# মা……পর্ব–৩//

- Author: [বন্যা লিপি](https://sonelablog.com/author/lipi71/)
- Published: 2020-04-07T14:35:49+00:00
- Updated: 2020-04-07T14:35:49+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9/

---

মা…..//  
নিজ ভাবনা থেকে–পর্ব(৩)

আমার ওপরে খাবার দাবারে বিধিনিষেধ আরোপ শুরু হয়েছিলো সম্ভবনার শুরু থেকেই।কন্যা ভূমিষ্ঠ হবার পরে বেড়ে গেলো আরো বহুগুণ। আম্মা’র কাছে থাকাকালীন সময়ে ত্রাহি অবস্থা করে ছেড়েছেন।এমনকিছু খাওয়া যাবে না, যা কিনা বেবির ওপর এফেক্ট করে।মা যা খাবে তাই প্রভাব পড়বে বাচ্চা’র যেহেতু বাচ্চা দুগ্ধজাত নবজাতক। ২৪ দিন বয়সে মেয়ের দাদা ইন্তেকাল করলেন নাতনী মুখ না দেখেই।প্রবাদ/প্রচলন ভেঙে ঘর ছাড়তে বাধ্য। শিশু জন্মের ৪১ দিনে শিশুসহ প্রসূতি মা ঘর ছেড়ে বেরোনোও অঞ্চলভিত্তিক নাকি জানিনা প্রথা জারি( কেউ মানে, কেউ মানে না)। আমি কাঠের পুতুল! মানতে বাধ্য! মেয়ে লালন পালনে আমার বিষেশ কোনো ভূমিকা রাখতে হয়নি কেবল আমার অনুভূতি ছাড়া। আম্মা’র কলিজার টুকরা হয়ে গেলো আসলের চেয়ে সুদ। নানি নয় যেন নিজ সন্তানের মতো অভিজ্ঞতার সবটুকু ঢেলে নাতি পালছেন। খাবার সময় হলেই শুধু আমার কাছে দিয়ে যান।পাক্কা ৬ মাস পর ঢাকা ফিরলাম মেয়েকে নিয়ে। ঢাকা ফিরতে হবে জানার পর থেকেই প্রচন্ডরকম হৃদকম্প বেড়ে গিয়েছিলো আমার। কিকরে মেয়ে সামলাবো? দুই দেবর সহ আমি সাহেব দেড় রুমের বাসায় থাকি। কাজের বুয়া তিনবেলা কাজ যদিও করে দিয়ে যান! মেয়েকে গোসল করানো, ন্যাপি চেঞ্জ, পরিস্কার করা, কাঁথা কাপড় ধোয়া এই ৬মাসে কিচ্ছু দেখতেও হয়নি, করতেও হয়নি।এগুলো সব এখন আমাকে করতে হবে। ভাবতাম আর কাঠ হয়ে যেতাম। আম্মা, চাচি সমানে নসিহত করতে লাগলেন কি কেমন করে যত্ন নেবো মেয়ের। মাথার মধ্যে অন্যচিন্তা। সহযোগীতা বলতে পাশের ফ্লাট এবং আত্মীয় জা আছেন অনেক।  
একা একা মেয়ে নিয়ে আমার সময় কাটে ব্যস্ততায়।মেয়ের বাবা, চাচারা বেরিয়ে যায় সকাল আটটার মধ্যে। এখন ভাবতে অবাক লাগে। কি করে সামলেছি সেইসব দিনগুলো? কিছু অভ্যাস গড়ে উঠছে মেয়ের আমার টের পাচ্ছি। যে কারো কাছে যায় হাত বাড়ালেই, হঠাৎ হঠাৎ কারো কারো কাছে মোটেই যায়না।জোড় চিৎকারে কেঁদে ওঠে।আমার কোলে সে আমার চুল মুঠোয় ধরে রাখে, বুকের কাছে কাপড় খামচে ধরে রাখে। আমি অন্যদিকে তাকিয়ে থাকলে মুখ দিয়ে আঁ উঁ শব্দ করে ক্রমাগত।যার অর্থ আমি কেন তাঁকে প্রায়োরিটি দিচ্ছিনা।কেন অনর্গল তাঁর সাথে কথা বলছি না। ঘুমাবার সময় হলে তাঁকে ফিডার দিয়ে বালিশে শুইয়ে পাশবালিশ দিয়ে দিলেই একা একা খেতে খেতে ঘুমিয়ে পরে। ঘুম থেকে জেগেই চোখ খুলে মা’কে দেখতে না পেলে মেয়ে আমার আতংকে কেঁদে ওঠে। ফিডারের দুধের পাশাপাশি সুজি দিতে শুরু করেছি……. চলবে

---

Comments: 19 — https://sonelablog.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a9/#comments
