# লেখায় অপ্রাসঙ্গিক কিংবা নেতিবাচক মন্তব্যে হতাশা নয়, কুশলী হোন-

- Author: [তৌহিদুল ইসলাম](https://sonelablog.com/author/touhidislam/)
- Published: 2019-10-10T16:22:54+00:00
- Updated: 2019-10-10T16:26:28+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%85%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%82%e0%a6%ac%e0%a6%be/

---

লিখতে যারা ভালোবাসেন তাদের কাছে লেখালিখি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি পেশাগত লেখক নই, শখের বশে লিখি আর নিজের মনের খোরাকের জন্য লিখি। নিজের অবসর সময়কে লেখালেখি করে কাজে লাগাই। মাঝেমধ্যে ফেসবুক, ব্লগ কিংবা অনলাইন মিডিয়ায় আমার বা আমাদের কিছু পোস্টে এমন সব মন্তব্য আসে যা অপ্রাসঙ্গিক এবং লেখা সম্পর্কিত নয়। বাজে মন্তব্য কিংবা হেয়ালীস্বরূপ এমন মন্তব্য যেগুলো দেখলে মনে আমরা কষ্ট পাই। লেখা লিখবোনা আর এরকম অনুভব মনে পুষে রাখি অনেকক্ষণ। আমি মনে করি যতক্ষণ আমি আমার লেখাকে অনলাইনে বা কোন প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশ না করব ততক্ষণ নিজের লেখকীয় সত্তাকে অন্যেরা বুঝতে পারবেনা। আর যখনই এসব মাধ্যমে লেখা প্রকাশ করবেন এর মানে হচ্ছে আপনি সমস্ত প্রতিকূলতা মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত।

### লেখক ও তার লেখাকে বোঝার চেষ্টা করুন-

লেখা প্রকাশ করা মানেই আমি যা লিখব তা সবাই পছন্দ করবে এমনটা নয়। মনে রাখবেন, আপনার একটি ভালো লেখায় অন্যেরা নেতিবাচক মন্তব্য করার উদ্দেশ্য হচ্ছে বেশিরভাগ মানুষই প্রকৃতপক্ষে নিজেদের হীনমন্যতা এবং তাদের নিজের স্বকীয়তা আপনার উপর চাপাতে চায়। হ্যাঁ, এটা ঠিক অনেকেই লেখা সম্পর্কে তাদের নিজস্ব মতামত সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলেন নিজেদের মন্তব্যে, কিন্তু প্রকাশ ভঙ্গিতে মাধুর্যতা থাকেনা। আসলে ভার্চুয়াল জগতে যারা বিচরণ করেন বেশিরভাগই একে অন্যকে সম্পূর্ণরূপে আমরা জানিনা বা জানতে চাইনা। তাই আপনাকে বা আমাকে বুঝতে পারারতো কথাই নয়। এর কারণ হচ্ছে আমরা নিজেদের সম্পূর্ণরূপে কখনো ভার্চুয়ালি প্রকাশ করিনা। জীবনে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় হয়তো উন্মুক্ত করি, কিন্তু একজন মানুষকে কাছ থেকে না দেখলে তার সম্পর্কে অনেক কিছু জানা সম্ভবপর হয়না। ফলে আমরা নিজেরা যে যেমন আমাদের লেখায় এবং মন্তব্যে তার অনুরূপ প্রতিফলন ঘটে বা ঘটবে এটাই স্বাভাবিক।

> একজন লেখককে অন্য একজন লেখককে জানার এবং বোঝার অন্যতম উপায় হচ্ছে তার লেখাকে বোঝা। কারণ নিজের অজান্তেই লেখকীয় সত্বা তার লেখায় ফুটে ওঠে। আপনি মনোযোগ দিয়ে তার লেখা পড়লেই সে ব্যক্তি সম্পর্কে কিছুটা সম্যক ধারণা পেয়ে যাবেন। তাই সেভাবেই তার লেখায় মন্তব্য করা উচিত। পাঠকের করা উত্তপ্ত বাক্য কিংবা হাই হ্যালো উদাসীন টাইপ মন্তব্য আবেগগত চাপে লেখকের লেখায় চাপিয়ে দিতে গিয়ে মন্তব্যকারীর উদ্দেশ্য ভালো হলেও নেতিবাচকভাবে মন্তব্য করার কারনে মন্তব্যের সাথে মন্তব্যকারীর উদ্দেশ্য ও মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে কিন্তু। এতে একজন লেখক তার পাঠকের জন্য নতুন কিছু লিখতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। আর পাঠকের ভীন্ন মানসিকতাও লেখকের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সে কারনেই একজন লেখক কিংবা পাঠকের অন্য লেখকদের লেখার সার্থকতা বা মূলশেকড় খুঁজে পাওয়াই অপর একজন লেখকের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

### লেখায় সমালোচনাকারীদের বুঝুন-

একজন লেখককে তার পাঠক সম্পর্কে কিছু ধারনা সবসময় রাখতে হয়। লেখায় যারা সমালোচনা করেন তাদের দু’টি শাখায় ভাগ করা যেতে পারে-

**এক-** যারা আমাদের সাথে একমত নন বা আমাদের অপছন্দ করেন এবং লেখার মাধ্যমে আমাদের প্রতিভা ও ধারণাগুলোকে বিকশিত হতে দিতে চান না। কিছু পাঠকগোষ্ঠী হতাশামূলক মন্তব্যের বাইরে আর কিছু করবে না, কারণ তারা সব সময় অন্যদের মানসিকভাবে সূক্ষাতিসূক্ষ আঘাত করতেই ব্যস্ত। এরা আমাদের লেখাকে নষ্ট করার চেষ্টা করে সব সময়। তাই এদের এড়িয়ে চলুন।

**দুই-** অপর এক ধরনের লেখক এবং পাঠক আছেন সু-পাঠক, যারা নিজেরা লিখতেও পারেন নাও পারেন, তবে ভালো লেখাকে সম্মানের সাথে পড়েন। নিজেদের সুন্দর প্রকাশভঙ্গিতে সুগঠিত মন্তব্য করেন, লেখার সমালোচনা করেন। লেখকের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে সেই লেখায় আরো কিছু মন্তব্য যোগ করে লেখাকে সুন্দর একটি রূপ দিতে সাহায্য করেন। এরাই কিন্তু আপনার আমার লেখার অনুপ্রেরণা এবং উৎসাহদাতা।

### পাঠকের মন্তব্যে নিরাশ হবেন না-

একজন লেখক হিসেবে পাঠকসমাজে নিজের যাবতীয় মন্তব্য, আলোচনা এবং নেতিবাচক সমালোচনাকে কখনোই নিজেরা রাগান্বিত হয়ে বা মন্তব্যকারীর মত অভদ্র ভাবে মোকাবেলা করবেন না, উচিত নয়। এতে আপনার লেখকীও সত্ত্বা মানসিকভাবে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়বে। শেষমেশ লেখার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন অনেকেই। তাই নেতিবাচক এরকম মন্তব্যের সাথে কখনো আপোষ করতে যাবেন না, দরকার নেই। কিছু পরিস্থিতিতে মন্তব্যকারীর ভুল ভাঙাতেও যাবেন না যখন বুঝতে পারবেন তিনি এমনটা ইচ্ছেকৃত করছেন।

আমি মাঝেমধ্যে ব্লগে আমার পুরাতন লেখায়ও ঢুঁ মারি। সেখানে অন্যেদের করা মন্তব্যগুলি পড়ি কিংবা নতুন মন্তব্য আসলো কিনা তা দেখি। আমি মনে করি আমার পাঠককে বুঝতে হলে আমাকে জানতে হবে আমার লেখায় কে বাহবা দিচ্ছে? কারা তালি দিচ্ছে? কোন লেখক বা পাঠকগোষ্ঠী আমার লেখা পড়তে আগ্রহী কিংবা কারা কারা আমার লেখাকে উপভোগ করছে? যদিও সবাইকে সন্তুষ্ট রাখা আমাদের সম্ভব নয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু পাঠক কিন্তু আপনার আমার সব সময়ের শুভাকাঙ্ক্ষী। লিখুন না শুধু তাদের জন্যই।

### পাঠকের মন্তব্যে আপনার প্রতিউত্তর-

যদি মনে করেন লেখায় পাঠকের করা মন্তব্যে আপনার বিরক্তির উদ্রেগ হচ্ছে কিংবা খারাপলাগা আসছে মনে, তাহলে আপনার লেখার সেই বিরূপ মন্তব্যের জবাব দেয়া থেকে বিরত থাকুন। এর পরে আপনাকে যদি কখনো কেউ মন্তব্যে প্রশ্ন করে- আপনি তার মন্তব্যের জবাব দেননি কেন? তখন তার সেই মন্তব্যের বিপরীতে টেকনিক্যালি বা কুশলী হয়ে উত্তর দিন। বলুন আপনার কোন কারনে মিসিং হয়ে গেছে বা চোখে পড়েনি অথবা মন্তব্য অপ্রাসঙ্গিক ছিল। কিংবা এটা বলুন সেই সময় তার নেতিবাচক বা উস্কানিমূলক মন্তব্যের জবাব দিয়ে নিজের লেখাকে ট্রলের বা হাসির পাত্র করতে চাননি, ব্যস হয়ে গেল।

নিজের লেখার মন্তব্যে পরিচিত কারো নাম দেখলে সেটার উত্তর ব্যক্তিবিশেষে সেভাবেই দেবার চেষ্টা করুন। আপনি নামকরা লেখক হয়ে থাকলে ভিন্ন বিষয় কারন পেশাদার লেখক এসবকিছু গ্রাহ্যই করেননা। তবে আমার মত অপেশাদার লেখক হলে মন্তব্যে কুশলী হোন। তাহলে মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকতে পারবেন। মনে রাখবেন, একটা সময় ছিল যখন মানুষ লিখতো এবং তাদের লেখার প্রতিক্রিয়া তারা তাৎক্ষণিক পেতেন না কারণ তখন ভার্চুয়াল মাধ্যম ছিলনা। কিন্তু এখন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া আসে পাঠকের কাছে থেকে, তাই লেখার পক্ষে সব সময় নিজের যুক্তিগুলো প্রস্তুত রাখুন যাতে সহজেই উত্তর করতে পারেন।

### লেখালিখিতে নিজে অনুপ্রেরণা নিন, অন্যকেও দিন –

একজন নতুন লেখককে অবশ্যই অনুপ্রেরণা দিতে হবে। কেউ জন্ম থেকেই লেখার শিক্ষা নিয়ে আসেনি। আপনি, আমি যখন লেখালিখি শুরু করেছি আমাদেরও একই অবস্থা ছিল। আমরা লিখতে লিখতে শিখছি। আমিতো এখনো শিখছি। তাই নতুন লেখককে হ্যামরা ত্যামরা মন্তব্য করে নিজেকে বড় লেখক প্রমাণ করা আমার কাছে বোকামি মনে হয়। অহেতুক অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য করে নিজেকে জাহির করা কিছু লোকের বাজে স্বভাব। এমনটা দেখলে তাদের মন্তব্যকে এড়িয়ে চলুন।

যখন আপনার মন মেজাজ ভালো থাকবেনা তখন কারও মন্তব্যের জবাব দিতে যাবেন না। এতে আপনার রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে মন্তব্যে। ফলে অপরজন মানে পাঠক কিংবা লেখক, সে আপনার সম্পর্কে বাজে ধারণা পোষণ করবেন।

### লেখা প্রকাশের মাধ্যমগুলির পাঠকদের বুঝুন-

আপনি যখন কিছু লিখবেন তখন মনে রাখবেন লেখাটি কোথায় প্রকাশ করার জন্য লিখছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্লগ নাকি অনলাইন অথবা প্রিন্ট মিডিয়ায়? কারণ, পাঠক সম্পর্কে আপনার সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। লেখাটি যে মাধ্যমে প্রকাশ করবেন আপনার মন্তব্যকারীও কিন্তু সেরুপ হবে এটা মাথায় নিয়ে লিখবেন এবং সেভাবেই লেখা প্রকাশ করবেন। ভালো এবং নেতিবাচক মন্তব্যের জন্য এসব মাধ্যম সম্পর্কে জ্ঞান রাখাও জরুরী।

যখন আমরা আমাদের লেখাগুলি লিখি তখন সেখানে আমাদের মনের কথাগুলোরই প্রতিফলন থাকে। একজন লেখক নিজেদের সমস্ত কিছু ঢেলে দিয়েই লিখেন। তবে মনে রাখবেন, আপনার আশেপাশে কিছু অসতর্ক এবং বেপরোয়া লোকেরাও বসবাস করেন। তাদেরকে কিছু বলার সুযোগ দেবেন না। তাই নিজের লেখার বিষয়বস্তু, উপাদান, উপস্থাপনা এসব সাবলীল করতে চেষ্টা করবেন। নেতিবাচক, প্রতিহিংসামূলক কিংবা অন্যের জন্য ক্ষতিকর এমন লেখা লিখবেন না। এটা মোটেই উচিত নয়।

পরিশেষে আর একটি কথাই বলবো- অবশ্যই মনে রাখবেন, কেউ আপনার লেখা পড়তে বাধ্য নয়। তাই অন্যকে মন্তব্যে মেনশন করে লেখা পড়তে বাধ্য করবেন না। এতে পাঠকের মন্তব্যে আপনার খারাপ লাগা আসতে পারে। আবার আপনার লেখায় কেউ মন্তব্য করতেও বাধ্য নয় এবং আপনিও কারো মন্তব্যের উত্তর দিতে বাধ্য নন। তবে পারস্পরিক সুগঠিত মন্তব্য আদান-প্রদান লেখকদের নিজেদের মধ্যে সুন্দর একটা মেলবন্ধন তৈরি করে। আদতে এর ফলে আপনার লেখার মান ভালো হবে এবং আমার মতন মনের খোরাক মেটাতে শখের বশে যারা লিখেন তাদের মধ্যে একটা ভালোলাগা কাজ করবে যা মনকে প্রফুল্লতায় ভরিয়ে দেবে। তাই বেশি বেশি লিখুন কিন্তু মন্তব্যে অবশ্যই কুশলী হোন।

---

Comments: 31 — https://sonelablog.com/%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%85%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%82%e0%a6%ac%e0%a6%be/#comments
