# লাইক এন্ড লাইকারস (একটি রম্য রচনা)

Author: রুমন আশরাফ
Published: 2019-11-07
Category: রম্য
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%95-%e0%a6%8f%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%b8-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%b0%e0%a6%ae/

ফেইসবুকে মূলত পাঁচ ধরনের লাইকার (Liker)  রহিয়াছে। দীর্ঘ দশ বৎসর যাবত ফেইসবুক ব্যবহার করিতে করিতে আমি ইহাই অনুধাবন করিলাম। অবশ্য আমার চিন্তা-চেতনার সহিত অন্য কাহারো চিন্তা চেতনার অমিল হইতেই পারে। তবে অমিল হওয়াটা জাতীয় কোনও সমস্যার মধ্যে যে পরিবে না এইকথা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।

এইবার চলুন মূল প্রসঙ্গের দিকে আগাই। বিষয়বস্তু ছিল “লাইকার” লইয়া। প্রশ্ন আসিতেই পারে, “লাইকার” কাহাকে বলে? এই ক্ষেত্রে বিভিন্ন মানুষের অভিমত কিংবা সংজ্ঞা বিভিন্ন হইলেও, আমি একান্তই আমার নিজের মতো করিয়া সংক্ষেপে একটা সংজ্ঞা দাঁড় করিয়াছি। সংজ্ঞাটা নিম্নরুপঃ

“যাহারা বিষয়বস্তু পড়িয়া কিংবা না পড়িয়া, বুঝিয়া কিংবা না বুঝিয়া, সজ্ঞানে কিংবা অবচেতন মনে, ভুলে কিংবা স্ব-ইচ্ছায়, নিজস্বার্থ জনিত কারনে কিংবা লাইক বিনিময়ের কৌশল হিসাবে, অবজ্ঞার ছলে কিংবা অভ্যাসের বলে, মানব হস্তের আঙ্গুলি দিয়া কিংবা কম্পিউটার এর কার্সর দিয়া মানব হস্তের বৃদ্ধাঙ্গুলি চিহ্নিত স্থানে স্পর্শ করে কিংবা ক্লিক করে তাহাকে লাইকার বলে”।

এইবার আসুন লাইকার এর প্রকারভেদ লইয়া খানিকটা আলোচনা করি। উপরোক্ত সংজ্ঞা হইতে আমি লাইকারকে ৫টি (পাঁচ) শ্রেণীতে বিভক্ত করিয়াছি। নিম্নে সংক্ষেপে উহাদের বর্ণনা করা হইলঃ

১। বেহুদা লাইকার (Useless Liker): এইরূপ লাইকাররা ফেইসবুকে পোস্ট করা কোনও কিছু না পড়িয়া কিংবা না বুঝিয়া অনেকটা অযথাই লাইক দেয়। উদাহরণঃ দেখা গেলো ফেইসবুকে কেউ কোনও শোক সংবাদ পোস্ট করিল। বেহুদা লাইকাররা ইহাতে লাইক দিবে। তাহাদের এইরূপ লাইক দেখিলে মনে হয়, তাহারা উক্ত শোক সংবাদে ব্যাপক খুশী হইয়াছে এবং উক্ত সংবাদটি তাহারা সানন্দে সমর্থন করিয়াছে।

২। পাইকারি লাইকার (Wholesale Liker): এইরূপ লাইকাররা অবচেতন মনে কিংবা ভুলে অথবা অভ্যাসের নিমিত্তে যেকোনো পোস্টে লাইক দেয়। উদাহরণঃ ফেইসবুক নিউজ ফিডে বহু ধরণের পোস্ট থাকিতেই পারে। পাইকারি লাইকাররা তাহাদের নিজ নিজ ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করিতে না করিতেই অন্যদের পোস্ট করা প্রতিটি পোস্টে গণহারে লাইক মারা শুরু করে। মূলত এইরূপ লাইকাররা ঘুম হইতে জাগ্রত হইয়াই ফেইসবুকে চোখ বুলায়।

৩। বিনিময় লাইকার (Exchange Liker): এইরূপ লাইকাররা পোস্ট করা কোনও কিছুতে বুঝিয়া কিংবা না বুঝিয়া, পড়িয়া কিংবা না পড়িয়া লাইক দেয়। লাইক দিয়া অন্যেকে খুশী করিয়ে চায়। তাহারা মূলত বিনিময় প্রথায় বিশ্বাসী। তবে বিনিময়ের একটু ঘাটতি দেখা দিলে তথা স্বার্থে খানিকটা টান পরিলে তাহারা বেশ কষ্ট পায়। উদাহরণঃ করিম ফেইসবুকে যাহাই পোস্ট করে, রহিম তাহাতেই লাইক দেয়। কিন্তু রহিম যাহাই পোস্ট করে, করিম তাহার সবগুলোতে লাইক দেয় না। ইহাতে রহিম কিঞ্চিৎ চোট পায় দিলে। বিনিময় লাইকাররা ভাবে, “যত বেশী লাইক মারিব ততো বেশী লাইক নিজেও পাইব”। এক্ষেত্রে রহিম একজন বিনিময় লাইকার।

৪। আদর্শ লাইকার (Ideal Liker):  এইরূপ লাইকাররা ফেইসবুকের পোস্ট সমূহ উত্তমরূপে অনুধাবন করে (পড়িয়া এবং বুঝিয়া) অতঃপর পোস্ট সমুহে লাইক প্রদান করে। যথাস্থানে যথাযথভাবে লাইক প্রদান করা তাহাদের একটি মূল বৈশিষ্ট্য। তাহারা ব্যক্তির চাইতে ব্যক্তির পোস্ট করা বিষয়বস্তুকে বেশীঅগ্রাধিকার দেয়। উদাহরণঃ উপরের উদাহরণে বর্ণিত রহিম এবং করিমের কথাই বিবেচনা করা যাক। করিম ফেইসবুকে যাহাই পোস্ট করে, রহিম তাহাতেই লাইক দেয়। কিন্তু রহিম যাহাই পোস্ট করে, করিম তাহার সবগুলোতে লাইক দেয় না। করিমের কাছে যাহা বস্তুনিষ্ঠ বলিয়া মনে হয়, করিম শুধুমাত্র তাহাতেই লাইক দেয়। এক্ষেত্রে করিম একজন আদর্শ লাইকার।

৫। মিশ্র লাইকার (Mixed Liker): এইরূপ লাইকাররা মিশ্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়। অর্থাৎ উপরের সবগুলা লাইকারের বৈশিষ্ট্য মিশ্রিত লাইকারকেই মিশ্র লাইকার বলে। তবে এরূপ লাইকাররা তাহাদের মনের খেয়াল খুশী মতো লাইক দেয়। নিজের খেয়াল খুশীকে প্রাধান্য দেওয়া তাহাদের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ইচ্ছা হইলে লাইক দিবে, ইচ্ছা না হইলে দিবে না। কখনও কখনও তাহারা বেশ ভাব লইয়া থাকিতেও পছন্দ করে। উদাহরণঃ লালু ও বুলু দুজনেই বেশ ভাল লিখে। লালুর প্রতিটি লেখা বুলু পড়ে এবং ভাল লাগলে লাইক দেয়। কিন্তু বুলুর প্রতিটি লেখা লালুর ভাল লাগলেও লালু তাহার সবগুলাতে লাইক দেয় না। মাঝেমধ্যে কিঞ্চিৎ ভাব লইয়া থাকে লালু। এক্ষেত্রে লালু একজন মিশ্র লাইকার। মিশ্র লাইকাররা সাধারণত অধিক রাত অবধি ফেইসবুকে অবস্থান করে।

পরিশেষে যাহা বলিতে চাই তাহা হইল, লাইকার লইয়া আমার এহেন চিন্তাধারা কাহারও মনে আঘাত সৃষ্টি করিলে আমি দুঃখিত।
