# ভালোবাসি তোমায় (৩৯তম)

- Author: [ইঞ্জা](https://sonelablog.com/author/einzza/)
- Published: 2016-12-14T16:49:29+00:00
- Updated: 2016-12-14T16:49:29+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a7%a9%e0%a7%af%e0%a6%a4%e0%a6%ae/

---

![images-6](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/12/images-6.jpg)

 

এক সপ্তাহ পর  
——————-

অভি স্যার জিএম সাহেব কি ফোন দিয়েছিলো, অভির পা দুইটা ম্যাসাজ করতে করতে অবণী জিজ্ঞেস করলো।  
না ফোন দেয়নি, আচ্ছা তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?  
আজ তা কি নতুন করে বলতে হবে, অবণী হেসে বললো।  
জানিনা!  
জানিনা মানে?  
আচ্ছা তুমি যদি আমাকে ভালোই বাসো তাহলে অভি স্যার, আপনি করে বলো কেন?  
বলেনা, ওহ আমি তো জানতাম না, আপনি শিখিয়ে দেননা।  
আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাসো তাই বলছি তুমি আমাকে আজ থেকে ওই নামে ডাকবে না আর আপনি আপনিও করবেনা।  
বাহবা, সাহেব দেখি আজকাল কড়া অর্ডার দেয়, ঠিক আছে ঠিক আছে ওই নামেই ডাকবো না কিন্তু কি নামে ডাকবো তা তো বলে দিন, সরি সরি বলে দাও বলেই অবণী অভির বুকে মাথা রাখলো।  
কেন আমার নাম ধরেই ডাকবে।  
ওকে ঠিক আছে, তুমি কিছু খাবে এখন?  
ফ্রুটস দিতে পারো।  
পাশেই রাখা ছিলো ফ্রুটসের বাস্কেট, কিছুক্ষণ আগেই কাজের ছেলেটা এসে রেখে গেছে পুল সাইডে যেখানে ছায়ার মধ্যে অভি আর অবণী বসে ছিলো, অবণী একটা প্লেইটে কমলা, আঙ্গুর আর আপেল নিলো, কমলাটা ছিলে অন্য প্লেটে নিয়ে অভিকে দিলো আর নিজে আপেল কাটতে লাগলো অভিকে খাওয়াবে বলে।

বড় ভাইয়া জিএম সাহেব এসেছেন, বড় মা আপনাদের আসতে বলেছেন, কাজের ছেলেটা এসে বললো।  
আচ্ছা যাও আমরা আসছি।  
আপু ভাবী আজ কি বাজার করবো?  
অবণী হেসে দিলো আর জিজ্ঞেস করলো, এই নামটা কে শিখালো?  
ছোট আপু বলেছে।  
আচ্ছা বাজার থেকে ছোট মাছ নিয়ে এসো বাকিটা আন্টির কাছ থেকে জেনে নাও।  
কাজের ছেলেটা চলে গেলে অবণী উঠে গিয়ে অভিকে ধরে তুললো আর পাশে রাখা উইল চেয়ারে আসতে করে বসিয়ে দিলো এরপর উইল চেয়ারটাকে নিয়ে হাটতে শুরু করলো।  
ভিতরে যখন তারা এসে পোঁছাল তখন অভির মা আর প্রিয়ন্তী জিএম সাহেবকে নিয়ে ড্রয়িং রুমে বসে আলাপ করছিলেন, অবণী ভিতরে প্রবেশ করে সালাম জানিয়ে অভিকে ধরে উঠালো এরপর সিঙ্গেল সোফায় আরম করে বসিয়ে দিলো সাথে পিছনে একটা কুশন দিয়ে দিলো এরপর নিজে গিয়ে বসলো প্রিয়ন্তীর পাশে।  
অভি স্যার আজ কেমন আছেন?  
যেমন আল্লাহ্‌ রাখছেন, অভি জবাব দিলো।  
স্যার আপনাদের ভিসা হুয়ে গেছে আর ফ্লাইটও কনফার্ম করা বাকি এখন, যদি ফাইনাল করেন তাহলে ফ্লাইট কনফার্ম করে দিতে পারি।  
তা অফিসের কাজকর্মের কি অবস্থা, অভি জিজ্ঞেস করলো।  
স্যার কি বলবো, আজ দুই মাস হতে চললো আপনি অসুস্থ আর ওই দিকে সব উল্টাপাল্টা হয়ে রয়েছে, এজেন্টদের পেমেন্ট, ডক, পোর্ট, কাস্টমস সবার পেমেন্ট বাকি পড়েছে, এই অবস্থা চললে সর্বনাশ হয়ে যাবে।  
হুম এক কাজ করুন, ব্যাংকে কল দিন ওদের বলুন আমার সিগ্নেচার অথরিটি চেইঞ্জ হবে, ম্যানেজারকে বলুন কাগজপত্র নিয়ে বাসায় আসতে আর আপনি উকিল সাহেবকে ডাকুন আমি পাওয়ার অফ অথরিটি দেবো।  
জি স্যার।

মা খাওয়া দাও, জিএম সাহেব আপনিও আমাদের সাথে খাবেন, অনু আমাকে নিয়ে চলোনা ফ্রেস হবো, অভি বললো।  
চলুন।  
অভি প্রশ্নবোধক তাকালো অবণীর দিকে আর তা দেখে অবণী জীব কাটলো আর বললো সরি, অবণী পাশে এসে অভিকে নিয়ে ভিতরের নতুন লাগানো গ্লাস লিফটে করে চলে গেল যে লিফট অভির সুবিধার্থে লাগানো হয়েছে অভিকে রিলিজ করে আনার এক সপ্তাহ আগে।  
পনের মিনিট পর অভিকে নিয়ে নেমে এলো অবণী, অভি জিএমকে আমন্ত্রণ জানালো খাওয়ার জন্য, সবাই মিলে খেতে গেল।  
খাওয়া শেষে সবাই এসে ড্রয়িং রুমে এসে বসলে কাজের লোক এসে কফি দিয়ে গেল, কফি শেষের পর অভি জিএমকে বললো, চলুন আমরা স্টাডি রুমে বসি ওখানে সব আলাপ করি, মা তুমিও এসো, অনু তুমি ব্যাংকের লোক আর উকিল এলে স্টাডিতে পাঠিয়ে দিও, চলো মা বলেই অভি ওইল চেয়ারের চাকা ঘুড়িয়ে নিজেই এগুলো স্টাডি রুমের দিকে, জিএম আর অভির মা পিছে পিছে গেল। দশ মিনিট পর ব্যাংকের ম্যানেজার আর কিছুক্ষণ পর উকিল এলে উনাদের পথ দেখিয়ে স্টাডি রুমে পোঁছে দিলো অবণী আর নিজে এসে বসলো প্রিয়ন্তীর সাথে আর গল্প করতে লাগলো, কিছুক্ষণ পর অভির মা বেড়িয়ে এসে কাজের লোককে কফি আর বিস্কিট দিতে বললেন ভিতরে আর অবণীদের কাছে এসে বললেন, তোমরা গিয়ে রেস্ট করো এ মিটিং দুই তিন ঘন্টার উপরে লাগবে, অবণী মা তুমি অভির রুমে গিয়ে পারলে ঘুমাও, তোমার উপর অনেক দখল যাচ্ছে, যাও মা, অবণীর মাথায় হাত ভুলিয়ে দিলেন।

প্রিয়ন্তীর রুমেই চলে অবণী প্রিয়ন্তীর সাথে, দুজনে গল্প করতে করতে কখন যে অবণী ঘুমিয়ে পড়েছে তা হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গার পর অনুভব করলো, হাত ঘড়িতে দেখলো বিকেল পাঁচটা বিশ, পাশে গভীর ঘুমে প্রিয়ন্তী, আসতে করে উঠে পড়লো অবণী, বাথরুমে গিয়ে মুখ হাত দুয়ে বেড়িয়ে এলো, নিজের কাপড়টা টেনেটুনে ঠিক করে আয়নার সামনে গিয়ে চুলটা ঠিক করে নিয়ে বেড়িয়ে এলো রুম ছেড়ে, নিচে দেখলো অভি আর অভির মা বসে গল্প করছে ড্রয়িং রুমে, অবণী দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এলো আর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো, কাজ শেষ?  
অভির মা হেসে বললো, এসো মা বসো।  
অবণী অভির মার পাশে গিয়ে বসলো আর জিজ্ঞেস করলো, কেমন হলো মিটিং?  
খুব ভালো, একটু অপেক্ষা করো সব জানতে পারবে আগে মেহমানরা আসুক।  
মেহমান, নিজে নিজে স্বগতোক্তি করলো অবণী।  
রি আমার মেয়ে ছোটটাও এসে গেছে, আয় আয় বসে পড়, প্রিয়ন্তীকে আসতে দেখে অভির মা বললেন আর সেই সময় গেটের বাইরে থেকে গাড়ীর হর্ণের আওয়াজ এলে অবণী দাঁড়িয়ে গেল আর বললো, আমাদের গাড়ীর আওয়াজ।  
যাও মা মেহমানরা এসে গেছেন, এগিয়ে নিয়ে এসো।  
জি যাচ্ছি বলে অবণী দ্রুত এগিয়ে গেল আর পিছ পিছ প্রিয়ন্তীও গেল, অবণীর বাবা মা দুজনেই এসেছেন হাতে বড় এক বাস্কেট ফল নিয়ে, অবণী দ্রুত এগিয়ে গিয়ে বাবার হাত থেকে বাস্কেটটা নিয়ে জিজ্ঞেস করলো, আব্বু আম্মু তোমরা?  
চল ভিতরে চল, অবণীর মা অবণীকে নিয়ে এগুলেন।

আসুন আসুন ভাই, হাসি আই বোস, উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন অভির মা, সবাই ভিতরে আসলে অভির মা অবণীর মাকে জড়িয়ে ধরলেন, অবণীর বাবা অভির পাশে এসে অভির হাতটা হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কেমন আছো বাবা?  
জি আনকেল ভালো কিন্তু মাঝে মাঝে অনেক কিছু ভুলে যাচ্ছি।  
চিন্তায় অবণীর বাবার মাথায় ভাঁজ পড়লো তবুও অভিকে সান্তনা দেওয়ার জন্য বললেন, অসুবিধা নেই, ইনশা আল্লাহ্‌ অপারেশনের পর সব ঠিক হয়ে যাবে তুমি চিন্তা করোনা।  
অপারেশনের পর কি হতে পারে আমি জানি আনকেল।  
হটাৎ সবাই ফিরে তাকালো অভির দিকে, অভি বললো আনকেল আন্টি বসুন আপনারা।  
অবণী এগিয়ে এসে অভির পাশে এসে বসলো আর জিজ্ঞেস করলো, কি বললে তুমি?  
হুম, বড় একটা নিশ্বাস ফেললো অভি, তারপর বললো আনকেল আন্টি আপনারা আসাতে আমরা খুব খুশি হয়েছি, ঘরোয়া বিষয় নিয়েই আপনাদের সাথে আলাপ করতে চাই, বলে অভি চুপ করলো একটু তারপর আবার শুরু করলো, আজ মা আর আমি, আমাদের অফিসের জিমএম সাহেবকে নিয়ে বসেছিলাম, আমার অবর্তমানে অফিসের কার্যক্রম সব বন্ধ হয়ে গেছে আর এতে প্রচুর পরিমাণে আমাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অভি থামলো কাজের ছেলেটাকে চা কফি আর কিছু নাস্তা নিয়ে আসতে দেখে, কাজের ছেলেটা সবাইকে চা দিয়ে গেল আর টেবিলে অনেক গুলা নাস্তা আর ফ্রুটস দিয়ে গেল।

চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে অবণীর বাবা বললেন, তাহলে কি চিন্তা করেছো তুমি, কি করতে চাও?  
আনকেল আমি গত কয়েকদিন অবণী চলে যাওয়ার পর আমার ডাক্তারের ফাইল গুলো নিয়ে ইন্টারনেটে ঘুরতাম আর তাতে আমি যা বুঝেছি তা হলো আমি হয়ত সুস্থ হতে পারবো, হয়তো আবার হাটতেও পারবো যার জন্য কয়েক মাস থেকে বছরও লাগতে পারে, আনকেল আন্টি পেটিসটা নিন ঘরের বানানো, মা বানাই।  
ঠিক আছে বাবা আমরা নেবো, তুমিও নাও, প্লেটটা নিয়ে অভির দিকে এগিয়ে দিলেন অবণীর মা।  
না আন্টি আমি এই কিছুক্ষণ আগে খেয়েছি আপনারা নিন প্লিজ, মা তুমিও কেমন না, আনকেল আন্টিকে তুলে দাওনা।  
আনকেল আপনি তো যাচ্ছেন আমার সাথে আর একজন মুরুব্বিও আমার সাথে দরকার আছে অবশ্যই আর যেহেতু প্রিয় মানে প্রিয়ন্তীও যাচ্ছে তাই মাও এইখানে একা পড়ে যাবে।  
তাতো ঠিক।  
তাই আনকেল, মা আর আমি চাইছি অবণী আমার অবর্তমানে আমার অফিস সামলাক সিইও হিসাবে।  
ওয়াট, চিৎকার করে উঠলো অবণী, ইটস ইম্পসিবল, কোনো ভাবেই সম্ভব না এইটা।  
অসম্ভব বলে কিছুই নেই অনু, আমি জানি তুমি পারবে আর সমস্যা হলে আনকেল আছে উনার হেল্প নেবে আর এ ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই আমার, তুমি কি চাও আমরা ধ্বংস হয়ে যায়?

__________ চলবে।

ছবিঃ Google.

 

---

Comments: 17 — https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a7%a9%e0%a7%af%e0%a6%a4%e0%a6%ae/#comments
