# ভ্যানিশিং স্টোরি

- Author: [শুন্য শুন্যালয়](https://sonelablog.com/author/sunnaloy007/)
- Published: 2017-01-18T04:45:59+00:00
- Updated: 2017-01-18T04:52:43+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%82-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%bf/

---

সেই যে শুনেছেন না! এক লোক দোকানে গিয়ে বললো “ভাই, কম দামের মধ্যে সবচেয়ে বড় আর সবচেয়ে ভালো উপহার দেয়ার মতো কী আছে আপনার দোকানে?” আমিও অইরকম সবচেয়ে কম দামের মধ্যে বেশি টক টাইম আর বেশি গিগা ওয়ালা সিম খুঁজতেছিলাম। মাস তিনেক আগে নতুন সিম কিনলেও, কম দামে টকটাইম পাইলাম কিন্তু গিগা!!  
এদিকে সোনেলাবাসী শূন্য শূন্যতায় ভুগতেছে, সইতে না পারে হন্যে হয়ে প্রোভাইডার চেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিলাম উইথ একই নাম্বার। চেঞ্জ তো করলাম কিন্তু ঠিকানা বরাবর সিম আর আসেনা। ডেলিভারি হবার পর বাচ্চা হরহামেশা মিসিং হয় হাসপাতাল থেকে, আমার সিম ও ডেলিভারি হইছে শো করে মাগার মিসিং। ম্যালা ফোন ফুন তাফালিং করে অবশেষে সবচেয়ে কাছের স্টোর থেকে রিপ্লেসমেন্ট সিম পেলাম। একটিভ করে স্টোর থেকে বের হতেই শুনি “টুং”  
মেসেজ “Ok”  
আল্লাই জানে কে এই নাম্বারে থাকে আর আমারে ক্যান ok কয়।  
এরকম “wake up?” নবাব, বেলা এগারোটায় জিজ্ঞেস করে উঠেছি কিনা।  
এরপরেও উত্তর না পেয়ে মেসেজ এলো wake up.  
অর্থাৎ আর প্রশ্ন না, এই ওঠো।  
এরপর “wake up”  
“wake up”  
“wake up”  
টানা মেসেজ আসতেই আছে।  
কোথায় কোন প্ল্যান করেছে কে জানে, না উঠলে লাইফ ভেস্তে যাবে।  
এরপর না উত্তর দিয়ে পারলাম না।  
*এই তুমি কে? খবর্দার আর মেসেজ দিবানা।  
-আমি কে মানে? আমি জরিনা  
জরিনা শুনে মন একটু নরম হইলো, মেয়েদের সাথেতো আর খারাপ ব্যবহার কর্তারি না।  
*বললাম স্যরি জরিনা, তুমি ভুল নাম্বারে মেসেজ দিচ্ছ।  
-মানে? এটা আমার বয়ফ্রেন্ডের নাম্বার। কাল রাতেও তারসাথে আমি এই নাম্বারে কথা বলেছি।

আমি যেন ইউরেকার মতো আমার সিম হারানোর কারণ খুঁজে পেলাম। বললাম গত কএকমাস ধরে আমি এই নাম্বার ইউজ করছি। তোমার বয়ফ্রেন্ড কবে থেকে ইউজ করছে?  
বলে, এক বছর ধরে।  
এরপর একটি এমএমএস। দেখি উম্মাউম্মি সহ আরো নানা লাভ কারিশমার কোলাজ সমৃদ্ধ একটি ব্যাকগ্রাউন্ডে তাদের চ্যাট উইন্ডোর স্ক্রিনশট। আহা! দেখেও শান্তি।  
যাই হোক, ঘটনা হলো তাতে তার বয়ফ্রেন্ডের নাম্বার আসলেই আমার নাম্বারের হুবুহু। এখন আমি কি করি!! বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচাগ্রমেদিনী।  
আমিও পাঠিয়ে দিলাম স্ক্রিনশট, যাতে প্রোভাইডারের প্রমাণিত মেসেজ এটা আসলেই আমার নাম্বার।  
এরপর সে মেসেজ দিলো, “u seem more suss” মানে কইতে পারিনা। মনে হয়, তুমি একটা যাচ্ছেতাই। যাউক গা। কথা সমাপ্ত।

মধ্যরাত একটায় এবার ফোন নেশারু গলায়, হ্যালো মোতালেব আছে?  
বললাম স্যরি এটা মোতালেবের নাম্বার না।  
বুঝে গেলাম মোতালেব হচ্ছে জরিনার বয়ফ্রেন্ড।  
স্যরি বলে ফোন রেখে দিলো, আবার রিং। মোবাইল সাইলেন্ট করে দিলাম ঘুম। সকালে উঠে দেখি দুই নাম্বার থেকে ৬ টা রিং।  
হঠাৎ করে বেশ একটা আনন্দ আনন্দ ভাব চলে এলো। এক গার্লফ্রেন্ডের বয়ফ্রেন্ড রে আমি তুড়ি মেরে যেন ভ্যানিশ করে দিছি। সবাই হন্যে হয়ে আমার বাড়ি খুঁজতেছে।

হ্যালো মোতালেব where u? wake up 🙂

---

Comments: 36 — https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%82-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%bf/#comments
