# রামিসা ক্ষমা কর আমায়

Author: হালিমা আক্তার
Published: 2026-05-20
Category: সমসাময়িক
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc/

> কি লিখবো! কোন ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। কোন অসভ্য জগতের সভ্যতার ছোঁয়ায় আক্রান্ত সমাজ ও রাষ্ট্র। কোন হিংস্র জগতে বাস করছি আমরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সব খবর পাওয়া যায়। তাই পত্রিকার পাতায় খুব একটা চোখ বুলানো হয় না। স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমেই বিভিন্ন খবর আমাদের সামনে আসছে।

সর্বশেষ আলোচিত ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু ফুটফুটে ফুলের মত একটি ছবি “রামিসা”। দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। সেদিনও বড় বোনের সাথে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল। আর কোনদিন স্কুলে যাওয়া হবে না। হিংস্র হায়েনা কেড়ে নিয়েছে তার প্রাণ। মায়া ভরা মুখ খানি দেখলে ভেতরটা হু হু করে ওঠে। প্রতিবেশীর হায়নার ছোবলে রামিসা হারিয়ে গেছে মায়ের কোল থেকে। প্রতিবেশী তো বিশ্বাস ও ভরসার একটি জায়গা। সেখানে যে জঙ্গলের পশু লুকিয়ে ছিল সেটাই বা কে জানে। অনেক চাকরিজীবী মাকে দেখেছি প্রয়োজনে প্রতিবেশীর কাছে সন্তান রেখে গেছেন। কতটা বিশ্বাস আর ভরসা ছিল তখন। আমাদের বাসায় একসময় প্রতিবেশী শিশুদের খেলাঘর ছিল। ঘন্টার পর ঘন্টা কাটাতে তারা। তাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক ছিল না, কিন্তু আত্মার সম্পর্কটা ছিল।

রামিসার ঘটনা পুরো সমাজে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। ওই নরাধমের সাথে তার বউ সহযোগী ছিল। একজন নারী তো মাতৃত্বের প্রতীক। তিনি কি করে সহযোগী হলেন। কেন পারলেন না স্বামীর হাত থেকে মেয়েটিকে বাঁচাতে। উনি তো কুকর্মের সহযোগী, বাঁচাবেন কি করে!!! ইট পাথরে ঘিরে থাকা মানুষগুলো পাথর হতে পারে কঠিন হতে পারে। এরা তো পশুর চেয়েও অধম হয়ে গেছে। ভাবছি জঙ্গলের সব পশু গুলো চলে এসেছে? না আমরা জঙ্গলে বাস করছি?

ঘৃণা প্রকাশ করতেও লজ্জা লাগছে। ঘৃণা নয় প্রতিবাদ। পুলিশের রিমান্ড নয় পাবলিকের হাতে দিন। প্রচলিত আইন নরপশুদের জন্য নয়। কিছু পাগলা কুকুরের মাঝে এই নরাধমকে ছেড়ে দেওয়া হোক। ক্ষতবিক্ষত হোক কুকুরের আঁচড়ে।

রামিসা আমরা সভ্য জগতের মানুষ নই। মনুষ্যত্ব আমাদের হারিয়েছে সে কবেই। মাগো আমায় ক্ষমা কর। আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থী। আমায় ক্ষমা করবে কি??? আমার কলম থেমে যাচ্ছে। চোখের পাতা ভারি হয়ে উঠছে। প্রতিবাদ কোথায় আর করছি ! চারদিকে হিংস্র পশুর দল। ক্রমাগত এদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এরপরও বারবার বলি। শতবার বলি। এমন শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। যেন পূর্ণবার এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
