# লেনিনের ক্যমুইনিজম এর উত্থান এবং রাশিয়ার শেষ জার নিকোলাস ২ সহ পুরো পরিবারকে ভয়ংকর, বীভৎস আর নির্মম ভাবে হত্যার গল্প

Author: নার্গিস রশিদ
Published: 2022-04-23
Category: ইতিহাস
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a6%ae-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%a4/

### **লেনিনের  ক্যমুইনিজম  এর উত্থান এবং  রাশিয়ার শেষ জার নিকোলাস ২  সহ পুরো  পরিবারকে  ভয়ংকর,বীভৎস আর   বিভীষিকা ময়  অবস্থায় ফেলে  হত্যার ইতিহাস** 

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2022/04/Screen-Shot-2022-04-23-at-08.29.32.png)

**নিকোলাস ২ এবং তার পরিবার**

রাত তখন প্রায় ১ টা,  তারিখ ১৯১৮ সালের ১৬-১৭ জুলাই । সকলে তখন গভীর ঘুমে। তাদের পারিবারিক চিকিৎসক ইউগেনে   বটকিন কে নির্দেশ দিলো আর্মির জেনারেল  ইয়াকভ ইউরভেস্কি তাদেরকে ঘুম থেকে উঠে পোশাক পরে সঙ্গের জিনিস নিয়ে নিচে আসতে কারন নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া  হবে। 

তারা তখন বাস করতো উড়াল পর্বতের কাছে একাটারিন বার্গে । 

নিকোলাস ২,রাণী আলেকজান্দ্রিয়া, তাদের পাঁচ সন্তান এবং সর্ব শেষে তাদের সাথে  থেকে যাওয়া পারিবারিক ডাক্তার ইউগেন বট কিন,রাণীর ব্যাক্তিগত সেবা কারি এন্যা ডেমিডভা, রাজা নিকোলাসের সেবা কারি আলিক্সি ট্র্যাপ এবং প্রধান রন্ধন কর্মী ইভান খাভি টনভ কে । 

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2022/04/Screen-Shot-2022-04-23-at-08.33.15.png)

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2022/04/Screen-Shot-2022-04-23-at-08.37.46.png)

**প্রথম ছবিঃ** যে সিঁড়ি দিয়ে তারা নেমে এসেছিল।  **দ্বিতীয় ছবিঃ** সেই নিচের ঘরটি যেখানে হত্যা করা হয়, দেখা যাচ্ছে রক্ত এবং বেয়নেট দিয়ে আঘাতের সময় দেয়ালের গর্ত

তারাকে একসঙ্গে করা হল সেই বাড়িটির সবচেয়ে নিচের রুমে। পুরো পরিবার দাঁড়ালো এমনভাবে,  যেমন ভাবে তারা  করে সবসময়  ছবি তোলার জন্য । রাণী আলেকজান্দ্রিয়া  কিছুটা অসুস্থ থাকার জন্য একটা  চেয়ার চেয়ে নিলো।একমাত্র অসুস্থ ১৩ বছরের পুত্র এলিক্সি অসুস্থ থাকার জন্য পিতা নিকোলাস আরও একটা চেয়ার চেয়ে নিলো তাকে বসানোর জন্য। তারা সেখানে অপেক্ষা করছে তখন  হ্যান্ড গান ,  পিস্তল আর ভারী অস্ত্র সহ ১০ জন আর্মি সেখানে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে যা ঘটেছিল তা ছিল ভয়াবহ, যার মধ্যে দিয়ে তিনশত বছরের  রাশিয়ার জার  ডাইনেসটি শেষ হয়। 

তারা সবায় বন্ধুকের গুলি আর বেয়নেটের প্রচণ্ড আঘাতে মারা গেলেও তাদের গল্প ফুরালো  না । 

**কে এই নিকোলাস ২** 

আপাত দৃষ্টিতে নিকোলাস ছিলেন পরবর্তী সিংহাসনে  বসার উত্তররাধিকারি। জন্ম ১৮৬৮ সালের ১৮ই মে। জার আলেক জান্দ্রা এবং মেরী ফিওদরভনা এর প্রথম সন্তান। সে এবং তার ভাইবোনরা বড় হয়ে উঠে তসারস্কয়ে সেলো তে ,এটা ছিল ইমপরিয়াল পরিবারের অনেক গুলো বাসস্থানের মধ্যে একটি। যা পিটারসবার্গ থেকে কিছুটা  দূরে ছিল। 

নিকোলাস স্কুলের পড়া ছাড়াও বন্ধুক ছোড়া, ঘোড়ায় চড়া, এমনকি নৃত্যও শিখেন। কিন্তু তার পিতা আলেকজান্দ্রা ৩,  তাকে  যথেষ্ট সময় দেননি কি ভাবে এত বড় রাশিয়ার   নেতৃত্ব দেয়া যায় তা শেখার ব্যাপারে। পরবর্তীতে যে নেতৃত্বের গুণাবলী দরকার দুর্ভাগ্য বশতঃ  তা তার জানা ছিলনা। 

যুবক বয়সে তিনি বেশীর ভাগ সময় ব্যয় করেছেন পৃথিবী ভ্রমণ করে এবং অসংখ্য পার্টিতে যোগ দিয়ে। তার সঙ্গে ছিল বলস পার্টি ও । 

১৮৯৪ সালের এক গ্রীষ্মে তিনি জার্মানির রাজকন্যা অ্যালেকজান্দ্রিয়া  অ্যালিস্কির সাথে এনগেজড হন। কিন্তু তার এই সহজভাবে নেয়া জীবনের সমাপ্তি হয় ১৮৯৪ সালের পহেলা নভেম্বরে তার পিতা আলেকজান্দ্রা ৩ এর মৃত্যুতে । তিনি মারা যান কিডনি জনিত অসুখের কারনে । আর রাতারাতি নিকোলাস ২ নতুন জার হয়ে যান। কোন রকমের অভিজ্ঞতা ছাড়াই তাকে  জার হতে হয়। তার এডভাইযার কে তিনি বলেছিলেন ‘ জার হওয়ার জন্য আমার প্রস্তুতি নাই আর আমি জার হতেও চাইনি ।’ ১৮৯৪ সালের নভেম্ববরের ২৬ তারিখে পিতার শেষ কৃত্য সম্পন্ন হয় এবং নিকলাস আর  আলেক্সির বিয়ের অনুষ্ঠান একটা  প্রাইভেট অনুষ্ঠানের মধ্যে শেষ করা হয়। পরবর্তী বছরে তাদের প্রথম সন্তান ‘ওল্গা’ র জন্ম হয়। তারপর তাদের আরও তিন কন্যা  সন্তান ‘তাতিয়ানা’,  ‘মারিয়া’  এবং ‘এন্যাস্তাসিয়ার’  জন্ম হয় । পাঁচ বছর পরে তাদের পুত্র সন্তান ‘এলিক্সির’  জন্ম হয় ১৯০৪ সালে। এই পুত্রের জন্য এতদিন তারা অপেক্ষা করছিল কারন সিংহাষনে বসার জন্য একজন পুত্রের দরকার। 

**জনগন তার  বিরুদ্ধে চলে যাওয়ার কারনঃ** 

তার  ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই রাশিয়াতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছিল। কোন নিয়ম শৃঙ্খলা ছিলনা।কারন তার পিতা একজন ডিক্টেটর ছিলেন।সে যা নির্দেশ দিবে মানুষকে তা মেনে চলতে হবে।প্রেস এর স্বাধীনতা ছিল না।  এমনকি সে কারোর  রাশান ভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলাও পছন্দ করতেন না । এই সব কারনে রাশিয়ার জনগন জারের বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিল। 

নিকোলাসকে তার  পুরো শাসন আমল  জনগণের রোষানলের মধ্যে থাকতে হয়েছে।তাকে ক্রমাগত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয়েছে এমন এক পরিস্থিতির সঙ্গে যেখানে জনসাধারণ তার পেছনে ছিলনা। 

**১৮৯৬ সালের ১৮ই  মের করনেসানের দুঃখ জনক ঘটনাঃ** 

নিকোলাস ২ ছিল জার আমলের শেষ জার এবং এই করনেসান টি ছিল জার আমলের শেষ করোনেসান। সেদিন  ছিল রাণী অ্যালিক্সির জন্মদিন উপলক্ষে উপস্থিত জনসাধারণের  খাওয়া দাওয়ার ব্যাবস্থা । জনগনের মধ্যে একটা গুজব ছড়িয়ে পরে যে সবার  জন্য যথেষ্ট পরিমান খাবার এবং পানীয় নাও থাকতে পারে এবং এখানে  উপঢৌকন হিসাবে একটা কাপের মধ্যে সোনার মুদ্রা রাখা থাকবে। যা  নেয়ার জন্য জনসাধারণের মধ্যে হুড়োহুরি লেগে যায় এবং পদ দলিত হয়ে অনেক মানুষ মারা যায় এবং আহত হয়। শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য  পুলিশ  থাকলেও ১৮০০ মানুষে কে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখা  সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার মধ্যেও নিকোলাস তাদের সেই উৎসব বন্ধ করেনি। নিকোলাসের উপর ছাপ পড়ে যায় ‘ Nikolas The Bloody” 

**জারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত ভাবে অসন্তোষঃ** 

পরপর  কিছু ঘটনায় নিকোলাস ২ প্রমাণ করে, দেশের ভিতরে কি দেশের বাইরে কিম্বা অন্য দেশের সাথে সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে তার দেশ চালনার অভিজ্ঞতার অভাব।১৯০৩ সালে জাপানের মানচুরিয়ার দখল নিয়ে জাপান এবং রাশিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগে। যে কোন ধরনের মীমাংসার জন্য নিকলাস কোন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। নিকলাসের এই রকম কার্জকলাপে জাপান হতাস হয় এবং ১৯০৪ সালে রাশিয়ার জাহাজে বোমা ফেলে। জাহাজ টি ছিল পোর্ট আরথারে,  মানচুরিয়ার দক্ষিনে । প্রায় দেড় বছর জাপান আর রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ চলতে থাকে।১৯০৫ সালে জার কে জোর পূর্বক সারেন্ডার করা হয়। রাশিয়ার এই পরাজয়ের কারনে নিকলাস জনগনের কোন সাপোর্ট পাইনি। 

**দারিদ্র ও প্রতিবাদ মিছিলে গুলিঃ**  

দারিদ্র্যের কষাঘাত, শ্রমিকের অল্প বেতন এবং খাদ্যের অভাবে  শত শত মানুষ প্রতিবাদ মিছিল বের করে। যদিও সেটা  ছিল শান্তিপূর্ণ । জারের সৈন্যরা জনতার উপর গুলি ছোড়ে । শতশত লোকের মৃত্যু হয়  এবং আহত হয়। সে সময় জার প্যালেসে না থাকলেও  সমস্ত দায়  তার ঘাড়ে এসে পড়ে।  

**নিকোলাস ২ এবং তার স্বভাবঃ**  

নীল চোখের অধিকারী নিকলাস হ্যান্ডসাম হলেও আকর্ষণীয় ছিলনা। সে ছিল অহংকারী, নিজেকে বড় মনেকরা, অন্যকে সন্মান দিতে না জানা, একগুঁয়ে, মন্ত্রীদের সাথে হিংসা পরায়ণ এবং লুকিয়ে রাখার স্বভাব। তার এই স্বভাবের দরুন নিজ সরকারের লোকজন তার উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে।

**ক্ষমতা চ্যুত নিকোলাসঃ** 

তারপরে শুরু হয় বলসেভিক দল আর জারের পক্ষের হোয়াইট দলের মধ্যে গৃহযুদ্ধ। পশ্চিমা দেশ গুলো হোয়াইট দলকে সমর্থন দিয়ে আসছিল।বলসেভিক ক্ষমতায় আসে ১৯১৭ সালের অক্টোবরে । ১৯১৭ সালের ২২সে মার্চ নিকোলাস কে জোর পূর্বক ক্ষমতা থেকে সরানো হয়, গৃহবন্দী করে রাখা হয় পরিবার সহ। তারা প্রথমে বন্দী ছিল আলেকজান্ডার প্যালেসে।  

লেনিন নেতা হিসাবে ক্রমাগত ভাবে জনপ্রিয় হতে থাকে। লেনিনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জারাকে দল চায়না তারাকে যদি গুলি করে না মারা হয় তবে রেভুলেসান সম্ভব নয়। 

জারের প্রধান বিচারপতি এবং পরবর্তীতে প্রাদেশিক গভর্নর যার নাম আলেকজান্ডার কেরেন্সকি,  টবলস্কি বলে একস্থান যা কিনা সাইবেরিয়ায়,সেখানে সরকারি এক বাসভবনে নিকলাস এবং তার পরিবারকে নিরাপদে রাখার ব্যাবস্থা করে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি,  বলসেভিক পার্টি এবং লেনিন দ্বারা অপসারিত হলেন। যার ফলে নিকলাসের নিরাপত্তা দেয়ার ব্যাপারটা আরও নাজুক হয়ে পড়ে। নিকলাস তখন গৃহবন্দী, জার হিসাবে তার নাম তুলে  নেয়া হয় এবং মাথার মুকুট অপসারিত করা হয়। 

**বিশেষ প্রয়োজনের বাড়িঃ** 

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2022/04/Screen-Shot-2022-04-23-at-08.50.47.png)

বিশেষ প্রয়জনের বাড়ি , যেখানে মেরে ফেলা হয় এবং বন্দী করে রাখা হয়ে ছিল

লেনিনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই পরিবারটিকে ১৯১৮ সালের দিকে টবলস্কি থেকে সরিয়ে পশ্চিমের দিকে সরানো হয়। তারাকে ট্রেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল । পুত্র এলেক্সি অসুস্থ থাকার জন্য সে এবং তার চার বোন তিন সপ্তাহ পরে বাবামার সাথে যোগ দায়। সেখানে পুরো পরিবারকে ‘বিশেষ প্রয়োজনের বাড়ি’বলে এক বাড়িতে রাখা হয়ে ছিল। আসলে এটা ছিল একটা জেলখানা। চারদিকে ভারী অস্ত্র সহ অনেক সেনা মোতায়েন ছিল। খাবার দাবার  ছিল সাধারণ। কারো সাথে কথা বলা নিষেধ ছিল। তাদেরকে মেরে ফেলার সিধ্যান্ত  হটাৎ করে করা হয়নি। করা হয়েছে এক বছর আগে থেকে। প্রধান পরিকল্পনা কারী হল বলসেভিক দলের নিয়োগ প্রাপ্ত আর্মি জেনারেল ইয়াকভ ইউরোভেসকি । সে একটি দল গঠন করে যারা কিনা পুরো পরিবারটিকে মেরে ফেলতে পারে। 

এখানে থাকা অবস্থায় চারবোনের মধ্যে বড় মেয়েটি কিছুটা ডিপ্রেস হয়ে পড়ে আর তৃতীয় মেয়েটি মারিয়া তরুণ পাহারারত  

সৈনিক দের  সাথে রোমান্সে জড়িয়ে যায় । তারা মেয়েদের কে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাতে সাহায্য করতে থাকে। এই বিষয় টি লেনিনের কানে গেলে সে চিন্তিত হয়ে পড়ে। তরুণ পাহারাদার গুলোকে  কে সরিয়ে  ফেলা হয়। 

১৯১৮ সালে বোঝা যাচ্ছিল যে এক্তারিস্কবার্গ হোয়াইট আর্মির দিকে চলে যাচ্ছে। গলসচেকিন ( Goloshekin) লেনিনের অনুমতির জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলল । গলসচেকিন হলেন নিকোলাস পরিবারকে হত্যা করার  আর একজন প্রধান পরিকল্পনা কারী এবং বলসেভিক দলের সদস্য ।   চতুর লেনিন লিখিত অনুমতি দায়নি।   

**সেদিন রাতে যা ঘটেছিলঃ** 

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2022/04/Screen-Shot-2022-04-23-at-08.31.42.png)

**ইওরোভস্কি ,প্রধান খুনি**

রাত একটার দিকে পুরো পরিবারকে সব চেয়ে নিচের ঘরে আনা হল। বাইরে নিয়ে যাবার গাড়িটির ইঞ্জিন চালু অবস্থায় রাখা ছিল যেন তারা শব্দ শুনে মনে  করে গাড়ি অপেক্ষা করছে। তারপর ১১ জোনের একদল আর্মি রিভালভার এবং বন্দুক সহ প্রবেশ করে এবং খুব তাড়া তাড়ি হটাৎ করে  ইউরভেস্কি একটা কাগজ বের করে তাদের কে ডেথ প্যানালটি পড়ে  শুনায়। নিকোলাস বলে উঠে “ কি বললে আবার পড়োতো”, খুব তাড়াতাড়ি ইয়ুকিভস্কি আবার পড়ে শুনায়।  নিকলাস পরিবারের দিকে মুখ ঘুরিয়ে বলে উঠে ‘ কি ‘কি ‘   ? সঙ্গে সঙ্গে গুলি ছোড়া আরম্ভ হয়। প্রথমেই গুলি করা হয় নিকোলাস এবং  আলেকজান্দ্রিয়া  কে লক্ষ্য করে। তারা মেঝেতে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে। তারপর অন্য দেরকে গুলি    করতে থাকে। ২০ মিনিট চলে গোলাগুলি । কেউ কেউ মারা গেলেও অনেকে তখন আহত ছিল। সারা ঘর ধোঁয়া আর বেয়নেটের আঘাতে দেয়াল ভাঙ্গার ধুলায়  কিছুই দেখা যাচ্ছিল না । আহতদের কাতর চিৎকার  শুরু হয়। মেয়েদেরকে গুলি করলেও পোশাকের নিচে সেলাই করা দামি মণি মুক্তা হীরার লেয়ার থাকায় তা ঢালের কাজ করছিল। যা তারা লুকিয়ে নিয়ে যেতে চেয়ে ছিল। তারাকে তখন মাথা লক্ষ্য করে গুলি করা হয় । রক্ত আর মগজে চারদিক পিচ্ছল হয়ে পড়েছিল যা ইউরভেস্কি দৃহ  চিত্তের  সাথেই বলেগেছে। বাইরে মেয়েদের পোষা   কুকুর গুলির শব্দে ঘেউ ঘেউ করছিল, তাকেও গুলি করে মেরে ফেলা হয়। মরা লাসগুলো অপেক্ষারত গাড়িতে তোলার সময় দেখা গেলো মেয়েদের দুটো লাস তখনো কিছুটা  জীবিত, এনাসথাসিয়া কফ করছিলো এবং অন্যজনের গোঙ্গানি শোনা যাচ্ছিলো । দুটো মেয়েকেই বেয়োনেট দিয়ে প্রচণ্ড ভাবে আঘাত দিয়ে দিয়ে  মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2022/04/Screen-Shot-2022-04-23-at-08.32.27.png)কবর খোলার পর তাদের কঙ্কাল এবং নিচে পুরো পরিবারের মাথার খুলি 

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2022/04/Screen-Shot-2022-04-23-at-08.39.56.png)

**দ্বিতীয় ছবিঃ**  বেয়োনেট এর আঘাতে ভেঙ্গে যাওয়া মাথার খুলি

রাশিয়ার ভবিষ্যৎ এবং  মৃত লাশ গুলোর ভবিষ্যৎ  যাই হোকনা কেন, রমানভ শাসক দের যতোই নিষ্ঠুরতা থাক না কেন একটা ব্যাপার থেকেই যাবে এবং তা হল সেই রাত্রের নির্মম ও  নিষ্ঠুরতায় ভরা ভয়ংকর, বীভৎস,  বিভীষিকাময় ঘটনা যা কিনা হৃদয় বিদারক এবং সেই দৃশ্য অবশ্যই ছিল সহ্যের বাহিরে।       

তথ্য সূত্রঃ 

The Devastating True Story of the Romanov Family’s Execution, Simon Sebag Montefiore

Excution of Czar Nicholas I I  of Russia and His Family, By Patricia E. Daniels

ফটো ক্রেডিটঃ উইকিপেডিয়া 

লেখক ও গবেষকঃ হুসনুন নাহার নার্গিস ,লন্ডন, UK
