# মগজ ধোলাই

Author: তির্থক আহসান রুবেল
Published: 2022-06-25
Category: কবিতা
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a6%9c-%e0%a6%a7%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%87/

হায়রে  
শোন মোদের ছাত্রসেনা শোন দিয়া মন  
বুকে জমা কত কষ্ট করিবো বর্ণন  
সুখ ছিলো শান্তি ছিল একাত্তরের আগে  
সেই কথা মনে এলে কি বেদনা লাগে।

হায়রে  
একটা ছিল বড় শয়তান শেখ মজিবর নাম  
কথায় কথায় ধমক দিতো এইডা ছিলো কাম  
(***আমরা ভয় পাইতাম***)  
সাথে ছিল চাইর খলিফা শয়তানেরও ভাই  
পাক স্থান পাকিস্তানের শত্রু সবাই।

***(আহা শত্রু সবাই)***

হায়রে  
২৫ তারিখ রাইতের বেলা আল্লাহর ইশারায়  
উলু ধ্বনি বন্ধ করতে মাঠে নাইমা যাই  
(***বল সুবহানাল্লাহ ভাই***)  
ঢাকা শহর রক্তের বন্যায় পবিত্র হইলো

আল্লাহতালা আমগো দিকে মুখ ফিরা চাইলো

(***আহা মুখ ফিরা চাইলো***)

হায়রে  
পাক সেনারা আল্লাহর অলি আল্লাহর ঘরে বাস  
বাংলাদেশের ঘরে ঘরে সুন্দর নারী খাস  
(***বুকে আজো উঠে নাচ***)  
খান সেনাদের ছোঁয়া পেলে বাচ্চা হবে বেশ  
সাচ্চা মুসলিম ভরে যাবে আমার সোনার দেশ।

***(আহা আমার সোনার দেশ)***

হায়রে  
আমরা থাকি অপেক্ষাতে যদি যুযোগ পাই  
পাকসেনা গো আইটা মাল চাইটা খাইতে চাই  
(***ফিলিংস আজো কাটে নাই***)  
একের ঝুটা অন্যের সেফা কোন চিন্তা নাই  
যুদ্ধক্ষেত্রে ধর্ষণ করা জায়েজ আছে ভাই।

***(আহা জায়েজ আছে ভাই )***

হায়রে  
হত্যা করো বাড়ী পুড়াও ধর্মে আছে ঠিক  
মাওলানা পীর এক হইয়া দেখাইয়াছে দিক  
(***পারলে হিসাব নিক***)  
মুক্তিরা কয় স্বাধীনতা করবো নাকি আজ  
আল্লাহর গজব আইতে আছে পড়বো মাথায় বাজ।

***(আহা পড়বো মাথায় বাজ)***

হায়রে  
নবী করছে বদর যুদ্ধ আমরা বাহিনী  
মুখের কথায় শেষ হবে না সেই কাহিনী  
(***তুমরা এইডা জানো নি***)  
রায়ের বাজার বদ্ধভুমি আমগো প্রিয় স্থান  
বুদ্ধিজীবি হত্যা করছি বাজি রাইখা জান।

***(আহা বাজি রাইখা জান)***

হায়রে  
তিরিশ লক্ষ বিনাশ হইলো তবু থামে না  
লক্ষ লক্ষ ধর্ষণ করলাম হিসাব জানি না  
(***কিছু ভাল লাগে না***)  
ঢাকা শহর মুক্ত কইরা স্বাধীন করলো দেশ  
আল্লাহর ঘর পাকিস্তান ভাইঙ্গা হইলো শেষ।

***(হু হু হইয়া গেল শেষ)***

***(ডায়লগ/ সেমি ছন্দ)***  
তো আমার প্রিয় ছাত্রসেনারা,  
আল্লাহর ঘর পাকিস্তান আর আল্লাহর ধর্ম ইসলাম….. বাঁচাইতে আমরা যা করলাম……  
আমাগো লাইগা তো জান্নাত ফ্রি….!!!  
এইবার তুমাগো পালা…।  
আজ নয়তো কাইল, যতই পারুক গাইল  
গড়বো মোরা পাকিস্তান, হামারা পেয়ারা পাকিস্তান।  
ঈমানী শপথে গড়া, আমার প্রিয় ছাত্রসেনারা…..  
যারা এখনি জান্নাতের টিকিট চাও, জঙ্গির খাতায় নাম লেখাও।  
আর যারা মুক্ত বিবেক মারতে চাও…. স্কুল কলেজ ভার্সিটি চইলা যাও।

বল….  
নারায়ে তাকবির  
আল্লাহু আকবার।

প্রেক্ষাপট:

২০০৫ সালে রচিত একটি পুথিঁ। যেখানে জামাত-শিবিরের বাৎসরিক (স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার পর) মগজধোলাই কার্যক্রম হয় এক সপ্তাহের জন্য। শিশুদের পিকনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা আসে এবং বাচ্চাদের নিয়ে বক্তৃতা এবং সেমিনার হয়। তারপর সেখান থেকে যারা টিকে যায় বা যাদের পছন্দ হয় তাদের কর্মী বাহিনীতে যুক্ত করা হয়। একই কার্যক্রম কলেজ-ভার্সিটিতেও চলে।

এই লেখাটি (প্রতিকীভাবে) মূলত একজন জামাত নেতার বক্তৃতা। যা সে সামনের শিশুদের কাছে ছন্দে ছন্দে জানাচ্ছে তাদের অর্জনের গল্প। আসলে তারা নবীনদের আকৃষ্ট করতে কোন ইতিহাস বলবে বা কোন অর্জনের কথা বলবে! কি আছে তাদের! ফলে আমার মনে হয়েছিল, তারা হয়ত এমন কিছুই বলে সেখানে।

আর পুথিঁর শেষ বাক্যটা একটু খেয়াল করবেন। ১৭ বছর আগে লিখেছিলাম। আজ কিন্তু সেটাই হচ্ছে। প্রতিটি স্কুল কলেজে বিজ্ঞান শিক্ষক (হিন্দু)দের অসম্মান, অপমান এবং আক্রমণ করা হচ্ছে।

***বি.দ্র.: রাজনৈতিক/দেশ সম্পর্কিত প্রতিটি কবিতার ব্যাখ্যা দেয়ার* চেষ্টা থাকবে।**
