব্যবহারে বেশ মিষ্টি ছিল। শায়নের ভাবনার ছেদ পড়লো সেঁজুতির কথায়।

\-আংকেল আপনাদের কিচেনটা কোনদিকে বলুন তো?

\-ওহ্ সরি। কী নেবে বলো, চা না কফি?

\-আপনি বলুন আমিই কফি করে আনছি। কফিটা আমি বেশ ভালোই বানাতে পারি। মামুনি বলে।

\-তুমি বসো আমরা গল্প করি। কফি চলে আসবে

সেঁজুতি শুনলোই না কিছু। সে নিজেই গেলো কিচেনে। তিন মগ কফি করে নিয়ে এলো ড্রয়িং রুমে। ওকে দেখে মনে হচ্ছে যেনো এই বাড়ির মেয়ে…
