# শিক্ষার কারিগর

- Author: [রেজওয়ান](https://sonelablog.com/author/rezwan22/)
- Published: 2019-11-22T12:43:23+00:00
- Updated: 2019-11-22T12:43:23+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%b0/

---

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2019/11/big-family-clipart-10.jpg)

আপনার সন্তানকে মারবেন না!

অনেকেই বলে থাকেন, দুষ্টুমি করে, মিথ্যা কথা বলে, কিংবা অন্যরা নালিশ নিয়ে আসলে মারবো না তো কি করবো? আবার এও বলেন আমার সন্তানকে আমি মারবো, তাতে আপনার কি?

হ্যাঁ এখানেই মূল সমস্যা। আপনার সন্তান মানেই কিন্তু আপনার সম্পত্তি নয়, সে সম্পূর্ণ একটি আলাদা সত্ত্বা, সেটা ভাবতে শিখুন। এ পৃথিবীতে এমন কেউ নেই যাকে দুঃখভোগ করতে হয়নি বা হচ্ছে না। তা সত্ত্বেও এই দুঃখময় পৃথিবীতে আমরা যখন কাউকে (সন্তান) নিয়ে আসছি তখন তাকে অন্তত আপনার মুখোমুখি হওয়া দুঃখ কষ্ট থেকে আগলে রাখার দায়িত্ব নিয়েই সেই সন্তানকে আনা উচিৎ। হাজার ভুল করলেও তাকে বোঝানোর দ্বায়িত্বটা বাবা-মা’কেই নেওয়া উচিৎ যা অবশ্যই মারধর করে নয়।

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি সন্তানকে মারধর করা বাবা-মা,আত্মীয় কিংবা শিক্ষকরা আসলে প্রকৃত অর্থে বাবা-মা কিংবা অভিভাবক বা উন্নত মন-মানসিকতার শিক্ষক হয়ে উঠতে না পারার ব্যর্থতা ঢাকতেই সন্তানদের মারধর করে থাকেন। আপনি একটি শিশুর দায়িত্ব নিতে না পারা সত্ত্বেও দায়িত্ব নিয়ে তাকে বকা দেওয়া বা মারধর করা সম্পূর্ণ অনুচিত এবং সে অধিকার আপনার নেই হোক সে আপনার রক্ত বা ডিএনএ!

শিশুর দায়িত্ব নিতে চাইলে প্রয়োজনে শিশুদের কিভাবে দেখোশোনা করতে হয় সেটা আগে শিখে নিন। শাসনের নামে মানুষিক নির্যাতন বা মারধরের চেয়ে ভালোবাসা অনেক কঠিন, ভালবাসতে শিখুন। সন্তানকে বোঝার চেষ্টা করুন। দয়াকরে অন্যের কথায় বা নালিশে আপনার সন্তান দোষি এই ভেবে বিচার করার সিদ্ধান্ত নিবেন না। কথা বলুন, রাগের স্বরে নয় বরং জানার জন্য। সন্তানের সিদ্ধান্তের চেয়ে আপনার সিদ্ধান্ত ভাল সেটা বুঝান তাকে কিন্তু ঘাড়ে চাপিয়ে দিবেন না। আপনি যেটা করতে পারেন নি বা যেটা আপনার স্বপ্ন ছিলো কিন্তু কোনো কারণে হিয়ে উঠেনি সেটা আপনার সন্তানকে দিয়ে করানোর ইচ্ছাটা বাদ দিন। আস্বস্ত করুন সন্তানের ইচ্ছাই আপনার স্বপ্ন। (লেখাপড়া জন্য বিষয় নির্বাচন করা-খেলাধুলার সিদ্ধান্ত) দেখবেন সংসারে অশান্তি বলে আর কিছু থাকবে না। বিশ্বাস করুন আমি বলছি পারিবারিক বন্ধন অটুট থাকবে চিরকাল।

সন্তান যতই ছোট হোক পরিবারের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে মতামত নিন, দেখবেন কত তাড়াতাড়ি আপনার সন্তান আপনার মনের মত হয়ে উঠে। একটা পরিবারে ভালবাসা স্নেহ থাকাটা অনেক জরুরি। ভালবাসতে শিখুন, এই কাজটা সাধারণত কাপুরুষেরা পারে না। তাই নিরীহ সন্তানকে বকাঝকা করে নিজেকে কাপুরুষ প্রমাণ করবেন না। আপনার সন্তানটির জন্য আপনার সমাজের চোখে পুঁথিগত ভাবে অশিক্ষিত বা কুলি/মজুর বা রিক্সাওয়ালা লোকদের কথা শুনতে হয়? বাঙালি একটি চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য- নিজে কিছু করতে না পারলে অন্যকেও করতে দিবে না। এটা নিশ্চয়ই আপনারও জানা। তাই কথা বলুন একটা নালিশ আসার পরে। “তুই কিছু না করলে কেন নালিশ নিয়ে আসবে ওরা..” এমন চিন্তা করা বাদ দিন দেখবেন আপনার সন্তান দ্বিতীয়বার একই ভুল বা অন্যায় করবে না। মারধরের ভয়ে মিথ্যাও বলবে না। কিছু করার আগে আপনার সাথে আলোচনা করবে, ভাল খারাপের পার্থক্য বুঝবে!

আপনার সন্তান আপনার উচ্চ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বা আচরণ করতে না পারলে, নিজের হতাশা থেকে আপনারই রক্ত থেকে জন্ম নেয়া প্রাণটির উপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করবেন না। আপনি বাবা-মা-আত্মীয় বা শিক্ষকের মার, বকাঝকা খেতেন বলে সে শোধ আপনার নিরীহ সন্তানের উপর তুলবেন না। সন্তান পাল্টা প্রশ্ন করলে “লোকের কথায় মারো কেন? যাচাই বাছাই না করে?” এমন প্রশ্নের জবাবে “এভাবেই মানুষ করতে হয়!” বলা থেকে বিরত থাকুন। অনুকরণ প্রিয় শিশুদের মনে গেঁথে যাবে ব্যাপারটা এবং পরবর্তী প্রজন্মের উপরও একই থিওরী বিদ্যমান থাকবে। পারিবারিক বন্ধন তিতা হয়ে যাবে দিনকে দিন।

আপনি যদি আপনার সন্তানকে প্রকৃতঅর্থে একটুও ভালোবাসেন, তাহলে সন্তানের স্বার্থেই কখনও তাকে মারধর-বকাঝকা করবেন না। বুঝাবেন কিভাবে কি করতে হয়, কি করলে লোকে বিচার দিবে না। অন্যদিকে যদি কেউ বিচার দেয়ও ওই লোকের সামনে আপনার সন্তানকে ডিফেন্ড করুন। সন্তানের পক্ষ নিতে আমি বলছি না শুধু সন্তানকে আস্বস্ত করুন অন্য কেউ কিছু বললে বা করতে চাইলে “আমি আছি তোর সাথে।” বকা/মারা বা বুঝানোর দায়িত্ব শুধু আমাদের তৃতীয় কোনো ব্যক্তির নয়। বিশ্বাস করুন আপনার সন্তান আর কখনো সেই কাজটা করবে না যেটার জন্য বাসায় নালিশ এসেছে…

এখন বলি আপনার সন্তানকে কেন মারবেন না?

‌‌★ আপনি শিশুকে নিয়মিত মারধর-বকাঝকা করলে একসময় সে এসব সয়ে যাবে, যার ফলে আপনার তাকে শোধরানোর চেষ্টা ব্যর্থই হয়ে যাবে। মারধর-বকাঝকা সন্তানের শারিরীক-মানুষিক ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকারই করে না।

★ আপনি যখন আপনার সন্তানকে কথায় কথায় মারধর করবেন, তখন সে এটা শিখবে যে মারধর করেই সমস্যা মেটাতে হয়। ফলে সে মারধর করলে আপনার অবাক হওয়ার কিছু নেই, কেননা আপনিই তাকে মারধর করা শিখিয়েছেন।

★ আপনি তাকে মারধর করবেন, অথচ প্রতিক্রিয়া একদমই আসবে না, এমনটাও ভেবে বসে থাকবেন না। একসময় সে পাল্টা আঘাত কিংবা বিদ্রোহ করে বসলে তখন তাকে উচ্ছন্নে যাওয়া সন্তান বলার আগে নিজের আচরণ ঠিক করুন। আপনি শিশুর সাথে রাগ দেখাতে থাকলে শিশুও আপনার থেকে শিখে রাগী-বদমেজাজী হয়ে গড়ে উঠবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

★ বাবা-মা-শিক্ষক-অভিভাবকের মারধর শিশুকে কতোটা মারাত্মকভাবে মানসিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে, সেটা শিশুমনোরোগ বিশেষজ্ঞদের কাছে হয়তো  
শুনে থাকবেন। দয়াকরে আপনার সন্তানকে মারধর-বকাঝকা করে সর্বদা আতঙ্কগ্রস্ত, হতাশ মানসিকতায় গড়ে তুলবেন না।

★ শিশু সন্তানকে কথায় কথায় মারধর-বকাঝকা করার আগে একবার নিজেকে সে জায়গায় রেখে ভাবুন তো, কেউ আপনাকে সব ছোটোখাটো ভুলের জন্য বকাঝকা/মারধর করলে আপনার কেমন লাগবে?

★ আপনি সন্তানের সবচেয়ে আপন। আপনার কথাকেই সন্তান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। আপনি যখন তাকে মারধর-বকাঝকা করবেন তখন সে নিজেকে অসহায় মনে করবে এবং আপনি তাকে দোষী মনে করে মারধর-বকাঝকা করতে করতে সে নিজেও তাকে দোষী ভেবে হীনমন্যতায় ভুগবে। যখন সে বুঝতে শিখবে সে আসলে দোষি ছিলো না তখন থেকে সব সময় আপনার বিরুদ্ধতা করবে।

★ নির্যাতনকারী – শাসকের সাথে সবসময়ই নির্যাতিতের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আপনি যখন সন্তানকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার সাথে তার দূরত্ব সৃষ্টি হবে। এতে সন্তান একা হয়ে যাবে, হতাশ হয়ে বাসা থেকে পালিয়ে যাওয়া, নেশার রাজ্যে নিজেকে সপে দেওয়া বা আত্মহননের মতো সিদ্ধান্তও নিয়ে  
বসতে পারে। সন্তানকে আপনি মারধর-বকাঝকা করলে এসবের ভয়ে আপনার সামনে কিছু না করলেও আপনার অগোচরে খারাপ কাজ করতে উৎসাহী হবে, ফলে হীতে বিপরীতই হচ্ছে তাইনা? বরং আপনি তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে রাখলে সে সব বিষয় আপনার সাথে শেয়ার করবে, ফলে সে ভুল করার বা বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকলে আপনি তাকে সচেতন করতে পারবেন।

★ একটি শিশু সন্তানকে সামাজিক করে তোলার শিক্ষা শুরু হয় পরিবার ও বিদ্যালয় থেকেই। তাই অভিভাবক ও শিক্ষকদের থেকে বিরূপ আচরণ পেলে শিশু সামাজিক না হয়ে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়বে। আপনি শিশুর সাথে কেমন আচরণ করছেন সেটা কিন্তু শিশুর মস্তিষ্কে থেকে যাবে, ফলে অতীতের কথা ভাবলেই মানসিকভাবে সে অস্বস্তিতে ভুগবে।

এমন আরো অগণিত পয়েন্ট আছে সন্তানকে মারধর-বকাঝকা করার কারনে সমস্যাগুলো চাউর হয়ে উঠে। আমার জানার ও ভাবনার স্বল্পতার জন্য তুলে ধরতে পারিনি হয়তো। এজন্য ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন পাঠিক-পাঠিকা।

-তাহলে মারধর-বকাঝকা না করে শিশুকে সঠিক পথে রাখার বা ভুল পথ থেকে সংশোধনের উপায় কি?

-আচ্ছা নিজের মতামত দিচ্ছি। ভুল হলে হলবেন, আপনার যুক্তিযুক্ত মতামত সাদরে গ্রহণ করবো-

* শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তাই জন্মের পর থেকেই তার সাথে ও তার সামনে সুন্দর ও সৎ আচরণ করুন, এতে সে আপনাকে দেখেই শিখে যাবে, ফলে তথাকথিত “উচিত শিক্ষা” দেয়ার নামে মারধর-বকাঝকার প্রয়োজন পড়বে না। অবশ্যই অবশ্যই স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া সন্তানের সামনে করবেন না।

* শিশু সন্তান কোনো ভুল করলে সাথে সাথেই প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সময় নিন। এতে আপনি ও রাগের মাথায় থাকবেন না আর শিশু সন্তান ও তার ভুলটা নিয়ে ভেবে অনুতপ্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। পরে একসময় সে ভুলের ব্যাপারে বন্ধুসুলভ আলোচনা করে বুঝিয়ে দিতে পারেন তাকে।

* সন্তান আপনাকে কোনো কথা বললে সেটা অন্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না এবং অন্যায় করে ফেললে ও স্বীকার করলে সেজন্য বকাঝকা-মারধর করবেন না অর্থাৎ সন্তানের কাছে নিজেকে নিরাপদ ও বিশ্বস্ত হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুন। এর ফলে আপনার কাছে নিজে থেকেই সত্য বলে সংশোধিত হতে চাইবে।

* শিশুকে আপনার আচরণের মাধ্যমে উপলব্ধি করান, আপনি তাকে কতোটা বেশি ভালোবাসেন, বিশ্বাস করেন। এর ফলে শিশু আপনার অগোচরেও আপনার ভালোবাসা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে অন্যায়/ভুল কিছু করবে না।

* কোনো কারণে এসবকিছু করা সত্ত্বেও যদি সন্তান অন্যায় করে, তাহলে তার সাথে অভিমানের অভিনয় করতে পারেন। ভালোবাসার মানুষ অভিমান করে বা কথা না বলে থাকলে, শিশু অনুতপ্ত হয়ে আর অন্যায় করবে না বলে আপনার অভিমান ভাঙ্গাবে।

* আপনি যদি শিশুর সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে বুঝে না উঠতে পারেন তাহলে শিশু সম্পর্কিত কাউন্সিলর বা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারেন।

এই শিশু সন্তানইতো আমাদের ভবিষ্যৎ। বাবা-মা, শিক্ষক-অভিভাবক যে হিসেবেই একটি শিশুর দায়িত্ব আপনি নিচ্ছেন, সেটাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিশু সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করুন।

 

😇 বিঃদ্রঃ ভয় হয়, নিজেকে প্রস্তুত করতে পারিনি বলেই হয়তো এখনো বাবা হইনি। তবে গুছিয়ে নিচ্ছি নিজেকে, সন্তানকে সু-শিক্ষাই দেওয়ার চেষ্টা করবো। ভালবাসা নিবেন সব সময় এবং দোয়া করবেন আমাদের জন্য❤

---

Comments: 17 — https://sonelablog.com/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a6%b0/#comments
