# ভাস্কর্য নাকি মুর্তি : আসুন জানি প্রকৃত ইতিহাস (দ্বিতীয় অংশ)

- Author: [মোঃ খুরশীদ আলম](https://sonelablog.com/author/mdkhurshed/)
- Published: 2020-12-05T02:50:35+00:00
- Updated: 2020-12-05T02:50:35+00:00
- Category: [ইতিহাস](https://sonelablog.com/category/misc/%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a7%81-2/

---

**মুর্তিপূজার প্রারম্ভ এবং ভাস্কর্যের সাথে এর যোগসূত্র আলোচনার সূচনাতেই জ্ঞাত হওয়া আবশ্যিক মানবজাতির বিভক্তির ইতিহাস। চলুন দেখি-**

মহান আল্লাহ বলেন-“সমস্ত মানুষ ছিল একই উম্মত”….. **সূরা বাক্বারা-213 নং আয়াত এর প্রথমাংশ।**

“আর সমস্ত মানুষ এক উম্মতই ছিল, অতঃপর তারা মতভেদ সৃষ্টি করল….”। **(সূরা ইউনুছ এর 19 নং আয়াতের প্রথমাংশ)**

**একই বিশ্বাস ও তাওহিদের অনুসারিগণের মধ্যে বিভক্তির পূর্বাপর জেনে নেয়া যাক।**

**প্রথমেই সূরা বাক্বারার 213 নং আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরের কিতাবগুলোতে কি লিখেছেন ধারাবাহিকভাবে  তুলে ধরা হল –**

কোন এককালে পৃথিবীর সমস্ত মানুষ একই মতাদর্শের অন্তর্ভূক্ত ছিল। তারা নিঃসন্দেহে তাওহীদের উপর ছিল। আদম আ. এর আগমনের পরে ও নুহ আ. এর আগমনের মাঝখানে দশ শতাব্দি অতিবাহিত হয়ে যায়। একে দশটি প্রজন্ম বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই দশটি প্রজন্ম হেদায়েতের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। এরপর তাদের মধ্যে ইমান, আক্বিদা, বিশ্বাসের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হয়। ফলে মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন নবী-রাসূলগণকে মানবজাতির হেদায়েতের জন্য প্রেরণ করেন। **(কুরআনুল কারিম তাফসির- ডাঃ জাকারিয়া)**

আদম আ. থেকে নুহ আ. পর্যন্ত দশ শতাব্দি অবধি যে তাওহিদের শিক্ষা নবিরা দিয়েছেন সেই তাওহীদের উপরই মানুষ প্রতিষ্ঠিত ছিল। এরপর শয়তানের চক্রান্তে তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল এবং শির্ক ও করবপূজা ব্যাপক হয়ে গেল। **(তাফসিরে আহসানুল বয়ান- সূরা বাক্বারার 86 নং টিকার প্রয়োজনীয় অংশ)**

শিরকের প্রথম উদ্বোধন শিরেনামে, আল্লাহ সংবাদ দিচ্ছেন যে, এখন লোকদের মধ্যে শিরকের উৎপত্তি ঘটেছে। পূর্বে এর কোন অস্তিত্ব ছিল না কিন্তু এখন হয়েছে। সমস্ত লোক একই দীনের উপর ছিল। আর তা ছিল প্রথম হতেই ইসলাম। ইবনে আব্বাস রাঃ বলেন যে, আদম আ. ও নুহ আ. এর মধ্যে দশটি শতবর্ষ অতিবাহিত হয়েছে। এসব লোক আদম আ. এর সত্য দীন ইসলামের উপর ছিল। তারপর লোকদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয় এবং তারা মূর্তিপূজা করতে শুরু করে।–**(তাফসিরে ইবনে কাসির সূরা ইউনুছ এর 19 নং আয়াতের ব্যাখ্যায়)**

ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন, নুহ আ. ও আদমের (আ) এর মধ্যে দশটি যুগ ছিল, ঐ যুগসমূহের লোকেরা সত্য শরিয়াতের অনুসারি ছিল। অতঃপর তাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়। তখন আল্লাহ তায়ালা নবিগণকে (আ) প্রেরণ করেন। **(স্পষ্ট নিদর্শন আসার পরও মতভেদ করা হল দীনকে অস্বীকার করা শিরোনামে তাফসির ইবনে কাসির)**

“এ আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, কোন এককালে পৃথিবীর সমস্ত মানুষ একই মতাদর্শ ও ধর্মের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সবাই একই ধরণের বিশ্বাস ও আকিদা পোষণ করত। তা ছিল প্রকৃতির ধর্ম। অত:পর তাদের মধ্যে আকিদা, বিশ্বাস ও  ধ্যান-ধারণার বিভিন্নতা দেখা দেয়। ফলে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করা বা পরিচয় দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই আল্লাহ তায়ালা সত্য ও সঠিক মতবাদকে প্রকাশ করার জন্য এবং সঠিক পথ দেখাবার লক্ষ্যে নবী ও রাসুলগণকে প্রেরণ করেন। তাদের প্রতি আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করেন।” **[তাফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন (সংক্ষিপ্ত)-পৃষ্ঠা 106, সূরা বাকারার 213 নং আয়াতের ব্যাখ্যায় ]**

এছাড়াও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে **তাফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন এর 107 নং পৃষ্ঠায়।**দেখে নেয়া যাক-

যখন প্রতিটি মানুষ একই মত ও আদর্শ এবং একই ধর্মের অন্তর্ভুক্ত ছিল- প্রশ্ন উঠে সে মত ও বিশ্বাসটি কি ছিল? এতে দু’টি সম্ভবনা বিদ্যমান। (1) হয় তখনকার সব মানুষ তাওহিদ ও ইমানের বিশ্বাসে ঐক্যবদ্ধ ছিল। নতুবা (2) সবাই মিথ্যা ও কুফরিতে ঐক্যবদ্ধ ছিল। অধিকাংশ তাফসিরকারকের সমর্থিত মত হচ্ছে, সে আকিদাটি ছিল সঠিক ও যথার্থতা ভিত্তিক। অর্থাৎ তাওহীদ ও ঈমানের ঐক্যমত্য।

এ আয়াতের দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে, ‘এক’ বলতে আকিদা ও তরীকায় একত্ব এবং সত্য-ধর্ম বলে আল্লাহর একত্ববাদ ও ঈমানের ব্যাপারে ঐক্যমত্যের কথাই বলা হয়েছে।

---

Comments: 7 — https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a7%81-2/#comments
