# বাড়ীর ধারে আড়শী নগর – পাঠ ২

Author: সঞ্জয় মালাকার
Published: 2019-10-19
Category: গল্প
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a7%9c%e0%a6%b6%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0-%e0%a7%a8/

বাড়ীর ধারে আড়শী নগর পড়শী বসত করে  
আমি একদি-ও তারে দেখলাম না-রে দেখলাম না-রে দুই নয়ন ও ভরে।

——————————————————–  
তবে শুনো ফাতেমা তুমি মুসলমান আমি হিন্দ- ওটা আমাদের পরিচয় নয়।আমাদের পরিচয় আমরা মানুষ,  
যখন রাস্তা দিয়ে আমরা চলা ফেরা করি , তখন কেউ বলেনি তুমি মুসলমান আমি হিন্দ-সবাই বলে তুমি কেমন আছ। তবে যাই হোক এসব বাদ দাও!এখন চল তো তুমি-দেখছ না সন্ধ্যে নেমে আসছে  
বাড়ি ফিরতে হবেতো তাড়াতাড়ি – দাড়াও মিত্র বাবু আসছি?  
কি করিম ভাই কোথায় যাওয়া হইচ্ছে শুনি।না যাচ্ছি ওই পড়শি নগরে হাঁঠে, কিনতে হবে যে বেগমের জন্য শাড়ী-?  
তাই ভালো বটে- তবে বেগমকে সাথে নিয়ে আসতে পারতে?  
সে কি আর পারা যায় বলো, বেগম যে বড্ড রাগি বটে।ধামটা একটু বেশী চাইলেই ঝগড়া বাঁধাবে শেষে!  
বেশ যাও, আমিও যাচ্ছি আড়শী নগর অতিথি আপ্পায়োন করতে,কালযে আমার মেয়ের মঙ্গল কাজ-তুমিও এসো ভাবী কে সাথে নিয়ে,।  
আসবো রাধা ভাই আসবো,তোমার মেয়ে যে আমার ও মেয়ে বটে।বেশ আসিবেন কিন্তু,-এখন যাই রফিক ভাই কাল দেখা হবে-বেশ ভালো থেকো?!  
কি ফাতেমা কথা বলো রাগ করেছো নাকি?না-গো মিত্র বাবু রাগ করিনি এই আড়শী নগরে মানুষ একে অন্যের সাথে মিলে আছে দ্যাখ ওখানে নেই কোন জাতি বিবাদ। মন্দির মসজিদ পাশাপাশি- একি সাথে যাচ্ছে সবাই হাতে হাত ধরে।  
এ-তে বহু যুগের পরম্পরায় চলে আসছে পিতা পুত্রের হাত ধরে।  
চলো চলো মিত্র বাবু, ওখানে চায়ের দুকান দ্যাখা যাচ্ছে, চা খাইতে খাইতে কথা বলি,বেশ চলো?  
দাদা দু কাঁপ চা দাও। দিচ্ছি বাবু বসেন!নেন বাবু চা লন,  
দাদা এতো তাড়াতাড়ি দিলে যে,সেতো বটেই বাবু আপনি যে আমাদের আড়শী নগরে অতীতি, তাড়াতাড়ি না দিলে কি হয়।, বাবু আপনার বাড়ি কোথায়, সেকি গো দাদা আপনি আমাদে চিনেন-নি? আগ্গে না গো দাদা? আমরা তো, ঐ আপনাদে পড়শি পাড়ার মানুষ।,তাই কি বাবু, হে কৃষ্ণ দাদা, আরে বাবু আপনে নাম জানেন। হে জানি কৃষ্ণ দাদা। আর আমি হলাম পড়শি নগরে রনো মিত্রের ছেলে- আর ও হলো বরফি সাহেবের মেয়ে?  
বেশ ভালো, আমাদে আড়শী নগর বস্তিতে এসেছ বেশ ভালো লাগলো , তবে মাঝে মধ্যে এসো গো আমাদের আড়শী নগর, হে হে কৃষ্ণ দাদা আসবো – আসি দাদা আরেক দিন দেখা হবে, হে হে বাবু আসুন। চলো ফাতেমা, সবাই কিন্তু আমাদের জন্য অপেক্ষায়- হে চলো যাওয়া যাক।  
কি মিত্র বাবু- এখন তোমার কি আসার সময় হলো,  
না-রে পাগল আমি তো বহু ক্ষণ আগেই এসেছিলাম-কিন্তু তদের আড়শী নগরে- আসার পথে কৃষ্ণ দাদার দুকানে চা খেয়ে আসলাম -আর  
কি হলো জানিস,তবে শোন, আশার পথে পেয়েছি তারে-! সে যে বাঁধিল আমারে তাঁহার ও গলার হারে,।চিনা নেই জানা নেই তবু হাসিলো আমারে দেখে,সে যে তোমাদের আড়শী নগরে রহিম সাহেবের মেয়েরে!  
বাহ্ মিত্র বাবু বাহ্- বেশ কবিতার ভাষায় বললে তো। তবে আসতি না আসতেই তারও দেখা পেয়ে গেছিস?হেরে পেয়েছি আমার মনের মানুষ?  
তবে মিত্র বাবু আমি বলিকি বেশি এগিও না,যা বলেছ তা ওখানে ক্ষমা দাও, তুমি হিন্দু ও মুসলমা সেটাও তোমার মনে রাখতে হবে।,কি বলিস তোরা আমি তো কোন জাত বাদ দেখিনি,আমি তো মানুষ হয়েই মানুষ কে দেখেছি, তাথে আমার অপরাধ কি?না, তোমার কোন অপরাধ নেই,  
শুধু তোমাকে সেটা মনে করিয়ে দিলা-মনে থাকলেই বেশ!  
আচ্ছা ছাড় তো এসব,এখন বল তোরা কেমন আছিস,  
হে- আমার বেশ ভালোই আছি,তোমর খবর কি-,হরে ভালই,  
তোর বন্ধু ফাতেমা কেমন আছে-হে সেও বেশ ভালোই আছে,সে তো আমার সাথে এসেছে,!  
কোথায় সে-দিখছি না-তো,বাহিরেই আছে,ডাক না ওকে সবাই মিলে এক সাথথে আড্ডা দেই,জানিস তো বহু দি গিটার টা বাজেনি,আজ না হয় সবাই মিলে একটা সূর তুলে নেবো,  
তবে তুই কি নতুন কোন গান লিখেছিস,না রে,তবে সেই পূরনো গানটা নতুন করে সূর দিয়েছি,  
সেই সূর টা তোরা শুনবি,বলিস কি,গিটার টা হাতে নেই,তুই না হয় সূর টা ধর,,তবে শুন,  
(আমি পেয়েছি তারে এই আরশী নগরে,হৃদয়ও মন্দিরে  
আমি দেখিনি তাহারে আগে কখনো  
রূপ লেগেছে নয়নে,  
আমি পেয়েছি তাহারে এই আড়শী নগরে,হৃদয়ো মন্দিরে)  
বাহ্ মিত্র বাবু বাহ্ বেশ চমৎকার সুর দিয়েছ তো।

আগামীর অপেক্ষা ওখানে সমাপ্ত।

* * *

ভুল হলে ক্ষমা করবেন ধন্যবাদ।

আগামীর অপেক্ষা ওখানে সমাপ্ত।
