# বাংলার আমাজন, রাতারগুল জলাবন

- Author: [কামাল উদ্দিন](https://sonelablog.com/author/kamal-uddin/)
- Published: 2020-05-29T04:56:58+00:00
- Updated: 2020-05-29T05:03:51+00:00
- Category: [ভ্রমণ](https://sonelablog.com/category/misc/tours/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%9c%e0%a6%b2/

---

সারা পৃথিবীতে ফ্রেশওয়াটার সোয়াম্প ফরেস্ট বা স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি। ভারতীয় উপমহাদেশ আছে এর দুইটি…… একটা শ্রীলংকায় আর আরেকটা আমাদের সিলেটের গোয়াইনঘাটে। এই বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর, আর এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। অনেক এই বনকে বাংলার আমাজানও বলে থাকেন।

নানা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত এই মিঠাপানির জলাবনটিতে উদ্ভিদের দু’টো স্তর পরিলক্ষিত হয়। উপরের স্তরটি মূলত বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ নিয়ে গঠিত যেখানে নিচের স্তরটিতে ঘন পাটিপাতার (মুর্তা) আধিক্য বিদ্যমান । বনের উদ্ভিদের চাঁদোয়া সর্বোচ্চ ১৫ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত । এছাড়াও অরণ্যের ৮০ শতাংশ এলাকাই উদ্ভিদের আচ্ছাদনে আবৃত । এখন পর্যন্ত এখানে সর্বমোট ৭৩ প্রজাতির উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে ।

এই বন মূলত প্রাকৃতিক বন হলেও পরবর্তিতে বাংলাদেশ বন বিভাগ, বেত, কদম, হিজল, মুর্তাসহ নানা জাতের জলসহিষ্ণু গাছ লাগিয়েছে। এছাড়া জলমগ্ন এই বনে রয়েছে হিজল, করচ আর বরুন গাছ আছে পিঠালি, অর্জুন, ছাতিয়ান, গুটিজাম, বটগাছও। আছে বট গাছ।

জলমগ্ন বলে এই বনে সাঁপের আবাস বেশি, আছে জোঁকও; শুকনো মৌসুমে বেজিও দেখা যায়। এছাড়া রয়েছে বানর, গুইসাপ; পাখির মধ্যে আছে সাদা বক, কানা বক, মাছরাঙ্গা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিল এবং বাজপাখি। শীতকালে রাতারগুলে আসে বালিহাঁসসহ প্রচুর পরিযায়ী পাখি, আসে বিশালাকায় শকুনও। মাছের মধ্যে আছে টেংরা, খলিশা, রিঠা, পাবদা, মায়া, আইড়, কালবাউশ, রুইসহ বিভিন্ন জাত।

আসুন, আমার ক্যামেরায় দেখি রাতারগুল বন কে……..

তথ্যসূত্রঃ[উইকিপিডিয়া](https://bn.wikipedia.org/wiki/%C3%80%C2%A6%C2%B0%C3%A0%C2%A6%C2%BE%C3%A0%C2%A6%C2%A4%C3%A0%C2%A6%C2%BE%C3%A0%C2%A6%C2%B0%C3%A0%C2%A6%26#x97;%C3%A0%C2%A7%C3%A0%C2%A6%C2%B2_%C3%A0%C2%A6%C3%A0%C2%A6%C2%B2%C3%A0%C2%A6%C2%BE%C3%A0%C2%A6%C2%AC%C3%A0%C2%A6%C2%A8)

![](https://live.staticflickr.com/65535/49945791552_1336f7bd41_o.jpg)  
(২/৩) সিলেটের আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সিএনজি নিয়ে মটরঘাটে পৌছতে অল্প কিছু মেটো পথে হাটতে হবে, বৃষ্টির কারণে রাস্তা খানাখন্দকে পরিপূর্ণ, তাই এটুকু হাটা ছাড়া উপায় নাই। তবে হাটার এই সময়টা আশেপাশের এমন চমৎকার বাড়িঘর বা মাছ ধরার দৃশ্যগুলো মনটাকে ভরিয়ে দেবে।  
![](https://live.staticflickr.com/65535/49945791687_794a39555f_o.jpg)

![](https://live.staticflickr.com/65535/49945001933_11d0fb03b5_o.jpg)  
(৪) এই মেঠো পথের শেষ প্রান্তেই মোটর ঘাট, যেখান থেকে রাতারগুল বনে যাওয়ার নৌকা পাওয়া যাবে।

![](https://live.staticflickr.com/65535/49945502931_83e51d1a41_o.jpg)  
(৫) পাশের জলাভুমিতে হয়তো দেখতে পাবেন এমন ক্ষুদে মাঝিদেরও।

![](https://live.staticflickr.com/65535/49945791752_f7834baa53_o.jpg)  
(৬) এক সময় আপনি পৌছে যাবেন নৌকা ঘাটে, পুরো বন ঘুরিয়ে আনতে একটা ডিঙি নাও আপনার কাছ থেকে ভাড়া নিবে ৩৫০/৪০০ টাকা।

![](https://live.staticflickr.com/65535/49945791782_728437ffd9_o.jpg)  
(৭) ডিঙি নাও চেঙ্গীর খাল পার হয়ে এক সময় আপনাকে নিয়ে পৌছে যাবে মুল বনের দিকে।

![](https://live.staticflickr.com/65535/49945002108_1f4a79ce34_o.jpg)  
(৮/৯) প্রথম দিকের জলাভুমিতে বেশীর ভাগ এমন মুর্তার বন জলাভুমির উপর মাথা তুলে দাঁড়িয়ে।  
![](https://live.staticflickr.com/65535/49945791927_e25f1dcb60_o.jpg)

![](https://live.staticflickr.com/65535/49945002333_617e18716f_o.jpg)  
(১০/১১) এক সময় পৌছে গেলাম মূল বনে, সত্যিই চোখ ধাঁধাঁনো সৌন্দর্য্য।  
![](https://live.staticflickr.com/65535/49945503301_4f498d8353_o.jpg)

![](https://live.staticflickr.com/65535/49945503291_be4e98ec16_o.jpg)  
(১২/১৩) তবে এমন চমৎকার গাছগুলোর ফাকে ফাকে কিন্তু আপনার জনয় বিপদ ও লুকিয়ে থাকতে পারে, তাই গাছ কিংবা পানিতে হাত না দেওয়াই ভালো।  
![](https://live.staticflickr.com/65535/49945503356_2c813ab251_o.jpg)

![](https://live.staticflickr.com/65535/49945503371_56fccec0af_o.jpg)  
(১৪) গাছের কোটরে লুকিয়ে থাকতে পারে এমন বিপদ জনক সুন্দর সাপ।

![](https://live.staticflickr.com/65535/49945002573_537052ecd3_o.jpg)  
(১৫) কিংবা এমন বিছে, আর জলেও নাকি জোঁকের আধপত্য আছে, যদিও আমরা ওদের দেখতে পাইনি। বলতে পারেন তাহলে তো বিপদ। হ্যাঁ যত ভয় তত এ্যডভেঞ্চার, সুতরাং…..

![](https://live.staticflickr.com/65535/49945792497_ebbf1b3716_o.jpg)  
(১৬/১৭) কখনো মনে হবে বনটা অসম্ভব রকম শুনশান, আবার কখনো গাছের ফাঁকে ফাঁকে দেখবেন নিঃশব্দে ভেসে চলছে পর্যটকদের ডিঙি নাওগুলো।  
![](https://live.staticflickr.com/65535/49945792502_83398fc459_o.jpg)

![](https://live.staticflickr.com/65535/49945503546_0f7d6e61c9_o.jpg)  
(১৮) বনের মাঝখানে বিশাল একটা ফাঁকা জায়গা, সেদিক থেকে ভেসে আসছে সিলেটের আঞ্চলিক সুরে গাওয়া গান, পানিতে অর্ধ ডুবে থাকা গাছগুলোতে যেন সেই সুর লহরী নেচে বেড়াচ্ছে, স্বর্গীয় এক অনুভুতি।

![](https://live.staticflickr.com/65535/49945002688_5ee6bfb664_o.jpg)  
(১৯) ডিঙি নিয়ে এগিয়ে গেলাম গানের সূর লক্ষ করে, মাচার উপর বসে দুজন লোক দেশীয় বাদ্য বাজনা বাজিয়ে গান গাচ্ছে। উদ্দেশ্য পর্যটকদের আনন্দ দেওয়া আর সংসারের রুটি রুজীর ব্যবস্থা।

![](https://live.staticflickr.com/65535/49945503656_360dcc3c79_o.jpg)  
(২০) ডিঙি ভিড়িয়ে উঠে পড়লাম মাচাতে, গাইলাম ওদের সাথে কিছুক্ষণ গান, হোক না বেসুরো গলা, তাতে আনন্দের কোন কমতি হলো না মোটেই। এক সময় আমরা ফিরতি পথ ধরলাম, কিন্তু এমন সৌন্দর্য্য দেখতে ফিরে আসবো বারে বার এই প্রতিজ্ঞাটা শুধু মনেই রেখে দিলাম।

---

Comments: 29 — https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%9c%e0%a6%b2/#comments
