# ভ্রমনে দুর্ভোগ (ইটালি ভ্রমন ১)

- Author: [ইঞ্জা](https://sonelablog.com/author/einzza/)
- Published: 2017-05-21T16:14:27+00:00
- Updated: 2017-05-30T16:32:07+00:00
- Category: [ভ্রমণ](https://sonelablog.com/category/misc/tours/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%97/

---

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/05/FB_IMG_1495382987934-448x300.jpg)

 

 

ইটালিতে অনেকবার আসা যাওয়া হয়েছে আমার, কখনো দুর্ভোগে পড়িনি, কিন্তু ২০০০ সালের ভ্রমন আমার আজীবন মনে থাকবে, আমার ট্রাভেল এজেন্টের অবহেলার কারণেই দুর্ভোগটা কপালে জুটল।

আমি ইতালি যাবো কাজে, কাজ মানে পিয়াজিও ভেসপার পার্টসের অর্ডার দেওয়া হয়েছে, বেশ বড় কন্সাইনমেন্ট, সাপ্লাইয়ার ব্যাটা ধরে বসলো, আমাকে সে দেখবে, যে এতো বড় কন্সাইনমেন্টের অর্ডার দেয় বারবার, তাকে দেখার ইচ্ছে হয়েছে, দিলো ইনভিটেশন পাঠিয়ে, ওর সম্মানেই ইতালির মিলান যাবো, আমার ইমিডিয়েট ভাইটা ধরে বসলো, সেও যাবে।  
দুজনের জন্য কাগজপত্র রেডি করে ঢাকাস্থ ইটালিয়ান এম্বেসিতে চলে গেলাম, বিজনেস ভিসার লাইন না থাকায় প্রবেশ করতে সময় লাগলো না, সব কাগজপত্র দেখে ভিসা অফিসার বেঁকে বসলো, সে আমাকে ভিসা দেবে কিন্তু ভাইকে না।  
আমি বললাম, ও আমার বিজনেস চালায়, ওর যেতেই হবে।  
অফিসার বলে, তুমি যাও, তুমি গেলে চলবে।  
আমিও নাছোড়বান্দা, রাগ করে চলে আসলাম ভিসা না নিয়ে, চট্টগ্রাম ফিরে গিয়ে রেগেমেগে কল দিলাম সাপ্লাইয়ারকে, খুলে বললাম সব।  
সে এক ঘণ্টা পর কল দিলো, বললো ভাইকে নিয়ে এক সপ্তাহ পর যেতে এম্বেসিতে, সে কথা বলেছে ওদের সাথে।  
গেলাম আবার এম্বেসিতে এক সপ্তাহ পর, ভিসা অফিসার আবার ইটালিতে কল দিলো, কনফার্ম হলো, এরপর দিলো ভিসা দুজনকেই।

টিকেট কাটলাম কেএলএমের, ঢাকা থেকে থাইল্যান্ড সাত ঘন্টা পর কেএলএমের ইটালির মিলান ফ্লাইট, ফ্লাইটটি মাঝে এমস্টারডাম আমাদের নামিয়ে দেবে, সেখান থেকে অন্য ফ্লাইটে মিলান যাবে।  
ভাবলাম সেঞ্জেন ভিসা আছে, সুযোগে না হয় একটু ঘুরলাম এমস্টারডাম, আসার পথে দিল্লি স্টে হবে প্রায় চৌদ্দ ঘন্টা, ট্রাভেল এজেন্সিকে বললাম, এতো ঘন্টা স্টে, তাহলে কি হোটেল দেবে এয়ারলাইন্স?  
হাঁ হাঁ অবশ্যই দেবে, ট্রাভেল এজেন্ট ব্যাটা সোজা মিথ্যা বলে দিলো।

কয়েকদিন পর চেপে বসলাম থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে দুই ভাই, থাইল্যান্ড ল্যান্ড করার পর এয়ারপোর্টে দুজনে কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে ক্ষিদে লাগলে দুজনে একটা রেস্টুরেন্ট বাছাই করে খেয়ে নিলাম হাল্কা কিছু খাবার এরপর আবার ঘুরাঘুরি, আমাদের এমস্টারডাম ফ্লাইটের সময় হয়ে গেলে, চেকিং সেরে আবার ফ্লাইটে চড়ে বসলাম, লম্বা জার্নি তাই ফ্লাইটে বিশেষ খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা আছে, ফ্লাইট উড়াল দেওয়ার কিছুক্ষণ পরে সুন্দরী এয়ার হোস্ট এসে সুরেলা সুরে জিজ্ঞেস করলো, স্যার আপনারা কি কিছু পান করিবেন, একটা করে কার্ড ধরিয়ে দিলো, যেখানে বিভিন্ন ড্রিংকের বর্ণনা দেওয়া আছে, আমি বললাম, আমাকে স্ক্রু ডাইভার দাও (ভদকা সাথে অরেঞ্জ জুস), এয়ার হোষ্ট মেয়েটা আমার পাশে বসা ভাইকে জিজ্ঞেস করলে, ভাই আমার লজ্জায় মাথা নত, বড় ভাইয়ের সামনে ড্রিংক্স?  
আমি বললাম, তুই যাচ্ছিস বিদেশে, যেখানে পানির দাম ড্রিংক্সের চাইতে বেশি, বাকিটা তোর ইচ্ছে।  
লজ্জা ভেঙ্গে ভাই নিলো চিলড বিয়ার।  
ঘন্টা খানেক পরে সেই ললনা এলেন (এয়ার হোস্ট), এসেই আবার কার্ড দিয়ে গেলেন, খাবারের মেনু, তা দেখে দুজনে দুই পদের খাবারের অর্ডার দিয়ে দিলাম, আমি নিলাম বিফ আর ভাই নিলো ফিস।  
সুন্দরী ললনা এইবার জিজ্ঞেস করলো, স্যার সাথে কোনো পানিয় চলবে।  
আমি বললাম আমাকে লাল আর ওকে সাদা ওয়াইন দাও আর তাতেই ললনার চোখ কথা বললো, যেন বলছে “ব্যাটা পার মাতাল মনে হয়”?  
আমিও চোখ দিয়ে বুঝাতে না পেরে মনের সাথে সংযোগ ঘটাতে চাইলাম, মনে মনে বললাম, হে ললনা, তুমি যদি আমার মতো বছরে তিনবার, চারবার বিদেশ সফর করতে, ইটালিতে দীর্ঘ দুই বছর থাকতে, তাহলে নিশ্চয় তোমার চোখের ঐ প্রশ্ন রেখে যেতেনা।

রাতের ডিনার সার্ভ হলো, প্লেইন ভর্তি বেশিরভাগ বাংলাদেশি, কিছু আছে থাইল্যান্ড সহ অন্যান্য দেশের মানুষ, সবাই খেতে ব্যস্ত আর এয়ার হোস্টরা ব্যস্ত সবার সেবায়।  
খাওয়া দাওয়া শেষে এলো চা কফি, আমরা দুজনেই কফি খেয়ে টয়লেটে গিয়ে হাল্কা হয়ে আসলাম, সেইবার প্রথম ধুয়া টানা নিষিদ্ধ করা হয়েছে প্রথম, আমি উশখুশ করছি, কিন্তু উপায় নেই গোলাম হোসেন বলে নিজেকে নিবৃত্ত করলাম, দিলাম দুজনেই ঘুম।  
সুন্দরী ললনাদের বিচরণে ঘুম ভাঙ্গলো, উনারা জানালার শেড হাল্কা তুলে দিতে বলছে সবাইকে, সবাই ব্রাশ নিয়ে (ফ্লাইটেই দেওয়া ছিলো) দৌড়াচ্ছে টয়লেটের উদ্দেশ্যে, সুযোগ বুঝে আমিও গেলাম, ফ্রেস হয়ে বের হয়ে দেখি ছোট ভাই দাঁড়িয়ে আছে, তাকে প্রবেশ করতে দিয়ে আমি সিটে ফিরলাম, বাইরে সূর্য আলো ছড়াচ্ছে বাইরে, এয়ার হোস্ট আবার কার্ড দিয়ে গেলো ব্রেকফাস্ট মেনু, ইতিমধ্যে ভাই এসে গেছে, দুজনে চয়েজ করে ব্রেকফাস্ট অর্ডার দিলাম, সার্ভ করার পর পেট পুরে খেলাম।

চলবে…….

---

Comments: 19 — https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%97/#comments
