# “ভার্চুয়াল বন্ধুতার বিস্তার, লেখক-পাঠক মিলনমেলা ও নিজস্ব কিছু অর্জন”

Author: জাকিয়া জেসমিন যূথী
Published: 2020-05-13
Category: একান্ত অনুভূতি
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a7%81%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d/

কে বলে অনলাইন মাধ্যম মানুষকে বিপথে নিয়ে যায়?

স্বাভাবিক বাস্তব জীবনে কয়েকদিন লাগিয়ে হয়তো আমি একটা বই শেষ করতাম! অথচ এক দিন ফেসবুক একাউন্ট থেকেই কম করে হলেও পনেরো-বিশটা লেখা আমি পড়ে ফেলি। সেই সাথে ব্লগের লেখাও তো আছেই। আমি তো বলবো আমার জীবনের বেশিরভাগ পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা এসেছে এই অনলাইন বন্ধুতার আহবানেই। কত মানুষের সাথে মতের বিনিময় কত মানুষের শুভাশিস কত নতুন নতুন আইডিয়া সব এই অনলাইন মাধ্যমে। বাস্তব জীবনের বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ তো এইরকম প্রতিদিন প্রতি বেলায় সম্ভব হয় না। বাস্তব জীবনের বেশিরভাগ মানুষই ব্যস্ত, ফোন করেও অনেককেই কাজের সময়ে পাওয়া যায় না।

কম্পিউটারের একটা সমস্যায় পরেছি বা লেখার একটা শব্দচয়নের সমস্যা বোধ করছি কিংবা একটা গল্পের নামকরণে সমস্যা মনে হচ্ছে মুহুর্তেই ফেসবুক অথবা ইমেইল চ্যাটিং এ বন্ধুর সাথে শেয়ার করে নিলাম, সমস্যাটা মিটে গেলো। বাস্তব জীবনের বন্ধুরা বাস্তবতার মতই কঠিন; তাদের এত সময় নেই। মাঝেমাঝে ফোনেও তাদের সঠিক সময়ে পাওয়া যায় না। কিন্তু অনলাইনে কোন না কোন বন্ধুকে পাওয়া যাবেই। সমবয়সী বা ছোট বা বড়, নারী বা পুরুষ এরকম কোন বাধা ধরা রীতিনীতি নেই যে কেউ যে কারও জন্য জান প্রাণ! এই অনলাইন বন্ধুদের মাধ্যমেই আমি প্রতিনিয়ত নিজেকে কলি থেকে ফুলে পরিণত হয়ে ক্রমশঃ উদ্ভাসিত হচ্ছি আপন আলোয়।  
নাগরিক ব্যস্ততায় কোন একটা জায়গায় নির্দিষ্টি দিনে কোন একটা আয়োজন করা হলেও সেখানে সবাই উপস্থিতি জানাতে সক্ষম হয় না। কিন্তু অনলাইনে ব্যক্তিগত চ্যাটিং এর সাথে সাথে দলীয় চ্যাটিং গঠন করে কয়েকদিন ধরে সারাদিনের বিভিন্ন সময়ে উপস্থিত হবার সুযোগ থাকে এবং খুব সহজেই মত বিনিময় করার সুযোগ রয়েছে। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও দারুন ভূমিকা রাখছে।

এই অনলাইন সুবিধা এবং অনলাইনে সংযুক্ত থাকার কারণেই ২০০৮-০৯ এর পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ২০১০ পেরিয়ে তরুণ লেখক-কবি-ঔপন্যাসিক মামুন ম আজিজ ভাই আমাকে ২০১১ এর শেষের দিকে খুঁজে নিয়ে গল্পকবিতাডটকম এ প্রবেশ করিয়ে দিয়েছিলেন। এটাই সেই লেখক হয়ে উঠার মূল প্লাটফর্ম বা এস্কেলেটর যেখানে ভালো মানের লেখক ও পাঠকের মিলন হয়, লেখার গঠনমূলক সমালোচনা হয়; সেরা লেখাগুলো দিয়ে অন্যপ্রকাশ প্রকাশনীতে বই প্রকাশ করা হয় লেখকদের কোনরকম টাকাপয়সার অংশগ্রহণ ছাড়াই। মামুন ভাইয়ের পরামর্শ থেকেই পুনরায় ফরমায়েশী লেখার তোড়জোড় শুরু করে কিছুটা বাড়তি যত্নশীলতা আর সচেতনতা নিয়ে ডিসেম্বর ২০১১ থেকে। সেই থেকে চলছি। লেখক হয়ে উঠার সংগ্রামে প্রতি মাসেই সেখানে নির্দিষ্ট বিষয়ে লেখা সাবমিট করে সেরা পঁচিশে আসতে পেরে শিশুর মতন উচ্ছলতায় প্রজ্জ্বলিত হতে থাকি। বছর খানেকের চেষ্টায় সেখানে প্রথম বিজয়ীর আসনও একবার পেয়ে যাই। শ্রদ্ধেয় প্রিয় ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় তাঁর সাথে লেখক হয়ে ওঠার স্বপ্ন বিষয়ে কথা বলতে সুযোগ পাইনি কিন্তু তাঁর বই যে প্রকাশনী থেকে প্রকাশ হতো সেই অন্যপ্রকাশ আমাদের মতন স্বপ্নচারীনিদের লেখা নিয়ে পর পর তিন বছর বই প্রকাশ করে আমাদের যে সুযোগ দিয়ে চলেছে সেই পাওয়াটাও বলবো লেখক হওয়ার স্বপ্নকে অগ্রগতি দিয়েছে। অন্যপ্রকাশ এর একটা বইতে নিজের মাত্র একটি গল্প প্রকাশিত হওয়া এটা অন্যের কাছে সামান্য পাওয়া মনে হয় কিনা জানিনা, আমার মতন অতি সাধারণ একজনকে কিছুটা হলেও আত্মগর্বে গরবিনী করেই যদিও জানি এখনো আরও অনেক ভালো লেখা ঝুলিতে পূরতে হবে তবেই হবে লেখক হয়ে ওঠার স্বপ্নটা পুরোপুরি সার্থক।

নতুন নতুন বন্ধুদের সাথে পরিচিত হতে আমার সবসময়েই ভালো লাগে। তাই বন্ধুদের যোগ্যতা আর গূণের বহরও আমাকে খুব আকর্ষণ করে। আর, তাই কোন লেখক সভা, লেখক আড্ডার আহ্বানে সাধারণত চেষ্টায় থাকি যোগ দেবার। তাতে নিজের অন্তরে নতুন নতুন ধ্যান ধারণা যুক্ত হতে থাকে। অনেক কিছু শেখাও হতে থাকে। কাগজের বইতেই হোক বা অনলাইনের পাতায় বা ই-বুক এর লেখাই হোক আমার নিজের লেখাটির গঠনমূলক সমালোচনা চাই আমি সবসময়। কিন্তু একটা কথা প্রায়ই শুনি-সবাই তো লিখতে পারে না। অনেকে ভালো বক্তা কিন্তু লিখতে পারে কয় জন? লিখে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করা তার উপরে সেটা অন্যকে বুঝাতে পারা এমনকি সেই লেখাটি দিয়ে অন্যের মনে জায়গা করে নেয়া কোনকিছুই চাট্টিখানি কথা নয়। তাই লেখার ভুল না ধরে বরং ইতিবাচকভাবে পরামর্শ দেয়া উচিত শব্দচয়নে আরও সতর্ক ও মিতব্যয়ীতার।

ছোট একটা শিশুই হোক কিংবা একজন নতুন রাঁধুনি, নতুন আঁকিয়ে অথবা লেখিয়ে সবাইকেই সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজন ইতিবাচক বাক্যে প্রশংসা প্রদান; তাহলে সেই বিষয়ে তার মধ্যে আরও আগ্রহ তৈরী হয়। আর, ‘হয়নি’ কিংবা ‘ভালো হয়নি’ বললে তার আগ্রহ সেখানেই মুখ থুবরে পড়ে যায়! একটি লেখকের লেখার মৃত্যুও হয়তো এভাবেই হয়।

ভালো অথবা খারাপ কোন ঘটনার পূর্ব নিশানা অবচেতন মনে ডাক দিয়েই যায়। খারাপটা যেমন মনের ভেতরে দুঃশ্চিন্তার ঝড় তুলে আসে, তেমনি ভালো কিছুর খবরও খুশীর আবহ নিয়ে আসে মনের গলি ঘুপচিতে। নক্ষত্র ব্লগের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানের সন্ধ্যায় সামান্য জ্বর জ্বর অনুভূতি থাকা সত্বেও আমি ছুটলাম বাংলা একাডেমীর নজরুল মঞ্চে; এমনকি ব্লগ বন্ধু যাদের নতুন প্রকাশিত বইটির মোড়ক উম্মোচন হবে তাদের হয়ে নীলদা’র আহবানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলা প্রাঙ্গণে প্রথমা প্রকাশন এর সামনে থেকে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক স্যারকে ডাকতে যাওয়া এবং ভিড় ঠেলে নজরুল মঞ্চ পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে আসার বিষয়টিও কাছ থেকে দেখলাম।  
খুব সাধারণ একজন মানুষ এই আমি চারপাশের সামান্য ঘটনাগুলোর মধ্যেই ভালোলাগার বিষয়বস্তু খুঁজে নেই। এ কারণেই সবকিছুতেই আনন্দ খুঁজে পাই। ‘সু-লেখক হয়ে ওঠার জন্যে কি প্রয়োজন?’ এই প্রশ্নের জবাবে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক জানালেন-“লেখক হয়ে ওঠা কিংবা ভালো লেখক হয়ে ওঠার জন্যে যা করতে হবে-লেগে থাকতে হবে। অধ্যবসায় থাকলেই একমাত্র কোন পথে জয়ী হওয়া সম্ভব।”

আমার বেড়ে ওঠার পরিমণ্ডলে নিজের বিকাশ এত সহজ ছিলো না। খুব কঠোর রক্ষণশীল পরিবার আমাদের। এখানে ছেলে সন্তানদের যতটা উন্মুক্ত সৃজনশীল বিকাশের সুযোগ রয়েছে, মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে ধর্মের সীমাবদ্ধতা রয়েছে তুলনামূলকভাবে বেশি। শুধুমাত্র পড়াশুনার লাইনে যত উঁচুতে উঠো কোন সমস্যা নেই। কিন্তু, নাচ-গান-ছবি আঁকা ইত্যাদি বিষয়গুলোতে অংশ নেয়া বারণ। তাই দেখা গেছে, বাবা-মায়ের ক্ষেত্র থেকে যতটা না সুবিধা পেয়েছি সে তুলনায় ছোট দুই ভাই বেশি আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আর তাই নিজের একটা দু’টা লেখা কোন ই-বুক এ প্রকাশিত হলেও এক সময় নিজের পরিচিতির প্রসার ঘটাতে পরিবার সহ কাছের আত্মীয় বন্ধুকে নিজেই নিজের ঢোল পিটিয়ে জানিয়েছি এবং লেখাটি পড়তে অনুরোধ করেছি। পরের দিকে তাদের কাছ থেকে একটু আলাদা নজর পেয়ে উপভোগ করেছি।

এভাবেই একে একে নিজেকে কিছু কিছু লেখক দলের সাথে যুক্ত করে নিতে শুরু করেছি। ভালো লেখক হয়ে ওঠার স্বপ্নটা তখনো দূর আকাশের তারা। গল্পকবিতায় লিখছি আর গঠনমূলক সমালোচনা কেউ কেউ করলেও অল্প কয়েক মাসেই বুঝে গেলাম অনেকেই মন ভুলানো মন্তব্য দিয়ে লেখা না পড়ে, ভোট না দিয়েই চলে যায়। লেখায় ভাটা পড়ে পুনরায়। থেমে যেতে থাকি।

এরপরে আরও কিছু মুক্তমনা লেখক বন্ধু জুটে যায়। সাহিত্যচর্চার শুদ্ধ বাসনা তাদের কয়েকজনকে একটা দলে আবদ্ধ করেছে-‘সংকাশ!’ এই দলে অনেকটা জোর করেই প্রথম দিকে যুক্ত হই। পরের দিকে পুনরায় লেখায় যত্ন তৈরী হতে থাকায় আমার অবস্থান এখানে গুরুত্ব পেতে থাকে। গুরুত্বের বদলে অবশ্য আমাকে সুযোগ দেয়া হতে থাকে বলাই বেশি ভালো; আর আমি সেজন্য ধন্য। বয়স-পেশা-পারিপার্শিকতার ভিন্নতা থাকা সত্বেও একদল মননশীল লেখকের ভিড়ে নিজে পথ চলছি, দুটো মনের কথা শেয়ার করার সুযোগ পাচ্ছি এ এক অনন্য পাওয়া। এবার বোধহয় লেখক হওয়ার একটা নির্দিষ্ট সহজ রাস্তা পেয়েই গেছি। স্বপ্ন আর থামে না; এবার চলছে দূর্বার গতিতে। একুশে বইমেলা ২০১৩ তে যখন ভাষাচিত্র প্রকাশনী থেকে আরও বাইশ জনের সাথে আমার নামটিও নৈঃশব্দের উচ্চারণ বইটিতে ঝকঝক করে জ্বলতে দেখলাম তখন নিজের চেনা গণ্ডিতে নিজের বইটির প্রচারণা প্রকারান্তরে নিজের নামটিই চালিয়ে গেলাম। আর এই ২০১৪ তে এসেও যখন সেই বইটি সহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভাষাচিত্র প্রকাশনীতে ডিসপ্লে তে সাজানো দেখতে পাই, নিজের হৃদয়ের এক কোণে কিছুটা হলেও অন্যরকম ভালোলাগার আবেগ উছলে উঠে। শুধু তো এই নয় এবারের বইমেলায় বাংলা একাডেমী লিটল ম্যাগ চত্বরের সাদাকাগজ স্টলে নক্ষত্র সংকলন, সংকাশ এর তিনটি লিটল ম্যাগ, উন্মুক্ত স্টলে নারী প্রগতির ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘পারি’, আর অন্যপ্রকাশের মতন স্টলে আমার লেখার খোঁজ করতে আসা পাঠকের ভিড়; এসবের কোনটাই ফেলনা নয় বরং আমার সুপ্ত বাসনাকে একটু একটু করে চাগিয়ে দিচ্ছে ক্রমশ! আজ আমাকে আমাদের বংশের মুরুব্বীরা মুঠোফোনে শুভাশিস জানিয়ে দিচ্ছেন এই বলে যে, আমার লেখার হাত যেন কোনদিনই থেমে না যায়! আমি যেন কখনোই এই পথ ছেড়ে পাঠকের মৃত্যু’র মতো লেখার মৃত্যু না ঘটাই।

অনলাইন আর বাস্তব কাগজের পাতার পাঠকের জন্য আসলে সবসময় ল্যাপটপ বা কম্পিউটারই মুখ্য উপাদান নয়। সব ধরনের পাঠকই যেহেতু মুঠোফোন ব্যবহার করে, সেজন্যে সব ধরনের মুঠোফোনে যদি পড়ার সুযোগ সুবিধা থাকতো তাহলে বোধহয় মুঠোফোনে গান শুনার পাশাপাশি বইয়ের পাঠকও বেড়ে যেতো অনেকগুণ। অনলাইন পাঠক এবং কাগজের পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধনও তৈরি হতে পারতো।

বাংলাদেশের একজন নামকরা কথাশিল্পী আনিসুল হক, হুমায়ুন আহমেদ কিংবা মুহম্মদ জাফর ইকবাল হতে পারি বা না পারি, কিন্তু আমিও যে কিছু লিখে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি আর সেই লেখাটাও কেউ কেউ যে খুব মনযোগে পাঠ করে সেটা ওই অনলাইন বা ভার্চুয়াল মাধ্যমের ইতিবাচক দিক। আমাকে নতুন পুরাতন সেরা পত্রিকা কিংবা লিটল ম্যাগাজিনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে আমার অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত লেখাটিই যেটি প্রকাশ করতে আমাকে ডাক বিভাগের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে না, রিকশা ভাড়া কিংবা খামের প্রয়োজনীয়তায় ফেলছে না এমনকি কোন বাড়তি পয়সার ঝামেলাও পোহাতে হচ্ছে না। আজ আমি একজন সাধারণ কলমশিল্পী যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, আমার কলম শিল্পের একটি দুটি পাঠক আছে যারা আমাকে দুটো মুগ্ধতা উচ্ছ্বসিত হয়ে জানায় এটাও ঐ অনলাইন মাধ্যমের সুবিধা থেকেই! বাস্তব জীবনের কয় জন ফোনের বিল খরচ করে ঘন্টার পরে ঘন্টা আমাকে আমার একটা লেখার সমালোচনা জানাবে? এত সময় বা এত দায় কারও পরে নি।

আর, শুধু অনলাইন মাধ্যমকে দোষী সাব্যস্ত না করে আমি বরং বলবো, প্রত্যেকটা জিনিসেরই ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক থাকে। কে কোনটিকে কি দৃষ্টিভংগীতে ব্যবহার করছে সেটাই মূল বিষয়। আর তাইতো, একটি লেখক আড্ডায় এক গাদা পুরুষের মধ্যে নারী সদস্য মাত্র একজন হলেও কোন সমস্যা নেই। মূল বিষয়টা দৃষ্টিভংগীর পার্থক্যে। আর আড্ডাটা হচ্ছে লেখালেখি নিয়ে। মুক্ত মনা কিছু মানুষের উদার মনোভাবের আদান প্রদান অন্য যেকোন আড্ডা হতে ফলদায়ক।

মূল ধারার একজন লেখক হয়ে উঠার বন্ধুর পথ বরং অনলাইনে লেখা শুরু করে লেখক হয়ে উঠার পথের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কিছুটা হলেও মন্থর। মূলধারার লেখকদের লেখাটি প্রকাশিত হবার আগে পর্যন্ত কয়টি পাঠক পায়? সে তুলনায় ভার্চুয়াল জগতে একটি লেখায় মুহুর্তের মধ্যেই অগুণিত পাঠকের পাঠ সহ গঠনমূলক মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়।

আমি এখন ভার্চুয়াল মাধ্যমে লিখতে লিখতে ক্রমশ ধীরে ধীরে মিশে যাচ্ছি মূল ধারার লেখার সাথে। অনলাইনের বন্ধুদের গঠনমূলক সমালোচনায় কলম শিল্পী আমি ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছি আগামীর দিকে।

(সমাপ্ত)

২০১৪ সালের লেখা …
