# ——-“বিভ্রম”——-

Author: রাসেল হাসান
Published: 2015-07-07
Category: বিবিধ
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae/

ডিম লাইটের নিয়ন আলোয় চোখ নামিয়ে কিবোর্ডের দিকে দৃষ্টি অনুপাত করে  
একটা একটা করে বোতাম চেপে যাচ্ছি। অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত।  
জ্যোৎস্না বিলুপ্ত হয়েছে আমাবর্ষায়!  
রাতের গভীরতা বাড়ছে। নড়বরে হাতল ভাঙ্গা চেয়ারে নির্লিপ্ত বসে আছি আমি।  
দেয়াল ঘড়ির টিক টিক শব্দটা সময়ের শৃঙ্খলতা বর্ণনা করছে।  
চক্রাকারে বিহব্বলতা কানায় কানায় পূর্ণ।  
অবাঞ্চিত ধ্বনিমুক্ত শহর নিস্প্রান ঘুমে আচ্ছন্ন।  
কলঘর থেকে টিপ টিপ জ্বল পড়া শব্দ শোনা যাচ্ছে। কিছু সময়ের জন্য কেদারা ছেড়ে  
উঠে দাঁড়ালাম। উদ্দেশ্যে ট্যাপ টা বন্ধ করা ভালো করে।  
দরজা পেরিয়েছি মাত্র,  
সাদার উপর ড্র কাঁটা ঘরের বেড়ালটা ডেকে উঠলো ম্যা ম্যা করে।  
আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে।  
খটকা লাগলো মনে। সর্বনাশ অন্ধকারে ভুল করে বিড়ালের লেজ পাড়িয়ে ধরেছি!  
এটা পোষা প্রাণী। কামড়ায় না।  
খেতে বসলে আমার গাঁ বেয়ে ওঠে। ঘুমিয়ে থাকলে  
ফজরের সময় ম্যা ম্যা শব্দ করে নিদ্রা পরিহার করায়।  
আবার রাতে খুব ক্ষুধা পেলে  
‪‎সারা‬ বাড়ি গোঙানি সুর তুলে ঘুম ভাঙ্গিয়ে দে সবার।  
মাঝ রাতে পেট পুরে খাবে!  
বছরে চারবার করে বাচ্চা দিয়ে আসছে গত পাঁচ বছর ধরে!  
এ বেড়ালটার বাচ্চা আমি একটাও রাখতে পারলাম না।  
ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে থেকেই বুকিং হয়ে যায়।  
পাড়া প্রতিবেশীরা বেশ আগ্রহ নিয়ে বাচ্চা গুলো নিয়ে যায়।  
অনেকটা হৈ চৈ করতে করতে।  
বেড়ালটার লেজ বিদেশী কুকুরের মতো। মোটা এবং লোমে পরিপূর্ণ।  
দেখতে ভালোই লাগে। এর বাচ্চা গুলাও হয় দেখার মতো।  
লেজ গুলি মায়ের মতোই হয়।  
একারনেই বোধহয় বাচ্চার চাহিদা বেশী! শুধু এজন্য বললেও ভুল হবে।  
প্রতিটা বাচ্চায় ঘরকুনো হয়। আঁধারে কিঞ্চিৎ ভুল হয়েছিল,  
লেজ পাড়িয়েছিলাম। তড়িঘড়ি পা সরিয়ে নিয়ে কলঘরের দিকে অগ্রসর হলাম।  
বেরিয়ে বেড়ালটাকে আগের অবস্থানে নিশ্চিত করতে পারলাম না।  
সেখানে নেই।  
ভেবে নিলাম বরাবরের মতো ডাইনিংয়ের  
‪নিচে‬ চলে গেছে। খেতে বসলে সারাক্ষণই তো পায়ের কাছেই থাকে।  
ঘরে ফিরে আবার চেয়ারটাতে বসেছি।  
অন্ধকারে এক হাতে কি বোর্ড ধরে টুকটুক করে লিখে যাচ্ছি।  
পায়ের কাছে কি যেন বিড়বিড় করছে।  
হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলো। কৌতূহলী চোখ নামিয়ে  
আবিষ্কার করলাম বেড়ালটা জ্বলন্ত চোখ নিয়ে চেয়ে আছে আমার দিকে।  
প্রথমে একটু ভয় পেয়েছিলাম।  
ভয় কাটিয়ে বেড়ালটাকে পা দিয়ে সরিয়ে সরিয়ে বাহিরে নিয়ে গেলাম।  
পিছে না ফিরে আবার সামনে অগ্রসর হলাম।  
বেসিংয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।  
চোখে পানি দিচ্ছি। কিছু ভ্রম লেগেছে। ঘোরের মধ্যে আছি।  
ক্রমশই হারাচ্ছি অতীতে।  
কি হচ্ছে আজ! এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে মাথায়।  
দু মিনিট আগের কথা চিন্তা করছি।  
পাশে এখনো বেড়ালটার উপস্থিতি টের পাচ্ছি।  
মুখে পানি ছিটিয়ে পাশে তাকালাম।  
বেড়ালটা নাই!  
থাকবেই বা কি করে?  
৩ দিন আগে বেড়ালটা হঠাৎ করে মারা গিয়েছে!  
মাথার মধ্যে ক্রমাগত ঘুরপাক খাচ্ছে। বেড়ালটা একেবারেই পিছু ছাড়ছেনা আমার!  
ইলুশনে ভুগছি। মুক্তি মিলছেনা। চোখের সামনে ভাসছে বেড়ালটার নিস্তেজ দেহ!

কিছু কথাঃ সময় করে আপনাদের কারো পোষ্ট গুলো পড়তে পারছিনা এজন্য সবাইকে “সরি” বলে নিচ্ছি।  
নিজের পষ্টেরও অনেক রিপ্লে দিতে পারিনি। ইদানিং সময় হাতে থাকলে ফেসবুকে ব্যায় করে ফেলছি এজন্য এখানে  
আসতে বিলম্ব হচ্ছে। আসলেও অল্প সময়ের জন্য। এরপর থেকে কিছুদিন আর পোষ্ট দেবোনা। হাতে সময় পেলেই এসে  
আপনাদের লেখা গুলি পড়বো। ক্ষমা করবেন আমাকে, স্বার্থপরের মতো নিজের লেখা পোষ্ট করে হারিয়ে যাবার জন্য! 🙁
