# মিঠামইন থেকে বঙ্গভবন:আমাদের গর্বের রাস্ট্রপতি

Author: হৃদয়ে আমার বাংলাদেশ
Published: 2013-09-23
Category: বিবিধ
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a0%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%87%e0%a6%a8-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%ad%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be/

[![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2013/09/1304_19577-300x187.jpg)](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2013/09/1304_19577.jpg)  
আমাদের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ । তাঁর সম্পর্কে জানুন । গর্বিত হোন আপনিও এমন একজন রাস্ট্রপতি আছে আমাদের ।

২০১১ সালের মার্চ মাস। কিশোরগঞ্জ জেলার এক বিচ্ছিন্ন উপজেলা মিঠামইনে এসে স্পিডবোট থেকে নামলেন তিনি। বোট থেকে নামার পর একটি রিকশা আনা হলো তাঁর জন্য। কিন্তু রিকশায় না উঠে অবলীলায় হাঁটতে শুরু করলেন সামনের দিকে। হেসে আমাদের উদ্দেশে বললেন, ‘এ উপজেলায় কোনো গাড়ি তো নেই-ই, রিকশা-মোটরসাইকেলও হাতেগোনা। এখানে পায়ে হাঁটাই আমাদের অভ্যাস। আপনাদের হাঁটতে একটু কষ্ট হবে।’ রোদের মধ্যেই সামনের দিকে হেঁটে চলছেন আর কুশল বিনিময় করছেন এলাকার মানুষের সঙ্গে। এরপর টানা প্রায় আধা কিলোমিটার হেঁটে উপজেলা অতিথিশালায় ওঠা।

আর এই মানুষটিই বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুল হামিদ। ২০১১ সালের মার্চে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় এ সফরের সময় তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার। কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলা ইটনা, মিঠামইন এবং অষ্টগ্রাম নিয়ে ছিল তাঁর নির্বাচনী এলাকা। যেখানে থেকে সাত সাতবার মানুষ তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি করে জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছেন তাঁকে। শুধু কি তা-ই! টানা দুই যুগেরও বেশি সময় তিনি ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। একই সঙ্গে জেলা বারের সভাপতি। স্পিকার হওয়ার সময় এ পদগুলো তাঁকে ছাড়তে হলেও এখনো তাঁর সঙ্গে আলোচনা না করে এসব সংগঠনে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এখন তো আর তাঁর কোনো এলাকা নেই। সারা বাংলাদেশই তাঁর এলাকা। তবু রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বঙ্গভবনে ঢোকার আগে প্রথম তিনি ছুটে গেছেন সেই এলাকায়—যেখানকার মাটি-আলো-বাতাস তাঁকে ধীরে ধীরে পরিণত করে তুলেছে আজকের আবদুল হামিদ-এ। গত মে মাসে যখন তিনি তাঁর উপজেলা মিঠামইনে নামেন তখন তাঁকে নিতে রিকশার বদলে আসে কাপড়ে মোড়ানো ভ্যানগাড়ি। কিন্তু হাঁটতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন আবদুল হামিদ। নিরাপত্তা রক্ষীদের (এসএসএফ) অনুরোধে শেষমেশ ভ্যানগাড়িতে উঠলেন রাষ্ট্রপতি। ভ্যানে চড়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার এ ছবি আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যমেও শিরোনাম হয়ে উঠেছিল।

‘তুইতো আমার দাদা’ : ঘটনাটি ১৯৬৯ সালের শেষ দিকের। পাকিস্তানিদের শোষণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে তখন বাঙালি জাতি। নির্বাচনের মাধ্যমে গণরায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। প্রার্থী ঠিক করা হচ্ছে, জাতীয় পরিষদ এবং প্রাদেশিক পরিষদের জন্য। এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডেকে পাঠালেন কিশোরগঞ্জের তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হামিদকে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে ডেকে তাঁকে বললেন প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে। কিন্তু আবদুল হামিদের দাবি জাতীয় পরিষদ নির্বাচনের টিকিট পাওয়া। এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমিতো জর্জ সাহেবকে কথা দিয়ে ফেলেছি। তুই এবার প্রাদেশিক পরিষদে জিতে আয়। পরে দেখবো নে।’ জর্জ সাহেব মানে সাবেক এক জজকে তিনি ওই এলাকায় জাতীয় পরিষদের নির্বাচন করার জন্য কথা দিয়েছেন।

কি আর করা, বঙ্গবন্ধুর কথা মানে তো নির্দেশ। এলাকায় ফিরে গেলেন হামিদ প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের টিকিট নিয়ে। এর অল্প কয়েকদিন পরেই আবার বঙ্গবন্ধু কিশোরগঞ্জ থেকে জরুরি তলব করলেন আবদুল হামিদকে। হামিদ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বাসায় এসে দেখেন বঙ্গবন্ধু লুঙ্গি আর গেঞ্জি পরে লনে হাঁটছেন। আবদুল হামিদকে একনজর দেখার পরে তিনি জোরে হেসে উঠলেন। রাষ্ট্রপতি হামিদের ভাষায়, ‘বঙ্গবন্ধু আমাকে দেখে প্রায় এক মিনিট জোরে হাসছিলেন। আর আমি ভয়ে জামা-প্যান্ট ঠিক আছে কিনা সেদিকে খেয়াল করছিলাম। কিন্তু হাসির কারণ বুঝতে পারিনি। হাসি থামিয়ে এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু বললেন, তুইতো আমার দাদারে। তোকে আমি জোর করে জাতীয় পারিষদে না দিয়ে প্রাদেশিক পরিষদে দিলাম। আর জাতীয় পরিষদে যাকে দিলাম, সেই জাজ সাহেবতো মারা গেলেন। এখনতো তোর প্রস্তাবমতোই জাতীয় পরিষদে তোকে প্রার্থী করতে হবে।’ এরপর নির্বাচন হলো। ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত হয়ে এলেন আবদুল হামিদ।

এক ঘরোয়া আড্ডায় ওই সময়ের স্পিকার, বর্তমান রাষ্ট্রপতির গল্পটা এখানেই শেষ হয়নি। মজা করে তিনি বলছিলেন, ‘এ ঘটনা নিয়ে পরে একবার আমাকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছিল। কারণ এ বিষয়টি যে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জানেন সেটা আমার জানা ছিল না।’

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, ‘১৯৭০-এর পর চলে গেছে অনেক দিন, অনেক বছর এবং কয়েক যুগ। ১৯৯৬ সালে ৫ম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ওই সময়ের সরকারি দল আওয়ামী লীগ আমাকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করে। স্পিকার নির্বাচিত করা হয় সাবেক মন্ত্রী হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীকে। ২০০১ সালের ১০ আগস্ট স্পিকার থাকাকালেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এরপর ৭ম জাতীয় সংসদের বাকি সময়টা স্পিকারের দায়িত্ব পালন করতে হয়।

এরপর ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংসদে বিরোধী দলে যায়। বিরোধী দলীয় নেত্রী হন আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিরোধী দলীয় উপ নেতা কাকে করা হবে—এ আলোচনায় এ পর্যায়ে আমাকে ডেকে পাঠান তিনি। হেসে ওই সময়ের বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বললেন, হামিদ সাহেব, আপনাকে বিরোধী দলের উপনেতা করলে তো আমি ঝুঁকিতে পড়ে যাই। কারণ আপনার ওপর কাউকে দিলে তো সে শেষ পর্যন্ত বাঁচে না। কিন্তু বিরোধী দলের উপনেতা তো আপনাকেই করতে চাই। এখন কী হবে। প্রধানমন্ত্রী এবার উদাহরণ দিয়ে ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রার্থী এবং মরহুম স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর নাম বললেন। বিব্রতকর পরিস্থিতি সামলে কোনো মতে জবাব দিলাম—কাকতালীয়ভাবে দুটি ঘটনা ঘটলেও এবার আর ঘটবে না। কারণ আপনি না থাকলে তো আমিও নেই।’  
**লেখাটি বেশ বড় হওয়ায় বাকী অংশ ১ নং মন্তব্যে দেয়া হলোঃ**

[*এটি দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয়েছে ৫ আগস্ট ২০১৩ সংখ্যায় । লিখেছেনঃ আশিস সৈকত*](http://www.ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMDhfMDVfMTNfM181OV8xXzYyMDA2 "এটি দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয়েছে ৫ আগস্ট ২০১৩ সংখ্যায় । লিখেছেনঃ আশিস সৈকত")
