# যৌতুকের বলি ১৪তম

- Author: [মনির হোসেন মমি](https://sonelablog.com/author/ma-mati-das/)
- Published: 2015-10-18T15:14:48+00:00
- Updated: 2015-10-18T15:14:48+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%af%e0%a7%8c%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a7%a7%e0%a7%aa%e0%a6%a4%e0%a6%ae/

---

মোল্লার আহত বৌকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটাছুটি করছেন সাংবাদিক রায়হান।দিন পেরিয়ে গেলেও মোল্লা একটি বারের জন্যও হাসপাতালে যাননি।তার ছেলে  মেয়েরা গেলেও রাত্রী যাপন করেননি কেউ।রায়হান সাহেব তার জন্য একজন নিদিষ্ট নার্স রেখে দিয়েছিলেন,আর সেখানে ছিলেন বিপত্নীক সংসারহীন তাদের এক পুরনো কাজের মহিলা যিনি সেই স্বাধীনতার সংগ্রাম হতে সুখে দুঃখে  তার সাথেই আছেন অদ্যবদি।টাকা পয়সা যা লাগে তার জন্য রশিদ মোল্লা তার এক অনুগত কর্মচারী দিয়ে পাঠিয়ে দেন।দ্বিতীয় দিন গত রাতে রায়হান তাকে একটু সুস্থ্য দেখে পুত্রবধু ফুলি  নিখোজের প্রকৃত রহস্য জানার ইচ্ছে জাগে তার মনে,সে রাতে নাতনি পিংকি ছিল অনেকটা দেখতে আসা বাবা মায়ের অবাধ্য হয়ে।নাতিকে পেয়ে সে যেন প্রান ফিরে পেলো পূর্বকান্নার আগেই তার চোখে জল এসে যায়।নাতির কপালে চুমো দিয়ে অতৃপ্ত প্রানের রসদ যোগায়।রায়হান সাহেবের এমন পরশ্রীকাতর দেখে নিজেকে অপরাধী মনে করে  অন্তরে লোকায়িত চাপা চাপা কষ্টের পাথরগুলো গলাতে শুরু করল।  
৴আমি কখনো ভাবিনি এমনটি হবে …..আমার পুত্রবধূ ফুলীর তরে।আমিওতো মা একদিন আমিওতো ছিলাম এ ঘরেরপূত্র বধূৃৃৃ তবে ওরা যারা…  
-কারা মা জি?  
-আমার গুণধর স্বামী রাজাকার রশিদ মল্লা মেয়ে ছেলে ছেলের বউ…..  
ওহ্ কি নির্যাতনটাই না করল তারা…….!!!!  
-কি কি করেছিল ফুলীকে ওরা?  
শরিরটারে ওরা বলাকার আঘাতে লবন ছিটা করল,মুখটি ছিল বড় কালো ঘাম টেইপে বাধা,  
য্ন্ত্রনার চিৎকার ছিল নিঃশ্দ,!!!  
-তারপর?  
তারপর কেরোসিনের তৈল ঢেলে দেয় তার যন্ত্রনা কাতর উলঙ্গ পিঠে,,,,,  
আমার আপনালয়ে দেখতে পাই,সেই ৭১ এ আমার নিরীহ মাষ্টার পিতা আর ভাইকে পাক আর্মি দিয়ে হত্যা করে আমাকে আমার মতের অমতে বিয়ে করেন।জলে চোখদ্বয় ঝাপসা হয়ে আসে হাত দিয়ে চোখের অশ্রু মুছেন।  
-সেই দিন গত মাঝ রাতে এমন নিশংসহতা!!!আমি বাধা দিতেই ওরা আমাকে মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান করে ফেলে,,,,,, আমি আর মনে করতে পারছি না,,,,,ওফ্….কি ভয়ংকর.।  
-আমার মনে আছে,  
সেই সংসারহীন কাজের মহিলার মুখ দিয়ে এমন অনাঙ্খিকত কথা শুনে অবাক হলেন সাংবাদিক রায়হান।সে তার মুখ বরাবর ঘুরে বসলেন  
-আচ্ছা! তা হলে বলেনতো শুনি কি হয়েছিল সেদিন।  
কাজের মহিলার নাম লায়লা সে ভাগ্যহত এক অনাথ।উত্তরের পূর্বে তার মালকিনির মুখের দিকে তাকালেন।মালকিনি মাথায় ইশারায় বলতে অনুমতি দিলেন।  
-আগুনে ধোয়া হবে ভেবে তারা বউমার গায়ে আগুন লগালেন না,তারা তরতাজা বউমার গলায় ছুড়ি চালিয়ে,,,,, কোরবনীর পশুর মতো পায়ের রগ কাটতে গেলেন মালিক মোল্লা,,,,ছুরিটা তার পায়ে স্পর্শ করতেই মোল্লাকে সে কোরবানীর গরুর মতন এক লাথ্থি মারলো,সে তখন ছিটকে দুরে এক গর্তে পড়েন।তখন তার ডান পা ভেঙ্গে গিয়েছিলো তাইতো সে খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটেন।।  
-ও..আচ্ছা তাইতো তারপর আপনি বুঝলেন কি করে সে আপনার মালিক?  
লম্বা দাড়ি তার,তখন লম্বা লম্বা দাড়ি আর পাকিদের মতো তীরের ন্যায় গোফ ছিল তার।তাকে এক বার একা পেয়ে মুক্তিযোদ্ধার দুষ্ট ছেলেরা সেই দাড়ি কেটেও দিয়েছিল।  
-হুম!আচ্ছা তাহলেতো সে চিহ্নিত রাজাকার?  
-হ গ্রামের সবাই জানে সে ছিল এ গ্রামের পাইক্কাগো খাস চামচা,মালকিনির বাবা ভাইকে,ঐ পাড়ার হাসু ভুবুর জামাই,ছেলেকে,আরো অনেককেই পাকিদের দিয়ে ধরিয়ে হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেন।সে অনেক কথা….মনে পরলে গা শির শির করে উঠে।।  
-আপনি তখন কোথায় ছিলেন?  
আমার থাকার ঘরে ঘুমিয়ে,আমার ঘরটি ছিল বউমার ঘরের পাশা পাশি,হৈচৈ শুনে জেগে চুপি চুপি টিনের ছিদ্র দিয়ে সবিই দেখছিলাম।প্রথম প্রথম ভয়ে চোখ ফিরিয়ে নিতাম,,,,তারপর!!!কখন যে আমি এত সাহসী হলাম যে, চোখ না ফিরিয়ে কেবলি সিনেমার মতো দেখেই যাচ্ছিলাম,বউমার গলা দিয়ে পড়ন্ত তাজা রক্তগুলো ভূদ ভূদ করে নড়া চড়া করতে থাকে,,,একে একে চারটি খন্ড করে একটি চটের বস্তায় ঢুকিয়ে একটু দূরে বাশ ঝাড়ে গর্ত করে পুতে রাখেন।  
“আমার আরো মনে আছে এর আগেও ঘটে যেত অঘটন ভাগ্যীস ওর মায় কলা পাতায় লাউ বিলায় ছিল বলে হয়তো সে যত্রায় বেচে গিয়েছিল।  
-কি ঘটেছিল?  
-রান্না ঘরে আমি আর ফুলী।পাশে চূলোয় তৈলে মাছ ভাজা করছেন ননদী তাকে প্রথম রান্না ঘরে দেখে কিছুটা অবাকই হয়েছিলেন ফুলী তবুও ননদ বলে কথা তাকেওতো যেতে হবে কোন এক দিন শশুড় বাড়ী।  
আমি শুধু অবাকই হইনি আমি এর জবাবও দিয়েছিলাম….  
“যেই না মাগীর চেহারা আবার করে কোয়ারা” ঠাট্টার কথা বলতে না বলতেই হঠাৎ সমস্ত উত্তপ্ত তৈলের বাটিটিকে অসাবধানতর পরিচয় দিয়ে ঢেলে দিল ফুলী বউমার পিঠে।পিঠটিতে আগ্নেগিরির প্রবাহিত লাভার মতো তৈলের উপ্তত্ততায় সরু সরু শাখা নদী প্রবাহিত হয়।  
ভাববেন না একটুও এটা কোন গল্প সিনেমার মতো পড়া,দেখা শেষ হলেই….একটু আফসোসের দীর্ঘস্বাস ছাড়লেই দায়ীত্ব শেষ।এই সব মানুষগুলো সমাজের কীট তাদের পরিষ্কারের দায়ীত্ব আপনাদেরকেই নিতে হবে।  
উপস্থিত কারোই অশ্রুসিক্ত চোখের মণি দেখতে পাইনি জলে ভরে একাকার দর্শক নারী-পুরুষের চোখগুলোৣৣৣৣৣৣৣ  
হঠাৎ রায়হানের কোটের পকেটে মোবাইলটি বেজে উঠে  
-স্যার হেলো স্যার,  
হুম তুমি যেখানেই থাক এক্ষুনি ঢাকায় চলে এসো।  
-কিন্তু স্যর,,,,  
-কোন কিন্তু নয় আমি তোমার বস্ দ্যাট্স অল।  
ফোনটা কেটে দিল,সে স্যার স্যার বলতে লাগলেন……..।ইচ্ছে করছিল ফোনটারে একটা আছাড় দিতে কিন্তু এ সময় উত্তেজিত হওয়ার সময় নয়।এখন এত মাসের কষ্টের ফসল তুলবেন বুক ভরা গর্বের হাসি নিয়ে।  
মন খারাপ হাসপতলের বারান্দায় দাড়িয়ে আনমনে আকাশে তাকিয়ে থাকা তারাদের সাথে হিসেব মিলানোর কঠিন কাজটি সে প্রায়ই চেষ্টা করত।  
ঐ যে দূর নীলাকাশে উ্জজল নক্ষত্রটি সে এ ভাবেই উজ্জলতার পরশ নিয়ে হৃদয়ে ধারন করে আজীবন ভেসে বেড়ায় সে আমর প্রিয়তমা।  
বাকীসব মিটমিটে তারারা আমর ভাগ্যরেখা যার রূপ কখনো সোনালী রূপ ধারন করেন না,যাকে সহজে চেনা জানা স্পর্শ করা যাবে।  
আবারো ফোন তবে এবার অন্য কেউ নয় সে তার সরকারী উ্চচধর আমলা শ্রদ্ধেয় চাচা হবেন।  
-জি চাচ্চু,কেমন আছো?  
ভাল,,,তা তোমার কথায় এত জড়তা জড়তা লাগছে কেনো কোন সমস্যা?  
-না,ঐ অফিসের কল,,,,,  
-আমি জানি ও..তোমার মঙ্গলই হবে।  
-চাচ্চু তুমিনা মুক্তিযোদ্ধা!তোমার কাধে না ঝুলেছিল দেশের অহংকার,গর্ব।  
-শোন শুধু একটা কথা মনে রাখবি তুমি যেমন আছো যেমন আছে তোমার মন মানষিকতা তেমনি আমারও ছিলো নীতি আর আদর্শের মাঝে জীবনকে বাচিয়ে রাখতে দেশের সিস্টেমসকে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি।  
-আমরাতো তোমাদের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের আদেশ বা হুংকারের আশায় কখন তোমরা আবারও হাতে হয় অস্ত্র তুলে নিবে নতুবা আমাদের আদেশ দিবে।  
সেই তোমরাই যদি অধম হও তবে আমরা কি হবো,বলতে পারো চাচ্চু?

চলবে….

[যৌতুকের বলি ১৩তম](http://sonelablog.com/archives/34637)

-{@ -{@ সবাইকে পুজোরঁ শুভেচ্ছা…….

---

Comments: 18 — https://sonelablog.com/%e0%a6%af%e0%a7%8c%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a7%a7%e0%a7%aa%e0%a6%a4%e0%a6%ae/#comments
