# রম্য দ্যা চিকনা বুদ্ধি….ও শ্বশুর আব্বা……

Author: মুহাম্মদ আরিফ হোসাইন
Published: 2016-08-05
Category: রম্য
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%bf-%e0%a6%93-%e0%a6%b6/

– শ্বশুর আব্বা? ও শ্বশুর আব্বা?  
\-দ্যাখো জামাই! আমার মেয়ে এখনো ছোট। নেহায়েৎ তোমার বাবা বন্ধু মানুষ। নাহলে এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতাম না। মেয়ে একটু ভয় পাবেই। এত চেঁচামেচির কি আছে….  
– আরে ধূর ভাই! থুক্কু শ্বশুর আব্বা! কিসের মধ্যে কি বলেন!  
\-কেন! হয়েছে কি?  
\-অনেক কিছুই। রাতে কম্ম শেরে ঘুমাইলাম। হটাৎ কে যেন লাথি মেরে আমাকে খাটের তলায় ফেলে দিলো! আমি উঠে দেখি আপনার মেয়ে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে!  
\-লাথি কি আমার মেয়েই মেরেছে!  
\-আব্বা! আপনার মেয়ে ছোট! নিশ্চয়ই সে দুষ্টুমি করেছে।  
\-হৈতে পারে। তা চেঁচাচ্ছো কেন?  
\-ইয়ে মানে!  
\-ইয়ে মানে করছো কেন! বলো কি বলবে?  
\-খাঁটের নিচে পেঁরেক ছিলো! ঢুকে গেছে রানে।  
\-বলো কি! বলো কি! কি মুশকিল! পেঁরেক আসলো কোথাথেকে?  
\-ঐটাই তো সমস্যা! নিশ্চয়ই আপনার মেয়ে এনে রেখেছিলো! দুস্টু মেয়ে!  
\-হৈতে পারে। তা চেঁচাচ্ছো কেন?  
\-একটা ম্যাচ বক্স হবে?  
\-কেন?  
\-প্রাথমিক চিকিৎসাটা করাতে চাই। রানে নাহলে ইটিএস ইনজেকশন দিতে হবে। আমার আবার ইনজেকশনে ভয়!  
\-ও! তাই বলো! রান্না ঘরে আছে। নিয়ে যাও। আবার রেখে যেও। সকালে নাস্তা তৈরি করতে আবার লাগবে।  
\-অবশ্যই বাবা। এক কাঠিতেই হবে।  
– সেকি কথা! এক কাঠি! কমপক্ষে তো দুইটা লাগার কথা। একটার বারুদ তোমার পেরেক ঢুকার জায়গায় লাগাবা আরেকটা দিয়া আগুন জ্বালিয়ে শেঁক দিবা।  
\-হুম। শ্বশুর আব্বা। আসলেই। মুখ ফঁসকে বার হয়ে গেছে।  
\-মুখ ফঁসকে! সেকি কথা! মুখ ফঁসকে তো সত্য বের হয়। তবে কি তুমি গ্যাসের চুলা ছেঁড়ে আমার বাড়ি জ্বালিয়ে দিতে চাচ্ছো?  
\-না! না! একদমই না।  
\-তবে?  
\-তবে কিছু না। আপনি ঘুমান।  
\-না। তোমায় বাপু ভরসা পাচ্ছি না। কৈ তোমার ইয়ে টা দেখাও।  
\-ছিঃ! শ্বশুর আব্বা! ঐটা গোপন জায়গায়। আপনাকে দেখাবো না।  
\-মরন! যাও যাও! আমি অপেক্ষা করছি। ম্যাচ নিয়ে লাগিয়ে ফেরত দিয়ে যাও।  
– :/ ঠিকাছে।  
এক মিনিট পর…  
\-এই নিন শ্বশুর মশাই…  
\-উমম! এ কি! ঐ ঘর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে কেন! তুমি কি আমার মেয়ের গায়ে আগুন ধরাইয়া দিছো!  
– না! না! 😮  
– তাহলে ধোঁয়া কিসের?  
\-আরে ধোঁয়া না। কুয়াশা!  
– গরমকালে কুয়াশা! -\_- ইয়ার্কি করো মাঝ রাতে!  
\-আমি দেখে আসি।  
\-না না।  
– কি আজব! সমস্যা কি?  
\-আপনার মেয়ের কাপড় ঠিক নেই। ঐখানে যাবেন কেন!  
\-এহেম! এহেম! তাহলে ধোঁয়া কিসের! ঐটা বলো।  
\-ধুর্বাল! সিগারেটের ধোঁয়া। ঘুম আসছিলো না। তাই ধরাইছি!  
– কি বাল কি কইলা?  
– কৈ বাল বলছি! বলছি ধোঁয়া আব্বা! সিগারেটের ধোঁয়া!  
\-ও তাই বলো! সিগারেট?  
\-হুম। সিগারেট।  
\-এটা সিগারেটবাড়ী না। শ্বশুরবাড়ী। এখানে এসব চলবে না।  
\-ধুর্বাল! :/  
– হুম। রাতে ধোঁয়া উড়ানো ভালো না। যাও যেটা জ্বালাইছো ঐটা খেয়ে ঘুমাও।  
(-মনে মনে তোমার পটর পটর আলাপে সিগারেট রইছে নাকি এতক্ষন পর্যন্ত ^:^ ) – ঠিকাছে শ্বশুরআব্বা। ঠাডু পড়ুক নাইট।  
– হুম। গুড নাইট।
