# লৌকিক অলৌকিক বেড়াজালে বন্দী মানুষ-১

- Author: [রিতু জাহান](https://sonelablog.com/author/mounata/)
- Published: 2016-10-29T04:19:51+00:00
- Updated: 2016-10-29T04:19:51+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- Tags: লৌকিক অলৌকিক বেড়াজালে বন্দী মানুষ
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b2%e0%a7%8c%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%85%e0%a6%b2%e0%a7%8c%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%a8-2/

---

পৃথিবীর সৃষ্টির সকল প্রাণীর মধ্যে মানুষই একমাত্র প্রাণী যে, মুখে স্বাধীনতার কথা বলে অথচ সে কোনো না কোনো উপায়ে পরাধীন থাকতে ভালবাসে। সে ধর্মীয় হোক বা কোনো অজানা বিশ্বাসে হোক। ধর্মীয় অনুভূতি, স্রষ্টাকে বিশ্বাস বা অনুসন্ধান, বা অন্য কোনো গোপন উপাসনা। তবে এ কথাও ঠিক পাপ পূণ্যের হিসাবে না থাকলে তখন, অন্তত মানুষ আর মানুষ থাকে না। আর তার জন্মসূত্রে নিজের ধর্ম এবং অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ না থাকলেও সে আর মানুষ থাকেনা। অধর্ম থেকে রক্ষার জন্যই ধর্মের প্রয়োজন। আমাদের দেশের বা এই উপ মহাদেশের ধর্মের ব্যাখ্যা এবং প্রয়োগ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে। ইসলাম বা সনাতন ( হিন্দু ) ধর্মাবলম্বী মানুষই এই উপমহাদেশে বেশি। ধর্মের শান্তির বাণী যেন ধর্মীয় গ্রন্থে বন্দী হয়ে আছে। বাস্তবে এর প্রয়োগ বিপরিত মুখি। পবিত্র কুরআন শরীফের অবমাননা কোনো মুসলিম সহ্য করতে পারেনা। কুরআনের একটি পৃষ্ঠা আমরা মাটিতে পরে থাকলে সন্মানের সাথে উঠিয়ে ভাল স্থানে রেখে দেই, লেখক সালমান রুশদির বিরুদ্ধে কুরআন শরীফ অবমানানার জন্য এদেশে প্রচন্ড প্রতিবাদ হয়, অথচ ৫ মে হেফাজতে ইসলাম এর কর্মীদের দ্বারা হাজার হাজার কুরআন শরীফ পুড়িয়ে দেয়ার পরেও আমাদের দেশের কোনো ইসলামী সংগঠনের প্রতিবাদ দেখিনি। ইসলাম ধর্ম কি তাহলে আমাদের দেশের ইসলামী সংগঠন সমূহের হাতে বন্দী হয়ে গিয়েছে? য়ামাদের দেশের মত এত মসজিদ আর মাদ্রাসা কি ইসলামী দেশ সমুহে আছে? এমনকি সৌদি আরবে কি আছে? আমাদের দেশের মত ওয়াজ মাহফিল কি সৌদি আরবে হয়? শত শত পীর সাহেব আমাদের দেশে আছেন, কতজন পীর সাহেব সৌদি আরবে আছেন জানতে ইচ্ছে হয়। আমাদের নবী (দঃ) এর সময়ে জুম্মার নামাজের পরে মানুষের সামাজিক সমস্যা নিয়ে মসজিদেই আলোচনা হত, সমস্যার সমাধান হত। সামাজিক সমস্যাই তো দুনিয়াদারীর সমস্যা। আমাদের দেশেই কি এই ধরনের আলোচনা হয় মসজিদে? মসজিদ নির্মিত হচ্ছে ঘুষখোর, কালো টাকার মালিকদের টাকায়। সমাজের প্রভাবশালী কালো টাকার মালিকরা মসজিদের সামনের কাতারে নামাজ আদায় করে, তাদের দান অত্যন্ত আনন্দের সাথে গৃহিত হয়। এসব বিষয় সবাই জানে, জানে বলেই সমাজ থেকে অন্যায় দূর হয় না। মসজিদ সঠিক ভাবে মানুষকে আস্থায় আনতে পারছে না এর পরিচালকদের দ্বিমুখীতার কারনে। আমি এই ধরনের মসজিদ নির্মানের থেকেও অসুস্থকে সেবা করতে আগ্রহী বেশী। অসহায়কে কাছে টানতেই আগ্রহী বেশী। এটা আমার বিশ্বাস। স্রষ্টার সৃষ্টিকে সেবা করাও স্রষ্টার উপসনা করা। মানুষই শ্রেষ্ঠ  সেবালয়।

আমি দেখেছি অতিরিক্ত ধর্মীয় গোড়ামী মানুষকে অসামাজিক করে তোলে। তাদের ধারনা শুধুমাত্র পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও আপাদমস্তক ঢাকলেই বেহেস্ত পাবে। আর এতে অসহায় ও ক্ষুধার্তকে সাহায্য না করলেও চলবে। এই বর্তমানে আধুনিক যুগে মানুষের এতো বছরের পরিভ্রমণের পরেও তারা অলৌকিক অবাস্তব জিনিসে বিশ্বাস করে। করছে হাদিস ও শরিয়ত বিরোধী কুফরি কাজ। সেই ব্যাক্তি তা সম্পুর্ণ ধর্মের দোহাই দিয়েই করছে। মাজার সাজিয়ে বসে লাখলাখ টাকা আত্মসাৎ করছে। দুই কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত দুইটা মসজিদ এখন আমরা দেখতে পাই। আর সেই মসজিদ নির্মাণ করতে ভিক্ষার ঝুড়ি পেতে বসছে মোড়ে মোড়ে। ছোট ছোট বাচ্চাদের টুপি পাঞ্জাবী পরিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করতে পাঠাচ্ছে, যা পুরোটাই হাদিস বিরোধী। এ শুধু কিন্তু ইসলাম ধর্মেই না অন্যান্য ধর্মেও বিদ্যমান। এই সম্পর্কে পড়তে গিয়ে আমার উষ্টা খেয়ে পড়ার অবস্থা হয়েছে।

ভারতের সোমনাথ মন্দির সম্পর্কে পড়তে গিয়েও অবাক হয়েছি। এখানেও আমরা দেখি ধর্মের ব্যবসা। সোমনাথ মন্দিরের কথা পৃথিবীর সবাই জানে। বিশ্ববিখ্যাত এই মন্দিরের বিপুল ধনরত্ন একাদশ শতাব্দিতে লুন্ঠন করেছিলেন, গজনীর সুলতান মাহমুদ। সোমনাথ মস্দিরের সৌন্দর্যই শুধু সুলতানকে আকর্ষন করেনি, আকর্ষনের অন্য এক কারন ছিল এর অলৌকিকত্ব। সোমনাথ মন্দিরের অলৌকিকত্বের কথা যুগ যুগ ধরে দেশ থেকে দেশান্তর ছড়িয়ে পড়েছিল। মন্দিরের দেব মূর্তিটি কোনো বেদীতে বসানো ছিল না। মন্দিরের দেবতা শূণ্যে ভাসতেন। মন্দিরের মাঝখানে শূন্যে ভাসমান সোমনাথ দেবকে দর্শনের জন্য দূর দূরন্ত থেকে বহ কষ্ট করে ও হাজির হতেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। তারা উপঢৌকন হিসেবে সাথে আনত অনেক ধনরত্ন। বিশ্বাস জনিত কারনে শিক্ষিত অশিক্ষিত মানুষ মানত করে বিজ্ঞানের চিকিৎসাকে অস্বীকার করে মাথা নত করত এসব মন্দির মসজিদ ও মাজারে। কিন্তু সব ধর্মেই মানত সম্পূর্ন নিষেধ। মানত করে তারা কজনই আজীবন জীবিত ও সুস্থ থেকেছেন তা আমার জানা নেই। আমি জানি যে কোনো ধর্মেই অলৌকিকের আকর্ষন বড় আকর্ষন। চাক্ষুস চোখে সবাই এই অলৌকিক শক্তির প্রকাশ দেখতে চায়। তার উপর বিশ্বাস করে জাগতিক বাস্তবতা ভুলে স্বর্গ নরকের হিসেব করে। অনেকেই তার বিশ্বাস মতো মাজারে মন্দিরে ইচ্ছামতো তার সর্বস্ব দিতে চেষ্টা করে। তাই তো জমা পড়ে মন্দিরে মাজারে কুবেরের ধন! তেমনি সোমনাথ মন্দিরেও দীর্ঘদিন ধরে জমা পড়েছিল কুবেরের ধন। অর্থাত্ যতই নেও না এই মন্দিরের স্বর্ন ও টাকাকড়ি ফুরাবে না। তাই তাই শূন্যে ঝুলানো ভগবানের মূর্তি বা দেব মূর্তির অসাধারণত্ব সুলতান মাহমুদকে আকর্ষন করে। সুলতান মাহমুদ শুধু মন্দিরের ধনরত্ন নিয়েছ ক্ষ্যান্ত হননি, অনেকটা কৌতুহলের মন নিয়েই তিনি দেবমূর্তির ঝুলে থাকার কারন জানতে উৎসাহ প্রকাশ করেন। তার সাথে আসা বিজ্ঞানী, ধাতুবিদ ও বাস্তুকারদের নিয়ে মূর্তিটি পরীক্ষা করে দেখেন যে ওটা সম্পূর্নই লোহার তৈরি। বিশেষজ্ঞরা আরো মত প্রকাশ করেন যে সম্ভবত মন্দিরের দেয়ালের চারপাশে চুম্বক পাথর বসানো আছে। আর তা এমন করে বসানো হয়েছে যাতে লোহার দেবমূর্তিটি মাঝামাঝি এক জায়গায় এনে ছেড়ে দিলে বিভিন্ন প্রান্তের চুম্বক আকর্ষনে শূন্যে ভেসে থাকছে। সুলতান মাহমুদের নির্দেশে ভগবানের দেবমূর্তিটিকে আবার শূন্যে স্থাপন করা হলো। তারপর মন্দিরের দেয়ালে লাগানো পাথরগুলো আস্তে আস্তে খুলে ফেলতে বললেন। পাশের দেয়ালের পাথর একটি একটি করে খুলে ফেলতেই, খুলে এলো এক পাশের চুম্বক পাথর। ওমনি দেবমূর্তিটি শূন্যে থেকে মাটিতে পড়ে গেল। বোঝা গেলো দেবমূর্তির বদলে এক টুকরো লোহা রাখলেও তা ভেসে থাকত।  
আমরা দেখেছি, ভারতে হোক বা অন্য দেশে হোক হাজার ক্ষুধার্থ মানুষকে রেখে অনেক ভক্ত তার বিশ্বাসে শিব লিঙ্গে দুধ ঢেলে মাটিতে ও গঙ্গায় ভাসাচ্ছে। কিন্তু কোনো দেবতা আদৌ বলেনি এমন করতে। অন্তত আমি কোথাও পড়ে পাইনি। মুসলিম ধর্মে কোথাও বলেনি ক্ষুধার্তকে রেখে এতো মসজিদ মাদ্রাসা নির্মান করতে।  আমি দেখেছি ব্রাক্ষণ কতোটা জাত বিচার করে চলে। আসলে এই ব্রাক্ষণ আর্য জাতী ছিল অত্যন্ত রুক্ষ ও নির্মম। তা আমরা বেদ পড়লেই জানতে পারি। এই ধর্মের গুরু যারা অধিকাংশই শয়তানের খালাত ভাই, মুসলিম ধর্ম ব্যবসায়ীরা খুলে বসেছে তাবিজের ব্যাবসা।  
**মসজিদ এবং মন্দির হোক আমাদের সত্যিকারের মানুষ হবার প্রধান কেন্দ্র, আমাদের আস্থার স্থান।**

এই বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতাগুলো আমি পরের পর্বে তুলে ধরার চেষ্টা করব।

---

Comments: 21 — https://sonelablog.com/%e0%a6%b2%e0%a7%8c%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%85%e0%a6%b2%e0%a7%8c%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%a8-2/#comments
