# রিতুও রিতুর দ্বৈতসত্ত্বার কথার কথা-২

- Author: [রিতু জাহান](https://sonelablog.com/author/mounata/)
- Published: 2017-04-28T06:11:25+00:00
- Updated: 2017-04-28T09:07:26+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/), [সমসাময়িক](https://sonelablog.com/category/current_affairs/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%93-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be/

---

চোরেরও জাতিভেদ আছে। কে কুলিন আর কে   হরিজন, তা নির্ভর করে চুরি করা দ্রব্যের উপর।যেমনঃ লুটি তো ভাণ্ডার যারা, তারা সম্ভ্রান্ত উঁচু শ্রেণীর আর যারা পেটের দায়ে সামান্য চুরি করে এবং যাদের পিছনে কোনো নেতা থাকে না তারা হয় ছিঁচকে চোর, এবং তারা এই তথাকথিত সভ্য সমাজের জন্য উপহাস ও নির্মমতার স্বীকার হয়। যেমন আমার কাছে রাজা বাদশা আর ডাকাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। রাজা ও বাদশা এক দেশ থেকে আর এক দেশে লোকবল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যে হানা দেয় তার উদ্দেশ্য কিন্তু লুটতরাজই হয় আর সে পরাজিত রাজবাড়ির অন্দরমহলের নারীরা হয় বিজয় দেশের রাজা বাদশার খাসকামরার দাসদাসী। ধর্ষীত হয় প্রতিনিয়ত সে নারীরা। অথচ তারা আমাদের চোখে বীর। ডাকাতের তবুও একটা ধর্ম আছে, তারা ধনসম্পদ লুট শেষে তারা অন্তত নারীদের অসম্মান ও বন্দী করে না।  
আসলে সুসভ্য শ্বেতকায়ের অন্তরে যেদিন সভ্যতা বিস্তারের মঙ্গলেচ্ছা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল এবংতাদের প্রযুক্তির অতিব্যাবহারে তাদের দৃষ্টিমতে অসভ্য ও অর্ধসভ্য কৃষ্ণাঙ্গের জীবনে সেটা ছিল প্রথম দুর্দিন। বহু শতাব্দী ধরে বহু রক্ত দিয়ে ক্রীতদাস প্রথা থেকে বের হলেও আমরা এই নিন্ম দেশগুলোর মানুষ এখনো নীপিড়িত।  
সভ্য সমাজের অর্থাৎ ইউরোপের মতো দেশগুলোর অতি প্রযুক্তির ব্যাবহার এবং এর অতি উৎপাদন আমাদের জন্য অনেকটা এমন,’শুভাকাঙ্খী শক্তিমানের কল্যাণহস্ত কখন কিভাবে কার মাথায় এসে পড়বে, এই দুর্বলেরা সর্বদাই তটস্থ থাকে এখন, বৃহতেরা সে কথায় কর্ণপাত মোটেও করে না। তারা তাদের একধরনের উপকার করার এক্সপেরিমন্ট চালায়। ইতিহাস খুঁজলে দেখা যায়, পৃথিবীতে যতো জটিল সমস্যাগুলো তার বেশীরভাগেরই মূলে রয়েছে পরের ভাল করার প্রচেষ্টা। ‘যেমন আলফ্রেড নোবেল ডিনামইট আবিষ্কার করেছিলেন মানুষের কল্যাণের জন্য। তার উদ্দ্যেশ্য ছিল মানুষের সুবিধার্থে অর্থাৎ বড় বড় পাহাড় ধ্বস করে মানুষের  বসবাস ও চলার সুবিধা করা। অথচ আজ তাতেই আমরা প্রতিনিয়ত মরছি। আমরা কি চেয়েছিলাম তার এই আবিষ্কার! অথচ তার নামেই নোবেল পুরষ্কার!

‘ তুমি নিন্ম শ্রেণীর মানুষ তুমি মূর্খ, কি বোঝ! তুমি না চাইলেই কি হয়, আমি তোমার উপকার করেই ছাড়ব, একদল তথাকথিত এমন মহৎ মানুষের মনে যদি এই উগ্র চিন্তা না আসত তবে সাধারণ মানুষ সুখেই থাকতো পারতো। অন্তত আজকের তুলনায় তাদের দুঃখের ভার অনেক লঘু হতো।  ক্ষুদ্রের সরব ও নীরব বাধা অগ্রাহ্য করে তার মঙ্গল হেতু যে কাজ করে তা মূলত অকল্যাণকরই। যেমন এখন অবস্থা আমাদের কৃষকশ্রেণীর। প্রতিবেশী ও দেশীয় অহেতুক কল্যাণহেতু কাজগুলোই এখন কৃষকের জন্য অভিশাপ। শুধু কৃষক শ্রেণীই নয় মরছি আমরাও। প্রযুক্তির অতি ব্যাবহারে আমরা বিষ খাচ্ছি। সরকার মহোদয়ের লোকগুলো বলেই খালাস, কয়েকদিনেই বাম্পার ফলন হবে চিন্তা নেই!  
কিন্তু এই বাম্পার ফলনটা হবে কি করে?

জরাসন্দের একটা বই পড়ছিলাম কয়েকটা লাইন পড়ে এই কথাগুলো মনে এলো।

---

Comments: 15 — https://sonelablog.com/%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%93-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%a4%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be/#comments
