# ভালোবাসার গল্প

- Author: [মর্তুজা হাসান সৈকত](https://sonelablog.com/author/mortuzashaikat/)
- Published: 2013-07-02T17:22:03+00:00
- Updated: 2013-07-02T18:42:00+00:00
- Category: [কবিতা](https://sonelablog.com/category/literacy/poetry/), [সাহিত্য](https://sonelablog.com/category/literacy/)
- Tags: ভালোবাসার কবিতা
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa/

---

দরোজা খুলে দাঁড়াতেই চমকে গেলো আবির । চমকালো  
খুব করে । রুমগুলো সাজানো, গোছানো, ছিমছাম তখন !  
ঠিক যেন পরিপাটি একদম । তাকাতেই সে দেখলো  
ডাইনিং টেবিলটায় দুটো মোমবাতি জ্বলছে । জ্বলছে  
আসন্ন উৎসবের অভিপ্রায়ে, একটা ছোট্ট কেক তাঁর সামনেই !

ব্যাপারটা বুঝেই দুষ্টুমি খেলে যায় তাঁকে । আহা, আজ যে  
বিয়ে বার্ষিকী তাঁদের । আহা, আজ যে ! সে ভাবে, ধ্যাত  
এই কর্পোরেট ব্যাস্ততার যুগে বউয়ের সাথে খুনসুটি করার  
সময় মেলানোও কষ্টের বড় । ব্যাস্ততা কতইনা এই সেই !  
তবে খানিকটা হয়ে যাকনা আজই, যাকনা হয়ে তবে এক্ষুনি !

আকাশনীল রঙা শাড়ি পড়েছিলো বৃষ্টি । কপোলে টিপ, ঠোঁটে  
লিপস্টিক । নেশা ছুঁয়ে যায় আবিরকে, ধরে যায় সৌন্দর্যের  
মাদকতা । ভাবে, ধ্যাত । বাদ দেইনা ওসব । বাদ-,  
তারচে ছুঁয়ে দেই, যাই ছুঁয়ে ছুঁয়ে বউটাকে । দেইনা ছুঁয়ে এক্ষুনি !

দুষ্টুমিটাও খেলে যায় আবার, খেলে যায়…, উচ্ছ্বাসটুকু আড়াল  
করে বলে ফেলে সে, ক্যানো যে এ টাইপের ছেলেমানুষিগুলো  
করে যাচ্ছো । ক্যানো যে করে যাও এখনো ! শুনে, স্তব্ধ হয়ে  
যায়, যায় বৃষ্টি । স্তব্ধ হয়ে যায় কিছু না বুঝেই ! দুটো  
মোমবাতি, নীলাভ মোমবাতি, আসন্ন উৎসবের অভিপ্রায়ে জ্বলে  
জ্বলে নিঃশেষ হচ্ছিলো তখন, হচ্ছিলো কেকটার একটু সামনেই !

সে কী অভিমান অভিমানীর এরপর । অভিমান সে কী তাঁর !  
সারারাত ফুঁপিয়ে কাঁদলো সে । কাঁদলো সারারাত । সে কী প্রচণ্ড  
অভিমান অভিমানীর ! বার কয়েক সরি বললো আবির । বললো  
বৃথাই । হাত ধরতে চাইলো, চাইলো অভিমান ভাঙাতে । কেবলই  
হাত সরিয়ে ও বললো, আমাকে ছোঁবে না । ছোঁবেনা কখনোই ।

এরপর, খুব সকালে কিছু না বলেই, না বলে কাউকেই, চলে গেলো  
বাবার কাছে । চলে গেলো না বলেই । কী হয়েছে জানতে চাইলে,  
কিচ্ছু বলেনি কাউকে, বলেনি বাবা কিংবা ভাইকেও । রুম লক করে  
কাঁদলো কেবল, কাঁদলো শুধুই । কাঁদলো ফুঁপিয়ে । কাঁদলো না বুঝতে  
দিয়েই কাউকেই । খানিক বাদেই আর ভাবছিলো, এই বুঝি আবির  
বলছে, অপ্সরী, সরি । সরি, চল বাসায় যাই । বুঝি এই বলছে !

অথচ, কেউই আসেনি, বলেওনি কেউ। ফোন কিংবা এস এম এসও  
নয় কোনো । নয় ফোন কিংবা আসেনি কেউ ! কেবল যখন  
সন্ধ্যেবেলা দক্ষিণের জানালাটা খুলে ও তাকিয়ে ছিলো বাইরে, তাকিয়ে  
ছিলো আনমনে । তখন-, কাজের বুয়াটা ফোনে বললো, ‘আফা  
তাড়াতাড়ি আইয়েন, স্যারতো অসুস্থ মেলা । আফনে আইয়েন তাড়াতাড়ি !’

খানিক বাদে বাসায় ফিরেই অবাক হয়ে যায় বৃষ্টি । অবাক হয়ে যাচ্ছে  
ক্রমশই । দু’চোখে তাঁর একের বিস্ময়ের পর বিস্ময় তখন । বিস্ময়  
একের পর এক ! অসংখ্য মোমবাতি সারা ঘরময় ওদের, যেন আলোর  
জোনাকি তাঁরা । প্রতিটা মোমবাতির পেছনে টেডি বিয়ার । প্রতিটির  
পেছনেই একটি করে । মোমবাতিগুলোকে পাহারা দিচ্ছে বুঝি ওরা !  
ডাইনিং টেবিলটায় বিশাল কেক এক । টেবিলটায় শোভা পাচ্ছে তখন ।

বৃষ্টির টেডি বিয়ারটা ওটার পেছনেই । হাতে একটা কার্ড । আবির লিখেছে-,  
অপ্সরী জানি, ক্যান্ডেল-লাইট আর টেডি বিয়ার তোমার পছন্দ খুব । জানি,  
পছন্দ খুব । দুটো ক্যান্ডাল আর একটা টেডি বিয়ারে বড্ড বেমানানই  
লাগছিলো তোমার পাশে । বড্ডই বেমানান ! খানিকটা কষ্ট দিলাম  
তাই । সরি, সরি অপ্সরী, সরি ফর এভরিথিং । বৃষ্টির চোখ বৃষ্টিতে ভরে  
গেছে ততক্ষণে । এ বৃষ্টি ভালোবাসায় ! এ বৃষ্টি পরম সুখে । মুখ ঘুরিয়ে  
পেছনে তাকাতেই সে দেখতে পেলো, আবির তাঁর দিকে চেয়ে মুচকি মুচকি হাসছে !

---

Comments: 34 — https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa/#comments
