# রূপকথায় রূপকথা

- Author: [ছাইরাছ হেলাল](https://sonelablog.com/author/sairashelal/)
- Published: 2016-01-11T05:05:45+00:00
- Updated: 2016-01-11T09:04:16+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b0%e0%a7%82%e0%a6%aa%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%b0%e0%a7%82%e0%a6%aa%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/

---

কিয়ৎকাল পূর্বের ঘটনা বয়ানে যাচ্ছি।  
চা খাচ্ছি, খোর না কিন্তু, ফোন দেব কিনা ভাবছি, দু’টো নম্বর চোখে রাখছি, আজ ছ’মাস, প্রথমটিতে দিলাম ফোন, অবারিত ছিল যে টি, বন্ধ। ধন্দে পড়লাম, কথা হয়েছিল ছ’বছর আগে সর্বশেষ, কত্ত কিছু পাল্টায়, নস্যি তার কাছে ফোন নম্বর। তব্ধা খেলাম, শেষ করে ঝিম মারা বুকে ফুঁ দিয়ে অন্যটায় দিলাম ফোন, হ্যাপিত্যেশম, ফোন বাজছে বাজছে কেউ ধরছে না।

হাইওয়ের কোল ঘেঁসে নিরিবিলিতে জিসানের অফিসের একটি এটি, ঘন বিকেলে আজ এলাম, আসি এখানে মন বৈকল্যে, মন সুখে, মন দুঃখে, দুঃখ বিলাসেও। মন পুড়িয়ে চোখ জুড়াই শস্য বন দেখে দেখে।

শিক্ষকতা করেন এখনও, শিক্ষা জীবনের শেষ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছিলেন, বাংলা একাডেমী সহ অন্য প্রকাশনা থেকে তখন ই বাংলা ও ইংরেজিতে গবেষণা ধর্মী বই প্রকাশিত হয়েছে (এখনকার কথা জানতে পারিনি), এখন কবিতা লেখেন, ছবি তোলেন, ভ্রমণ করে ভ্রমণ কথা লেখেন। সেলিব্রেটিদের একজন।

এ লেখাটি আসলে ঋণ স্বীকার মাত্র, যা করিনি বলে আক্ষেপ রয়ে গিয়েছিল। আমাকে অনেক কিছু শেখানোর চেষ্টা করেছেন অকৃপণ ভাবে, পারিনি তা শিখতে, বানান শিখতে সাহায্য করেছেন অনেক। কথা বলার গতিতে কী বোর্ড ঝড় তুলতে পারেন, আমি সেই কচ্ছপ গতিতেই থেকে গেলাম। আরও অনেক কিছু প্রথমবার তাঁর কাছ থেকে শিখেছি জেনেছি।

ফোন ধরলেন একটু দেরিতে, সযত্ন ছালাম-কালাম দিলাম, নিম্ন কণ্ঠে উত্তর দিলেন, কণ্ঠ অচেনা বুঝতে পারা সত্বেও বুকে বল এনে জানতে চাইলাম ‘চিনতে পারছেন?’, নিরুত্তরে উত্তর দিলেন। চিনতে পারার কথা না, এত্ত দিন পর। এখানেই শেষ নয়, এবারে নাম বললাম একবার, দু’বার, তাও চিনতে পারলেন না, মরিয়া হয়ে আবার নাম বললাম, এবারে চিনলেন। সৌজন্য দেখালেন নিজ মর্যাদায় আন্তরিক ভাবেই। পাষাণ ভার নেমে গেল। সে সময় আমার স্ত্রীর জীবনে জমযুদ্ধ এসেছিল, এখন কী অবস্থা তাও জানতে চাইলেন, তাঁর শিশুদের কথা জানতে চেয়ে জানলাম। অশেষ কথাবলা ফোনটি কেন বন্ধ তা জিজ্ঞেস করাতে জানাল, খুব জরুরী না হলে ফোন ধরেন না, করেন ও না। মনে মনে নিজেকে ভাগ্যবান ভাবলাম, অচেনা ফোন, তাও ধরলেন বলেই না কথা হলো। তাঁর সামান্য অসুস্থতার কথা জানতে চাইলে একটু অবাক হয়ে বেশ ভাল করেই হেসে দিলেন, এই ই প্রথম হাসলেন, আর জানালেন যেমন শুনেছেন তেমন কিছু না। এবার তার আকাশ ছোঁয়া সাফল্য কামনা করা, তাঁর ও আমার লেখালেখি নিয়ে টুকটাক কথার মধ্যেই জরুরী ডাকের কথা জানালেন, শেষ এভাবেই। কখন যে আট মিনিট চলে গেল টের ই পাইনি,  
মনে মনে ভাবছি, কাজ আর জরুরী হওয়ার সময় পেল না!!  
আন্তরিকতার কিছু অমোচনীয় অবশেষ সময়ের উজানেও টিকে থাকে, টিকে রয়।

আকণ্ঠ অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতাঃ  
সুরাইয়া নাছরিন পাহলভি কে।

---

Comments: 36 — https://sonelablog.com/%e0%a6%b0%e0%a7%82%e0%a6%aa%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%b0%e0%a7%82%e0%a6%aa%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/#comments
