# মিশর সভ্যতার গোপন রহস্য কি ভাবে বেরিয়ে আসছে  

Author: নার্গিস রশিদ
Published: 2023-03-22
Category: ইতিহাস ঐতিহ্য
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a7%8b%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%95/

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2023/03/Screen-Shot-2023-03-22-at-09.27.16.png)**মিশরঃ  একটি হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা যা ক্রমাগত ভাবে বেরিয়ে আসছে** **স্কলারদের হাত ধরে**

বিখ্যাত আরকেওলজিসট যাহি হাওয়াস ২০২২ সালে উদ্ধার করেছেন গোল্ডেন সিটি

প্রাচীন  মিশরীয় সভ্যতার বয়স প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগের । যখন পৃথিবীর অন্য দেশ গুহা বাসি ছিল তখন মিশরে বাসী  একটি সভ্যতা গড়ে তুলেছিল। 

পৃথিবীর বেশির ভাগ স্থান যখন প্রাথমিক অবস্থায় ছিল তখন তারা আবিষ্কার করে লেখার পদ্ধতি, অঙ্কের ব্যাবহার, কি ভাবে ওজন নেয়া হয়, দূরত্ব মাপা, সময় জ্ঞান, সিজন বা ঋতু , আকাশ বিজ্ঞান,পাথর কাটা, রঙ বানানো, মুর্তি বানানো, ছবি আঁকা, বাড়ি বানানো, মাটি  দিয়ে পোটারি বা থালা বাসন  বানানো, পুলির ব্যাবহার, চাষ বাস,  নদী থেকে পানি  সেচ দেয়ে ফসল ফলানো , কেমিক্যাল দিয়ে মমি সংরক্ষণ, কাপড় বোনা, ঘোড়া  টানা গাড়ি,মেটাল গলানো,কাঁচের আবিষ্কার,   অলংকার বানানো, সুগন্ধি তৈরি ,চামড়ার জুতো বানানো ।

সর্ব পরি  একটা দেশ শাসনের কাঠামো এবং নিতি নির্ধারণ বের করে দেশ চালানো এবং চিন্তা করে  একটা ধর্ম বের করা ,  সবই তারা করেছিলো সেই সুদূর অতীতে।  

প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় অনেক লুকানো গোপনীয় জিনিস আছে যা উদ্ধার করা প্রয়োজন এবং তা বুঝেছিল ইউরোপিয়ান দেশ গুলো । প্রায় ৩০ শতাব্দী ধরে মিশরে preeminent সভ্যতা ছিল এই মেডিটেরিয়ান অঞ্চলে।যে মানুষের দৃষ্টি গোচরে আসে ২০০ বছর আগে ইউরোপিয়ানদের হাত দিয়ে। 

মিশর মানেই বিরাট বিরাট টেম্পেল তার মধ্যে করনাক টেম্পেল, লাক্সর টেম্পেল, গ্লোরিয়াস আবুসিম্বল যা কিনা একটা বিরাট পাহাড়ের ভিতরে রক কেটে বানানো , হিউজ পিরামিড, মাটি  থেকে একটা  সিঙ্গেল রক কেটে বিরাট আকারের  স্পিনিংস, পাহাড় কেটে বানানো ফ্যারো দের কবর ভ্যালি অফ দি কিং, ভ্যালি অব দি কুইন , বেনড পিরামিড, স্টেপ পিরামিড, সুউচ্চ অবিলিসস্ক , ডেল – ই – বাহারি  টেম্পেল আরও কত কি।    

হাজার হাজার টুরিস্ট পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে মিশরে । পেছনে একটাই  কারন,  এত আগে কেমন করে এই মিসট্রি সভ্যতা গড়ে উঠেছিল তা দেখার জন্য । 

ম্যাসিভ গ্লোরিয়াস পিরামিড, বিরাট আয়তনের জায়গা নিয়ে টেম্পেল কমপ্লেক্স  যেখানে ৭০ টি  ফুটবল খেলার মাঠ ঢুকে যেতে পারে, রাজধানী ,রাজ প্যালেস, পাহাড়ের নিচে খোদায় করে বানানো মৃত ব্যাক্তির ছবি আঁকা একের পর এক ঘর । অবশ্যই এগুলো একটি অতি অবাক করার বিষয়। মানুষ বিস্ময় নিয়ে দেখে আর ভাবে কেমন করে তারা  সম্ভবে পরিনত করেছিল  । 

প্রাচীন মিশর বলতেই আমাদের মনে আসে ধনী শক্তি শালী রাজা  এবং  তার রানী, বিরাট আকৃতির প্রাসাদ, হাজার হাজার সোনা দিয়ে মোড়ানো  পিলার এবং তাদের মিসট্রি দেবতা।

এত যে পুরানো সভ্যতা, এর যে বিরাট মূল্য আছে কেননা এটা মানব জাতির সভ্যতা ,যা সংরক্ষণ করা উচিৎ তা মিশরীয়রা প্রথম দিকে  বুঝতে পারিনি । বুঝতে না পারার দরুন অনেক আর্ট ইফেক্ট পাচার হয়ে যায় বিভিন্ন দেশের মিউজিয়ামে।তারা নিজেরায় মমি নিয়ে রাস্তার পাশে বসে থাকতো বিদেশিদের কাছে বিক্রি করার জন্য।  

বর্তমানে ‘ইজিপ্টোলজি’কে   আর্কেওলজির একটা  শাখা করা হয়েছে। যার উদ্দেশ্য হল এটাকে সংরক্ষণ,  রেস্টরেসান ,  আন্যালাইসিস এবং গবেষণা করা এবং আধুনিক কালের লেটেস্ট টেকনোলজি ব্যাবহার করে এক্যুরিয়েট রেজাল্ট দিয়ে তা প্রমাণিত করা।    

মিশর এখন আর্কেওলজিসট দের একটা  হাব। যাদের আছে এর প্রতি ভালবাসা, সন্মান এবং প্যাসন। 

ফ্রান্স যখন ১৭৮৮ সালে মিশর দখল করে তখন নেপলিয়ান মিশরীয়দের সমস্থ রেখে যাওয়া হিউজ স্থাপনা  দেখে অবাক হয়ে যান। তিনিই  প্রথম সব গুলোর লিস্ট বানান এবং তৎকালীন পুরা কির্তি অধিদপ্তরে excavation করার অনুমতি নেন। 

আজ সেখানে কাজ করছে পৃথিবীর নামি দামী সব আর্কেওলজিসট । পৃথিবীর নামি দামী ইউনিভার্সিটি তে  খোলা  হয়েছে একটি বিশেষ বিভাগ শুধু মাত্র এই প্রাচীন মিশর নিয়ে। প্রতি বছর সেখানে এক্সাভেসন করার সিজন থাকে। ফ্রান্স,ব্রিটেন, জার্মান, স্পেন এবং আমেরিকার আর্কেও লজিসট সেখানে কাজ করে  বা স্থায়ী ভাবে থাকেন শুধু গবেষণা করার জন্য। প্রতি বছর কত যে বই বের হয় শুধু মাত্র প্রাচীন মিশর নিয়ে, তাদের গবেষণা লব্ধ বিষয়  নিয়ে বানানো হয় টিভি ডকুমেন্টারি । 

যখন কোনো টিভি চ্যানেলে মিশরীয় সভ্যতা নিয়ে যখন ডকুমেন্ট দেখানো হয় তার দর্শক সংখ্যা  সবচেয়ে বেশি হয় অন্য যেকোনো পৃথিবীর অন্য সভ্যতা দেখানোর তুলনায়  । এর পেছনের কারন এর রহস্য এবং বিস্ময় । বিস্ময়ের কারন ৫/৬ হাজার বছর আগে যখন মানুষ গুহা বাসি ছিল কেমন করে তারা এতো কিছু জানতো । 

ব্রিটিশ আর্কেও লজিসট William Matthew Flinders petrie কে আরকেওলজিস এর পিতা বলা হয়। কারন তিনি কি ভাবে খনন করা , রেকর্ড রাখা, প্রিজার্ভ করা  ক্লু বের করা যায় তার নিয়ম নীতি  প্রচলন করেন। 

মিশরের প্রথম এক্সাভেসনের কাজ আরম্ভ হয় ১৭৯৯ সালে বিখ্যাত ‘রোসেটা  স্টোন’   আবিষ্কারের পর। তার আগে মানুষ ধাঁধা র মধ্যে ছিল কি এই লেখা , কি তার অর্থ  এই নিয়ে। চারদিকে এক অদ্ভুত লেখা কিন্তু কি তার অর্থ কিছুই জানা যাচ্ছে না তা না পড়ার কারনে। 

যেহেতু এটা তিন ভাষা দিয়ে লেখা ছিল যার একটি গ্রীক ভাষা  দিয়ে তখন অনুবাদ করা সুবিধা হয়েছিল এবং দুয়ার খুলে গেল এদের সম্পর্কে জানা। কে শাসক , তাদের কি নাম, কত দিন ছিল রাজত্ব, তাদের দেবদেবীর নাম, সমাজ ব্যাবস্থা , নারীর অবস্থান, কতদিন আগে তারা বসতি আরম্ভ করে সব কিছু। 

যদিও এখন মিশরে নিজেদের অনেক আরকেওলজিসট হয়ে গেছে কিন্তু ২০০ বছর আগে  তা ছিলনা। গত দুইশত বছর ধরে ইয়োরোপীয় দেশ গুলোর আর্কেওলজিসট রাই restoring,excavating, preserving,mapping, analyzing এবং recoding চালাতো । 

মিশরের বালুর নিচে কি আছে তা বের করতে ফ্রান্স রাই বেশি ভালো করেছে। 

ফ্রেঞ্চ Jesuit সর্ব প্রথম ১৭০৮ সালে কোথায় কি স্থাপনা আছে তা নিয়ে পুরো মিশরের একটা  ম্যাপ করেন।  কোথায় কি আছে তা লিপিবদ্ধ করা এবং  তারই আবিষ্কার রোসেটা স্টোন । তাঁর বোঝাপড়া চমৎকার ছিল মিশরের সভ্যতার উপরে । 

August Mariette ( ১৮২১- ১৮৮১) ফ্রান্সের একজন বিখ্যাত আরকেওলজিসট তিনি নিজের জীবন কালেই এই সভ্যতা ধরে রাখতে যা যা করেছেন তা হল 

১) এগুলো যাতে হারিয়ে না যায় তার  জন্য এখানে মিউজিয়াম  খোলেন, 

২) ১৮৬৩ সালে আইন পাস করিয়ে নেন যেন  এগুলো বে আইনি ভাবে পাচার করা বন্ধ হয়। 

৩) বিভিন্ন জায়গায় এক্সসাভেসন কাজ আরম্ভ করেন 

৪) যতো স্থাপনা আছে তার ফটোগ্রাফিক প্রমান  রেখেছেন 

৫) আবিষ্কার করেন স্ফিনিংস এর মন্দির, 

৬) পিরামিডের পাথর আনা জেটি

৭) পুরো স্পিনিংস বালু দিয়ে ঢাকা ছিল । তিনি সব বালু সরিয়ে এটাকে উদ্ধার করেন 

৮) ব্ল্যাক মার্কেটে মমি পাচার বন্ধ করেন 

৯) করনাক এবং লাক্সর টেম্পেল রেস্টরেসান  করেন 

১০) শুধু তাই নয় তিনি ৩৫টি নুতুন ‘ডিগ সাইট ’ স্থাপত্যের স্থান খুঁজে পান। 

এই জগতে তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন কারন মিশরের সমস্ত আর্কেওলজিক্যাল স্থান রক্ষা করা এবং রেকর্ড করার ব্যাপারে তাঁর নাম জড়িয়ে আছে। 

আগে তো ছিলই এখন পর্যন্ত ফ্রেঞ্চ আর্কেও লজিসট রা অনেক অনেক ভালো কাজ করে যাচ্ছেন এবং তাদের অবদান এক্ষেত্রে অনেক। 

বর্তমান কালে নুতুন যা যা পাওয়া গেছে 

**সোলার বোটঃ** 

১৯৫৪ সালে পাওয়া গেছে কুফুর পিরামিডের কাছে সোলার বোট । এর বয়স ৪,৬০০ বছর। মিশরীয় ইঞ্জিনিয়ার কামাল এল মালেক হাজার হাজার টুকরো হয়ে যাওয়া এই বোট টিকে রেস্তরেসান করেন তাঁর কঠোর পরিশ্রম দিয়ে । যা এই পিরামিডের পাশেই একটি মিউজিয়াম করে রাখা হয়েছে । মনে করা হয় এই বোট টি পিরামিডের পাশে রাখা হয়েছিল কারন কুফু যেন মৃত্যুর পর এই নৌকা করে অপর পারে যেতে পারে যা  কিনা প্রাচীন মিশরীয় দের একটা ধারনা ছিল ।   অনেক মিশরীয়র  কবরে,  মমির পাশে এই রকম বোট পাওয়া গেছে ।তবে সেগুলো ছোট সাইজের ।  

**সিলভার ফ্যারো** 

মাত্র সেইদিন ১৯৩৯ সালে একজন ফ্রেঞ্চ আরকেওলজিসট এই কবর টি পান । তুতেনখামন এর কবরের মতোই এই কবরটি ইমপ্যাক্ট ছিল। এই ফ্যারো কে ছিল তা জানা যায়নি। তাঁর মাথা থেকে পা পর্যন্ত রুপা দিয়ে ঢাকা ছিল।পরে জানা যায় তার নাম shoshenq ll 

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2023/03/Screen-Shot-2023-03-04-at-19.49.19.png)সম্পুর্ন ভাবে খাঁটি সোনা দিয়ে বানানো অনেক ওজনের টুটেনখামনের মমি

**তুতেনখামন** 

১৯২২ সালে পাওয়া গেছে তুতেনখামনের চার রুমের কবর। পেয়েছেন হাওআরড কারটার ব্রিটিশ আরকেওলজিসট । যেখানে  ছিল মন কে মন সোনা দিয়ে তৈরি মুখোস, মমির বাক্স, সোনার পাতের খাট , আসবাব পত্র , চেরিয়েট বা গাড়ি   এবং ৬ ০০০এর বেশি আরটইফেক্ট  দ্বারা । এই ডিসকভারিটি  আরকেওলজিস এর ইতিহাসে সব চেয়ে বেশি এবং  সব চেয়ে বিরাট উদ্ধার । যাকে কুফুর সোলার বোট এবং রোসেটা স্টোনের সাথে তুলনা করা যায়। 

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2023/03/Screen-Shot-2023-03-22-at-09.25.29.png)তিন  ভাষা যার একটা ছিল গ্রীক ভাষা দিয়ে লেখা স্তেলা(রেসেটা স্টোন )  যা এখন ব্রিটিশ মিউজিয়ামে আছে

**রোসেটা স্টোন** 

ফ্রেঞ্চ রা এটা পান যা তিনটি ভাষা দিয়ে লেখা ছিল হ্যারগ্লাফিক্স এবং গ্রিক ভাষা দিয়ে । যার ফলে এর পাঠ উদ্ধার 

 সুবিধা হয়। পাঠ উদ্ধারের পর মিশরীয়দের সব ভাষা পড়তে পারা যায় এবং তারা কি লিখেছে তা জানা যায়।

**নেফারতিতির আবক্ষ স্ট্যাচু** 

জার্মান আরকেওলজিসট আমারনা প্রজেক্টে  এই স্ট্যাচু টি পায় । কিন্তু তা চলে গেছে জার্মান মিউজিয়ামে। নেফার তিতি ছিলেন একজ শক্তিশালী নারী যার প্রভাব ছিল রাজা এখেনটেনের উপরে এবং তিনি ছিলেন ফ্যারো এখেনটেনের রানী । যিনি তুতেন খামনের সৎ মা ছিলেন। যা দেখতে হাজার হাজার টুরিস্ট এর আগমন হয় জার্মানে । 

**বর্তমান শতাব্দীতে যা যা উদ্ধার হয়েছে** 

রানী নেয়ারিত ( Nearit ),ওল্ড কিংডম , তিনি ছিলেন  টেটির স্ত্রী,   তার ফিনানেরি টেম্পেল সহ একটা পিরামিড পাওয়া গেছে এবং সেখানে লেখা ছিল তার নাম । 

**এখনো ৭০% মিশরীয় আর্ট ইফেক্ট মাটির নিচে লুকানো আছে। সাকারায় একটু মাটি  খুঁড়লেই বেরিয়া আসে তাদের** **রেখে যাওয়া সভ্যতার গোপন রহস্য ।** 

**২০২০ সালে যা পাওয়া গেছে** 

১,৭০০ বছরের পুরানো একটি ফ্যাল্কন যা তাদের দেবতা , ৩,৩০০ বছরের পুরানো রঙ্গিন পাখীর ছবি , আমারনা কমপ্লেক্সে পাওয়া গেছে তিনটি নেকলেস, তিনটি আংটি, এখেনটেনের কবর, ৪,২৮১ ফুট লম্বা টানেল যেখান দিয়ে পানি আনার ব্যাবস্থা করা হয়েছিল এবং ফ্যারো টেটির জেনারেল দের কবর আর্ট ইফেক্ট সহ। 

**২০২২ যা সালে পাওয়া গেছে**

আরবান স্যাটেলমেনট যা ৩০০০ বছরের পুরানো ।যা কিনা  নীল নদের  পশ্চিম পাড়ে এবং এখান থেকে পাওয়া যাচ্ছে সে  সময়ের তাদের প্রাত্যহিক জীবন যাত্রা কেমন ছিল তার চিত্র । 

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2023/03/Screen-Shot-2023-03-22-at-09.53.49.png)

**বাবুস্কা মন্দির এবং তার নিচ থেকে ১০০ মমি উদ্ধার (২০১৯)** 

এখানে ছিল মাত্র একটা ফাউনডেসান টাইপের ভাঙ্গা কিছু স্থাপনা। আর্কেও লজিসট রা গবেষণা  এবং জিওলজিক্যাল সার্ভে করে উদ্ধার করেন এটা একটি বিরাট মন্দিরের তলা দেশ যা কালের গর্ভে বালুর তলে চলে গেছে ।  বিখ্যাত মিশরীয় আরকেওলজিসট ‘মস্থাফা ওয়াদিরি’  এখানে খনন কাজ চালিয়ে বের করে আনেন একশত মমি । যা কিনা

‘পটোলেমিক’ ( ptolemaic)  সময় থেকে ( 664-332 বি সি ) পুরানো আমলের । দুই হাজার বছর ধরে সেখানে এগুলো ছিল। 

বলে রাখা দরকার ৪,৭০০ বছরের পুরানো স্টেপ পিরামিড এর খুব কাছে। যেহেতু তারা ফ্যারো কে দেবতা বলে মনে করে তাই এর কাছাকাছি কবর হওয়াকে ভ্যাগ্য বান বলে মনে করতো । 

**বিয়ার বা পানীয় বানানোর ইন্ডাস্ট্রি** 

৫০০০ হাজার বছরের পুরানো একটি বিয়ার বানানো ইন্ডাস্ট্রি আবিষ্কার হয় মাটির নিচে , যেখানে ৫,৯০০ গ্যালন বিয়ার বানানো হতো । এটা পাওয়া গেছে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। অবশ্য প্রথম চিহ্নিতো করা হয় ২০১৮ সালে। পরে  ম্যাগনেটিক সার্ভে টেকনোলোজি দ্বারা পরীক্ষা চালানো হয় এবং জানা যায় নানা রকমের শস্য দানা এবং পানি মিশিয়ে বিয়ার বানানো হতো । আর্কেওলজিসট অ্যাডাম মনে করেন এখান থেকে পানীয় বানিয়ে রয়াল রিচুয়াল দের সরবরাহ করা হতো এবং এটাই পৃথিবীর প্রথম উদাহরণ, যেখানে  লার্জ স্কেলে উৎপাদন কারি পানীয় বানানোর কারখানা কি ভাবে বানানো যায় তার ব্যাবস্থার ।

**লস্ট গোল্ডেন সিটি, লাক্সর ২০২২ সালে আবিষ্কার হয়** 

‘ যাহি হাওয়াস’  একজন  বিখ্যাত মিশরীয় আর্কেওলজিসট এবং ইজিপ্টলজিসস্ট  সাম্প্রতিক সময়ে খুঁজে পেয়েছেন ৩৪০০ বছরের পুরানো এক শহর । যাকে ঠিক ইতালির পম্পেও  শহরের মতো মনে হয়।রাস্তা ,বাড়ি ঘর, প্যালেস, মন্দির পানি নিকাসের ড্রেন, শহর ঘেরা সীমানা প্রাচীর যা জিগ জ্যাগ ডিজাইন দিয়ে বানানো  এবং ঢাকা পড়া জার, পটারি। জার ভর্তি বিয়ার যা  কিনা ছিপি দ্বারা বন্ধ ছিল এবং সেখানে ছিল তারিখ এবং  কারটুসের মধ্যে ফ্যারো এমনহটেপ lll এর  নাম লেখা ভাঙ্গা সিল । যা দ্বারাই প্রমাণ মিলে এবং চিহ্নিতো হয় এই শহরটি কার। এমনহটেপ lll ( 1386-1353 ) সালে ফ্যারো ছিলেন এবং তিনি এখেনটেনের পিতা এবং তুতেনখামনের দাদা ছিলেন।

সেখানে আরও পাওয়া যায় কাঁচ বানানো  ফ্যাক্টরি , লেবারদের ভিলেজ, সিমেন্ত্রি বা কবর স্থান, মেটাল বানানো ফ্যাক্টরি, স্তেলা, প্রিজার্ভ সেদ্ধ করা মাংস ভর্তি জার এবং একটা বিল্ডিং যেখানে লেখা ছিল পুরাতন ধর্ম ছেড়ে দিয়ে নুতুন ধর্মের প্রবর্তক এখেনটেনের নাম।

এতদিন ধরে এগুলো  মাটির তলায় লুকিয়ে ছিল এবং বিখ্যাত আর্কেও লজিসস্ট ‘সেলিনা ইকরাম’ এই উদ্ধার কে বলেন একটা ‘বিস্ময় কর খুঁজে পাওয়া’ (  ‘Phonomenal find’ ) ।  

আরকেওলজিসট দের কাছে হ্যাপিনেস বা সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার 

১) যখন কিছু আবিষ্কার হয় (The moment of discovery)

2)  যখন প্রাচীন জিনিস গুলো পুনপ্রথিস্ঠা করা হয় ( The moment of restoration and ) 

 এবং তখনেই পুরানো ঐতিঝ্যের প্রতি আর্কেঅলজিসট দের   ভালবাসা  প্রমান হয়  (A moment of love for our eternal heritage)  

মিশরের মাটির নিচে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার বছরের পুরানো সভ্যতার  গোপন রহস্য । যা কিনা মানুষ বুঝে  উঠতে পারেনা এত বছর আগে এত জ্ঞান কেমন করে তাদের হয়েছিল , যখন কিনা পৃথিবীর অনেক মানুষ তখনও গুহায় বাস করতো ।একে একে উন্মোচন  হচ্ছে মিশরীয় সভ্যতার লুকিয়ে থাকা রহস্য এবং তা জানান দিচ্ছে পৃথিবীর সব বিখ্যাত সব আরকেওলজিসস্ট দের হাত দিয়ে ।  

তথ্য সূত্র

Most fascinating  Discoveris, Britannica

Archaeology Ancient Egypt,

Networking events The GreatestFrench Egyptologist,  Smithsoniyan Magazine 

Photo , Wikipedia 

প্রবন্ধঃ ইতিহাস ও ঐতিহ্য

লেখক ও গবেষকঃ হুসনুন নাহার নার্গিস ,লন্ডন
