# লেখক হব না – লিখতে চাই…..//

- Author: [বন্যা লিপি](https://sonelablog.com/author/lipi71/)
- Published: 2020-09-25T21:32:42+00:00
- Updated: 2020-09-25T22:42:39+00:00
- Category: [সমসাময়িক](https://sonelablog.com/category/current_affairs/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%95-%e0%a6%b9%e0%a6%ac-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%96%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%87/

---

লেখক হবার খায়েশ নাই, যা লিখি নিজস্ব যোগ্যতায়। নিজস্ব স্বকিয়তায়। কারো কারো লেখা খুব ভালো লেগে গেলো বলে নিজের নামে চালিয়ে মিথ্যে হাততালি বাহবা কুড়াবার মতো হীনমন্যতায় অসুস্থ্য মস্তিষ্কের যত্ন আমি করার আদিখ্যেতা/ ন্যাকামো , ভাবতেই পারিনা। তথ্যভিত্তিক লেখা লিখতে হলে অবশ্যই পড়তে হয়। তথ্যগুলো কোথা হতে সংগ্রহ করলাম তারও ব্যাখ্যা দেয়াটা দায়িত্ব। সবাই সবকিছু জানবে এমন তো কথা নয়, ন্যুনতম সৌজন্যবোধটুকু বর্তমান সময়ে,জাগ্রত হবার নামে বরঞ্চ ন্যাক্কারজনক ভাবে বিলুপ্ত হতে দেখছি। আরে!! একটা লিমিট তো আছে নাকি?

যতই দেখছি,  
যতই জানছি,

যতই বুঝছি……ততই হতবুদ্ধি হচ্ছি। ভাইরে, বইনরে…. লেখালিখি কইরা কে কতটা কি করতে পারবেন একেকজন? মনের খোরাক যদি বলেন ,বেশ ভালো কথা, নিজে যা যোগ্যতায় রাখেন সেটা নিয়েই নিজের স্বকিয়তা বজায় রাখুন না! কপি, লেখা চুরি, পেষ্টপোষ্ট…….। তাও করেন ,সমস্যা নাই, ভদ্র হলে অন্তত উল্লেখ করেন,  “লেখাটা ভালো লাগলো বলে সবার সাথে শেয়ার করলাম”।  তথ্যগুলো সঠিকভাবে দিয়ে নিজের সন্মানটা বজায় রাখেন। আপনি মার্কেটে বা রাস্তায় নামলে হঠাৎ হোঁচট খেয়ে উল্টে পাল্টে পড়ে গেলেন বলে লজ্জা পান, কথায় কথায় কেউ আপনাকে তীর্যক কথায় ঘায়েল করলো বলে আপনি অপমানিত বোধ করেন। অথচ অন্যের লেখা কপি,চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দিচ্ছেন বলে আপনার খুব সন্মান বাড়ে? কি হয় এসব না করলে? আপনি খুব ক্ষুধার্ত  থাকবেন? আপনি অক্সিজেন ছাড়া নিঃশ্বাস নিতে পারবেন না? আপনি মাছ? জল ছাড়া আপনি সাঁতরাতে পারবেন না? আপনি মনে করছেন আপনার এই বিরলচুরি,কপিপোষ্টের ব্যাপারটা এই বর্তামান বিশ্বায়নের সময়ে চাপা থাকবে? আপনি নিজেকে এতটাই মূল্য দিতে ব্যাস্ত যে ভাবছেনই না যে, এখনকার সময়, কোনোকিছু গোপন নয়। আর তারপর? আপনার মেধা আছে, মনন আছে, অভিজ্ঞতা আছে আপনি নিজেই এগুলোর যথাযথ ব্যাবহার করে লিখুন না যা লিখতে চান! যে বিষয়টা নিয়ে লিখতে চান, একটু সময় নিয়ে তথ্যগুলো জেনে নিয়ে নিজের মতো করে লিখুন। ওতে আপনার নিজস্বতা থাকবে, থাকবে আপনার স্বকিয়তার পরিচয়। এই লেখালিখি করে কেউ পরিচিতি পেতে চাইলে অবশ্যই তাঁর নিজস্ব স্বকিয়তা প্রয়োজন। হুমায়ুন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন, আনিসুল হক, আহমেদ ইউসুফ সাবের, রাবেয়া খাতুন, সেলিনা হোসেন, কবি রোকেয়া সাখাওয়াত, কামিনী রায়, জীবনানন্দ দাশ, শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এরকম প্রথিতযশা লেখকদের কথা ভাবুন! চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায় কোনটা কার লেখা। আমরা শখের বশে বা মনের খোরাক মেটাতে যারা লিখে যাচ্ছি, কেউ কেউ ইতিমধ্যে ছাপ রেখে চলেছেন নিজস্বতার স্বাক্ষর রেখে রেখে ভেবেছেন একটুও? মহারাজ ছাইরাছ হেলাল, এস জেড বাবু, নাজমুল হুদা, জিসান শা ইকরাম, অনন্য অর্ণব, প্রদীপ চক্রবর্তী, সাবিনা ইয়াসমিন, তৌহিদ ,রেহানা বিথী, সুপায়ন বড়ুয়া, হালিম নজরুল। এদের পোষ্ট দেখলেই ধরে নেয়া যায় চোখ বন্ধ করে কি ধরনের শব্দের হাডুডু খেলা দেখার নজর কাড়া দৃশ্যায়ন হতে পারে! হাসি পেলো এ কথায়? না… আমি হাস্যকর কিছু বলিনি। হাডুডু শব্দটা ব্যাবহার করেছি কেন তা ছেড়ে দিচ্ছি আপনি পাঠক; আপনার বোঝার ওপরে। এই দুই বছর দুইমাস অতিক্রম করা ব্লগীয় জীবনে আমিও দৃঢ় বিশ্বাস রাখি , আমার নিজেরও একটা ক্যাটাগরি দাঁড় করিয়ে ফেলেছি ইতিমধ্যে সোনেলা ব্লগবাসীদের নতুন পুরাতন অনেক ব্লগারের কাছে। আমি সবসময় বিশ্বাস করি , আত্মপক্ষ সমর্থনের একটা সুযোগ থাকা অত্যন্ত জরুরী। আমি কি লিখছি? কি লিখব? কেন লিখব? এর ফিডব্যাক কি হতে পারে? এতসব চিন্তা করে কেউ লিখতে পারেনা সত্য। কিন্তু আমার প্রশান্ত মন তো জানে!  আমার মন কি লিখতে চায়? কেন লিখতে চায়? আমারও দায়বদ্ধতা থাকতেই হবে। আমি লিখছি মনের খোরাক যোগাতে, আমি লিখছি আমার অনুভূতির জায়গাটাকে সন্মান জানাতে, আমি লিখছি -আমার ভাবনা অন্যদের সাথে ভাগ করে নিতে। একটা গল্পে বলে যাচ্ছি ,হচ্ছে এমন, হওয়া উচিৎ কেমন? সমাজের বৈষম্যের কিছু দিক তুলে ধরার চেষ্টা করছি নিজের মতো করে। আমার আপনার জায়গা থেকে কে কতটা নিজেকে পরিশুদ্ধ করে সমাজে অবস্থান করছি তার একটা শিক্ষা নিচ্ছি প্রতিনিয়ত। অথচ কি শিখছি? কি দেখছি? একটা ছোট্ট কাহিনী দিয়ে লেখা শেষ করবো-এই স্মৃতীটুকু আমার জীবনে সবচে টার্নিং পয়েন্ট। তখন যতটা না বুঝেছি, তারচে বেশি  বড় হতে হতে- বুঝতে বুঝতে  বড় হয়েছি।

ক্লাশ থ্রী’তে পড়ি হয়ত তখন। পেন্সিল ছেড়ে দিয়ে কলম ধরেছি তখনই আমরা ক্লাশের সবাই। আমার কলমে কালি শেষ।  রমার কাছে বাড়তি কলম ছিলো। ওর কাছে চাইতেই দিলো লিখতে। ওই বয়সে  একজনার একটা জিনিস যত্নে ব্যাবহার করতে হয় একটুকু বোঝার কথাই নয়!  অসাবধনতায় কলমটা ভেঙে গেলো। রমা আমার ওপরে খুব রেগে গেলো। রমা ওর বাবাকে গিয়ে কি বলবে? বাবা যদি জানে তো মেরে হাড় গুড়ো করে দেবে। আমিও ভয়ে কাপাকাপি শুরু করে দিলাম। আব্বা জানতে পারলে আমারো হাড়গোড় আস্ত থাকবে কিনা সন্দেহ। ইচ্ছা মতো বকাবকি করলো। ইচ্ছামতো অপমানকর যা ইচ্ছা তাই বললো। কোনোমতে বলেছিলাম, কলমের দাম দিয়ে দেব। কিভাবে কলমের দাম দেবো না ভেবেই বলেছিলাম। এরপর প্রত্যেকদিন আমাকে তাগাদা দেয়া শুরু। বলতে গেলে এমন অবস্থা করে যাচ্ছে, আমার স্কুলে যেতেই ভয় করতো। গেলেই রমা টাকা চাইবে। আব্বা বা আম্মাকে বলার সাহসই জোটাতে পারছি না। আমি দুঃস্বপ্নেও দেখি রমা আমার সাথে যাচ্ছেতাই ব্যাবহার করে যাচ্ছে ক্লাশভর্তি বন্ধুবান্ধবের সামনে। আমার চোখে পানি। আমার ঘুম ভেঙে যায় আতঙ্কে। এমনি করে করে এক বছরে কেটে গেছে। একদিন এ্যাসেম্বলির পরে আমাকে জোড় করে টেনে নিয়ে গেলো রমা এবং আরো ২/৪জন সহপাঠী সহ আব্বার কাছে টিচার্স রুমে। আব্বা তো দেখেই স্বভাবগত আচরনে কপাল কুঁচকে তাকালেন আমার দিকে। আমার তখন অবস্থা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। আব্বা সব শুনে রমাকে তাঁর কলমের দাম দিয়ে দিলেন বিনা বাক্যব্যায়ে । আমি প্রমাদ গুনলাম , বাসায় গিয়ে আজ খবর আছে আমার।

কলমটা ভেঙে ফেলা অযত্নে-অসাবধনতার কারনে কোনো ব্যাপার না ওই বয়সে। আমি যে মানসিক যন্ত্রণাটা ভোগ করেছি দীর্ঘ সময় ধরে। আমার জীবনের একটা চরম শিক্ষা হয়ে রয়ে গেছে আজো। আমি শিক্ষাটা নিয়েছিও চরম ভাবে। প্রয়োজনে প্রয়োজন ভুলে যাবো। তবু কারো থেকে কোনোকিছু কোনোদিন ধার-উদ্ধার করে প্রয়োজন মেটাব না। আজো আমি দুর্বিসহ সেই স্মৃতী প্রতিটা ক্ষেত্রে মনে রেখে চলার চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রতিটা মানুষ ভেদে তার আচরনগত, স্বভাবগত, অভ্যাসগত বৈষিষ্ট ধারন করে চলেন। সেই বৈষিষ্টের কানরনেই তিনি প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকেন সমাজ সংসারের দৃষ্টান্ত। এক একজন আলাদা আলাদা বৈশিষ্টের মানুষজন একেক রকম গ্রহনযোগ্যতা নিয়েই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন/ করে আসছেন। সন্মান যশ প্রতিপত্তি কেউ কাউকে হাতে তুলে দেয়না। কঠোর সংযম আর নিষ্ঠার সাথে অর্জিত প্রতিষ্ঠা যশ গৌরব অসাবধানে অযত্নে খোয়া গেলে জীবন অনর্থক যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে।

দীর্ঘ এই লেখার উদ্দেশ্য একটাইঃ উপরিউক্ত কথাগুলো অন্তত মনোযোগ দিয়ে ভাববার সময় এসেছে।  যেকোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়মনিতী বলবৎ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলেই ধ্বংস  বা ভাঙন অনিবার্য। আজ যে নিয়মাবর্তিতা নিয়ে গর্ব করে ফাটিয়ে ফেলছি! কালকের ভুল পদক্ষেপেই তা ডেকে আনতে বাধ্য পরাভূত পরাজয়। একটা গ্রুপ বা ব্লগসাইটের গর্ব হওয়া উচিত নিজস্বতা। সেই নিজস্বতার বলয়ে উদ্ভাসিত হতে হলে প্রত্যেক সঞ্চালক, পরিচালক, সদস্যদের সমান দায়িত্ববোধ থাকা একান্ত জরুরী। আমি জানি আমার থেকে অনেক অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ (সিনিয়র) ব্লগার লেখক আছেন এই সোনেলায়। তাঁদের সবার কাছে আমি নিতান্তই কনিষ্ঠ একজন অতি সাধারন হাবিজাবি মার্কা লিখিয়ে। অনেক দুঃসাহস নিয়ে আজ এই পোষ্ট দিতে ইচ্ছে হলো। সঞ্চালক মনে করলে এ পোষ্ট মুছেও দিতে পারেন, আমি মনে করিনা যে আমি বিধিবহির্ভূত কোনো উস্কানী মুলক অথবা আপত্তিকর কোনো লেখা লিখেছি। তারপরও যদি ব্লগ সঞ্চালক বৃন্দ মনে করেন কোনো কোনো ব্লগার লেখক মনোক্ষুন্ন হবার আশংকা আছে। তাহলে আমার বলার বা প্রতিবাদ করার কোনো সুযোগ না রেখেই তাঁদের সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি। সবশেষে — লেখক হতে চাইনা, লিখতে চাই। নাম চাই না মান চাই।

শুভস্য🌼🌼  
শুভ ব্লগিং 🌹🌹  
২৬ সেপ্টেম্বর  
সময়ঃ ৩:৩২

ছবি- নেট থেকে নেয়া।

---

Comments: 31 — https://sonelablog.com/%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%95-%e0%a6%b9%e0%a6%ac-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%96%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%87/#comments
