# বড়ই বিচিত্র হেফাজত জঙ্গিদের নাস্তিক দমনের লং মার্চ

- Author: [আহমেদ জালাল](https://sonelablog.com/author/ahmed-jalal/)
- Published: 2013-04-01T00:11:25+00:00
- Updated: 2013-04-01T00:11:45+00:00
- Category: [অন্যান্য](https://sonelablog.com/category/misc/others/), [এদেশ](https://sonelablog.com/category/this_country/), [বিবিধ](https://sonelablog.com/category/misc/), [মুক্তিযুদ্ধ](https://sonelablog.com/category/freedom-war/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a7%9c%e0%a6%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a4-%e0%a6%9c%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%bf/

---

: বড়ই বিচিত্র হেফাজত ইসলামের নাস্তিক দমনের লং মার্চ। গনপ্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে আলোচিত একটি শব্দ নাস্তিক। গুগুল হিসাবে বিশ্বে ১১ দশমিক ৯ ভাগ অর্থাৎ ৮ বিলিয়ন মানুষ নাস্তিক। নাস্তিকদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলাম লং মার্চ করার ঘোষনা দিয়েছে। বিস্ময়কর বিষয়টি হলো লং মার্চের আবিস্কারক চীনা কমিউনিষ্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বখ্যাত মাওসেতুং। যিনি ছিলেন পুরোদস্তুর নাস্তিক। প্রশ্ন হচ্ছে নাস্তিকের দেখানো পথে চলে নাস্তিক দমন। নাস্তিক কে – ই অনুসরন করে নাস্তিক দমনে লং মার্চ’র ঘোষনা নষ্টামী অথবা ভন্ডামী বলাটা বেমানান হবে ? এই নাস্তিকরাও কিন্তু একটা ধর্মে বিশ্বাস করে। একই সঙ্গে লালন ও ধারন করে। সেই ধর্মের নাম কি! মানবতা। মানবধর্ম। মানবের কল্যান। অর্থাৎ মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডের অগ্রসেনানী। এদের সূর্য সৈনিকও বলা যেতে পারে। নক্ষত্র। এরা মানবতা রক্ষায়-ই কাজ করছেন। কোন অন্যায় অপকর্ম করছেন না। ভন্ডামীতে লিপ্ত নয়। নাস্তিকদের মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডের দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে কেউ দেখাতে পারবে ? বরংচ যাদের নাস্তিক বলে গালি দেয়া হয় এরাই ভন্ডদের মুখোশ উন্মোচনে সর্বদা জাগ্রত। মুক্তমনারাই সকল ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে মানব কল্যানে নিবেদিত।  
সময় সময় নাস্তিকতার ফেনা তুলে দেশের মুক্ত চেতনার প্রথিতযশা লেখক,কবি সাহিত্যিক, সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় ধর্মের নামে অধর্মকারীরা। ধর্ম গেল ধর্ম গেল জাত গেল জাত গেল। এভাবেই ধর্মের লেবাজ সেটা এক প্রকৃতির মানুষ নামের কীট সভ্য সমাজে অসভ্যতা চালিয়ে যাচ্ছে। এরাই বিভিন্ন সময়ে প্রান কেড়ে নিচ্ছে মুক্ত চেতনার মানুষদের। আর কতকাল ধর্মের দোহাই দিয়ে নিকৃষ্টতম কাজ করবে আষ্ট্রেপৃষ্ট্রে গোরামী,কুসংস্কার আর মূর্খ্যতায় ভরপুর এসব ধর্ম ব্যবসায়ীরা ? ধর্মের নামে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টিতে মত্তরা এদেশের খ্যাতনামা অনেক ব্যক্তিকেই নাস্তিক মুরতাদ ঘোষনা দিয়েছে। দিচ্ছে। মুরতাদ ঘোষনাকারীদের কি সভ্য সমাজের মানুষ বলা যায় ? ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। ধর্ম নিয়ে এতো হৈ চৈ কেন ? ধর্ম কি এতোই নড়বড়ে! ঠুনকো জিনিস। মানে কাচের মতো ভেঙ্গেও যায় ? গর্দব! ধর্ম তো কোন কাচের অথবা ঠুনকো জিনিস নয়। মুলত অতিউৎসায়ী কিংবা ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধর্মকে অবমাননা করে চলছে। ধর্মীয় কুসংস্কার,ধর্মান্ধতা,উগ্র মৌলবাদ,নারী অধিকার ও স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার মুক্ত চেতনার মানুষ। বিপরীতে গোড়ামী ওরা আকড়ে রাখতে চায়। তা না হলে ধর্ম ব্যবসাটা ভালো জমবে ?  কারো বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এটা কি অন্ধকার যুগ চলছে ? কেন বাক স্বাধীনতায় নগ্ন হস্থক্ষেপ ? বাক স্বাধীনতায় হস্থক্ষেপ গলায় ছুড়ি বসানোর শামিল নাকি মানুষ এখনও আদিম যুগে ফিরে যাওয়া। কোনটি ? আদিম যুগের গুহায় বসবাস সেখান থেকে মানুষ পর্যায়ক্রমে সভ্যতায় রূপ নেয়। একদল মানুষ ছিল যারা মানবতার চর্চা করত। প্রতিবাদ করত মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডের। আবার ধর্মবেত্তারা প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে চালাতো বর্বরতা। আগুনে পুড়িয়ে মারা হতো মুক্তমনাদের। সেই অসভ্যতায় ফিরে যাওয়ার অশুভ সংকেত নাকি দীর্ঘ ৯ মাসের পাকহানাদারদের সঙ্গে যুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশে ?  একটি স্বাধীন জাতির জন্য লজ্জাকর বিষয় মুক্ত চিন্তার জগত’র প্রতিবন্ধকতা। একাত্তরে ধর্মের দোহাই দিয়ে হত্যাযজ্ঞ, মা বোনদের সম্ভ্রভহানী করেছে। আর এখন আস্তিক নাস্তিক এর নাম করে দেশকে তালিবানী স্টাইলের দিকে ধাবিতের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে নানা অপতৎপরতার মিশনে ধর্ম ব্যবসায়ীরা। জামায়াতে ইসলামীর মুদ্রার এপিট আর ওপিট হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম। যার প্রমান একাত্তরের নরপিচাশদের বিচার এবং জামায়াত শিবিব নিষিদ্ধ’র দাবীতে তরুন প্রজন্মের গড়ে ওঠে “শাহবাগ আন্দোলন”। এরপরই হেফাজত ইসলাম’র আস্ফালন “আমরা আস্তিক আর ওরা নাস্তিক”। শাহবাগের আন্দোলনের গতি ভিন্ন খাতে প্রভাহিত করতে জনমনে ধর্মীয় সুরসুড়ি জাগিয়ে নাস্তিক সন্ধানে মরিয়া হয়ে ওঠে ‘হেফাজতে ইসলাম’। তাল মিলাচ্ছে অন্যান্য ধর্ম ব্যবসায়ীরা। দেয়া হয় সরকারকে আল্টিমেটাম। হেফাজত ইসলামের বর্বর আস্ফালনে নাস্তিক ধরতে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। আজব ? শাহবাগ আন্দোলনের গতি কমিয়ে দিতে খড়গের বেড়াজালে যেন বন্দী ব্লগারদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারী আগ্রাসন। সত্যিই বিচিত্র! তাজ্জব বনে যেতে হয় মুক্ত মনাদের। পৃথিবীর কোন ব্যক্তির অধিকার নেই যে নাস্তিক বা মুরতাদ বলার ঘোষনা রাখেন। সুপার পাওয়ার দুনিয়ার কাউকেই এই লাইসেন্স দেন নাই। ইসলাম ধর্মের প্রবক্তাও কাউকে কাফের,মুরতাদ,নাস্তিক না বলার পরামর্শ দিয়েছেন। কারন কারো মনের খবর কথাতো কেউ জানে না। শুধু তাই নয় তিনি বলেছেন, তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করিও না।  
পরিশেষে, মানবতা রক্ষায় ধর্ম ব্যবসায়ী মূখ্যরা ‘চাঁদে সাঈদীকে দেখা গেছে’ এরকম অপপ্রচারও চালিয়েছে। নানা কৌশলে ছড়িয়েছে ছড়াচ্ছে জনমনে বিভ্রান্ত। যোগান দিচ্ছে অর্থের। ধর্মীয় সুরসুড়ি জাগিয়ে এদেশের নারী পুরুষদের জঙ্গীবাদী করে তুলছে। এসব ধর্ম ব্যবসায়ী ভন্ডদের রুখতে রাষ্ট্রের যেমন দায়িত্ব রয়েছে তেমনি রয়েছে আপামার জনসাধারনের। ধর্ম তো শান্তির বার্তা। ধর্মের জুজু তুলে অশান্তি,নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি এটা কোন ভাবেই ধর্মের মেনুফেস্ট হতে পারে না। ফতোয়ার যুগ তো শেষ হয়ে গেছে। ধর্ম ব্যবসায়ীদের প্রধান ব্যবসা ফতোয়া। মোল্লা তন্ত্রের ফতোয়ার নামে কত নারী যে ধর্ম ব্যবসায়ীদের শিকার হয়ে প্রান বিসর্জন দিয়েছে তার হিসেব কি আছে ? কেঁপে ওঠে না বিবেগ? মানবপ্রেমিকদের এককাতারে শামিল হয়ে ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর বিকল্প নেই। আরো বলিষ্ঠ কন্ঠে দেশের প্রতিটি পাড়া মহল্লা,স্কুল,কলেজে ধর্ম ব্যবসায়ীদের মুখোশ উন্মোচনে ভুমিকা রাখাটা জরুরী।  ইসলামি আন্দোলন- হেফাজতি নামক জঙ্গিরা একত্রিত হয়ে দেশের স্বাধীনতা, ইতিহাস, ঐতিহ্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। বিএনপিও  মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষে। ইসলামি নামধারী জঙ্গি সবাই এক।  হেফাজতিরা সরকারকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে ব্লগারদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছে।  সরকার কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তরুণদের পক্ষে অবস্থান নিবে নাকি জঙ্গিদের ?  
লেখক : আহমেদ জালাল  
(সাংবাদিক/রাজনৈতিক বিশ্লেষক)  
Mail : ahmedjalalbsl@gmail.com

---

Comments: 6 — https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a7%9c%e0%a6%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a4-%e0%a6%9c%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%bf/#comments
