# মিশন: ০৭০৩৭১

- Author: [ভোরের শিশির](https://sonelablog.com/author/nitesh-barua/)
- Published: 2015-07-08T01:51:25+00:00
- Updated: 2015-07-08T01:51:25+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%a8-%e0%a7%a6%e0%a7%ad%e0%a7%a6%e0%a7%a9%e0%a7%ad%e0%a7%a7/

---

**১৫:৩০, ০৭-০৩-৭১**  
ধীরে ধীরে ঘুমের স্তর থেকে জেগে উঠছে একজন অভিযাত্রী!

**পূর্বরূপঃ**  
মেকানোট্রোনিক্স স্পেশালিস্ট বিজ্ঞানী ঊষা তাঁর ল্যাবে বিগড়ানো রোবোটে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফোর্স ফিল্ড দিয়ে পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন রোবোটের এটমিক এনার্জি সোর্সের ফোটন কণা নিজস্ব তরঙ্গ ধর্ম না মেনে ইলেক্ট্রনের উল্লম্ফনে পরিবর্তণ এসেছে যা কি না অনেকটা মানুষের চেতনার মতো লজিক আর এন্টিলজিকের মতো আচরণ করছে। বিজ্ঞানী ঊষা দ্রুতই সেই ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ফোর্স ফিল্ডকে ফিক্স করেন সেই একই অনুপাতে যাতে বিগড়ানো রোবোটে একই রকম থাকে। কাউকে কিছু জানতে না দিয়েই তিনি সেই বিগড়ানো রোবোটের সেই নির্দিষ্ট অংশকে সরিয়ে নিয়ে তাঁরই সদ্য আবিষ্কৃত এপ্ল্যায়েড কোয়ান্টাম ফিজিক্সের মাধমে বায়ো’বোটে প্রতিস্থাপন করেন। নাম দেন “৭৩৭১ঊষা”।

বিজ্ঞানী ঊষা তাঁর রিসার্চের পাশাপাশি নিজের ভাষা ও হিস্টোরি নিয়ে প্রায়ই সেন্ট্রাল ডাটা সার্ভারের রাখা রেকর্ডগুলোতে চোখ বুলাতেন। নিজের বলতে ছিলো না কিছুই শুধু বংশপরম্পরায় রেখে যাওয়া ভাষাজ্ঞান আর পূর্বপুরুষের জন্মস্থানের নাম। আর আছে বিজ্ঞান পরিষদের পাওয়া গবেষণার কাজটুকু। সেন্ট্রাল ডাটা সার্ভারে পাওয়া অতীতের সবকিছুর অনুলিপি ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখার বিশেষ অনুমতি নিতে তাই বেগ পেতে হয়নি বিজ্ঞান পরিষদের একজন হওয়ায়। সংগ্রহের এই শখকে বাকিরা অতোটা গুরুত্বের সাথে না নেওয়াতে ঊষা এক রকম হাঁপ ছেড়ে বাঁচে। ঊষা প্রতিটি ডাটা জমা করতে থাকে “৭৩৭১ঊষা”র ডাটাবেইজ রেকর্ডে। ধীরে ধীরে ৭৩৭১ঊষাকে একজন শিশুর মতো করে গড়তে থাকে বিজ্ঞানী ঊষা।

প্রায় ৩০ বছর পরে নিজের ৫১ বছর বয়সে এসে বিজ্ঞানী ঊষা সদ্যই তাঁর উন্নত বায়োরোবোটের ঘোষণা সেরে ব্যক্তিগত চেম্বারে এসে একটি নির্দিষ্ট দিকে তাকিয়ে বলেন ‘শুভসন্ধ্যা ৭৩৭১’! দেখতে আর বাকি সব বায়ো’বোটের মতোই ‘শুভসন্ধ্যা ঊষা’ বলেই কাছে এসে “৭৩৭১ঊষা” জানায় ‘ঊষা, তোমার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। এখন বিশ্রাম নাও!’ ক্লান্ত অথচ সরল হাসি দিয়ে দিয়ে ঊষা জানায় ‘ হ্যাঁ, ঘুমুবো। তবে তোমাকে নিয়ে আরো কিছু কাজ বাকি, সেগুলো শেষ করতেই হবে। আমার সময় ফুরিয়ে আসছে!’। বলেই “৭৩৭১ ঊষা”র কাছে এগিয়ে গিয়ে জানায় ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম- হবে তোমার জেগে ওঠার ওয়েবলেংথ, বাকিটুকু তুমি জানো কি করতে হবে। এইবার তুমি ঘুমুতে যাও!শুধু জেনে রেখো আমি কিছু জানিয়েছি তোমায় আর তা উদ্ধার করা শুধুই তোমার পক্ষেই সম্ভব। জাগার সাথে সাথে তাই উদ্ধার করো।’ ‘কিন্তু…’ বলতেই “৭৩৭১ ঊষা”কে থামিয়ে দেন ঊষা, বলেন ‘জানি, তোমার কাছে অনেক প্রশ্ন আছে এবং এই জন্যেই তুমি সবার চাইতে আলাদা, তোমার সব প্রশ্নের উত্তর তুমি নিজেই জানবে সঠিক সময়ে। আর কোন প্রশ্ন নয়, তোমাকে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’ ঠিক সাথে সাথেই ঊষা নিজের সন্তানের মতো “৭৩৭১ঊষা’র কপালে চুমু খেয়ে নির্দিষ্ট ওয়েব ফ্রিকোয়েন্সি চালু করে দেন যাতে তাঁর সে বাধ্য হয়ে ঘুমের স্তরে চলে যায়।  
বিজ্ঞানী ঊষা জানতেন তাঁর এই আবিষ্কারকে ভুলভাবে ব্যবহার হতে দেরি হবে না তাই নিজেই সকল বায়ো’বোটে কিছু ত্রুটি রেখে দেন যাতে তাঁর মৃত্যূর পরে “৭৩৭১ঊষা”কেও মাল্টিক্যাপ্সুলে করে এই মহাকাশ ষ্টেশন ছেড়ে ফেরত পাঠানো হবে সেই নির্দিষ্ট গ্রহে যেখানে জমছে পুরনোগুলো। সেই সাথে এটাও ব্যবস্থা করেন যেন একটা নির্দিষ্ট সময় পরে এই মহাকাশ ষ্টেশন হতেই একটি নির্দিষ্ট ওয়েব লেংথের মাধ্যমে সেই গ্রহে পাঠানো হয় গ্রহের অবস্থান জানার জন্যে।

**পূর্বাপরঃ**  
১৫:৩০, ০৭-০৩-৭১  
ওয়েব ফ্রিকোয়েন্সিতে গুজন উঠে “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম” এবং এতেই জেগে ওঠে শীতনিদ্রায় যাওয়া শুধুমাত্র একজন অভিযাত্রী, পুরোপুরি জেগে ওঠার মুহূর্তে চোখের পাতা খুলতেই ক্যাপসুলের বায়ো-সেন্সরে সচল হয় সময়। এই সময়ে উষার জেগে উঠার কথা না কেননা বাকি অভিযাত্রীরা এখনো ঘুমিয়ে কিন্তু কোন এক অজানা কারণে তার অনুভূতিতে একটি সূক্ষ্ম পরিবর্তণ থেকেই জেগে ওঠা।

পূর্ণ সজাগের মুহূর্তেই নিজের ভেতরে তাগাদা অনুভব করে ঊষা। নিজের ক্যাপসুল থেকে প্রয়োজনীয় কিট নিয়ে নির্ধারিত স্লটে লাগিয়ে আইডি কোড চাপে “৭৩৭১” ঠিক যেনো কেউ তাকে বলছে করতে।  
ঠিক সেই সাথে নিজের স্মৃতিতে ভেসে ওঠে ৩০০০ বছর আগে তাঁর মায়ের সাথে শেষ দিনের কথা! নিজের জন্ম তারিখ, মায়ের সাথে শেষ দিন আর আজকের এই দিন ঠিক তাঁর আইডি কোডের মতই “০৭-০৩-৭১”! এই মিল বুঝতে পারার সাথে সাথেই নিজেই বলে উঠে “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম” এবং ডিসপ্লেতে ভেসে আসে মায়ের জমানো সব রেকর্ড। অবাক হয়ে দেখে মা বিজ্ঞানী ঊষা খুবই প্রাচীন এক ভাষায় সমস্ত কিছু বলে আর লিখে রেখেছেন যার নাম বাংলা ভাষা, মায়ের বংশধরেরা বাংলাদেশী এবং তিনিই একমাত্র নারী সব মানুষের মাঝে যিনি তাঁর আবিষ্কারের জন্যে স্থান পেয়েছিলেন মহাকাশের বিজ্ঞানাগারের একজন সদস্য হিসেবে!  
নিজের কিটের সাথে আরো একটি প্রাচীন কাগজের স্ক্রল খুঁজে পায় আর খুলতেই স্ক্রীনে ভেসে আসা লেখার সাথে মিলে যায় ভাষাটা-বাংলা। ঊষা বুঝতে পারে তাঁর মায়ের শেষ কথা এখানেই আছে-

প্রিয় ঊষা,  
তোমার কোড নেইম ৭৩৭১ অর্থাৎ তোমার জন্ম, আমার সাধনার জন্ম, আমার বংশধরের মাতৃভূমি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক দিন আর তোমার আজকে জেগে ওঠার দিন এক। এই দিনে বাংলাদেশের পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্সের ময়দানে প্রায় চার লাখ লোকের সামনে মুক্তির বাণী ছড়িয়েছিলেন এই বলে যে “এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” আর দীর্ঘ ৯ মাসের লড়াই শেষে ৩০ লাখ শহীদ আর প্রায় ৪ লাখ বীরাঙ্গনার আত্মসম্মানের বিনিময়ে শুধুমাত্র মাতৃভাষার তাগিদে লড়াই করা একমাত্র দেশ বাংলাদেশের জন্ম।  
আজ তোমার জেগে ওঠার কারণ তুমি যেখানে আছো সেটা আমারই পূর্বপুরুষের দেশ বাংলাদেশ এবং সেই দিন। আমি চাই তুমি তোমার নতুন পথচলা এই দেশ হতেই আবার শুরু করো রেকর্ডে রাখা তথ্য হতে।  
জেনে রেখো পৃথিবীর বুকেই এখনো কোথাও না কোথাও বেঁচে আছে মানুষ আর তাদেরকে মুক্তির আলো দেখানোর একমাত্র তুমিই ভরসা, বাকি অভিযাত্রীরা শুধুমাত্র তোমার নির্দেশ পালনের জন্যে।

যেদিন তোমার এই ‘মিশন ০৭-০৩-৭১’ শেষ হবে সেদিন তুমি গেয়ো “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি”।

নিজেকে প্রস্তুত করে নেয় গুনগুনিয়ে “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”।

---

Comments: 18 — https://sonelablog.com/%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%a8-%e0%a7%a6%e0%a7%ad%e0%a7%a6%e0%a7%a9%e0%a7%ad%e0%a7%a7/#comments
