# শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষার বেহাল দশা

- Author: [রোকসানা খন্দকার রুকু](https://sonelablog.com/author/ruku007/)
- Published: 2021-05-30T17:43:03+00:00
- Updated: 2021-06-01T09:56:12+00:00
- Category: [সমসাময়িক](https://sonelablog.com/category/current_affairs/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%80-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7/

---

“ কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি বুঝে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। রোববার (৩০ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

এর আগে বুধবার (২৬ মে) শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি করোনা সংক্রমণের কারণে আগামী ১২ জুন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ১৩ জুন খোলা হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা চাচ্ছি করোনা রোগী ৫ শতাংশ নেমে আসার পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ৫ শতাংশের মধ্যে থাকাটা স্বস্তিদায়ক।”

এদিকে চলুন দেখা যাক আমাদের শিক্ষার্থীসহ শিক্ষার বেহাল দশা-

তোয়া বাবু ছয়বছরে পা দিয়েছে। করোনার শুরুতে সে নার্সারীতে ভর্তি হয়েছিলো।তখন সে ছিলো চার বছরের। স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে সে গত পনের মাস ধরে গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ছিলো। সম্প্রতি সে শিক্ষককে মেরে ভাগিয়েছে। তার যুক্তি হলো, একই বই আর কতো পড়বে। পড়াশুনা এতো বোরিং কেন? সে স্কুলে যেতে চায়! আর তার সহিংস হবার পেছনে কারণ হল দীর্ঘদিন বাবা- মা, কাজের মানুষের সাথে থেকে থেকে বোর ফিল করছে। একই পরিবেশ তার মানসিক বিকাশে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিশুসহ সকল শিক্ষার্থী মানসিক ভাবে  দিন দিন ভেঙ্গে পরছে। যার ভয়াবহতা মারাত্মক।

সৃজন, অটোপাশ রেজাল্টের দিন খুব কেঁদেছিলো। ভবিষ্যতে সবাই তাকে অটোপাশ বলবে। চাকরীর পরীক্ষার ভাইভা বোর্ডে বলবে, ‘ও আপনি অটোপাশ।’

অনেক বোঝানোর পর নিজেকে সামলে নিয়েছে। ভার্সিটি কোচিং করছে, কিন্তু তা কতোদিন চলবে বা করবে? বাইরে থাকছে, মাসে মাসে খরচের টাকা যাচ্ছে, কোচিং ফিস চলছে। কিন্তু সে সারাদিন ফোনে মুখ গুঁজে থাকে। অনলাইন ক্লাসের বদৌলতে তার হাতে বেশ দামী এনড্রয়েড ফোন। পড়াশুনা কতক্ষন করে সেই জানে। ফেসবুকিং, গেম খেলে, মুভি দেখে সময় কাটায়। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী পর্ণ এ আসক্ত হয়ে পড়েছে।

বাড়িতে বাবা- মা চরম উদ্বিগ্ন হয়ে ছেলে মেয়ের পড়ার খবর কিংবা তাদের কাছে কৈফিয়ত চেয়ে বসলেই শুরু হচ্ছে ঝামেলা। তারা শাসনের পাল্টা জবাব দিচ্ছে খারাপ ব্যবহার দিয়ে। সন্তানের সাথে বাবা- মায়ের সম্পর্কের চরম অবনতি! তারাও আর কতদিন এমন করে একই বইয়ে মুখ গুঁজে থাকবে?

তনিমা ভাবীর তিন ছেলে। বড় দুটোই স্কুলে যেত এখন যেহেতু বাসায় তাই সারা সকাল মোবাইল বা ল্যাপটপে ভিডিও গেম খেলে, উচ্চ শব্দে গান শুনে, পুরো বাড়ি মাথায় তুলে থাকে। তিন ছেলের অত্যাচারে তিনি অতিষ্ঠ। এক মুহূর্ত ঘরদোর পরিস্কার থাকে না। তারউপর প্রতিদিন তারা ভরদুপুর কিংবা সন্ধ্যা অবধি যেটা ছিলো রেষ্ট কিংবা পড়ার সময় সে সময়েও খেলছে। বাবা- মা না পারছে সন্তানদের ঘরে রাখতে , না পারছে বাইরে দিতে। কোনটিতেই যেন স্বস্তি নেই।

গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষের ছেলেমেয়েরা যেভাবে পডাশুনায় এগিয়ে ছিলো ঠিক তেমনি করেই এক ঝটকায় তারা প্রায় শেষের পথে! মেয়েদের বাল্যবিবাহ হয়ে শেষ আর ছেলেরা সব পড়াশুনা বাদ দিয়ে গার্মেন্স বা অন্যান্য পেশায় জড়িয়ে গেছে। স্কুল- কলেজ খুললে আদৌ তারা সেখান থেকে ফিরবে বলে মনে হয় না। এতে করে গ্রামীণ শিক্ষা আবারও বহু বছর পিছিয়ে গেলো। শুধুমাত্র টাকাঅলা লোকজনই তাদের সন্তানকে টিউশনির দিয়ে সামান্য আটকে রেখেছেন। তাও বা কতদিন চলবে?

শামসুজ্জোহা স্যারের সাথে জরুরী কাজে ফোন দিয়ে কোনভাবেই পাওয়া গেল  না। সন্ধ্যায় তিনি ফোন ব্যাক করে যা জানালেন, ফোন বাসায় ফেলে সকাল দশটায় হাল্কা নাস্তা সেরে বাইরে গেছেন তারাতারী ফিরবেন এ আশায়। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তাঁর ফিরতে ইচ্ছে হয়নি। এখানে সেখানে অযথা সময় কাটিয়ে সাপ লুডু কিংবা তাস খেলে ফিরেছেন। বাসায় ফিরে তিনি মনে করতে পারছেন না সকালে তিনি কি কি করেছেন? গোসল কিংবা দুপুরের খাবার খেয়েছেন কিনা? কারণ জবাবদিহিতা নেই, কলেজে যাবার তাড়া নেই, পড়াশুনা নেই, তাই লাইফ থেকে রুটিনও হারিয়ে গেছে?

আগে সকাল ছটায় উঠে বই নিয়ে বসতেন। ক্লাসে কি পড়াবেন তার প্রিপারেশান নিতেন তারপর ছুটতে ছুটতে কলেজ। অনেকগুলো ক্লাসের পর চরম ক্ষুধায় বাসায় ফেরা এবং পরের দিনের জন্য তারাতারি ঘুমোতে যাওয়া। অনেকের মতে, শিক্ষকরা তো বেতন পাচ্ছেন সমস্যা কি? টাকা পয়সায় কি জীবনের আনন্দ আছে? শিক্ষকতার আনন্দ তো শুধু শিক্ষার্থীদের মাঝেই পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশে হাজার হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল আছে। আমরা এগুলোকে তেমন মূল্যায়ন না করলেও এরাই শিক্ষার্থীর ভিত তৈরি করে দেয়। সরকারী প্রাইমারী স্কুলের চেয়েও এখানে ভালো পড়াশুনা হয়। অথচ যেগুলোর এখন চরম বেহাল দশা। শিক্ষকরা কিছুদিন অপেক্ষা করার পর অনেকে ছোট ব্যবসা, ফলের দোকান এমনকি অটোরিকসার ড্রাইভার পর্যন্ত হয়েছেন।

বিগত করোনাকালীন সময়ে সরকার কিছু শিক্ষককে ৫০০০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েই যেন হাঁফিয়ে উঠেছেন। এবার আর কোন নাম গন্ধ নেই। তারা কিভাবে চলছে পরিবার নিয়ে এ নিয়ে সরকার নিরব।অথচ এরাই কারও কাছে হাত পাততে পারেনা, কাউকে বলতে পারে না অভাবের কথা। সব কিছু ঠিকঠাক চললেও কেন যেন শিক্ষা বাঁচানোর কোন তাগিদ বা ইচ্ছাই নেই সরকারের?

অথচ নিম্ন শ্রেণীর মানুষের জন্য বহু বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সেক্টরে চলছে রমরমা টাকার ছড়াছড়ি। কেউ কেউ ফুঁলেফেঁপে একাকার আর কারও কারও ঘরে হাহাকার!!! এমন অবস্থাই দেখা গেলো করোনাকালে।

যাই হোক, কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হচ্ছে না এ নিয়ে নানা জনের নানা অভিমতে যেতে চাই না। তবে বলতে চাই, করোনা যদি থেকেই যায় তাহলেও কি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এভাবে বছরের পর বছর বন্ধই থাকবে? নাকি অন্য সব যেমন চলছে তেমনি সঠিক পরিকল্পনামত, সুব্যবস্থাপনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে? শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার যে বেহাল দশা, যে চরম সেশনজট ও ধংসের মুখে পড়েছে। তা থেকে অনতিবিলম্বে উপায় বের করে রক্ষা করা উচিত। তাই পরিস্হিতি নয় বরং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার প্রাণ ফিরিয়ে আনা হোক!!!

ছবি- নেটের

---

Comments: 20 — https://sonelablog.com/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%80-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%95-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7/#comments
