# ভ্রমনে দুর্ভোগ (ইটালি ভ্রমন ৪)

- Author: [ইঞ্জা](https://sonelablog.com/author/einzza/)
- Published: 2017-06-07T17:19:53+00:00
- Updated: 2017-06-08T18:40:33+00:00
- Category: [ভ্রমণ](https://sonelablog.com/category/misc/tours/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%97-%e0%a6%87%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0-2/

---

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/06/images-2-200x300.jpg)

ডিনার শেষে অস্কার আমাদের হোটেলের সামনে নামিয়ে দিয়ে বলে গেল সকাল নয়টায় পিক করবে, তাকে বিদায় দিয়ে হোটেলের প্রবেশ পথে দেখলাম সকাল বেলার সেই বরিশালের বাঙ্গালি ভদ্রলোক অপেক্ষা করছেন আমাদের জন্য, হাই হ্যালোর পর উনাকে নিয়ে নিচের ছোট রেস্টুরেন্টে বসলাম।  
উনি বললেন, কিছু খান।  
আমরা সারেন্ডার হয়ে দুই হাত নাড়িয়ে বললাম, এই মাত্র খেয়ে এসেছি, এখন আর কিছুই খেতে পারবোনা।  
উনি নাছোড়বান্দা, দেশি ভাই এসেছে, কিছু খেতে তো হবেই, বলেই উনি ওয়াইট ওয়াইন (স্পার্কল ওয়াইনও বলে) অর্ডার দিলেন, ছোট ভাই বললো, তোমরা খাও আমি রুমে যায়।  
তখনি ভদ্রলোক বললেন, আগামীকাল দুপুরের লাঞ্চ আমার বাসায় করবেন।  
আমি প্রতি উত্তরে বললাম, কাল আমার প্রচুর কাজ, আগামী পরশু আমরা ফিরে যাচ্ছি।  
এতেই ভদ্রলোককে পায় কে, উনি ধরেই বসলেন হয় দুপুরে না হয় রাতে খেতে হবে।  
শেষ পর্যন্ত বললাম, ঠিক আছে দুপুরে ভাই খাবে আপনার সাথে, আমি আগামীতে আসলে খাবো।  
ভাইকে বললাম, ভাইও রাজি হয়ে গেল।

ভাই রুমে চলে গেলে ভদ্রলোক আর আমি বসে গল্প করছি, উনি বললেন, ভাই আমার দেখা মতে আপনারাই প্রথম বাঙ্গালি যারা ইটালির সাথে ব্যবসা করছেন।  
আমি হেসে বললাম, না ভাই, ইটালির সাথে শত শত বাঙ্গালি ব্যবসা করছেন, উনাকে কয়েকটা উদাহরণ দিলাম।  
উনি বলতে লাগলেন, এই দেশে যারা চাকরি করতে আসে, তারা বেশির ভাগ মানুষ অনেক কষ্ট ভোগ করে আসে, কখনো সমুদ্র পথে ছোট ছোট বোটে করে আসে, যার মধ্য থেকে অর্ধেক মানুষ মরে যায়, যাদের দেহটি পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়, কেউ কেউ আসে গ্রীস, তুর্কি থেকে পায়ে হেটে, গাড়ীতে কিছুদূর, এইভাবে।  
পথে প্রচুর ঠান্ডা, বরফ, সাথে হয়ত যা খাবার, পানি এনেছিলো, তা দ্রুত শেষ হয়ে যায়, এরপর অনাহারে, অর্ধাহারে, পিপাসার্ত ধুকে ধুকে আসে, কেউ পথেই মরে পরে থাকে, বাকিরা আধমরা হয়ে এসে ইটালি প্রবেশ করে।  
কাজকর্মতেই অনেক কষ্ট, অবৈধরা লুকিয়ে লুকিয়ে থাকে, বিভিন্ন পন্য ফেরি করে, পোলিজিয়া (পুলিশ) দেখলেই পালিয়ে বাঁচে, ধরা খেলেই জেল হয়।  
এই দেশে আবার কিছু ছ্যাঁচড়া কালো চোর আছে, সেই কালোরা বাসে করে আসে, পথে ঘাটে ঘুরে বেড়ায়, পথে পার্ক করে রাখা দামী মোটর সাইকেল কয়েক মিনিটের মধ্যে পার্ট বাই পার্ট খুলে ফেলে সাথে রাখা বড় লাগেজে পুরে নিয়ে চম্পট দেয় (চোররা কোন একটি দেশ থেকে আসে বললো, এ মূহুর্তে মনে করতে পারছিনা)।  
আমি তো চোরদের কায়কারবার শুনে হাসতে হাসতে শেষ।

অনেক রাত হয়েছে দেখে আমি উনাকে পানিয়র জন্য ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় নিয়ে নিজ রুমে এসে কাপড় চেঞ্জ করে শুয়ে পড়ার পর বুঝলাম গ্রাপ্পা কি?  
একদম বেহুঁশ।  
সকাল সাড়ে ছয়টায় ঘুম ভাঙ্গলো প্রচন্ড মাথা ব্যাথা নিয়ে, বুঝলাম হ্যাংওভারের কুফল পাচ্ছি, উটে গিয়ে প্রচুর পানি খেলাম, এরপর গোসল করে ফ্রেস হয়ে রেডি হয়ে নিচে এলাম, ব্রেকফাস্ট খাচ্ছি ক্রোসিন আএ ডিম দিয়ে, ভাই এসে দেখেই মুখ বিকৃত করে বললো, এই শক্ত জিনিস দিয়ে কিভাবে ব্রেকফাস্ট করছি?  
জবাবে বললাম, খেয়েই দেখ, এমন জিনিশ দেশে পাবিনা।  
সে বললো, তুই খা, আমার জন্য ব্রেডই ভালো।  
দুজনে খেয়ে বাইরে বেড়িয়ে পাশের শপে গেলাম, এই শপ বরিশালের ভদ্রলোকের, শপটাতে প্রচুর ইমিটেশনের গয়না রাখা, অস্কার আসার আগ পর্যন্ত উনার সাথে আড্ডা দিতে লাগলাম, অস্কার এলে ভাইকে রেখে আমি কাজে বেড়িয়ে পড়লাম।  
বিকেলে হোটেলে ফিরে দেখি ভাই রুমে রেস্ট করছে, কি খবর জিজ্ঞেস করায় জানালো, বরিশালের ভদ্রলোকের বাসায় দুপুরে খেয়েছে।  
কি কি খেলে?  
মুরগি, মাছ, সব্জি আর ভাত।  
তা কেমন দেখলি?  
তেমন সুবিধার না, থাকতে হবে বলেই কোনপ্রকার থাকা আর কি।

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/06/unnamed-300x300.jpg)

 

সন্ধ্যায় অস্কার এলো ডিনারে নিয়ে যেতে, আমরা, রেডি হয়ে গাড়ীতে চেপে বসতেই জিজ্ঞেস করলো, কি খেতে চাও।

ভাই বললো, তোমাদের পিজ্জার সুনাম শুনেছি, আজ তাই খাওয়াও।  
অস্কার আমাদের নিয়ে বিখ্যাত এক পিজ্জা এলাকায় নিয়ে এলো, বিশাল সব পিজ্জা ডো আকাশে উড়ছে আর নামছে, পিজ্জার অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করছি আমরা, দশ পনেরো মিনিটের মধ্যে বিশাল পিজ্জা হাজির, টপিং দেওয়া আছে প্রচুর অলিভ, বিফ, টমেটো, চিজ, এদের পিজ্জার সামনে বিশ্বের অন্যান্য পিজ্জা একেবারেই নচ্ছার, যেমন স্বাদ, তেমনি এর সাইজ, তিনজনে মিলে একটা পিজ্জা খেতেই বারোটা, সাথে আলিশান গ্লাস ভর্তি বিয়ার।  
খাওয়া শেষে তিনজনই বেরুলাম রাস্তায়, গাড়ী দূরে পার্ক করা, পথেই পেলাম সুন্দরী পুলিশ, কাছে গিয়ে বললাম, তোমাকে নিয়ে ছবি তুলতে চাই।  
সুন্দরী দেখি মহা খুশি, ছবি তুলতে তুলতে পারলে কোলেই চেপে বসে, বুঝলাম এরা আমাদের গুলার মতোনা, এরা ফানও করতে পারে, কিছু ছবি তুলে বিদায় নিয়ে এগুলাম গাড়ীর দিকে।

চলবে………  
ছবিঃ Google

---

Comments: 21 — https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%97-%e0%a6%87%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0-2/#comments
