# ভ্রমনে দুর্ভোগ (ইটালি ভ্রমন ৫ ও শেষ পর্ব)

- Author: [ইঞ্জা](https://sonelablog.com/author/einzza/)
- Published: 2017-06-14T17:38:22+00:00
- Updated: 2017-06-14T17:38:22+00:00
- Category: [ভ্রমণ](https://sonelablog.com/category/misc/tours/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%97-%e0%a6%87%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0-3/

---

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/06/images-15-246x300.jpg)

 

 

অস্কার আমাদের নিয়ে যখন হোটেলে পোঁছায় তখন স্থানীয় সময় রাত এগারটার কাছাকাছি, আমাদের সাথে সেও নেমে পড়লো গাড়ী থেকে, আমাকে জড়িয়ে ধরে কানের দুই পাশে উম্মা উম্মা শব্দ করে বিদায় সম্ভাষণ করলো, সাথে হাতে একটা এনভেলপ ধরিয়ে দিয়ে বললো, বন্ধু আমার, আমার একটা অনুরোধ রাখো, যখন তোমার ফ্লাইট টেইকঅফ করবে, এরপর খুলবে এইটাকে, তার আগে নয়।  
ধন্যবাদ বন্ধু আমার, আমি বললাম।  
অস্কার আমাকে ছেড়ে ভাইকে জড়িয়ে ধরে বললো, আগামীতে আবার এসো।  
আমরা অস্কারকে চাও (বিদায়ের সময় চাও, ইটালিয়ান শব্দ ) বলে বিদায় নিলাম।  
আমাদের জন্য অসংখ্য বাঙ্গালীরা হোটেলের দরজার সামনে অপেক্ষারত, তাদের কাছে যাওয়ার পর সবাই কোলাকুলি করে আমাদের থেকে বিদায় নিতে লাগলো, অনেকের চোখ ছলছল করছে দেখে, নিজেদের চোখও ভিজে এলো।  
সকাল নয়টাই আমাদের ফ্লাইট, সবার কাছে বিদায় নিয়ে হোটেল রিসেপশনে এসে ভোর চারটার জন্য টেক্সিক্যাব বুকিং দিতে বললাম, ওরা ফোন দিয়ে কনফার্ম করে জানালে আমরা নিজ রুমে চলে গেলাম।

ভোর রাত তিনটায় দুই ভাই ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে রেডি হয়ে নিলাম, ভোর চারটার সময় টেক্সি এলে হোটেলে বিল চুকিয়ে চেপে বসলাম।  
এয়ারপোর্ট পোঁছেই দুজনে প্রথমে চেকইন সারলাম, নিজেদের হ্যান্ডব্যাগ নিয়ে নির্ধারিত গেইটে গিয়ে চেকিং সেরে ভিতরের দিকে এগুলাম।  
ফ্লাইট গেইটের কাছাকাছি এসে স্টারবাক কফি শপ পেয়ে ভিতরে ঢু মারলাম, দুজনে দুইটা নাট কফি আর সেন্ডউইচ নিয়ে টেবিলে বসে পড়লাম।  
এরমধ্যে দ্বিতীয় বার কফি খাওয়া হয়ে গেছে, শুনলাম ফাইনাল চেকইনের কল, দুই ভাই মিলে গেইটের দিকে এগুলাম, একসময় এরোপ্লেনের সিটে বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম এরোপ্লেন টেইকঅফের।  
যথাসময়ে এরোপ্লেন আকাশে উঠে পড়লো, গন্তব্য দিল্লি, একটু পর কেএলএম ফ্লাইটের এয়ারহোস্ট এসে সব প্যাসেঞ্জারকে গরম ভেজা ফেস টাওয়াল দিয়ে গেল, ফেস টাওয়াল খুলে নিয়ে মুখ হাতে ভুলিয়ে নিয়ে রেখে দিলাম।  
দিল্লি এয়ারপোর্টে যখন পোঁছালাম তখন রাত দশটার কাছাকাছি।

এরোপ্লেন থামার পর আমাদের নামার পালা, একে একে সবাই বেড়িয়ে আসছি, দূর থেকে খেয়াল করলাম এক ব্যক্তি কেএলএমের পক্ষ থেকে সবাইকে জিজ্ঞেস করছে, কার কার হোটেল এরেঞ্জ করা আছে তাদের পক্ষ থেকে?  
কাছাকাছি এসে নাম বললাম দুজনের, ওরা লিষ্ট চেক করে বলে, সরি লিস্টে আপনাদের নাম নেই।  
বললাম, আবার চেক করুন প্লিজ।  
চেক করে আবার না, বললো আপনারা আমাদের অমুক কাউন্টারে যান, ওখানে কমপ্লেইন করুন।  
মেজাজ সপ্তমে আমার, দৌড়ে গেলাম কাউন্টারে, কাউন্টারের ভারতীয় মহিলা কম্পিউটারে চেক করে বললো, সরি আপনাদের জন্য হোটেলের কোনো রিকোয়েস্ট নেই।  
বললাম, মিস. কোথাও ভুল হচ্ছে, দেখুন প্লিজ।  
জবাবে বললো, ওকে আপনি আপনার ট্রাভেল এজেন্টের সাথে কন্টাক করে দেখুন।  
এতো রাতে ট্রাভেল এজেন্টকে আমি কই পাবো?  
তাহলে সরি।  
ওকে ওকে এক কাজ করুন, আমি হোটেলের জন্য পে করবো, আমাদের হোটেল দিন।  
সে পাসপোর্ট চাইলো, চেক করে বললো, সরি আপনাদের ভারতের ভিসা নেই, আপনারা ট্রানজিট গেইটের কাছে থাকতে হবে, বেরুতে পারবেন না।  
শুনেই নিজের মাথায় বাঁজ পড়লো যেন, আমাদের ঢাকার ফ্লাইট পরবর্তী চৌদ্দ ঘন্টা পর, এই চৌদ্দ ঘন্টা আমরা কই যাবো, নিজের চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে।

রাগে দুঃখে কি করবো ভাবতেই পারছিলাম না, ভাই আমাকে জোড় করে সরিয়ে নিয়ে আসলো, কতক্ষণ মাথা চেপে ধরে কাছে এক স্টিলের চেয়ারে বসে পড়লাম।  
দিল্লির নতুন বিমানবন্দর তখনো স্টার্ট হয়নি, পুরাতন বিমানবন্দরেই আমরা আছি, এক সময় উঠে হাটতে শুরু করলাম ট্রানজিটের উদ্দেশ্যে, কাছাকাছি এসে বাইরে স্টিলের চেয়ারে বসে পড়লাম, জানিনা এই চৌদ্দটা ঘন্টা কিভাবে কাটাবো, বাইরে যাওয়ার উপায় নেই, আগের রাত ঘুম হয়নি, এইখানে সোফাতে ঘুমাবো তারও উপায় নেই, সোফায় মাঝে মাঝে হাতল দেওয়া, যাও দুই একটা আছে হাতল বিহীন, তাতে বেশ কিছু মানুষ শুয়ে নাক ডাকছে।  
এইদিকে ক্লান্তি বলে ক্ষমা করো প্রভু, কিন্তু আমাদের দ্বারা সম্ভব নয় মাটিতে শুয়ে পড়ি, দুইভাই সোফাতে বসে বসে ঝিমুচ্ছি।  
ঘন্টা দুয়েক পর খেয়াল করলাম দোতলার সিঁড়ি, লেখা আছে রেস্টুরেন্ট, ভাইকে ডেকে নিয়ে সিঁড়ির দিকে এগুলাম, উপরে উঠে দেখলাম রেস্টুরেন্ট খোলা, ভিতরে একটা টেবিল ধরে বসে পড়লাম।  
প্রথমে খাবার খেলাম, এরপর চলতে লাগলো চা আর কফি কিছুক্ষণ পর পর।  
এইভাবে করে কি আর টাইমপাস করা যায়, দুইজনের চেহেরা এমন হয়েছিলো যে, যেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সিপাহি আমরা, এমন বিধস্থ লাগছিলো।  
এই রেস্টুরেন্ট থেকে মাঝে মাঝে নিচে নামছিলাম, আবার উঠে আসছিলাম আর আমি সিগারেটের পর সিগারেট জ্বালাচ্ছিলাম।

সকাল দশটা কোনরকমে বাজতেই ফোন বুথে গিয়ে দিলাম ট্রাভেল এজেন্টকে ফোন, পারিনা দিল্লি থেকেই তাকে পিঠাতে, সে বুঝাতে চাইলো এয়ারলাইন্সের গণ্ডগোল, ওকে বললাম, তুই থাক আমি এসে তোর চৌদ্দগুষ্টি সহ আমি উদ্ধার করবো, বলেই ফোন কেটে দিলাম।  
কোমর, পা, ঘাড় সব ব্যাথায় আক্রান্ত, ওরা বলছে শুয়ে পড়, আমি বলছি কেমনে কি?  
এমন কষ্টকর জার্নি আমার জীবনে আর নেই, সকাল হওয়াতে মানুষজন ঘুম থেকে উঠে গেছে দেখে, দুইভাই দুইটা সোফা দখল করে দিলাম ঘুম, আধা ঘন্টাও ঘুম হয়নি, এয়ারপোর্ট পুলিশ এসে চোখ লাল করে ভয় দেখিয়ে দিলো উঠিয়ে, দুজনে টলতে টলতে ট্রানজিট গেইটে গিয়ে দেখলাম দরজা খুলেছে, দুজনেই টিকেট আর বোর্ডিং পাস দেখিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম, ফ্লাইট ছাড়তে দুই ঘন্টা দেরি আছে।  
ভাইকে হ্যান্ডব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে আমি টয়লেটে প্রবেশ করলাম, কিছুক্ষণ পর ফ্রেস হয়ে এসে ভাইকে পাঠালাম।

দুই ঘন্টা পর আমাদের ডাক পড়লো ফ্লাইটে উঠার জন্য, লাইন ধরে এগুলাম প্লেনের গেইটের উদ্দেশ্যে, একসময় প্লেনে উঠে সিটে বসে পড়লাম, তখন রাজ্যের ঘুম চোখে এসে ভিড় করলো, সিটে বসেই দিলাম ঘুম।  
দুই ঘন্টা পর মনে হয়, এয়ারহোস্টের ডাকে ঘুম ভাঙলো, সে বলছে সিট সোজা করে নিতে, দুজনে চোখ কচলে নিয়ে সোজা হয়ে বসলাম, একটু পর লাঞ্চ দিলো, দুইভাই ক্ষুদায় কাতর ছিলাম বলে দ্রুত খাবারে মন দিলাম, খাবার শেষে দুজনে কফি নিয়ে চুমুক দিতে লাগলাম।  
খাওয়াদাওয়ার পালা শেষ হলেই এয়ারহোস্টরা সব ক্লিয়ার করে নিয়ে গেল, একটুপর টুংটাং শব্দের পরে পাইলটের গলা ভেসে এলো, সিটবেল্ট বাঁধার নির্দেশ দিয়ে, যাক তাহলে ঢাকায় নামবো তাহলে, হোটেলে গিয়ে দেবো এক ঘুম, কমছে কম দুইদিন ঘুমাবো।

সমাপ্ত।

---

Comments: 17 — https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%97-%e0%a6%87%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0-3/#comments
