# মাস্ক এবং বায়ুদূষণ

Author: নাসির সারওয়ার
Published: 2021-07-09
Category: স্বাস্থ্য বার্তা
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%82%e0%a6%b7%e0%a6%a3/

“টয়লেট ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে”, এই কাজটা শিখাতে মীনা নামের কার্টুন টার বেশ কয়েক বছর সময় লেগেছে। কিন্তু করোনা নামের এক ভয়ঙ্কর ভাইরাস আমাদের মাস্ক পরা খুবই অল্প সময়ে শিখিয়েছে। একসময় এই মাস্কের ব্যবহার শুধু হাসপাতালের মধ্যেই আটকে ছিলো। তাও আবার বিশেষ কিছু ঘরের জন্য। এই যেমন, যে ঘরে মানুষের শরীর কাটাকুটি হয়। অথবা সংক্রামক অসুখ বিসুখের ঘরগুলো। তবে মাস্কের আরো অনেক ব্যবহার আছে যা আমরা হয়তো জেনেও না জানার মতই এড়িয়ে যাচ্ছি। আসুন, আমরা জানার চেস্টা করি এই মাস্কের আরো কত ব্যবহার আছে।

জল বায়ু দুটো আলাদা জিনিস এবং আলাদা শব্দ হলেও এরা পাশাপাশি থাকার অভ্যেস করে ফেলেছে অনেক দিন থেকে। এর কারন হয়তো এ দুটোই আমাদের জীবনের সবচাইতে বেশী প্রয়োজনীয় যা বাঁচিয়ে রাখছে এই মানব সভ্যতা। অথচ প্রকৃতির এই উপহারকে আমরা সহজ-সরল না রেখে নানা ভাবে দূষিত করে আসছি যা মানব সভ্যতার জন্য বেশ ভয়ঙ্কর বার্তা।

সভ্যতার শুরু থেকে খাল-বিল, নদী-নালা বা পুকুর-ডোবা ছিলো আমাদের পানির উৎস। এই পানি আমরা আমাদের বর্জ্য দিয়ে প্রতিদিনই দূষিত করছি। এই বর্জ্য হতে পারে আমার আপনার টয়লেট অথবা আমাদের কলকারখানা থেকে। উন্নত দেশে এই বর্জ্যকে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহনশীল অবস্থায় নিয়ে অপসারণ করে। কিন্তু আমাদের সেই ব্যবস্থা নাই বললেই চলে। বুড়িগঙ্গার পানি দেখলে আপনার আর দূষণ দেখার স্বাদ হবেনা।

আমাদের পানি ব্যবহারের আরো অনেক উৎস আছে। আমাদের আছে নলকূপ/ওয়াসা বা বোতলজাত পানি যা আমাদের দূষিত পানি ব্যবহার থেকে দুরে রেখেছে। মানে হলো পানি পান করার জন্য আমাদের পছন্দ অপছন্দ আছে। তবে সমস্যা হলো বায়ু ব্যবহার নিয়ে। পানির মত বাতাসের তো অনেকগুলো মাধ্যম নেই! বায়ুমণ্ডল আমাদের যা দিচ্ছে, তাই একমাত্র উপায়। তবে সার্বক্ষণিকের জন্য অক্সিজেনের বোতল ব্যবহার করা যেতে পারে! হয়তো এমন দিন আসছে যখন হয়তো তাই-ই আমাদের করতে হতে পারে। নিঃশ্বাস (অক্সিজেন) ছাড়া বাঁচার কি আর কোন পথ আছে!![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2021/07/mmexport1625770240540.jpg)

এই অক্সিজেনের সাথে আমরা আরো কিছু নিচ্ছি যা আমাদের শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর। এই বাতাসে অনেক কিছুই ভেসে বেড়ায় যা আমরা ফিল্টার করে শুধু অক্সিজেন নিতে পারছিনা। হয়তো কোন একদিন এই ফিল্টারও বাজারে চলে আসবে। তবে আমরা কিছুটা হলেও এই অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তু থেকে নিজেদের এড়িয়ে নিতে পারি।

প্রথমেই জানার চেষ্টা করি আমরা নিঃশ্বাসের সাথে অক্সিজেন বাদে আর কি কি দূষিত বস্তু নিচ্ছি।  
চলমান কলকারখানা বা গাড়ি থেকে প্রতিনিয়ত বর্জ্য হিসাবে নির্গত হচ্ছে গ্যাস (কার্বন মোনো-অক্সাইড এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড)। ট্যানারি এবং অন্যান্য কলকারখানার চিমনি থেকে নির্গত হচ্ছে সালফার ডাই-অক্সাইড। আরো অনেক গ্যাস আছে যা মানুষের কর্ম কাণ্ডের ফসল এবং তা বাতাসে মিশে ভেসে বেড়াচ্ছে। এই গ্যাসের সাথে আরো যাচ্ছে ধূলিকণা যা রাস্তাঘাট, দালানকোঠা বানানো বা মেরামতের ফসল। এগুলোকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় বস্তুকণা বা Particulate matter (PM)। এবং এই দূষিত বস্তুকণা আমরা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে এবং কিছুটা সরাসরি রক্তের মাঝে মিশিয়ে নিচ্ছি। এর ভয়াবহতা নিয়ে অনেক গবেষণা আছে যা আমাদের শরীরের জন্য ভয়ানক খবর। ফুসফুস যেহেতু শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রধান তন্ত্র, তাই বস্তুকণার আঘাত ওটার উপরেই বেশী পরে। যেমন, ক্যানসার, এযমা, সর্দিকাশি সহ আরো অনেক ব্যাধির যোগসূত্র এই বস্তুকণা।

**১। বস্তুকণার উদাহরণ**  
![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2021/06/received_349462523254110.jpeg)

-   **২। ❝ দক্ষিণ – পূর্ব এশিয়ার পিএম ২.৫ এর মাত্রা।**
-   **৫০ পর্যন্ত সহনশীল ❞**  
    ![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2021/07/mmexport1625768965098.jpg)

\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_\_  
উপরের ছবি দুটোতে কিছু বস্তুর মাপ এবং সহনশীলতার তারতম্য দেখে আমরা সহজেই বুঝতে পারি বাতাসে কি পরিমাণ বস্তুকণা ভেসে বেড়াচ্ছে আর আমরা তা নিঃশ্বাসের সাথে শরীরে নিচ্ছি।  
এটা অনুমেয় যে এইসব বস্তুকণা আমাদের অনেক অসুখ-বিসুখ দিয়ে বেশ ক্ষতি করতে পারে।

পাঠকদের জন্য একটা জরিপ – করোনা কাল এবং পূর্বের বছর কাল, পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়দের মাঝে সর্দি-জ্বর, কাশী বা পেট খারাপের পার্থক্য দেখুন। তাহলে এই হাত ধোয়া এবং মাস্ক ব্যবহারের কি উপকারিতা তা পেয়ে যাবেন।

পাদটীকা- কয়েকটা বিদেশি টিভি চ্যানেলে আবহাওয়া খবরে বড় বড় শহরের বায়ু দুষণের মাত্রা (১ – ৬) দেখায়। ১ হলো ভালো মাত্রা আর ৬ ভয়ংকর।  ঢাকা ৫ এ থাকে। তবে যেদিন বরষা হয়, তখন সেটা ৩ এ নেমে আসে। আর দিল্লি, মোটামুটি ৬ নিয়েই বসে থাকে। নিউজিল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়া ১ আর ২ এর মধ্যে হাঁটাহাটি করে।

ছবি – কালেক্টেড
