# বোধ

- Author: [জিসান শা ইকরাম](https://sonelablog.com/author/jeshan4u/)
- Published: 2016-08-08T18:57:25+00:00
- Updated: 2016-08-09T04:46:03+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- Tags: চোখের পর্দা
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%a7-3/

---

২০১৪ তে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন যাবার পরদিন হেঁটে হেঁটে নগরের বেশ কিছু এলাকা দেখি আমি। ক্লান্তি অবসানে কিছুটা বিশ্রামের জন্য সবুজ লনের একটি বেঞ্চিতে বসে আছি। অনেক পাখি এলো আমার চারপাশে। পায়ের পাতার উপরে দাঁড়াল, দু একটা প্রায় কোল ঘেঁসে উড়েও বেড়াতে লাগল। আশেপাশের বেঞ্চিতে বসা/দাঁড়ান মানুষ জন পাখিকে খাবার দিচ্ছে, হাতে খাবার মেলে ধরছে, পাখি হাতে বসে খাচ্ছে। বুঝলাম আমার কাছে আসা পাখিরা খাবারের আসায় ঘুর ঘুর করছে। কিন্তু পূর্বে না জানার কারণে, কোন খাবার আমি নেইনি, বলে পাখিদের খাবার দিতে পারিনি।  
[!\[IMG_8377\](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/08/IMG_8377.jpg)](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/08/IMG_8377.jpg)  
হঠাৎ মনে হল, আরে এই পাখিরা মানুষকে ভয় পায়না কেন? এরা এত কাছে, এমনকি হাতের উপর বসে খাবার খাচ্ছে, কোন ভয় ডর ব্যতিরেকেই। জানলাম যে, এখানে পাখি কেউ ধরে না, পাখি কেউ মারে না। মানুষের কাছে ধরা পরা এবং মরে যাবার কোন বোধই এদের নেই, এমন হতে পারে, এই ভাবনা পাখিদের মাঝেই নেই বলে এরা মানুষকে ভয় পায়না।

[!\[মেলবোর্নের একটি স্থান\](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/08/13957431_210151272720894_1472065380_n.jpg)](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/08/13957431_210151272720894_1472065380_n.jpg)

*মেলবোর্নের একটি স্থান*

মেলবোর্ন বা সিডনিতে প্রচুর মানুষ হেঁটে , ট্রেন, গাড়িতে চলেন। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে প্রচুর মানুষের জটলা হয়। সিডনির অপেরা হাউজ দেখার জন্য সন্ধ্যার পরে এত বেশি ভিড় হয় যে গায়ে গায়ে মানুষ দাঁড়ান থাকে। মেলবোর্ন এর পরিচিত বাঙ্গালী এবং হোটেলের রিসিপশনিষ্ট মেয়েদের কাছে জিজ্ঞেস করেছি যে এই যে বিভিন্ন ফেস্টিভেল বা সাধারণ সময়ে মাঝে মাঝে এত ভিড়ের সুযোগে, বখাটে ছেলেরা মেয়েদের গায়ে হাত দেয় না? বাঙ্গালীরা বলেছেন, প্রশ্নই ওঠেনা। আর অস্ট্রেলীয় হোটেলের রিসিপশনিষ্ট মেয়ে দুজন প্রশ্নের অর্থই বুঝতে পারেনি, মানে গায় কেন হাত দিবে?

ছবি আর দেবো না, এটি ছবি ব্লগ নয়।

বিভিন্ন সময়ে আমি কানাডা, থাইল্যান্ড, চীন, উত্তর কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, দক্ষিন কোরিয়া ভ্রমণ করেছি। থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনের নারীরা সর্টস এবং টি সার্ট পরে চলাফেরা করে বেশি। পথে প্রচুর ভির থাকে। থাইল্যান্ড, চীন, দক্ষিন কোরিয়া, মালয়েশিয়ার ফুটপাথের মার্কেটগুলোতে ভিড় আমাদের দেশের তুলনায় অনেক বেশি। ট্রাম এবং ট্রেনে বসার সিটের চেয়ে দাঁড়ান যাত্রী  বেশি। উপরে ঝুলান হ্যান্ডেল ধরে যাত্রীরা যাতায়াত করেন। বিভিন্ন জনের সাথে আলাপ করে জেনেছি, এসব দেশে ভিড়ের মধ্যে নারীদের শরীরে হাত দেয়ার কোন ঘটনা নেই। সবচেয়ে বেশি ভ্রমন করেছি থাইল্যান্ডে, যেখানে নারীরা আমাদের দেশের মানুষদের ভাষায় ‘ রান বের করে হাঁটে ‘। আমি মাঝে মাঝে স্বল্প দূরত্বে মটর বাইকে যেতাম। জ্যাম এড়িয়ে অল্প সময়ে অল্প খরচে পৌছে যেতাম। শেষ বার যখন গেলাম, আমার হোটেলের সামনেই ছিল ভাড়ায় মটর বাইকের স্ট্যান্ড। দেখতাম মেয়েরা অনেক রাতেও ভাড়ার মটর বাইকে উঠে চলে যেতো। ছোট ভাই সম ব্যাংককের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছে জিজ্ঞেস করে জেনেছি, ভিড়ের মধ্যে নারীদের বিভিন্ন স্থানে হাত দেয়ার কোন ঘটনা এখানে ঘটেনি কখনো । রাতে মেয়েরা ভাড়ার মটর বাইকে চলাফেরা করে নির্বিঘ্নেই।  
কানাডার টরেন্টোতে দেখেছি গভীর রাতে নারীরা একা একাই চলাফেরা করেন। আমি যে বাসায় ছিলাম, সে বাসারই এক মেয়ে রাত ৪ টায় ট্রেন ধরার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে যেতো একা একা, দুই কিলোমিটারের বেশি সে একাই হেঁটে যেতো ট্রেন ষ্টেশনে।

সর্বশেষ গেলাম দক্ষিন কোরিয়ার শিউল। কিম আবদুল্লাহ ভাইর কাছে জানলাম ওখানকার মেয়েদের নিরাপদ জীবন। একটি সম্বর্ধনা সভায় আলাপ হল ফিলিপাইনের এক সমাজ কর্মী, অভিনেত্রী এবং টিভি সেলিব্রেটির সাথে (এনার কথা লিখবো ভবিষ্যতের এক লেখায় )। খুবই আলাপি ওনাকে জিজ্ঞেস করলাম তাদের দেশে ভিড়ের সুযোগে ছেলেরা মেয়েদের গায়ে হাত দেয় কিনা। চোখ বড় বড় করে জিজ্ঞেস করলো, কেন দেবে? কিছুটা বুঝিয়ে বলার পরে তিনি বললেন ‘ জিসান এমন ঘটনা আমাদের দেশে ঘটেনি কখনো, তাই আমার চিন্তার মাঝে এটি ছিলনা বলে আমি তোমার প্রশ্ন বুঝতে পারিনি।’

আমাদের দেশে কেন এসব ঘটে? আমি নিজে গাউছিয়ার ভিড়ে দেখেছি এমন ঘটনা ঘটতে। অসহায় মেয়ে কোন ভাবে দৌড়ে চলে গিয়ে নিজের শরীর বাঁচায়। ভারতের কলকাতায় বাসের মধ্যে নারীরা শারীরিক লাঞ্চনার শিকার হন, পরিচিতজনদের কাছে শুনেছি।  আমাদের দেশের মেয়েরা তো রান দেখিয়ে চলেন না, টি-সার্ট বা প্রায় স্যান্ডো গেঞ্জীর মত জামা গায়ে দেননা। যে সমস্ত দেশের মেয়েরা এমন ভাবে চলাফেরা করেন তারা তো এমন পরিস্থিতির শিকার হয়না।  
আর আমাদের দেশের মেয়েরা সালোয়ার কামিজ ওড়না পরিধান করেও রেহাই পাচ্ছে না  পুরুষের লোলুপ কামনার হাত থেকে। থাইল্যান্ড, চীন, উত্তর কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, দক্ষিন কোরিয়া, কানাডার পুরুষদের এমন মনোভাব সৃষ্ট হল কিভাবে? কিভাবে এবং কারা এদের এমন আচরণে অভ্যস্থ করেছে?  
আর আমরা এত ধর্মীয় অনুশাসনের মাঝে থেকেও কেন এমন হলাম? আমাদের এই আচরন কিভাবে পাল্টাবে? কবে পাল্টাবে?

---

Comments: 40 — https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%a7-3/#comments
