# বাল্যবিবাহ এবং ওরা

Author: মেহেরী তাজ
Published: 2017-04-26
Category: একান্ত অনুভূতি, সমসাময়িক
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9-%e0%a6%8f%e0%a6%ac%e0%a6%82-%e0%a6%93%e0%a6%b0%e0%a6%be/

চৈত্র মাসের গরম বৈশাখ মাসে। দুদিনের গরমেই নাজেহাল অবস্থা। খাওয়া শেষ করে নিজের রুমে এসেছি উদ্দেশ্য সামান্য বিশ্রাম। স্কুল ড্রেস পড়া কিছু পিচ্চি ঘামে ভেজা জামাকাপড় পড়া অবস্থায় আমার রুমে ঢুকে গেছে কোন কথা বলা ছাড়ায়। ওদের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই একজন উত্তর দিলো “আন্টি বলছে এই রুমে বসে বাতাস খাইতে”। এই কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে আমার ছোটবোন ঢুকলো আমার রুমে। বুঝলাম ওর ফ্রেন্ড হবে। কিন্তু ওরা আমার রুমে কেন? একজন গিয়ে ফ্যানের স্পিড বাড়িয়ে দিয়ে এসে আবার বসেছে। এবার আমি ওদের কিছুটা বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম “কি রে তোরা এই দুপুর বেলা টিফিন খাওয়া বাদ দিয়ে কই গেছিলিস?,আর এতো জন একসাথে? ক্লাস ফাঁকি দিছিস নাকি?” ওদের একজন আমায় বললো “না আপু একটা কাজে গেছিলাম”। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম কি কাজ? ওদের একজন এবার যা বললো তাতে আমার জীবনের সবচেয়ে লজ্জ্বার মুহূর্ত গুলার মধ্যে একটা আমি দেখে ফেললাম।

“আপু আমরা সবায় হাঙ্গার প্রোজেক্ট এর মেম্বার। আমরা গেছিলাম পাশের গ্রামে ক্লাস এইট এর একটা মেয়ের বিয়ে। মেয়েটা অনেক ভালো স্টুডেন্ট। মা-বাবা ইচ্ছের বিরুদ্ধে ওর দিয়ে দিচ্ছে। আমরা সেই বিয়ে থামাতে গেছিলাম।”

আমি শুনেছিলাম এমন কিছু প্রজেক্ট চালু হয়েছে কিন্তু আসলেই যে সেসব কাজেও লাগছে তা জানতাম না। এবার আমি যথেষ্ট সম্মানের সাথে নিজে উঠে ওদের বসার জায়গা ছেড়ে দিলাম। হ্যা ছোটদের ও সম্মান দেওয়া যায় যদি তারা সম্মান পাবার মত কোন কাজ করে। আর আজ ওরা যা করেছে বা করছে তা নিঃসন্দেহে সম্মান পাওয়ার যোগ্য। কারন ঠিক এই কাজটায় ১১ বছর আগে আমি যখন ক্লাস এইট এর স্টুডেন্ট ছিলাম তখন করতে পারিনি। একদিন ক্লাসে গিয়ে শুনি বেস্টফ্রেন্ড কমনরুমে বসে খুব কাঁদছে। জিজ্ঞেস করাতে বললো ওর নাকি বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে আর ঠিক এর পরের সপ্তাহে গিয়ে শুনি ওর বিয়ে হয়ে গেছে ও আর পড়াশোনা করবে না।

আমি আবার সাহস করে ওদের জিজ্ঞেস করলাম “তোমাদের কাজ কি সাকসেসফুল?” একজন হেসে উত্তর দিলো “এতো সহজ আপু? ছেলেদের বিশাল ব্যবসা,ছেলে শিক্ষিত এই বিয়ে ভাঙ্গা সহজ নয় আপু” আর একজন বললো “আপু ওখানের যে মহিলা মেম্বার আছে সে আমাদের রীতিমত অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছে আপু”। আমি বললাম “এখন?”। ওদের মধ্যে আবার কে জেনো উত্তর দিলো”আমরা ভদ্র ভাবে বলে এসেছি আমাদের কাজ শেষ। আমাদের প্রোজেক্ট অফিসার কেও বলেছি এখন যা হওয়ার তা বিয়ের দিন হবে। বাঁকি কাজ পুলিশের”।

এই পিচ্চি গুলো করেছে ওদের নিজেদের কাজ এখন পুলিশ যদি তাদের নিজেদের কাজ ঠিকমত করে তবেই রোধ হবে আর একটা বাল্যবিবাহ।

![picsart\_04-26-05-13-46](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/04/PicsArt_04-26-05.13.46.jpg)

এই পিচ্চিগুলো অসংগতি, অন্যায়,অনিয়মের পথে এক একটা শক্ত দেওয়াল। যারা কাজ করে একত্রে, নিজের জন্য নয় সমাজের জন্য। যাদের অটুট মনোবল আর আত্মবিশ্বাস এর ফলস্বরুপ ৬ টা বাল্যবিবাহ রোধ হয়েছে এখন পর্যন্ত। যারা বারবার প্রমান করে দিচ্ছে আমরাও পারি। ছোট হলেও আমরা চেষ্টা করি।
