# বানান নিয়ে যতকথা-(২) ই-কার না ঈ-কার

Author: নীহারিকা
Published: 2017-01-27
Category: সাহিত্য
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%af%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a7%a8-%e0%a6%87-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%88-%e0%a6%95/

![16387055\_1397173250293468\_2226099595228251952\_n](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/01/16387055_1397173250293468_2226099595228251952_n-300x213.jpg)

বাংলা লিপিতে ই উচ্চারণের জন্য ২টি করে বর্ণ ব্যবহৃত হয়। সংস্কৃত ভাষা থেকে প্রভাবিত বলে সংস্কৃত ভাষার  মতনই বাংলা লিপিতে *ই*  এবং *ঈ* উচ্চারণের জন্য উচ্চারণের তারতম্যের ভিত্তিতে হ্রস্ব (*ই* ) এবং দীর্ঘ (*ঈ* )বর্ণ ব্যবহৃত হয়।

\*    সকল অতৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশী, বিদেশী, মিশ্র শব্দে কেবল ই-কার চিহ্ন ি ব্যবহৃত হবে৷ যেমন: আরবি, আসামি, ইংরেজি, ইমান, ইরানি, উনিশ, ওকালতি, কাহিনি, কুমির, কেরামতি, খুশি, খেয়ালি, গাড়ি, গোয়ালিনি, চাচি, জমিদারি, জাপানি, জার্মানি, টুপি, তরকারি, দাড়ি, দাদি, দাবি, দিঘি, নানি, নিচু, পশমি, পাখি, পাগলামি, পাগলি, পিসি, ফরাসি, ফরিয়াদি, ফারসি, ফিরিঙ্গি, বর্ণালি, বাঁশি, বাঙালি, বাড়ি, বিবি, বুড়ি, বেআইনি, বেশি, বোমাবাজি, ভারি (অত্যন্ত অর্থে), মামি, মালি, মাসি, মাস্টারি, রানি, রুপালি, রেশমি, শাড়ি, সরকারি, সিন্ধি, সোনালি, হাতি, হিজরি, হিন্দি, হেঁয়ালি।

\*    পদাশ্রিত নির্দেশক টি-তে ই-কার হবে৷

যেমন: ছেলেটি, লোকটি, বইটি৷

\*    সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ও যোজক পদরূপে কী শব্দটি ঈ-কার লেখা হবে।

যেমন: এটা কী বই? কী আনন্দ! কী আর বলব? কী করছ? কী করে যাব? কী খেলে? কী জানি? কী দুরাশা! তোমার কী! কী বুদ্ধি নিয়ে এসেছিলে!   কী পড়ো? কী যে করি! কী বাংলা কী ইংরেজি উভয় ভাষাতেই তিনি পারদর্শী।

\*    কীভাবে, কীরকম, কীরূপে প্রভৃতি শব্দেও ঈ-কার হবে।

\*    যেসব প্রশ্নবাচক বাক্যের উত্তর হ্যাঁ বা না হবে, সেইসব বাক্যে ব্যবহৃত ‘কি’ হ্রস্ব ই-কার দিয়ে লেখা হবে।

যেমন: তুমি কি যাবে? সে কি এসেছিল?

\*    সংস্কৃত ইন্‌-প্রত্যয়ান্ত শব্দের দীর্ঘ ঈ-কারান্ত রূপ সমাসবদ্ধ হলে সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম-অনুযায়ী সেগুলিতে হ্রস্ব ই-কার হয়।

যেমন: গুণী → গুণিজন, প্রাণী → প্রাণিবিদ্যা, মন্ত্রী → মন্ত্রিপরিষদ।

\*    তবে এগুলোর সমাসবদ্ধ রূপে ঈ-কারের ব্যবহারও চলতে পারে।

যেমন: গুণী → গুণীজন, প্রাণী → প্রাণীবিদ্যা, মন্ত্রী → মন্ত্রীপরিষদ

\*    **ইন্‌-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে -ত্ব ও -তা প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে।**

**যেমন: কৃতি** **→** **কৃতিত্ব****,** **দায়ী** **→** **দায়িত্ব****,**  **প্রতিযোগী** **→** **প্রতিযোগিতা****,** **মন্ত্রী** **→** **মন্ত্রিত্ব****,** **সহযোগী** **→** **সহযোগিতা।**

সুত্রঃ উইকিপিডিয়া
