# রবি দা ( পর্ব-১ )

- Author: [মোস্তাফিজুর খাঁন](https://sonelablog.com/author/mostafijur-khan/)
- Published: 2021-05-16T06:36:20+00:00
- Updated: 2021-05-17T18:58:27+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7/

---

 

রবি দা’র ডেথ-বডি দেখতে ইচ্ছা করছে, অদ্ভুত ইচ্ছা ।  
পাঁচ মাস আগে রবি’র মৃত্যু হয়েছে। সাধারন মৃত্যু নয় “আত্যহত্যা।”

রবি দা’র সাথে পরিচয় আমার খালাত ভাই আশিক এর সূত্রে । মশিউর রহমান আশিক’ মেধাবী ছাত্র- পি.এস.সি, জে.এস.সি, এস.এস.সি, তে এ-প্লাস প্রাপ্ত স্টুডেন্ট ।  
আমার খালাতো ভাই ধোয়া তুলসি পাতা, চরিত্রে কোনো দাগ নেই, সৌন্দর্যে মাশাআল্লাহ ।

আশিক এখন রাজশাহী পুলিশলাইনে পলিটেকনিক বিষয় পরছে, মেসে থাকে, পরিবার থেকে বাড়তি কোনো খরচ নেয় না । মাসিক হাত খরচের টাকা বেঁচে গেলে আমার খালুকে টাকা ফেরত দেয়, এ বিষয়ে আমার খালা দুঃখ প্রকাশ করে আম্মাকে বলে ‘ তোর দুই ছেলে যে হারে তোদের চুষে খাচ্ছে সে তুলনায় আমার আশিক বোকা ভেবদা ছেলে ‘। যাই হোক, আমাদের আত্নীয়-স্বজনরা তেমন আমাদের বাড়ী আসে না, বিশেষ করে খালাতো ভাইরা আসে না । আশিক এবার কলেজ ছুটিতে বাড়ী এসেছে, পাশের গ্রামেই ওদের বাড়ী, আশিকদের বাড়ীর পাশেই রবি দা’র বাড়ী । গ্রামে এখন রবিই আশিকের ভ্রমণসঙ্গী, রবি পেশায় ভ্যান চালক, পারিবারিক অভাবের কারনে স্কুলের বাড়ান্দা তার দেখা হয়নি । তার পেশা দুইটা, ভ্যান চালানো আর দিনমুজুরি । কামাই ভালো, মা মরে গেছে ছোট বেলায়, বাবা বৃদ্ধ । রবির বাবা দু-চার গ্রামের মানুষের কাছে ব্যাঙমারা আকালু নামে পরিচিত । সেকালে বস্তা ভরে হোলা-ব্যাঙ ধরে বিক্রি করত । হাস্যকর ব্যাপার , তবে কথা সত্য ।

রবি’র সাথে পরিচয় : সময় মনে নেই, দুপুরের একটু পরের কথা, রোদ এখনো পড়েনি ।  
আমি ঘুমাচ্ছি, ফোনের কাঁপুনিতে(ভাইব্রেশন) ঘুম ভেঙ্গে গেল, আশিক ফোন করেছে । ফোন কেটে দিয়ে ব্যাক করলাম । অতি সঞ্চয়ী ছোট ভাইকে ফোন ব্যাক করাই ভালো ।  
আশিক ফোন রিসিভ করল, আমি সালাম দিলাম ( আশিক বয়সে আমার ২ বছরের সিনিয়র, ক্লাসে না। বয়সের দিক দিয়ে আমি ওকে সম্মান করি এবং ক্লাসের দিক দিয়ে ও আমাকে সম্মান করে ) ।  
আশিক আমাদের বাজারে আসতে চায়, বাড়ীতে আসে না, সরম করে । আমি ওকে আসতে বললাম, ও আমাকে বলল ‘ ভাইয়া রেডি হয়ে থেকো দুই ভাই মিলে এলাকা ঘুরব ।  
আমি অতি ভ্রমনপ্রিয় ছেলে, এক কথায় রাজি হয়ে গেলাম ।  
রেডি হয়ে বাজারে গেলাম, চিকা ভাইয়ের দোকানে বসে হাই লিকারের এক কাপ চা খেয়ে সিগারেট ধরালাম । সিগারেট শেষ করতেই ফোন কেঁপে উঠল – আশিক ।  
ফোন রিসিভ না করেই ডাক দিলাম  ‘ আশিক ‘ ।  
আশিক ভ্যানওয়ালা ছেলেটাকে বুঝিয়ে দিলো ,  সে আমার কাছে এসে ভ্যান সাইড করল । আমি সেদিকে গুরুত্ব না দিয়ে সাদ্দাম ভাইয়ের দোকান থেকে এক প্যাকেট সিগারেট নিয়ে ভ্যানে বসলাম ।  
আজকাল ব্যাটারি চালিত ভ্যান, পরিশ্রমের দিন শেষ । ভ্যান চলতে শুরু করল, চালক আমার দিকে মুখ ঘুড়িয়ে বলল,’ তোমার আব্বা মেম্বার ?  
আমি : হ্যাঁ, আপনি কিভাবে জানলেন ?  
চালক : দিনে একবার হলেও তোমার আব্বা আমার ভ্যানে উঠে । তোমার আব্বাকে আমি খুব ভয় পায় ।  
আমি : কেন ?  (অবাক হয়ে)  
চালক : তোমার আব্বার দাড়ি দেখলে রাজাকার মনে হয় ।  
আমি : হা,হা,হা (খুব হালকা শব্দ করে  হাসলাম)  
চালক : মেম্বার চাচা খুব ভাল মানুষ, তবে কথা বলার সময় মনে হয় ‘ কখন যেন আমাকে চড় বসিয়ে দিবে, তাই চাচার সাথে খুব কম কথা বলি।

এতক্ষণ চালকের সাথে কথা বলে বুঝলাম, সে খুব দ্রুত কথা বলে । আশিক এতক্ষণ ফেসবুকে ছিলো, তাই চুপ ছিলো ।  
আশিক : ভাইয়া,শান্তিপুরের দিকে যাওয়া যায় ?  
আমি : হুম ( সিগারেট ধরাতে ধরাতে )  
কিন্তু, হাওয়ার বেগ বেশি, আগুন স্থায়ী হল না ।  
ভ্যানওয়ালার গায়ে হাত দিয়ে বললাম  
– একটু সাইড করেন, সিগারেট ধরাব ।  
চালক পিছনে ফিরে আমার প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট টান দিয়ে বলল – আগুন দাও ।  
এমন ব্যবহার একজন অপরিচত ভ্যানওয়ালার কাছ থেকে মোস্তাফিজুর আশা করে না ।  
আমার রাগ চেহারায় প্রকাশিত হলো না ।

(মনে মনে)তোর ভাগ্য ভাল, আমার অতি ভদ্র খালাত ভাই এখানে উপস্থিত না থাকিলে তোর পশ্চাত্যের চর্ম থাকিত না ।

আমি ভ্যানওয়ালার হাতে লাইটার দিলাম  সে সিগারেট ধরাল, আমিও ধরালাম ।  
ভ্যান ঢুকলো শান্তিপুরের রাস্তায়, আশিক ফোন টিপছে । এই এলাকায় আমি প্রায়দিনই আসি, ভালো লাগে, বিলে বিলে বানের জ্বল । বিকেল প্রহর কানায় কানায় পূর্ণ । বানের পানি দেখলে আমার তৃষ্ণা বেড়ে যায় ।  
সোহাগি বাজারে আশিক ভ্যান থামাতে বলল, ভ্যান থামল না । আশিক চালকের পিঠে মিডিয়াম সাইজের কেজি-খানিক ওজনের একটা থাবা মেরে বলল, ‘ রবি ‘ বদমাইশি করিস না।’  
এবার কাজ হয়েছে, ভ্যান থামল, রবি নিজের পিঠে হাত বুলাচ্ছে ।

যারা বলে নিজের পিঠ নিজে চুলকাতে কষ্ট হয়, তারা রবি’র কাছে থেকে শিক্ষা নিতে পারেন ।

ভ্যান থামার সাথে সাথে আশিক সোহাগি বাজারে ঠুকে গেছে, কেন গেছে বুঝলাম না ।  আমি রবির দিকে তাকিয়ে আছি ।

আমি এই মাত্র চালকের নাম জানতে পারলাম,  এর নাম তাহলে রবি । বড় নাম থাকতে পারে, ডাকনাম রবি । আমি একে জামাই বানাচ্ছি না যে,  ভাল নাম জানতেই হবে ।

আশিক ফিরে এসে বলল, চল । রবি জেদ ধরল, আমি তোর সাথে যাব না,  তুই মারলি কেন ?

ভ্যান চলতে শুরু করল । সরকুতিয়া কলেজের রাস্তায় এসে ভ্যান থামল । আমরা তিন জন ভ্যান থেকে নেমে রাস্তার ধারে বানের পানিতে পা ভিজিয়ে বসে পরলাম ।  
আশিক আমার দিকে সিগারেট এগিয়ে দিল, আমি  অবাক হলাম  না ।

---

Comments: 9 — https://sonelablog.com/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7/#comments
