# বড় নিষ্ঠুর আমরা!!!শোকাহত “১৫ই আগষ্ট”

- Author: [মনির হোসেন মমি](https://sonelablog.com/author/ma-mati-das/)
- Published: 2017-08-13T06:04:18+00:00
- Updated: 2017-08-13T06:08:03+00:00
- Category: [ইতিহাস](https://sonelablog.com/category/misc/%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8/), [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/), [খ্যাতনামা ব্যক্তি](https://sonelablog.com/category/%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a7%9c-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%a0%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%a4-%e0%a7%a7%e0%a7%ab/

---

[কাদোঁ বাঙ্গালী কাদোঁ,](https://www.google.com/search?safe=active&client=firefox-b-ab&q=%E0%A7%AD+%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A3%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97+%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%A3+mp3&sa=X&ved=0ahUKEwiOnan_7NHVAhWEtI8KHSYcCmAQ1QIIaCgH&biw=1366&bih=659),,,কথাটা শুনলেই কানে ভেসে আসে বঙ্গ বন্ধুর সেই ভাষন।সেই ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাইয়েরা আমার।এ এমন একটি ভাষন যা প্রতিটা বাঙ্গালীর হৃদয়ে সূচের ন্যায় গেথে আছে যা অনেক সময় অনেক আড্ডাস্থলেও বলা হয়*“তিনি আমার কথা রাখলেন না ৴তিনি রাখলেন ভুট্ট্রো সাহেবের কথা”*এই যে ভাষার মধ্যে মাধূর্য্যতা তা আর বিশ্বে কার বক্তিতায় আছে।যেমন কণ্ঠের সূরেলা সূর তেমনি কথাগুলো।এই একটি ভাষনই পুরো বাঙ্গালীর মনে প্রতিহাংসার আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো সাথে ছিল “জয় বাংলা জয় বঙ্গ বন্ধু”।“আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল: প্রত্যেক ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তা ঘাট যা যা আছে সব কিছু, আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমরা বন্ধ করে দেবে। বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁহার ঐতিহাসিকঁ এমন এক ভাষণের মাধ্যমে একাত্তরের এই দিনে মুক্তি পাগল মানুষের মনে প্রত্যয়ের যে বীজ বপন করেছিলেন,বিশ্বের ইতিহাসেই এটি এক বিরল ঘটনা ছিলো।এ রকম দৃষ্টান্ত অন্য কোথাও নেই।এটি বাঙালীর গর্ব ও আমাদের অহংকারের।

বঙ্গ বন্ধুর ঐতিহাসিক সেই ৭ই মার্চের ভাষন সম্পর্কে আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন ডাক সাইড নেতার বক্তব্য পাওয়া যায় যা শুনলে সেই ভাষনটির তাৎপর্য ও গুরুত্ব বুঝা যায়।  
(y) এ সম্পর্কে **শহীদ জননী বলেন,**  
“আমি যদিও মিটিংয়ে না যাই,বাসায় বসে রেডিওতে বক্তৃতার রিলে শুনব,তবু আমাকেও এই উত্তেজনার জ্বরে ধরেছে।এর মধ্যে সুবহান আমাকে জ্বালিয়ে মারল।আজ তাড়া তাড়ি রান্না সারতে বলেছিলাম।শরীফ বলেছে বারোটার মধ্যে খাওয়া সেরে একটু বিশ্রাম নেবে।ঠিক দে’ড়টায় রওনা দেবে তা না হলে কাছা কাছি দাঁড়াবার জায়গা পাবে না।আর সুবহান হতচ্ছাড়াটা এগারটায় সময় গোশত পুড়িয়ে ফেলল।বারেককে দিয়েছিলাম রুমী জামীদের শার্ট ইস্ত্রী করতে।সুবহান চুলোয় গোস্ত রেখে বারেকের সঙ্গে ইস্ত্রী করতে গেছে।তিনিও আজ শেখ সাহেবের বক্তৃতা শুনতে যাবেন,তাই তার নিজের প্যান্ট শার্ট ইস্ত্রী তদারকিতে যখন মগ্ন, তখন গোশত গেছে পুড়ে।…এতবড় কাণ্ড করে,এতো বকা খেয়েও সুবহানের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।রান্না ঘরে সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে প্যান্ট-শার্ট পরে তিনি শরীফদের সঙ্গে চললেন শেখ সাহেবের বক্তৃতা শুনতে।”

(y) **সেদিন পান্না কায়সারের ঘরেও এক অজানা উত্তেজনা ছিলো।**  
শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সেদিন তাকে বলেন, “তোমার জীবদ্দশায় এমন ভাষণ শোনার সৌভাগ্য হবে না।চল,কিছু ক্ষণ থেকে চলে এসো।আমার ছেলে তার জন্মের আগেই স্বাধীনতার ঘোষণা শুনবে।তোমার জীবনে এ দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।” পান্না কায়সার সেদিন না বলতে পারেননি।স্বামীকে নিয়ে তিনিও চলেন পল্টন ময়দানের পথে।

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ দেয়ার ঠিক আগের কয়েকটি ঘন্টা কেমন কেটেছিল বঙ্গবন্ধুর নিজের?বিভিন্ন বইয়ে বঙ্গ বন্ধুর ভাষণের পূর্ব মুহূর্ত গুলোর খণ্ড খণ্ড চিত্র পাওয়া যায়।তবে নিঃসন্দেহে সব চাইতে নিখুত বর্ণনা আমরা পাই বঙ্গ বন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট এক ভাষণ থেকে।  
(y) **২০০৪ সালে দেয়া এক ভাষণে শেখ হাসিনা বলেছিলেন,**  
“আমি আব্বার মাথার কাছে বসে আস্তে আস্তে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলাম।আর এটা ছিলো আমার রুটিন ওয়ার্ক।আমি সব সময় তা করতাম।ভাবতাম এটা না করতে পারলে আমার জীবনই বৃথা।আব্বা যখন খাটে শুইতেন,বালিশটা নামিয়ে আমার বসার জন্য একটা জায়গা করে দিতেন সে নিজেই।আমি আব্বার মাথার কাছে বসে মাথায় হাত বুলাচ্ছিলাম। মা তখন আমার পাশে এসে বসলেন।সে বললেন,‘আজ সারা দেশের মানুষ তোমার দিকে তাকিয়ে আছে।সামনে তোমার বাঁশের লাঠি, জনগণ আর পেছনে বন্দুক।এই মানুষদের তোমাকে বাঁচাতেও হবে – এই মানুষের আশা আকাঙ্খা পূরণ তোমাকে করতে হবে।অনেকে অনেক কথা বলবে – তোমার মনে যে ঠিক চিন্তাটা থাকবে –তুমি ঠিক সেই কথাটা বলবে – আর কারো কথায় কান দেবা না।তোমার নিজের চিন্তা থেকে যেটা আসবে যেভাবে আসবে – তুমি ঠিক সেই ভাবেই কথাটা বলবা’।এই ছোট্ট কথা টুকু মা আমার আব্বাকে ঐ সভায় যাবার আগে বলে দিয়েছিলেন। ”

এমন অজানা চমক ঘটনা যেই ভাষনের জন্য সৃষ্টি হয় সেই ভাষণ পৃথিবীর সেরা ভাষণের স্থানটি জয় করবে সে জন্য এই ভাষণটিকে বিদেশী বেশ কয়েকটি ভাষায় মুদ্রিত ও পঠিত হয়।সেই সময় নেলসন ম্যান্ডেলা এ ভাষণটিকে [স্বাধীনতার মুল](https://www.google.com/url?sa=t&rct=j&q=&esrc=s&source=web&cd=2&cad=rja&uact=8&ved=0ahUKEwiOnan_7NHVAhWEtI8KHSYcCmAQFggrMAE&url=http%3A%2F%2Fwww.projonmokantho.com%2Fdetail.php%3Fid%3D46934&usg=AFQjCNHUUOj7gpseT1Zk5gsNJH0NGNg5Aw)দলিল হিসাবে আখ্যায়িত করেন।  
……..[এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এ বারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম!](https://www.google.com/search?safe=active&client=firefox-b-ab&q=%E0%A7%AD+%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A3%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97+%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%A3+mp3&sa=X&ved=0ahUKEwiOnan_7NHVAhWEtI8KHSYcCmAQ1QIIaCgH&biw=1366&bih=659)এমন গুরুত্ব পূর্ণ ভাষণের যার পরিসমাপ্তি ঘটে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৩০ লক্ষ্য শহীদদের আত্বদানে।এ স্বাধীনতা সংগ্রামে ২৬-এ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,যা ছিল তার বা অন্য কারো হয়ে ঘোষণা দেয়ার অনেক পূর্বে।২৫ মার্চে মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক ভেঙে গেলে ইয়াহিয়া গোপণে ইসলামাবাদে ফিরে যান।এবং গণহত্যা চালানোর পর পাকিস্তানি সেনারা সেই রাতেই বঙ্গবন্ধুসহ তার পাঁচ বিশ্বস্ত সহকারীকে গ্রেফতার করে।গ্রেফাতারের পূর্বে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা লিখে যান।মূল ঘোষণার অনুবাদ নিম্নরূপ:  
“এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন,আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান।বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উৎখাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক।এ কথাটি এ জন্যই বললাম কারন বঙ্গ বন্ধুর বিরুদ্ধে সেই সময় থেকে শত্রুতা শুরু হয়েছে।এ এটাও শুনতে পাওয়া যায়…স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গ বন্ধু ছিলেন পাক কারাগারে বন্দী।তার পরিবার সবাই ছিলেন ইন্ডিয়ায় তাহলে তার পরিবারে কে ছিলেন সম্মুখ যুদ্ধে?এমন সব অযথা তর্কের সমাধান পাওয়া বা আমার চোখে পড়ে সম্প্রীতি ফেবুকের কোন এক বন্ধুর পোষ্টে, যেখানে ছবি সহ সংক্ষিপ্ত বর্ননা ছিলো তারই কিছু কথা এখানে তুলে ধরলাম।ছবি:সম্ভবত অমি রহমান পিয়াল।লেখক এ তথ্যগুলো সম্ভবতঃ বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছেন আর তার কাটছিট অংশ প্রকাশ করছি।

**বঙ্গ বন্ধুর** পরিবারের বাকী সদস্যরা যখন বন্ধি হবেন,তার আগে **শেখ কামাল** পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।মে মাসের প্রথম দিকে শেখ কামাল,তখনকার জাতীয় পরিষদ সদস্য ইলিয়াস চৌধুরী ও তৎকালীন ছাত্র লীগের নেতা শেখ শহীদুল ইসলাম গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী/মুকসুদ পুর হয়ে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে  চলে গিয়েছেন।ভারতের বেলুনিয়া থেকে  সেনা বাহিনীর প্রথম যে ব্যাচটি প্রথম কমিশন লাভ করেন,তাঁদের মধ্যে শেখ কামালও ছিলেন।বঙ্গ বন্ধুর বড় ছেলে মুক্তি যুদ্ধ কালীন বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর প্রথম ব্যাচের ক্যাডেট অফিসারদের মধ্যে সে এক জন ছিলেন।সেকেন্ড লেফট্যানেন্ট শেখ কামাল প্রধান সেনা পতি এম এজি ওসমানীরর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মুক্তি যুদ্ধের পর তিনি সেনাবাহিনি থেকে রিটার্ড করেন।

দেব হাট থানার মুক্ত এলাকায় স্থানিয় জন গনের উদ্ধেশ্যে ভাষনরত মুক্তি বাহিনির প্রধান সেনাপতি ওসমানী।সাথে মেজর এম,এ জলির,ক্যাপন্টেন হুদার সাথে ![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/08/224895_2238162049407_1376355201_n.jpg)লে: শেখ কামাল।লে: শেখ কামাল ২৩ শে নভেম্ভর ১৯৭১।

** **

 

 

 

 

**শেখ জামাল:** শেখ জামালের মুক্তি যুদ্ধে যোগ দান ছিল বেশ কিছু ঘটনা বহুলের মাধ্যমে।কারন,তিনি বঙ্গ বন্ধু পরিবারের বাকী সদস্যদের সাথে ছিলেন গৃহ বন্দী।মধ্য আগস্টের এক দিন সকালে বন্দি মা আবিস্কার করলেন তার সন্তান জামাল উধাও।তখনিই বেগম মুজিব তার সন্তানকে অপহরনের অভিযোগ তুলেন পাকিস্থান সরকারের বিরুদ্ধে যা সারা বিশ্বেই আলোড়ন সৃষ্টি করেন,বিদেশি পত্র পত্রিকায় ছাপা হলো পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবের মেঝো ছেলেটিকে গায়েব করে দিয়েছেন।কিন্তু গৃহ বন্দীত্ব থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর মুজিব বাহিনির হয়ে ৫ নং সেক্টরে তিনি যুদ্ধ করলেও এ বিষয়টা প্রবাসী সরকার কৌশল গত কারনে বে-মালুম অস্বীকার করেন। এমন কি প্রবাসী সরকার ও ভারত সরকার শেখ জামালকে ফিরিয়ে দেওযার জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে পাকিস্থান সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন অনবরত। শেখ কামালের বিষয়টা নিয়ে পাক সরকার আন্তর্জাতিক মহলে বেশ বিপাকে পড়েছিলো।অথচ,তখন রনাঙ্গনে জামাল দেশের জন্য লড়ছেন। সেই সময়কার লন্ডনের সানডে টাইমস-এ সাংবাদিক হিসেবে কাজ করা এবিএম মুসা তাকে ৫ নং সেক্টরের একটা পরিখায যুদ্ধ রত অবস্থায় আবিস্কার করেন।আর সেখান থেকে ছবি তুলে সানডে টাইমস এ পাঠিয়ে দেন।কারন তিনি এমন একটা স্কুপ হাত ছাড়া করতে চাননি।আর সেই জন্য তার (এবিএম মুসা) উপর সেই খবর আর ছবি কারনে মুজিব নগর সরকার মহা ক্ষিপ্ত ছিলেন।ভারত সরকারের গোয়েন্দা দপ্তর এল খোঁজ করতে।তাদের রুষ্ট হওয়ার কারণ জামালের নিখোঁজের খবর পাকিস্তান সরকারকে বেকায়দায় ফেলেছিলো।মুসার এই ছবি ও খবর পাকিস্তানিদের একটি গুরুতর অভিযোগের হাত থেকে রেহাই দিয়ে দিল তারাও হাফ ছেড়ে বাঁচলেন।(দুঃখিত লেখাগুলো হুবহু হলো না তবে মুল বিষয় ঠিক রাখা হয়েছে)  
এর পর সম্ভবত ২ ডিসেম্বর লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকায় মুক্তি যুদ্ধের যে সব আলোক চিত্র আসে তার একটিতে সীমান্তের ১০ মাইল ভেতরে একটি রণাঙ্গনে সাব মেশিনগান ধারীদের এক জন হিসেবে ছবি ওঠে জামালের।যুদ্ধ শেষে জামাল ফিরে সেনাবাহিনীর সাধারণ লে. কর্নেল পদে যোগ দিয়েছিলেন।  
![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/08/551125_2238169169585_1029489866_n.jpg)

কৌশলগত কারনে বঙ্গ বন্ধু সুযোগ্য এই পুত্রদ্বয়ের রনাঙ্গনের খবরাখবর প্রচার হতো না বলেই অনেকের ধারনা তাদের যুদ্ধের কোন অংশিদারীত্ব নেই।এমন কি তাদের মুক্তি যুদ্ধের সক্রীয় অংশ গ্রহনে সার্টিফিকেটও নিতে পারেননি অবশেষে স্বাধীনতার ৪০ বছর পর মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয় তাদের বোন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কামাল-জামালের মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট হস্তান্তর করেন।  
বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সন্তানদের নিজের পরিবারদের’কে মৃত্যুর মুখে রেখে সে নিজে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন।কিন্তু কেনো? শুধূ মাত্র দেশের জন্য,দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য।সেই মানুষটিকে সেই পরিবারটিকে কি নিসংশভাবে হত্যা করে এ দেশেরই পদ ভ্রষ্ট ক্ষমতা লোভী কিছু সেনা কর্মকর্তা।যা ইতিহাসে কলংকিত অধ্যায় হিসাবে ১৫ই আগষ্টকে বলা হয়।  
যেই মানুষটি সেই ‘৪৮ থেকে শুরু করে ‘৭১ পর্যন্ত সময়ে ধাপে ধাপে সেই মহাজাগরণের ডাকটি দেবার জন্য নিজেকে তৈরি করেছেন ইতিহাসের সমান্তরালে।আর দেশের মানুষকে প্রস্তুত করেছেন সেই ডাকে সাড়া দিয়ে এক মহা জাগরণে সামিল হয়ে ইতিহাসে বাঙালির শ্রেষ্ঠ সময় স্বাধীনতা ও মুক্তি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন,তিনিই হলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।এমন মহান মনুষটিকে কতটা সহজেই হত্যা করে,শুধু তাই নয় শিশুকে বেহস্তের বাগান বলা হয় অথচ সেই শিশু বঙ্গ বন্ধুর কনিষ্ঠ ছেলে শেখ রাসেলকে তার ছাড় দেয়নি।তার বেচে থাকার কচিঁ কণ্ঠও তাদেরকে থামাতে পারেননি।রক্তাক্ত করলেন এক এক করে পুরো পরিবার।

> **বঙ্গ বন্ধুর পরিবারকে নিসংশ ভাবে হত্যার লোমহর্ষকর কিছু বর্ননা:**![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/08/6049457754_4c627e7d92_z.jpg)বঙ্গ বন্ধুর বাড়িতে আসার সময় সোবহানবাগে অবস্থানরত সৈন্যরা বিগ্রেডিয়ার জামিলের পথরোধ করে,জামিল নিজের পরিচয় দিলেও পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক তাকে অগ্রসর হতে দেওয়া হয়নি আর তথাপি জামিল জোর পূর্বক জীপ নিয়ে এগোতে চেষ্টা করলে তাকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়।এদিকে সৈন্যদের অনেকে মুজিবের বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে এবং রেহানার বন্ধ কামরায় ঢুকে জিনিস পত্র তছনছ করতে থাকে।বঙ্গ বন্ধু চেক লুঙ্গী ও সাদা পাঞ্জাবী পরিহিত মুজিব নিজ কামরা থেকে বের হয়ে আসেন।সিড়িতে হুদার সঙ্গে দেখা হলে মুজিব জিজ্ঞাসা করেন
>  **–**ও’তুমি, কি চাও ?
>  -আমরা আপনাকে নিতে এসেছি।মুজিব একটু গম্ভীর গলায় বললেন।
>  -তোমরা কি আমার সঙ্গে তামাশা করছো!আমি দেশকে সর্বনাশের পথে ঠেলে দিতে পারিনা।
>  হুদা ঘাবড়ে যায়,এদিকে বাড়ির একজন কাজের লোক ক্রন্দনরত অবস্থায় বলে উঠেন যে –কামাল ভাই আর নেই;
>
>
>
> হাবিলদার মোসলেহ উদ্দিন ছাঁদ থেকে নিচে নামা অবস্থায় সিঁড়িতে মুজিবকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সাথে সাথে পেছন থেকে তাঁর স্বয়ংক্রিয় বন্দুক দিয়ে মুজিবের সমস্ত পিঠে গুলি করে ঝাঁঝরা করে ফেলে,বঙ্গ বন্ধু লুটিয়ে পড়েন মাটিতে।এদিকে সৈন্যরা মুজিবের বাড়ি থেকে হাতের সামনে যা যা পাচ্ছিলো তাই তা লুটে করছিলো,বঙ্গ বন্ধুর স্ত্রী মিনতি করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেন
>  -তোমরা সবকিছু নিয়ে যাও কিন্তু আমাদের জীবন নিয়োও না;কিন্তু নীচে বন্দুকের গুলির বিকট শব্দে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে এসে তিনি উপলব্ধি করেন,হয়তো মুজিব আর নেই।তিনি ব্যাকুল হয়ে কেঁদে উঠে বলেন,
>  -তোমরা ওকে শেষ করে দিয়েছ, আমাকেও আর রেখো না
>
>
>
> বেগম মুজিবকেও গুলি করে মেরে ফেলা হলো সে সময়।শেখ জামাল,তার স্ত্রী রোজী এবং কামালের স্ত্রী সুলতানা তখন ছিলো ড্রেসিং রুমে,বন্দুক ![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/08/6048824539_f6a2e56fab_z.jpg)ধারীরা সেই কামরায় ঢুকে স্টেনগান দিয়ে তিন জনকে চিরতরে শেষ করে দিল।তারা নাসের কে একটি বাথরুমে আবিষ্কার করে,তাকে ওখানেই হত্যা করা হয়।রাসেল একটা ঘরের এক কোনায় ভীত হয়ে বসেছিল,তার চোখে অসহায়ের পানি।সে কেঁদে কেঁদে বলে,
>  -আমাকে আমার মায়ের কাছে নিয়ে চলো;
>  এক জন বন্ধুক ধারী বলে উঠে,
>  -চল তোকে তোর মায়ের কাছে পৌঁছে দিবো।
>  সে সময় এক জন পুলিশ কর্ম কর্তা রাসেলকে হত্যা না করার অনুরোধ জানালে তাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।এদিকে রাসেলের এক হাতে গুলি করা হয়, রাসেলের প্রচন্ড ব্যথায় ককিয়ে উঠে তার জীবন ভিক্ষার জন্য আবেদন করে,একটি বুলেটের মাধ্যমে তার জীবন ভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়।
>  ফারুক ও রশীদ একটু দেরী করে মুজিবের বাড়িতে ঢোকে।তারা পুরো বাড়ি পরিদর্শন করে দেখে,সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক হয়েছে কিনা।ফারুক এই সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার জন্য ঐ মুহূর্তে কাউকে ফোন করে।
>  শেখ মণি এদিন অনেককে ফোন করেও কোথাও কোন থেকে সাহায্য পাননি।এর পর ইতোমধ্যে জোর পূর্বক বাড়ির ভেতরে প্রবেশকারী আর্মির লোক জনদের সঙ্গে কথা বলার জন্য বের হয়ে আসেন তিনি,তাঁর স্ত্রী আরজুও বসার ঘরে ঢুকবেন,এমতাবস্থায় এক জন বন্দুক ধারী স্বামী স্ত্রী উভয়ের উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়ে।দু’জনেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।মণি সাথে সাথে মারা যান কিন্তু স্ত্রী তখনও জীবিত,তিনি কাতর কণ্ঠে পানির আবেদন জানান।মনির,তিন বছরের ছেলে তাপস জিজ্ঞাসা করে –
>  -মা, তোমরা মাটিতে পরে আছো কেন ? কথা বলছো না কেন ?তখনও আরজু কাউকে উদ্দেশ্য করে বলেন –
>  -আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চলেন,আমার দুটো ছোট ছোট বাচ্চা রয়েছে।সে সময় তাকেও রেহাই দেননি কেউ।তৃতীয় বারের মত মা হতে চলা আরজুর এটাই ছিল তার শেষ বাক্য ।

বঙ্গ বন্ধুর কন্যা বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে এ শোক বয়ে পুনরায় এ দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েছেন যা ছিলো কল্পনাতীত।তার সুশাসনে দেশকে এখন বিশ্বে মধ্য আয়ের স্বীকৃতি দিয়েছেন।মাননীয় প্রধান মন্ত্রী তার বিচক্ষনাতা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে বঙ্গ বন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করবেন এটাই আমাদের কাম্য।কবির ভাষায় আমরা শান্তনা রূপ এখন কেবল বলতে পারি…  
**-‘যত দিন রবে পদ্মা,মেঘনা,গৌরী,যমুনা বহমান**  
**তত দিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।“**মহান মানুষ জাতির জনক বঙ্গ বন্ধুর কিছু অবিস্বণীয় কথা:  
(y) সাম্প্রদায়িকতা যেন মাথাচারা দিয়ে উঠতে না পারে।ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র বাংলাদেশ।মুসলমান তার ধর্ম কর্ম করবে।হিন্দু তার ধর্ম কর্ম করবে।বৌদ্ধ তার ধর্মকর্ম করবে।কেউ কাউকে বাধা দিতে পারবে না।  
(y) সাত কোটি বাঙ্গালির ভালোবাসার কাঙ্গাল আমি।আমি সব হারাতে পারি,কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা হারাতে পারব না।  
(y) দেশ থেকে সর্বপ্রকার অন্যায়, অবিচার ও শোষণ উচ্ছেদ করার জন্য দরকার হলে আমি আমার জীবন উৎসর্গ করব।  
(y) এ স্বাধীনতা আমার ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না খায়। এই স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এদেশের মানুষ যারা আমার যুবক শ্রেণী আছে তারা চাকরি না পায় বা কাজ না পায়।  
(y) গণ আন্দোলন ছাড়া,গণ বিপ্লব ছাড়া বড় বিপ্লব হয় না।  
(y) অযোগ্য নেতৃত্ব,নীতি হীন নেতা ও কাপুরুষ রাজনীতিবিদদের সাথে কোন দিন এক সাথে হয়ে দেশের কাজে নামতে নেই।তাতে দেশ সেবার চেয়ে দেশের ও জনগণের সর্বনাশই বেশি হয়।  
(y) আমার সবচেয়ে বড় শক্তি আমার দেশের মানুষকে ভালবাসি, সবচেয়ে বড় দূর্বলতা আমি তাদেরকে খুব বেশী ভালবাসি।  
(y) যে মানুষ মৃত্যুর জন্য প্রস্তত,কেউ তাকে মারতে পারে না।  
(y) যখন তুমি কোন ভদ্রলোকের সাথে খেলবে তখন তোমাকে ভদ্রলোক হতে হবে,  
যখন তুমি কোন বেজন্মার সাথে খেলবে তখন অবশ্যই তোমাকে তার চাইতে বড় বেজন্মা হতে হবে।নচেত পরাজয় নিশ্চিত।  
(y) প্রধানমন্ত্রী হবার কোন ইচ্ছা আমার নেই।প্রধানমন্ত্রী আসে এবং যায়।কিন্তু, যে ভালোবাসা ও সম্মান দেশবাসী আমাকে দিয়েছেন, তা আমি সারাজীবন মনে রাখবো।  
(y) ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত থাকে না।বিদেশ থেকে ভিক্ষা করে এনে দেশকে গড়া যাবে না।দেশের মধ্যেই পয়সা করতে হবে।  
(y) যিনি যেখানে রয়েছেন,তিনি সেখানে আপন কর্তব্য পালন করলে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে না।  
(y) সরকারী কর্মচারীদের জনগণের সাথে মিশে যেতে হবে।তারা জন গণের খাদেম,সেবক,ভাই।তারা জন গণের বাপ,জন গণের ছেলে,জন গণের সন্তান।তাদের এই মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।  
(y) সমস্ত সরকারী কর্মচারীকেই আমি অনুরোধ করি,যাদের অর্থে আমাদের সংসার চলে তাদের সেবা করুন।  
(y) গরীবের উপর অত্যাচার করলে আল্লাহর কাছে তার জবাব দিতে হবে।  
(y) জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী।এই কথা মনে রাখতে হবে। আমি বা আপনারা সবাই মৃত্যুর পর সামান্য কয়েক গজ কাপড় ছাড়া সাথে আর কিছুই নিয়ে যাব না। তবে কেন আপনারা মানুষকে শোষণ করবেন,মানুষের উপর অত্যাচার করবেন?  
(y) দেশের সাধারণ মানুষ,যারা আজও দুঃখী,যারা আজও নিরন্তর সংগ্রাম করে বেঁচে আছে,তাদের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখকে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির উপজীব্য করার জন্য শিল্পী,সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।  
(y) বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ না থাকলে আমাদের স্বাধীনতার অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।  
(y) বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবেই হবে।  
**ফিদেল কাস্ত্রো**[শেখ মজিবরের মৃত্যুতে বিশ্বের শোষিত মানুষ হারাল তাদের একজন মহান নেতাকে আর আমি হারালাম এক অকৃর্তিক বিশাল হৃদয়ের বন্ধুকে](http://bani.com.bd/321/1680/)[আমি হিমালয় দেখিনি কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি ব্যাক্তিত্ব এবং সাহসিকতায় তিনিই হিমালয়।](http://bani.com.bd/321/1482/)**ইয়াসির আরাফাত:**  
[আপোষহীন সংগ্রামী নেতৃত্ব এবং কুসুম কোমল হৃদয় ছিল মজিবের চরিত্রের বৈশিষ্ট।](http://bani.com.bd/354/1681/)

 ছবি ও তথ্য: অনলাইন সংগৃহীত

---

Comments: 11 — https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a7%9c-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%a0%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%a4-%e0%a7%a7%e0%a7%ab/#comments
