# শিক্ষা ব্যবস্থা দেশে এবং প্রবাসে

- Author: [রিমি রুম্মান](https://sonelablog.com/author/rimee-rumman/)
- Published: 2016-12-31T09:02:02+00:00
- Updated: 2016-12-31T09:02:02+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/), [সমসাময়িক](https://sonelablog.com/category/current_affairs/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82/

---

**নিউইয়র্ক সিটির স্কুলগুলোয় প্যারেন্ট-টিচার কনফারেন্স হয় বছরে চারবার। সন্তানের অগ্রগতির ব্যপারে আলোচনার জন্যে শিক্ষকদের সাথে বাবা-মা’র বৈঠক এটি। যেহেতু এখানে আমাদের দেশের মত রোল নং ১,২,৩… দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মেধার মূল্যায়ন করা হয় না, বিধায় প্রতিবার বৈঠকেই ক্লাসে অন্যদের চেয়ে আমার সন্তানদের তুলনামূলক অবস্থান জানার জন্য আমাকে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে হয়। যেমন, সে যদি অংকে ৯৫ পায়, আমি শ্রেণি শিক্ষককে জিজ্ঞেস করি, “তোমার ক্লাসে ৯৫ এর উপরে নাম্বার কি কেউ পেয়েছে ? কতজন পেয়েছে ? কোন বিষয়ের শিক্ষক বলেন, আমার ক্লাসে সে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। কোন বিষয়ের শিক্ষক বলে, আমার ক্লাসে সে তৃতীয়, চতুর্থ অবস্থানে আছে। এমন করে আমি একটি ধারনা নেই। এখানে স্কুলগুলো প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রাইভেসি মেইনটেইন করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একজনের ফলাফল অন্যজন জানতেও পারেনা। কেননা এতে শিশুরা হিংসাত্মক হয়ে উঠে। কখনোবা হীনমন্যতায় ভোগে।  **

**খুব ছোটবেলা থেকেই তাঁদের নানান টপিকের উপর লিখতে দেয়া হয়।তার আগে ধারনা দেয়া হয় লেখাটির শুরু কেমন করে হবে, মাঝের প্যারা কেমন হবে, আর উপসংহার কেমন হবে। যেমন, একদিন বাচ্চাদের দলবেঁধে স্টেডিয়ামে নিয়ে যায়, খেলা দেখায়, এবং খেলা সম্পর্কে লিখতে পরদিন সকলকে হোমওয়ার্ক দিয়ে দেয়।আবার, কখনো চিড়িয়াখানায় ট্রিপে নিয়ে যায়, ঘণ্টা খানেক ঘুরিয়ে দেখায়, এবং তা সম্পর্কে লিখতে পরদিন হোমওয়ার্ক দেয়। অতঃপর প্রত্যেকে নিজের মত করে লিখে। যাঁদের লেখা সবদিক থেকে ভাল হয়, সেগুলো নোটিশ বোর্ডে লাগিয়ে দেয়া হয় অন্যদের দেখবার, জানবার, শিখবার সুবিধার্থে। কোন শিক্ষক আবার সর্বোচ্চ নাম্বার পাওয়া লেখাগুলো কপি করে অন্য ছাত্রছাত্রীদের বিলি করেন নিজ দায়িত্বে। এভাবে প্রায় সকলেই এগিয়ে যায়। একের সাথে অন্যের ফলাফলের পার্থক্য খুব বেশি হয় না। আর যারা আশানুরূপ ফলাফলে ব্যর্থ হয়, তাঁদের জন্যে সামার ক্লাস থাকে। অর্থাৎ গ্রীষ্মের দুই মাস বন্ধের সময়টাতে মানোন্নয়নমূলক কর্মসূচি এটি। এছাড়াও পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্যে আফটার স্কুল কর্মসূচি থাকে। স্পেশাল ক্লাস থাকে। অর্থাৎ তাঁদেরও এগিয়ে নেবার জন্যে প্রচেষ্টার কমতি থাকে না। **

**আমাদের দেশের স্কুলগুলোতে যাদের রোল নং প্রথম দিকে, তাঁরা কখনো পিছিয়ে থাকাদের সাথে বন্ধুত্ব করে না। কথা বলতে চায় না। একরকম অহংকার নিয়ে দাপটের সাথে থাকতে পছন্দ করে। এমন কি শিক্ষকরাও অন্যদের সামনে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের তাচ্ছিল্য করতে ছাড়ে না। অধিকাংশ ভাল ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের লেখা কিংবা নোট অন্যদের দেখতে দিতে চায় না। আমার এখনো মনে আছে, কিভাবে লিখলে ভাল নাম্বার পাওয়া যায় সেটি জানবার জন্যে, শুধু একটু ধারনা নেবার জন্যে, পাশে বসা ভালো ছাত্রীটির নোট দেখতে অগোচরে ঘাড় বেঁকিয়ে চেষ্টা করতে হতো। একদিকে শিক্ষকদের তাচ্ছিল্য, অন্যদিকে বাড়িতে বাবা-মা’র “অমুক পারলে তুই পারবি না কেন” টাইপের কথা __ কি নির্দয় মানসিক চাপ ! **

**আমার এক বন্ধুর মেয়ে জিপিএ ফাইভ পায়নি বলে ভয়ে বাবার কাছ থেকে একরকম পালিয়ে পালিয়ে থাকছে। তাই এ লেখার অবতারনা।**

**একজন মা কোথাও একাকি বেড়াতে গেলে, কেউ ভাল কিছু খেতে দিলে শুধুই সন্তানদের কথা মনে পড়ে। মনে হয়, ইস্‌ আমার সন্তান এই খাবারটা পেলে কতোই না খুশি হতো। আমার অবস্থা হয়েছে অনেকটা এমন। বিদেশে ভাল কিছু দেখলে শুধুই মনে হয়, ইস্‌, আমার দেশেও যদি এমন হতো !     **

সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা…

রিমি রুম্মান

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

---

Comments: 8 — https://sonelablog.com/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ac%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82/#comments
