# বাকবাকুমঃ আবোলা তাবোল-৮

Author: মেহেরী তাজ
Published: 2015-09-01
Category: একান্ত অনুভূতি
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%83-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%b2-%e0%a7%ae/

\= ও মেয়ে কি হয়েছে তোমার? অমন মুখ ভার করে বসে আছো কেনো গো?  
// কেনো এসেছো? নেকামো করতে? চলে যাও।  
\= ঠিক আছে চলে যাবো! কিন্তু আমি চলে গেলে তুমি কান্না করতে পারবে না প্রমিস কর।  
// আমি যখন তখন কান্না করি না সে তুমি ভালোই জানো। আর সব সময় প্রমিস প্রমিস কেনো কর হ্যা?  
\= হুম সে জানি। আর সেটাই তোমার দোষ। থাক সে সব কথা। তুমি মুখটা একটু তোল আমি এক নজর দেখেই চলে যাবো।  
// না। আজ আমি কারর সাথে দেখা করবো না।  
\= তবে আমি চলেই গেলাম। আবার পিছু ডেকো না তোমার কান্না দেখার জন্য।  
// আমি কান্না করবো না। বিরক্ত কেনো কর?  
\= তুমি আজও মিথ্যে বলছো। তুমি প্রমিস করেছিলে আর মিথ্যে বলবে না। সে দিক থেকে আমার তো চলেই যাওয়া উচিৎ।  
// কি মিথ্যে বলছি?  
\= তুমি এখন কান্না করছো তাই মুখ তুলে চাইছো না। যদি আমি দেখে ফেলি সেই ভয়ে।  
// কি যা তা বলছো? আমি জানি তুমি কত বড় বদ। এই নাও মুখ তুলে চেয়েছি।চাঁদ পানা মুখ দেখে ধন্য হও। সে না দেখে তুমি বিদেয় হবে না সে ঢের জানি।  
\= ওমা সে কি? তুমি কানন্না করছো না? চোখ লাল করে বসে আছো কেনো? কান্না চাপার চেষ্টা করছো?  
// খালি পাকা পাকা কথা আর প্রশ্ন করা। আমি কান্না চাপি নি। আমার চোখ উঠেছে।  
\= হা হা হা হা……  
// দূর হও। যখন তখন পেত্নী মার্কা হাসি হাসে।  
\= সরি। আর হাসবো না। হা হা…  
// বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে যাও ভিজে এসো। তোমার জ্বর হোক।  
\= আমার তো গায়ে জ্বর! তুমি জানো না?  
// দূর হও।  
\= সে কি? মনের গায়ের জ্বর হলে কি করতে হয় যানো ?  
// হুম জানি! কাঁথা গায়ে দিয়ে শুয়ে থাকতে হয়।  
\= না হয় নি!  
// তবে?  
\= “সময় কে ধরে রাখার খেলা খেলতে হয়”।  
// এতো আমার কথা।তুমি কেনো বলছো? আর এটা মনের গায়ে জ্বর হলে নয় মনের মন খারাপ হলে খেলতে হয়।  
\= হ্যা তো আজ তো তোমার মনের গায়ে জ্বর বলে তার মন খারাপ। সে কখন থেকে তোমায় ডাকছে আর তুমি কিনা তাকে শুনছই না?  
// ভালো লাগছে না। তুমি বরং আজ যাও পরে কথা বলবো।  
\= আচ্ছা যাবো কিন্তু সময় কে ধরে রাখার খেলা টা সম্পর্কে আমায় একটু বলবে?  
//হুম বলবো, কিন্তু একটা শর্ত আছে!  
\= কি শর্ত?  
// এই কেচ্ছা শুনেই তুমি বিদেয় হবে। আগামী একমাস যেনো তোমার টিকিও না দেখি। রাজি?  
\= উমমম…. আচ্ছা ঠিক আছে কিন্তু তুমি নিজেও আমায় ডাকতে পারবে না।  
// সে দেখা যাবে।  
\=আচ্ছা এবার বল সময় কে আবার কি ভাবে ধরে রাখা যায়? সে সময়ে কি ফিরেও যাওয়া যায়?  
// হুম ধরা যায়। কিন্তু সশরীরে সে সময়ে ফিরে যাওয়া যায় না।  
\= বলো বলো আমার আর তর সইছে না  🙂

// মনে কর একটা মেয়ে সবুজ একটা শাড়ি পড়ে রক্তলাল কৃষ্ণচুড়া ফুলে ভরা প্রায় নুইয়ে পরা একটা গাছের গোড়া বাধানো বেদির উপর বসে আছে।মাঝে মাঝে পা দোলাচ্ছে। দু হাত ভর্তি রক্তলাল রেশমী চুড়ি। কপালে লাল সবুজ টিপ। কানে কোন দুল নেই, একটা ক্লিপের অভাবে চুল গুলো খোলা, বাতাসে উড়ছে। চোখে হালকা করে কাজল টেনেছে। কারর উপর অনেক অভিমান করেছে বলে চোখ গুলো জল ভর্তি হয়ে আছে। যে কোন সময়ে সে কেঁদে ফেলবে । কৃষ্ণচূড়া গাছের পাতা গুলো মেয়ে টার মাথা স্পর্শ করে যাচ্ছে।অকারনেই মেয়েটার সামনে দিয়ে একটা পাখি উড়ে দূর আকাশে মিলিয়ে গেলো। তা দেখে মেয়ে টার বাম চোখের একপাশ দিয়ে পানি গড়িয়ে পারা শুরু করলো। মেয়েটা মাথা নিচু করে শাড়ির আঁচলে মুছে ফেলার আগেই তোমার ক্যামেরায় ওর একটা ছবি তুলে ফেলো। পাখিটা অজানা কোথাও উড়ে চলে যাবে,মেয়েটার চোখের পানি তার শাড়ির আঁচলে অদৃশ্য হয়ে জমা পরে থাকবে,মেয়েটার চোখের কাজল মুছে যাবে,ওর সব অভিমান শেষ হয়ে যাবে, কৃষ্ণচূড়া গুলো একসময় ঝরে পরে যাবে,কাঁচের চুড়ি গুলো হয়তো ভেঙ্গে যাবে কোন এক সময়,টিপটা হয়তো পরিত্যাগত্ব হয়ে পরে থাকবে কোন বিউটি বক্সে,শাড়িটার রং হয়তো কমে গিয়ে তাও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরবে। কিন্তু তোমার সেই ক্লিক, সেই সময়, সেই মুহূর্ত, তোমার কাছে ধরা পরে যাবে। এটাই হলো সময়কে ধরে রাখা।  
হ্যা কেচ্ছা শেষ। অমন হাঁ করে দেখার কিচ্ছু নেই। যাও ভাগো।  
\= হ্যা। যদিও যেতে ইচ্ছে করছে না তবুও যাই। ভালো থেকো।  
// হুম। মন খারাপ হলে বেশি কথা বলতে হয় না । যাও কাঁথা মুড়ি দিয়ে পরে থাকো। ভালো থেকো।
