# “বৈশ্বিক জলবায়ুর নাজুক পরিবর্তনে পৃথিবী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে”

Author: মনির হোসেন মমি
Published: 2019-08-24
Category: সমসাময়িক
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%9c%e0%a6%b2%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%95-%e0%a6%aa%e0%a6%b0/

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2019/08/108008638_gettyimages-531500792-300x169.jpg)  
পুরো পৃথিবীর মানুষের মাঝে হিড়িক পরে গেছে কার আগে কে মহাশুন্যে যাবেন।পৃথিবীর অধিকাংশ উন্নত দেশগুলো ইতি মধ্যে অনেকে মহাশুন্যে বসবাস শুরু করে দিয়েছেন… বাংলাদেশের মানুষ জনের মধ্যও শুরু হয়ে গেছে মহাশুন্যে বসবাস করতে যাবার প্রস্তুতি।শুধু কাসেম মোল্লার বংশধররা পৃথিবী ছেড়ে কোথাও যাবেন না বলে যেন পণ করে বসে আছেন।তাদের অভিমত পৃথিবী এ ভাবে ধ্বংস হবে না ধ্বংস করবেন স্বয়ং আল্লাহ যাকে আমরা কিয়ামত বলে থাকি।কিন্তু আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তার সন্তান কিছুতেই তার বাবাকে বুঝাতে পারছেন না যে এ পৃথিবীকে ধ্বংস তো আল্লাহই করবেন তবে তা মানুষদের দিয়েই করাবেন যেমনটি কারো মৃত্যু হলে লোকেরা বলে কি ভাবে মারা গেল লোকটি তখন উত্তর আসে ওমুক রোগে অথবা অ্যাকসিডেন্টে।তাতে আল্লাহ ভগবান ঈশ্বর কারো কোন দোষ দেয়া যায় না তেমনি পৃথিবীকেও মানুষ ধ্বংসের দিকে ধাপিত করছেন ।এ ক্ষেত্রে পৃথিবীতে মানুষদের মানুষ হয়ে জন্ম নেয়াটাই হলো সব চেয়ে বড় ভুল।তাছাড়া আমাদের শেষ নবীতো বলেই গিয়েছেন ১৪০০ হিজরীর পর পৃথিবীতে কি ঘটবে তা নিজেই জানেন না সেই হিসাবে পৃথিবীতে আমরা এখন বোনাস হিজরীতে বসবাস করছি।

ঠিক তাই লাভাময় পৃথিবী ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে যে মানব বসবাসের উপযোগী হয়েছিলো তা আজ আবারো অতীতে ফিরে যাচ্ছে।এক সময় পৃথিবীতে অরণ্যের অভাব ছিলো না।ক্রমান্বয়ে সভ্যতার অগ্রগতি জনসংখ্যার বৃদ্ধির ফলে  নগারায়ণে প্র্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।নগরায়ণের সুবিদার্থে অরণ্যের ধ্বংসের খেলায় খেলে উঠে যতটা না তার চেয়ে কম সংখ্যক অরণ্যের সৃষ্টি হয়।আমরা জানি যেখানে যত বেশী গাছপালা বনাঞ্চল সেখানে তত বেশী বিসুদ্ধ আবহাওয়া।আরাম দায়ক পরিবেশ আর প্রাকৃতিক দূর্যোগ নেই বললেই চলে।সুতরাং পরিবেশের ভারসম্যের উপর নির্ভর করে সেখানকার প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতার নমুনা।

বর্তমান বিশ্ব এখন আবহাওয়ার বৈরীতার [চরম সীমানায়](https://www.dw.com/bn/%E0%A6%9C%E0%A6%B2%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A7%81-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC-%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC/a-45796556) পৌছে আছে।যে কোন সময় ঘটতে পারে ভয়ংকর বিপর্যয়।আর এর জন্য দায়ী এই মানব গোষ্ঠী।এক সময় মানুষ গুহায় বসবাস করত।এরপর ক্রমবর্ধমান সভ্যতার অগ্রগতিতে ঘর দুয়ার তৈরী করে বিভিন্ন উচ্চ আধুনিকতায় থাকতে পছন্দ করেন।যার কারনে ইটের ব্যাবহার শুরু হয়।এ সব ইট তৈরীতে কয়লার ব্যাবহার ছিলো সর্বোত্র যা পরিবেশকে দুষিত করে।এর পর ক্ষমতা আর প্রভাব প্রতিপত্তির আকাঙ্খায় মরানাস্ত্র তৈরীতে কিংবা পারমানবিক বিদ্যুৎ তৈরীতে নির্গত হয় কার্বনডাই অক্সাইড যা মানুষের জীবনকে স্বাভাবিক রাখা অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস করে দিচ্ছে ক্রমশত।মানব সভ্যতার বংশ বৃদ্ধিতে পৃথিবীর বন জঙ্গলগুলো কমতে থাকে।আপথ পথ হয়,আঘাট ঘাট হয়।খোলা মাঠের পরিমান ধীরে ধীরে কমতে থাকে সেই সাথে মানব জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন বহনের গাছ পালাগুলোর পরিধি কমতে থাকে যা এখন তুলনামুলক বিশ্বের কোথাও কোথাও অনেকটা শুন্যের কোটায়।

যার ফল স্বরূপ জলবায়ুতে বেপক পরিবর্তন আসে।আমাদের দেশের উদাহরণ দিয়েই যদি বলি তবে বলা যায় ষড় ঋতুর এ দেশে এখন আমরা কয়টি ঋতুকে পুরোপুরি দেখতে পাই।কখনো শীতের মৌসুমে শ্রাবনের বৃষ্টির খেলা কখনো বা  সূর্যের তাপদাহ অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে যায়।জলবায়ুর এমন অ-স্বাভাবিক পরিবর্তনে সিআরআই এর ঝুকিঁ সূচক এক গবেষণায় জানা যায় ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সব চেয়ে বেশি ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছিলো সেই সব দেশগুলোর মধ্যে হন্ডুরাস আর তার পরেই আছে মিয়ানমার,হাইতি এছাড়া  নিকারাগুয়া চতুর্থ স্থানে,ফিলিপাইন ও বাংলাদেশ যথাক্রমে পঞ্চম এবং ষষ্ঠ স্থানে৷

গত ২০/২২ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বে বিভিন্ন কু-ফলের কারনে মারা যায় প্রায় ৫ লাখ ২৮ হাজারেরও বেশি মানুষ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ধারায় প্রায় ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আবহাওয়া বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে ১১ হাজারেরও বেশী৷

জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বর্তমান সময়ে তাপদাহ,অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বন্যা উপকুল অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা।এশিয়া,ইউরোপ,অস্ট্রেলিয়ার মত দেশগুলোর একটি বড় অংশে দাব দাহের তীব্রতা বাড়তেই আছে।প্রায়  নিউজে দেখতে পাই বিশ্বের কোথাও না কোথাও তাপদাহে জঙ্গলছে জঙ্গল পুড়ে ছাড় খার হয়ে যাচ্ছে৷ অন্য দিকে উত্তর অ্যামেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের তীব্রতাও প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

এ ক্ষেত্রে বৈরী আবহাওয়া ও জলবায়ু দোষনে বাংলাদেশের প্রভাবটাও কম নয়।এ বছর শরৎকালেও বৃষ্টিপাতের পরিমান দেখা যায় ১৫৫ মিনিলিটার।বছরে শীতকালটিতে প্রায় এক দুই মাস তাপমাত্রার পরিমান অতীতের মত কম থাকার কথা থাকলেও দেখা যায় তখনোও ৩৪ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উঠে যায়।জলবায়ুর দোষনে প্রভাব যে শুধু তাপমাত্রা আর অতি বৃষ্টিপাতে বন্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ তা কিন্তু নয়।প্রাকৃতিক দূর্যোগেও রয়েছে এর ভয়াবহতা।১৯৯৮ সালে হন্ডুরাসে “হ্যারিকেন মিচ” এর কারনে অপরিসীম ক্ষতির সম্মুখীন হন দেশটি প্রায় ৮০ ভাগের বেশী।২০০৮ সালে ঘূর্ণঝড় “নার্গিস” এর ফলে মায়ানমারে যে ক্ষতি হয়েছে তা মায়ানমারে বিগত যে দূর্যোগে প্রায় ৯৫ ভাগ বেশী।

জলবায়ুর পরিবর্তনে কুফল বাংলাদেশের উপর ব্যাপক হারে পরিলক্ষিত হয়।যার মধ্যে ১২ই নভেম্বর ১৯৭০ সালে সবোর্চ্চ ২২৪ কিলোমিটার বেগে চট্টগ্রামে আঘাত হানা যার জলোচ্ছাসের পরিমণ ছিলো ১০-৩৩ ফুট উচ্চতায়।সে সময় প্রায় পাচ লক্ষ লোক মারা যায়।৭০ এর সেই সাইক্লোন সরাসরি বরিশালের মাঝ খান দিয়ে এসে সোজা ভোলাসহ বহু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।  
১৫ই নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর ২০০৭ সালে খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতার প্রবল আঘাতে আঘাত হানে যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ২২৩ কিলোমিটার। সে সময় প্রায় ১০ হাজার লোক মারা গেলেও  সরকারিভাবে বলা হয় ৬ ছয় হাজার লোক।

 ২০০৯ সালের ২৫শে মে পশ্চিম বঙ্গ-খুলনা উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আইলা, যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭০-৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এছাড়াও বাংলাদেশ এবং এর আশে পাশ দেশ দিয়ে অতিক্রম করা ঘূর্ণিঝড় গুলো হল। মোরা-২০১৭ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে। রোয়ানু-৪-৫ ফুট উচ্চতায় ঘূর্ণি ঝড়টি ২০১৬ সালের ২১শে মে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানে।

কোমেন-৫-৭ ফুট উচ্চতায় ২০১৫ সালের ৩০শে জুলাই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানে।মাহাসেন-নোয়াখালী-চট্টগ্রাম উপকূলে ২০১৫ সালের ৩০ শে জুলাই ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত করে।জলবায়ু নাজুক পরিবর্তনে যে সকল দূর্যোগ ঘটে গেল বা যাচ্ছে তা প্রতিরোধে বিশ্বের ম্যাগ্রোভ নামে খ্যাত “সুন্দরবন” থাকাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।অথচ সকল প্রতিরোধ উপেক্ষা করে এ সরকার তার নিকটতম স্থানেই তৈরী করছেন দেশের এক মাত্র পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র।যার প্রভাবে অদূর ভবিষৎ এ এদেশের জলবায়ুর নাজুক পরিবর্তন কি এবং  কতটা ভয়ংকর হবে তা নিঃসন্দেহে সহজে অনুমেয়।

সুতরাং এ সব ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বিজ্ঞানীরা জলবায়ুর পরিবর্তনকে দায়ী করেন।আর এ জন্য জলবায়ু পরিবর্তনে সব চেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বা হবে স্বপ্লোন্নত ও ছোট ছোট দ্বীপ জাতীয় রাষ্টগুলো তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।  
![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2019/08/69137355_10156367306197539_8852585749254504448_n-1-300x199.jpg)  
এ বছরের জুন মাসটিকে ধরা হয় বিশ্বে তাপমাত্রার মাত্রার সবচেয়ে বিপর্যয় মাস।এ মাসে পৃথবীর এমন কোন দেশ নেই যেখানে মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রায় বেগ পেতে হয়নি। গত জুন মাসের শেষ থেকে জুলাইয়ের প্রথমের মধ্যে ফ্রান্সের ভোয়াকুস এলাকায় তাপমাত্রা  ৪৪.৩ ডিগ্রিতে গিয়ে ঠেকেছিল। ভোগলিক ভাবে বিশ্বের বৃহত্তম অরণ্য আমাজন যা বিশ্ব জলবায়ুতে প্রায় ২০ ভাগ অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে। দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীর অববাহিকায়  সৃষ্টি হওয়া রেইন   ফরেস্টকে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয় থাকে। কিন্তু গত আট মাসে ৭২ হাজার বারেরও বেশি আগুন লাগার ঘটনা ঘটে এর বিভিন্ন স্থানে।মিনিটে প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার পুড়ে যাওয়া এ অরণ্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী ছাড়া  অন্য কোন কারন থাকলেও “এইতো ইমপে” তথ্য মতে কেবল ২০১৮ সালে প্রায় ৭৫০০ কিলোমিটার বনাঞ্চল পুড়ে ছাইঁ হয়েছে, যা কিনা  ২০১৭ সালের তুলনায় ৬৫ শতাংশেরও বেশি। আর এবার  ২০১৯ সালে তো আরো ভয়াবহ আরো ভয়াবহ অবস্থা। শুধু  জুলাই মাসে এ অরণ্যে  ২২০০ কিলোমিটার বনাঞ্চল পুড়ে  ছাইঁ হয়ে গেছে, যা গত বছরের জুলাই মাসের তুলনায় ২৮০ শতাংশ হারে বেশি। প্রকৃতিক বিশেজ্ঞদের মতে এই চিরহরিৎ বনাঞ্চল আমাজনে বিপুল পরিমাণ কার্বন জমা রয়েছে।এই অরণ্যের কারনেই বিশ্ব উষ্ণনায়নে ধীর গতি রয়েছে।আর সেখানেই যদি ঘটতে থাকে [ভয়াবহ দাবালনের](https://www.youtube.com/watch?v=qW3TY1gj29k) এমন ভয়াবহ ঘটনা তবে পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার সময় আর বেশী দূরে নয়।এখন বিশ্বের বড় বড় পরিবেশবাদী এবং রাষ্ট্র নায়করা অনেকটা এক মত যে বিশ্বে জলবায়ুর এমন নাজুক পরিবর্তন পুরো বিশ্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে তাই এ বিষয়ে সবাইকে ঐক্যমতে পৌছে কাজ করে যেতে হবে।

ইউএনইপি অ্যাডাপ্টেশন গ্যাপ’ তাদের  ২০১৩ সালের এক রিপোর্টে বলা হয়েছিলো বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বাড়ার সীমা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার কথা হয় তাতে একদিকে যেমন মানুষের দূর্ভোগ কমবে অন্যদিকে এর খরচের হারও কমবে।বিষেজ্ঞরা কয়দিন আগেও বলেছিলো পৃথিবীকে বাচাতে সময় আছে আর মাত্র ১২ বছর কিন্তু এখন বলা হচ্ছে ১২ বছর নয় পৃথিবীকে বাচাতে যা যা করতে হবে তা সামনে দেড় দুই বছরের মধ্যেই করতে হবে।

ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি টিম বলেছিলো,যদি এই শতাব্দীর মধ্যে আমরা তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখতে চাই,তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে।তাহলে সময় হাতে থাকত কিন্তু এখন বলা হচ্ছে- অতটা সময় আর হাতে নেই। কার্বন নির্গমন কমাতে একেবারে সু-স্পষ্ট রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে ২০২০ সালের মধ্যে পারলে তার আগে। ২০১৫ সালে যে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি শুরু হয়েছিলো, তারপর থেকে বিভিন্ন সেমিনার বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে আজও এই চুক্তির একটি ‘রুল বুক’ তৈরির জন্য। বিশ্ব অর্থনীতিতে মোড়লগীরি বজায় রাখতে বিশ্ব ক্ষমতাধর দেশগুলো শিল্প উন্নয়ণ, সমারাস্ত্র সহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে কার্বনডাইঅক্সাইড নির্গমের পরিমান ক্রমশত বাড়িয়ে পৃথিবীর জলবায়ুর উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছেন যা বন্ধে বা কার্বন নির্গম কমিয়ে আনতে আজও ঐক্যমতে পৌছতে পারছেন না।যা ফলে  পৃথিবী এখন ধ্বংসের পথে এগুচ্ছে।

জলবায়ু বিজ্ঞানী এবং পটসড্যাম ক্লাইমেট ইনস্টিটিউটের হ্যান্স জোয়াকিম শেলনহুবার বড় আক্ষেপ করে বলেছেন জলবায়ুর বিষয়ক অংকটা নির্মমভাবেই স্পষ্ট এখন-পৃথিবীর ক্ষতগুলো হয়তো সারিয়ে ফেলতে পারব কিন্তু ২০২০ সালের মধ্যে আমাদের অবহেলায় হয়তো পৃথিবীর অপূরণীয় ক্ষতি করে ফেলতে পারি।বিশ্বের প্রায় সব দেশেই দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গুলো সাধারণত পাঁচ বা দশ বছর মেয়াদী। সুতরাং ২০৩০ সাল নাগাদ যদি কার্বন নির্গমন ৪৫ শতাংশ কমাতে হয়, সেই পরিকল্পনা টেবিলে হাজির করতে হবে ২০২০ সাল শেষ হওয়ার আগেই। ২০২০ সালই যে আমাদের পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখার শেষ সুযোগ তা দিনে দিনে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কারন এ বছরে ২৩ শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুটেরেসের ডাকা বিশেষ জলবায়ু সম্মেলন হবে তার সফলতার উপর নির্ভর করছে পৃথিবীকে বাচিয়ে রাখার ভাগ্য।

মহাসচিব গুটেরেস বেশ সরসরি বলেছেন, যদি কোন দেশ তাদের কার্বন নির্গমনের মাত্রা উল্লেখ যোগ্য হারে কমানোর প্রস্তাব করতে পারেন, তাহলেই যেন তারা এই সম্মেলনে আসেন।তারপর এ বছরের শেষ নাগাদ চিলির সান্টিয়াগোতে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ বলে একটি সম্মেলন হবে। সেই সম্মেলনেও এই প্রক্রিয়াটি আরও সামনে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হবে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ সম্মেলন মনে করা হয় এর পরের বছর অথ্যাৎ  ২০২০ সালের শেষে ব্রিটেনে যে জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলন হওয়ার কথা। ব্রিটেন আশা প্রকাশ করছেন, ব্রেক্সিটের পর তারা সেখানে এই কাজের জন্য যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার তা তারা দেখাতে পারবে।

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2019/08/arctic_1563600017_725x725-300x157.jpg)  
বিশ্ব নেতাদের ধারাহিক এ সব সম্মেলনগুলো যদি কোন কারনে ভেস্তে যায় তবে পৃথিবী এক ভয়ংকর ধ্বংসের দিকে এগুবে।এ দিকে তাপমাত্রার বাড়ার কারনে বায়ুমন্ডলে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে ভয়াবহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে পতিত হবে পুরো পৃথিবী তেমনি শীতকালে জমে থাকা উত্তর মেরুর মাত্রাতিরিক্ত বরফ গলতে শুরু করবে যা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে আছে গ্রিনল্যান্ড।মেরুর প্রদেশ নিয়ে এক গবেষনায় ডেনমার্ক এর একটি নিউজ পোর্টাল :পোলার পোর্টাল এবং ন্যাশনাল স্নো অ্যান্ড আইস ডেটা সেন্টার’-এর সমসায়িক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে,গত ৩১ জুলাই ২০১৯ বরফ স্তরের উপরি ভাগের প্রায় ৬০ শতাংশই গলে গেছে। তাতে প্রায় ১১ বিলিয়ন টন বরফ সুমেরু মহাসাগরে গিয়ে মিশেছে। ২০১২ সালের পর হতে এটাই হলো সবচেয়ে বেশী বরফ গলার আলামত।যদি কোন কোন কারনে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনা না যায় তবে হয়তো অদূর ভবিষৎ পৃথিবীর বুকে জলোচ্ছাদের ন্যায় ভয়ংকর কোন আঘাত হানবে।এর প্রভাবে পৃথিবীর নীচু রাষ্টগুলো ক্রমশতঃ জলের তলে নিমর্জ্জিত হতে থাকবে।এর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ।কারন গ্রিনল্যান্ডের যে আইসশিট তা যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা রাজ্যটির সমান।সুতরাং বরফের এতো বড় রাজ্যটি যদি গলে যায় তবে সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা প্রায় ৭মিটার বা ২৩ ফিট বেড়ে যেতে পারে আবার কোন কোন গবেষক বলছেন, জলবায়ু নাজুক পরিবর্তনে মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রায় বরফ গলে সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা তিন ফুট হলেই বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় বিশ ভাগ জলে তলিয়ে যাবে।তাই জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে সবচেয়ে আগে রেখেছেন বিশ্ব জলবায়ু গবেষকরা।সুতরাং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সারা বিশ্বকে এক হয়ে কাজ করা এখন সময়ের প্রয়োজন।  
——————————-

তথ্য ও ছবি  
বিবিসি,DW,সময় নিউজ,উইকিপিয়া  
এবং অন্যান্য অনলাইন মিডিয়া।
