# ভালোবাসি তোমায় ২ (চ্যাপ্টার২)

- Author: [ইঞ্জা](https://sonelablog.com/author/einzza/)
- Published: 2017-09-29T16:29:20+00:00
- Updated: 2017-09-29T16:29:20+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a7%a8-%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%9f/

---

![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/09/FB_IMG_1503927776571.jpg)

 

 

 

অভি চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করলো, তোমার কাজ কি?  
প্রশ্ন শুনে অবণী চমকে উঠলো, নিজেকে সামলে নিয়ে বললো, সব কিছুই স্যার, আপনার প্রতিদিনের রুটিন, অফিস ডকুমেন্টস মেন্টেইন, সব কিছুতেই আপনাকে হেল্প করা।  
বসো, হুকুমের সুরে বললো অভি।  
জি স্যার, বলেই ধপ করে সোফাই বসে পড়লো অবণী, ওর গলা শুকিয়ে এলো।  
অভি নিজেকে ওয়াকার দিয়ে টেনে নিয়ে সোফার সামনে এসে অবণীর মুখোমুখি বসলো আর জিজ্ঞেস করলো, কি নাম বললে যেন?  
অবণী স্যার।  
আহ স্যার স্যার করো নাতো।  
জি স্যার, সরি চিফ।  
গুড গার্ল, তা কতোদিন ধরে আছো তুমি আমাদের সাথে, এইতো বছর দেড়েক।  
তুমি দেখছি আমার পাস্ট সম্পর্কে অনেক কিছুই জানো।  
জি।  
মা খাবার দিচ্ছো, অভি ডাক দিলো।  
অভির মা এগিয়ে এসে বললেন, আয় খেতে আয়, অবণী তুমিও আসো খেতে।  
জি মা, ম্যাডাম, মুখ ফসকে মা বলে ফেলছিলো অবণী, ম্যাডাম ডেকে সামাল দিলো।  
এই মেয়ে শুনো, আমার না খুব পছন্দের একটা জায়গা আছে ঢাকায়, আমাকে নিয়ে যেতে হবে ওখানে, অভি বললো।  
কবে যেতে চান চিফ?  
আজ।  
আপনার কষ্ট হবে।  
এই ঘরে বসে থাকতে থাকতে আমার দম বেড়িয়ে যাবে।  
ওক চিফ, আজই নিয়ে যাবো।

অভিকে সামনের সিটে আরাম করে বসিয়ে দিয়ে, পিছনের সিটে ওয়াকারটা রেখে অবণী নিজে ড্রাইভ করে বেড়িয়ে এলো।  
কোথায় যাবেন বলুন, অবণী জিজ্ঞেস করলো।  
আশুলিয়া।  
অবণী স্পিড তুললো আশুলিয়ার উদ্দেশ্যে।  
আচ্ছা তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে?  
না চিফ।  
কি বলো, এই বয়সে তোমার বয়ফ্রেন্ড নেই, wonder!  
অবণী মিষ্টি হেসে বললো, সবার বয়ফ্রেন্ড থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই।  
কাউকে ভালোবাসো?  
অবণীর চোখ চিকচিক করে উঠলো।  
চুপ করে আছো মানে, ভালোবাসো, তা সেকি ভালোবাসে তোমায়।  
না, সে ভুলে গেছে আমায়, অনেক কষ্ট করে চোখের পানি দমালো অবণী।  
কষ্ট পাচ্ছো, বাদ দাও চ্যাপ্টারটা, ওই সামনে বোট রাখা আছে দেখছো, ওখানে গাড়ী থামাও।  
জি, আবণী গাড়ী সাইড করে রেখে ইঞ্জিন বন্ধ করে দিলো, এরপর নিজে গাড়ী থেকে নেমে গিয়ে অভির দরজা খুলে দিলো।  
আমি নামবোনা, এইখানেই থাকি।  
আপনি চাইলে আমি হেল্প করতে পারি, অবণী বললো।  
না থাক, ঘরে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারছিলাম না, এইখানে এসে তা পূরণ হলো, অভি বড় করে নিশ্বাস নিয়ে ছোটো ছোটো ছাড়লো।

এক্সিডেন্টের কথা আমার একদম মনে নেই, মাথায় আঘাত লাগায় নাকি কিছু সময়ের কথা আমি ভুলে গেছি, আচ্ছা বেশি কিছু কি ভুলে গেছি?  
অবণী অলক্ষ্যে চোখ মুছে নিলো।  
জানো, আমি প্রায় রাতে উল্টাপাল্টা সপ্ন দেখি।  
কি দেখেন, অবণী জিজ্ঞেস করলো।  
দেখি, একটি মেয়ে আমার সেবা করছে, বুকে মাথা রেখে কাঁদছে।  
অবণী অবাক হলো আর জিজ্ঞেস করলো, তারপর?  
এরপর ঘুম ভেঙ্গে যায়।  
মেয়েটা কে?  
জানিনা।  
মানে!  
অনেক চেষ্টা করেও চেহেরা মনে করতে পারিনা।  
ওহ, অবণীর নিশ্বাস বন্ধ হয়ে এলো, ইচ্ছে হলো চিৎকার করে কান্না করে উ  
চলো ফিরে যায়, ভালো লাগছেনা এইখানে।  
কেন, এখনই তো এলাম, অবণী বললো।  
আসলে কি, আমি এসে ওইসব বোটে ঘুরে বেড়াতাম, এখন এই অবস্থায় বোটে উঠা তো সম্ভব নয়।  
কেন সম্ভব নয়, এই বোটওয়ালা ভাই, এইদিকে আসুন, হাঁ এইদিকে, অবণী ডাক দিলো।  
না অবণী, আমি টাকা পয়সা আনিনি।  
আপনি ভুলে গেছেন অভি স্যার, আমি আপনার সেক্রেটারি, চলুন বোট এসে গেছে, আমি ধরছি, আপনি আমার কাঁদ ধরে উঠুন।

সন্ধ্যার পর অভিকে নিয়ে ফিরে চললো অবণী, অভিকে জিজ্ঞেস করলো, আর কোথাও যেতে চাই কিনা?  
নাহ, আজ আর নয়, বাসায় যাবো, গলাটা শুকিয়ে গেছে, পানি পেলে ভালো হতো, অভি জবাবে বললো।  
অভি স্যার, সামনে একটা তন্দুরি হাউজ আছে, সেইখানে হাল্কা কিছু খাই।  
খাবে, চলো।  
অবণী উত্তরার এক ওপেন রেস্টুরেন্টের সামনে গাড়ী পার্ক করে অভিকে নামিয় ভিতরের দিকে এগুলো, অভি ওয়াকার রেখে একটা চেয়ারে বসে বড় একটা নিশ্বাস ফেলে বললো, বাহ চমৎকার জায়গা।  
সামনে বসা অবণী বললো, আমার প্রিয় রেস্টুরেন্ট।  
তাহলে তুমিই অর্ডার দাও।  
এইখানে ভালো ব্রেইন আর কলিজি ফ্রাই হয়, চলবে?  
দৌড়াবে, হেসে বললো অভি।  
আর কিছু?  
বাটার নান।  
অবণী অর্ডার দিয়ে অভির দিকে তাকালো।  
আচ্ছা একটা কথা বলবে, তুমি কি জানো অফিসের কি অবস্থা?  
ভালো স্যার।  
কেমন ভালো, অবণীর চোখে সরাসরি তাকালো অভি।  
স্যার, এভেরি থিং পারফেক্টলি ওকে এন্ড সাউন্ড।  
গুড, এমনি আশা করছিলাম আমি।

গাড়ী বারান্দায় গাড়ী এসে থামতেই, অভির মা এসে দাঁড়ালেন, অবণী অভিকে সাহায্য করলো নেমে আসতে।  
কেমন কাটলো তোমার সময় বাবা, নিশ্চয় খিদে পেয়েছে, অভির মা জিজ্ঞেস করলেন।  
মা তোমার চিন্তা করার কিছুই নেই, সেক্রেটারি ম্যাডাম খুবই স্মার্ট, উনি খাইয়েছেন, ঘুরিয়েছেন হা হা হা হা, ড্রয়িংরুমের সোফায় বসতে বসতে অভি বললো।  
বাহ আমার ছেলেটা দেখছি আজ খুব খুশি, অনেকদিন পর তোর হাসি দেখলাম বাবা, মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন অভির মা।  
ম্যাম, অভি স্যার, আমি আজ আসি, অবণী বিদায় চাইলো।  
ডিনার করে যাও, অভির মা বললেন।  
ধন্যবাদ, অন্য একদিন খাবো, আসি, সালাম।  
অবণী তোমাকে ড্রাইভার ড্রপ করে দেবে।  
অবণী বেরিয়ে এসে গাড়ীর পিছন সিটে উঠে বসলে গাড়ী ছেড়ে দিলো।  
গাড়ী গেইট দিয়ে বেড়িয়ে এলেই অবণীর বুক ধক করে উঠলো, হু হু করে উঠলো মন, আজ আবার যেন সব হারিয়ে ফেললো সে, চোখের পানি বাঁধ মানলোনা আর।

 

……….. চলবে।  
ছবিঃ Google.

---

Comments: 14 — https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a7%a8-%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%9f/#comments
