# ভালোবাসার বয়স

Author: রোকসানা খন্দকার রুকু
Published: 2022-07-31
Category: সমসাময়িক
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%9f%e0%a6%b8/

আপনাকে কেউ কোনদিন বলেছে ‘ একটা গান লিখো আমার জন্য ‘!  কেউ বলেনি? আচ্ছা, এ বয়সের কাউকে কেউ কি এসব বলতে চায়? আর কোনদিন বলবে তার সম্ভাবনাও নেই। কারণ বয়স আপনার চালসে মানে চল্লিশ। এখন ছোট ছেলেরা আপনাকে ডরায়।

তাছাড়া মেয়েলী যতোসব কিউটনেস থাকা দরকার আপনার হয়তো তার ছিটেফোঁটাও নেই। সেজন্য সময়মতো বিয়েটা করতে পারেননি। কিংবা ভুল কাউকে ভালোবেসে সে ছেড়ে গেলে ভেবেছেন বাকি জীবন একাই পার করে দেবেন!

আসলে কি তাই? মোটেও না। কারন ভালোবাসা অদ্ভূত এক সুর। যার তাল, লয় বড্ড অচেনা। সে প্রত্যাশা ছাড়াই যখন তখন ঘাড়ে চেপে বসে। তাইতো কোথাও কেউ একজন হয়তো ওত পেতে থাকে, আপনার মতো জৌলুসহীন কারও কাছে নিজেকে সপে দেবার আশায়।

চল্লিশ এক অদ্ভুত বয়স। আবার ফিরে এসে ১৮ তে পা দিয়ে থমকে দাঁড়ায়। মন যেন সেই কিশোরী হয়ে ওঠে। অল্পেই  অভিমানী, আবেগী হয়, অল্পেই হাসে, অল্পেই কাঁদে। দমকা বাতাস হঠাত গায়ে লাগলে শিহরন জাগে ঠিক যেন আঠারোর মতো। তবে আঠারোতে যে চুরমার করা সাহসটা থাকতো শুধু সেটা হারিয়ে যায়।

আর তাই তখন গ্রহনে বিব্রতবোধ মারাত্মক হয়। লোকে বলবে কি? লোককে জবাব দেব কি?

অথচ আপনার একাকিত্বতা দিনের পর দিন বলেছিল, আপনার পেছন পিঠে শক্ত একটা আশ্রয় দরকার ছিল। শেষরাতে ওয়াশরুম থেকে ফিরে চল্লিশের যে কাঁপুনী আসে শরীরে। তখন কারো বুকে মুখ লুকিয়ে ওম নিতে নিতে বলতে ইচ্ছে হয় – একটু বুকে চেপে নাও আমার বড্ড শীত করছে।

সেটা কি লোকে দ্যাখে বা বোঝে? তখন সোফার পিঠে নিজেকে লুকিয়ে ওম নিতে হয়। কোন এক বিষন্ন সন্ধ্যায় আপনি যখন বুড়িয়ে যাওয়া মোমবাতির মতো একটু একটু করে শেষ হতে থাকেন, তখন কি কেউ আপনাকে দ্যাখে। দ্যাখেনা আর বলাও হয়না কাউকে এতোসবের কোনকিছু।

নাটোর বিখ্যাত বনলতা সেনের কাব্যিক উপাখ্যান ভুমিতে মামুন হোসেন ( কলেজ ছাত্র) ও খাইরুন নাহার ( সহকারী অধ্যাপক) দুজনে বিয়ে করেছেন। ফেসবুকে পরিচয়, প্রেম অতঃপর বিয়ে। দুজনের ১৮ বছরের বয়সের তফাৎ এ নিয়ে নানা ঝড় উঠেছে। এর আগেও আমরা সুবর্না মুস্তফার মতো মানুষকে কমবয়সী কাউকে বিয়ে করতে দেখেছি।

**কারন একা একজন মহিলা থাকে বা আছে এটা জানার পর সুহৃদ শুভাকাঙ্ক্ষী মহল নিয়মিত তাকে নানাভাবে ত্যক্ত- বিরক্ত করতে থাকে। তা তিনি যতোই সমাজে প্রতিষ্ঠিত একজন নারী হন না কেন। এসব দেখার জন্যও কেউ  আসে না। যে কোন বিপদে তারই দোষ হয়, কারন তিনি নারী। এখানেও যেমন বলা হচ্ছে একজন মহিলা কলেজ শিক্ষক কি করে ছাত্রকে বিয়ে করতে পারে! কেন এর আগে কি কোন পুরুষ শিক্ষক তার ছাত্রীকে বিয়ে করেনি?**

এখন অনেক টিন এজ মেয়েরা বাবার বয়সী, দাদার বয়সী কাউকে দুম করে বিয়ে করে সংসারী হচ্ছে।

তাদের খুশি ফেসবুকে শেয়ার করলেই এতে অনেকে মন্তব্য করছে একজন ষাটোর্ধ্ব বুড়ো মেয়েটার সাথে করে কি? কিংবা মহিলা আর কদিন পরই বুড়ি হবেন তখন ছেলেটার কিভাবে চলবে! জীবন যেন শুধু সেক্স বা যৌনতার কাছেই বন্দি। যৌনতা আসলেই একসাথে থাকার জন্য মুখ্য বিষয় নয়। চলতে গেলে একে অপরের ছায়া হওয়া জরুরী। যা বহুকাল একসাথে থেকেও দুজন মানুষের মাঝে হয় না।

শেষ বয়সেই একজন কাউকে অনেক দরকার হয়। বন্ধু – বান্ধব, স্বজনরা যখন নিজ নিজ জগতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আজকাল গল্প করার জন্য ভীষনভাবে কাউকেও পাওয়া যায় না তখন এমন সিদ্ধান্তে কোন সমালোচনা না করাই ভালো। থাকুক না তারা তাদের মতো করে। যেমন করে পারে ভালোবাসুক একে অপরকে।

দেখতে যেন কেমন লাগে- এটা বলতে থাকা আমাদের দেখার ভাষা বদলে ফেলতে হবে। কারন দিনে দিনে বিয়েটা মনতাত্বিক একটা ব্যাপার হয়ে যাচ্ছে।  তবুও সেখানে আমরা পরে আছি কেন বা কেন নয় এগুলোতে। সকল কেন ঝেড়ে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে মনের জানালায়। যেখানে বিশুদ্ধ বাতাস হু হু করে ঢুকে শরীরের সমস্ত একাকিত্বতা শুষে নিয়ে বলবে- বেঁচে থাকাটাই অদ্ভুত এক বিস্ময়। তো তাকে বেঁধে রেখে কেন করি ক্ষয়!!

ছবি- নবদম্পতি।
