# রাষ্ট্র তুমি কি ভাড়াটিয়াদের কান্না শুনতে পাও

Author: নিতাই বাবু
Published: 2019-08-19
Category: এদেশ
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be/

আমি এদেশের একজন ভাড়াটিয়া কাঁদছি। রাষ্ট্র তুমি কি  আমার ভেতরের শব্দহীন কান্না শুনতে পাও? হয়তো পাও! হয়তো বা পাও না। তবু আমাকে যে কাঁদতেই হচ্ছে। আমি বছর বছর ধরে  নীরবে কেঁদেও যাচ্ছি। একসময় নিজেদের বাড়ি ছিল। ছিল চাষাবাদ করার কিছু জায়গা জমিও। আবার একসময় সবই হারিয়ে গেলো। এখন ওইসব নিজের স্মৃতিতেও নেই। এসব অনেকদিন আগের কথা। তাই মন থেকে আস্তে আস্তে সব মুছে যাচ্ছে নিজের অজান্তেই। তবু কিছু কিছু সময় খুব মনে পড়ে। মনে পড়ে যখন বাড়িঘর ছেড়ে ইট-পাটকেলের শহরে আসলাম তখনকার কথা। তখন ১৯৭২ সাল। মানে দেশ স্বাধীন হবার পরপরই। আমি তখন ছোট। বয়স আনুমানিক দশে ছুঁই ছুঁই। তখন মোটামুটি একটু-আধটু  বোঝার বয়সও হয়েছিল।

গ্রাম ছেড়ে শহরে উঠলাম নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানাধীন আদর্শ কটন মিলে। আদর্শ কটন মিলে বড়দাদা চাকরি করতো বলেই মিল অভ্যন্তরে জায়গা হয়েছিল। নাহয় মিল অভ্যন্তরে আর জায়গা হতো না। থাকতে হতো পরের বাড়িতে ভাড়া। সাজতাম ভাড়াটিয়া। মিলের জায়গা মানে মিলের শ্রমিক কোয়ার্টার। এটাও ছিল একরকম পরের জায়গা। থাকি বড়দাদার চাকরির সুবাদে। বাসাভাড়া দিতে হয় না। বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় না। পানির বিল দিতে হয় না। নিরাপত্তার জন্য দারোয়ানকে মাসিক বেতন দিতে হয় না। সবই ফ্রি! শুধু রান্না-বান্নার জন্য কিছু লাড়কি খড়ি কিনতে হতো। তখন তিতাস গ্যাস ছিল না।

তখন বই পুস্তকে পড়তাম দেশে নাকি তিতাস গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। বুজতাম না গ্যাস কী? গ্যাস দিয়েই বা কী করে? গ্যাস পাবার অনেক পরে বুঝেছি গ্যাস কী এবং গ্যাস দিয়ে কী করে! আর এখন ছোট-বড় সবাই বুঝে গ্যাস কী? মিলের ব্রয়লার চলতো মবিলেরমত একপ্রকার কালো তেলে। যাকে বলতো মাইট্যা তেল। এরপর একসময় মিল অভ্যন্তরে শ্রমিক কোয়ার্টারে গ্যাস লাইন দেওয়া হলো। প্রতি ঘরে ঘরে গ্যাসের চুলা! চাবি দিলেই চুলা জ্বলে। রান্নাও হতো অতি অল্প সময়ে। গ্যাস পেয়ে মিল অভ্যন্তরে শ্রমিক কোয়ার্টারে থাকা সবার মুখে হাসি। আমরাও হলাম সুখী। গ্যাস বাবদ নামমাত্র কিছু অর্থ ব্যয় হলেও, রান্না-বান্নায় ছিল নিরাপদ ও  সহজ৷ অনেক বছর মনের আনন্দে মা-বোনেরা রান্না-বান্না করতে পারলেও, একসময় সেই মিলও বন্ধ হয়ে গেল। আবার আমরা হয়ে গেলাম নীড় হারা ঝড়ের পাখি।

থাকতে হবে পরের বাড়ি ভাড়া। আদর্শ কটন মিল ছেড়ে সপরিবারে চলে আসলাম শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়, নগর খাঁনপুর এলাকায়। বাসাভাড়া নেওয়া হলো। প্রতিমাসে দুইশো টাকা বাসা ভাড়া নির্ধারণ হলো। পুরো পরিবার হয়ে গেলাম নগর খাঁনপুরের ভাড়াটিয়া। কারণ, আমরা ভাড়া থাকি তাই। খাও আর না খাও, প্রতিমাসে দুইশো টাকা করে ভাড়া দাও!  দিয়েছি, অনেক বছর। এখনো দিচ্ছি। পরের বাড়িতে ভাড়া থেকেই দুই বোনের বিবাহ দিয়েছি। মা-বাবাকে স্বর্গে পাঠিয়েছি। বড়দাদার সাথে এক বোনকেও মায়ের ঠিকানায়  (স্বর্গে) পাঠিয়েছি। আজ অবধি আমি পরের বাড়ির ভাড়াটিয়া হয়েই রইলাম।

এখন বাসা ভাড়া অনেক! দুইশো আর তিনশো নয়। শুনেছি সেই দিন নাকি বাঘে খেয়ে ফেলেছে।  এখন  ডিজিটাল দিন। যুগটাও নাকি ডিজিটাল যুগ। হিন্দু শাস্ত্রের চার যুগের এক যুগ। তা হলো কলিযুগ। এই যুগ নাকি অধর্মের যুগ। মানুষ বেশি  চিন্তাশীল। চিন্তা বেশি নিজের স্বার্থের। পরের চিন্তা কেউ করে না। মায়া আর দয়া শুধু মুখে মুখেই থাকে। তাই বলে এটা অধর্মের যুগ। মুখে মুখে ধর্ম, অন্তরে কুকর্ম। দয়া-মায়ার দিন শেষে আমি পরের বাড়ির একজন ভাড়াটিয়া। বাড়ির মালিক আমার বাড়িওয়ালা।

রাষ্ট্রের যেমন আইন আছে, বাড়িওয়ালারও নিজস্ব আইন আছে। তাঁরা রাষ্ট্রীয় কোনও আইনের তোয়াক্কা করে না। সবসময় তাঁদের নিজেদের আইনেই চলে। তাঁদের প্রতিমাসে ভাড়া নেওয়ার রশিদ না থাকলেও, আইনগুলো অবশ্যই বহাল থাকে। প্রথমত বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা অগ্রীম দিতে হয়। ফ্ল্যাট বাসা তো গরিবদের জন্য স্বপ্নের ব্যাপার-স্যাপার। গরিব মানুষ শুধু ফ্ল্যাট বাসার দিকে চেয়ে চেয়ে ঘাড় ব্যথা করে। থাকতে আর পারে না। ধনীব্যক্তিই ফ্ল্যাট বাসায় থাকতে পারে। থাকেও তাঁরা। তবে  ফ্ল্যাট বাসার অগ্রীম বাবদ আরও কয়েকগুণ বেশি। ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৫০/৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রীম বাবদ দিতে হয়। তবু অনেক ধনীব্যক্তি মনোমতো বাসা খুঁজে পায় না। আজকালকার দিনে সব রকম বাসার খুবই অভাব। যাঁরা সরকারি খাসজমি দখল করে বস্তিঘর বানিয়ে থাকে, তাঁরাও বস্তিঘর বাড়া দিয়ে থাকে। সেখানেও একইরকম অবস্থা। বস্তিঘরের মালিক, সেও বাড়িওয়ালা সেজে বস্তিঘর ভাড়া দিচ্ছে। ভাড়া বাবদ অগ্রীমও চাচ্ছে, নিচ্ছে।

বাসাভাড়া নিতে রাজি হয়ে গেলে শর্তাবলি থাকে এরকম– অতিথি বেশি বেশি আসতে পারবে না। এতে পানি খরচ বেশি হয়। পরিবারে ক’জন সদস্য? স্বামী স্ত্রী আর দুই সন্তান হলে ভালো হয়। বাড়িওয়ালাদের কাছে ছোট পরিবারের আদর বেশি। সদস্য বেশি তো সমস্যা বেশি। বেশি সদস্যের ভাড়াটিয়াদের জন্য অন্যসব ভাড়াটিয়াদেরও সমস্যা হয়। চার-পাঁচ জন ভাড়াটিয়ার জন্য থাকবে একটা বাথরুম। রান্নাঘর থাকবে ছোট আকারে টিন সেট একটা। গোসলখানা থাকবে একটা। তাও বাথরুমের ভেতরেই থাকে ঠাসা।

কোনও কোনও বাড়িওয়ালার আইন থাকে বিদ্যুৎ যার যার। মেইন মিটার থেকে সাব মিটার দেওয়া হবে। যত খরচ, তত বিল। কিছু আছে হৃদয়বান বাড়িওয়ালা। এসব হৃদয়বান বাড়িওয়ালার সিস্টেম থাকে বিদ্যুৎ খরচ-সহ ঘর ভাড়া। এসব হৃদয়বান বাড়িওয়ালারা বাড়ি নিয়ে টেনশনও থাকে সারাক্ষণ। বাড়িওয়ালার তো সারারাত জেগেই থাকতে হয়। কারণ হলো  বিদ্যুৎ খরচ। যাতে কোনও ভাড়াটিয়া যেন বেশি রাত পর্যন্ত ঘরে লাইট জ্বালিয়ে না রাখতে পারে, তাই দারোয়ান সেজে রাতে পাহারা দেওয়া। সেসব দয়ালু বাড়িওয়ালারা সার্বক্ষণিকভাবে ভাড়াটিয়াদের ঘরে থাকা বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্রপাতির দিকেই বেশি খেয়াল করে থাকে।

আজকালকার বাড়িওয়ালা মানে একজন রাজা। তাঁদের পুরো বাড়িটা একটা মুল্লুক। তাঁরা যেখানে থাকে সেট হলো রাজপ্রাসাদ। তাঁদের ছেলেরা হলেন রাজপুত্র, মেয়েরা হলেন রাজকুমারী। বাড়ির দারোয়ান মানে সিপাহী। যেই রাজার মুল্লুক বড়, সেই রাজার সৈন্যও অনেক বেশি। থাকে উজির নাজিরও। চামচিকা যাকে বলে। আর মাংস ছিটানোর কারণে বাঘ সিংহের তো অভাবই থাকে না। হিসাবরক্ষক তো থাকেই। এ-ছাড়াও রাজার অগোচরে রাজ্য শাসনে নিয়োজিত থাকে বাড়িওয়ালি নামের মহারাণী। ভাড়াটিয়া বাড়িতে মহারাণীর হাতে মহা দায়িত্ব অর্পিত থাকে।

মহারাণীর দায়িত্ব অপরিসীম। যেমন: রাজ্যের কোথায় কী হলো? কে কার সাথে ঝগড়াঝাঁটি করলো। কে কার বিরুদ্ধে নালিশ করলো। কে কতক্ষণ বাথরুম নিজের আয়ত্তে রাখলো। কে ভাড়া দিলো। কে না দিলো। গ্যাসের চুলা কার দখলে রয়েছে, আর কে রান্নার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। কার ঘরে বেশিক্ষণ টেলিভিশন চালু রয়েছে। বিনা প্রয়োজনে কেই গ্যাস অথবা পানির কল চালু করে রেখেছে কিনা। কারোর ঘরে অপরিচিত কেউ আসলো কিনা। কাকে রাখতে হবে, আর কাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

অনেকসময় মহারাণীকে বাড়তি ঝামেলাও পোহাতে হয়। যেমন: কোনও ভাড়াটিয়া যদি প্রতিমাসে বাসাভাড়া পরিশোধ করতে না পারে, সেই ভাড়াটিয়ার উপর চাপ প্রয়োগ করতে হয়। ভয় দেখাতে হয়। তখন ভাড়াটিয়াও পড়ে যায় বিপাকে। অবস্থা দাঁড়ায় বেগতিক। সব ভাড়াটিয়া তো ব্যবসায়ী আর চাকরিজীবী নয়। দুই-চারজন ভাড়াটিয়ার সাথে একজন  দিনমজুরও থাকতে পারে। একজন দিনমজুর প্রতিদিনের পাওনা প্রতিদিনই হাতে পায়। খায় দায়। খরচ করে। আবার সময় সময় বেকারও থাকে। কিন্তু বাসাভাড়া বা ঘরভাড়া? একমাস না দিতে পারলে, পরের মাসে দ্বিগুণ। যদি প্রতিমাসে বাসাভাড়া ৩০০০ (তিন হাজার) টাকা হয়, একমাস না দিতে পারলে পরবর্তী মাসে ৩০০০+৩০০০=৬০০০ (ছয় হাজার) টাকা গুনতে হয়। এই ৬০০০(ছয় হাজার) একজন দিনমজুর কী করে পরবর্তী মাসে পরিশোধ করবে? না করতে পারলেই তো মহাবিপদ।

এদিকে মহারাণীর(বাড়িওয়ালির) হয়ে যায় মাথা সাইট। প্রস্তুতি নিতে হয় ভাড়াটিয়াকে বাড়ি থেকে বের করার। অনেকসময় করেও থাকে। আবার অনেকসময় ভাড়াটিয়ার ঘরে থাকা আসবাবপত্র সহ তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বকেয়া ঘরভাড়া পরিশোধ করো, তারপর ঘরে ঢুকো। এরপর একটা সমঝোতার মধ্যে পৌঁছায়। ভাড়াটিয়া প্রতিমাসে বাসাভাড়ার সাথে বকেয়া থাকা কিছু কিছু টাকা দিয়ে ঋণমুক্ত হয়। আবার কোনও ভাড়াটিয়া মাথা থেকে ঋণের বোঝা নামাতে না পেরে, ঘরের আসবাবপত্র ঘরে রেখেই পালিয়ে যায়। শেষতক ঘরে থাকা সামান্য মূল্যের মালামালগুলো বাড়িওয়ালি নিলামে বিক্রি করে তাঁর পাওনার ওজন কিছু কমায়। বাড়ির এসব জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান অনেকসময় মহারাণী (বাড়িওয়ালি) বাড়িওয়ালার অগোচরে নিজেই করে থাকেন।

এই স্বাদের জীবন রক্ষার্থে ১৯৭২ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জের অনেক রাজার মুল্লুকে ভাড়া থেকেছি। দেখেছি অনেক বাড়িওয়ালা বাড়িওয়ালি। দেখেছি বাড়িওয়ালাদের প্রতিষ্ঠিত  আইন। প্রয়োগ করা শাসন। শুনেছি অনেক কথা। তা এখনো মাঝে মাঝে শুনতে হয়। যেহেতু আমি একজন ভাড়াটিয়া। তাঁদের আইন, আইনের শাসন দেখতে হয়। শুনতে হয়। মানতেও হয়। বছরে দুই-একবার ভাড়া বাড়িয়ে দিতে হয়। কেননা, সরকার কর্তৃক বিদ্যুতের দাম বেড়ে গেলেই, সেই দাম ভাড়া থাকা ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে আদায় করা হয়। মানে বাসাভাড়া বাড়ানো হয়। গ্যাসের দাম বেড়ে গেলে তাও ভাড়াটিয়াদের উপরই বর্তায়। এভাবে প্রতিবছর বাসাভাড়া বেড়েই চলছে। ১৯৮৬ সালে যেই বাসাভাড়া ছিল মাত্র ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। সেই বাসাভাড়া এখন ৩৫০০ (তিন হাজার পাঁচশো)  টাকা থেকে ৫০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা পর্যন্ত। কোনও কোনও জায়গায় আরও বেশি। যা একজন খেঁটে খাওয়া মানুষের জন্য মরার উপর খরার ঘা। তবুও দিনে আনে দিনে খায় মানুষগুলো থাকতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে।

এদেশে তেলের দাম বেড়ে গেলে গাড়িভাড়া বেড়ে যায়। ব্যবসায়ী মহল থেকে চিল্লা-চিল্লি শুরু হয়। দেশের মানুষ রাজপথে নেমে মিছিল করে। তখন যোগাযোগ মন্ত্রনালয় থেকে নির্দেশ আসে। গাড়িভাড়া কমে যায়। পাবলিক ট্রান্সপোর্টেও কেয়ারিং খরচ কমে। অথচ বাসাভাড়া বা ঘরভাড়া বেড়ে গেলে দেশের মানুষ থাকে নিশ্চুপ। ভাড়াটিয়াদের ভেতরের শব্দহীন কান্না কেউ শুনতেও পায় না। ভাড়াটিয়াদের কান্না ভাড়াটিয়াদের বুকের ভেতরেই থেকে যায়। ক্ষমতার চেয়ারে বসা সরকারের মন্ত্রীরাও থাকে শ্রবণশক্তিহীন বধির হয়ে। কোনও মন্ত্রী এমপি মহোদয়-মহোদয়া বাসাভাড়া বা ঘরভাড়া নিয়ে কথাও বলে না। ভাড়াটিয়াদের কথা কেউ ভেবেও দেখে না।

মন্ত্রী এমপি মহোদয় জাতীয় সংসদে বসে প্রতিবছরই কোনও-না-কোনও নতুন আইন করে থাকে। অথচ বাসাভাড়া বা ঘরভাড়া বা বাড়িওয়াদের জন্য কোনও আইন তৈরি করে না। আইন যদি থেকে থাকে তা ঠিকমত প্রয়োগ হচ্ছে কিনা, তারও খোঁজ নেয় না। যদি সুষ্ঠু আইনের যথাযথ প্রয়োগ থাকতো তাহলে  বাংলাদেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে থাকা ভাড়াটিয়াদের কুছুটা দুঃখ লাঘব হতো। ভাড়াটিয়াদের ভেতরের শব্দহীন কান্না কিছুটা হলেও কমতো। কিন্তু তা আর কমছে না বরং দিন দিন শব্দহীন কান্নার আওয়াজ পৌঁছে যাচ্ছে, অগণিত মানুষের কানে।

এমনিতেই বাংলাদেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে দেশের মোট জনসংখ্যার সিংহভাগই ভাড়াটিয়া। এই ভাড়াটিয়া মানুষগুলো বাড়িওয়ালা কর্তৃক আইনে চলতে বাধ্য হয়। অথচ এসব ভাড়াটিয়া মানুষগুলো যখন ঈদে, পূজাপার্বণে নাড়ির টানে ঘরমুখো হয়, তখন শহরগুলো পরিণত হয় শ্মশানঘাটে। সবখানে থাকে জনশূন্য। মানুষ নেই তো ব্যাবসায়ীদের ব্যাবসা নেই। কেনা-বেচা নেই। এতেই বোঝা যায় যদি দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষগুলো বিভিন্ন শহরে না আসে; আর যদি বাসাভাড়া না থাকে তো বাড়িওয়ালাদের মাথায় হাত দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। তাই সময় এসেছে সরকারকে ভাড়াটিয়াদের কথা ভেবে দেখার। সময় হয়েছে এদেশের বাড়িওয়ালাদের বাড়িতে ভাড়া থাকা ভাড়াটিয়াদের শব্দহীন কান্না শোনার।

*ছবি সংগ্রহ ইন্টারনেট থেকে।*
