# বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ বিন্দু – ছেড়াদ্বীপ

Author: কামাল উদ্দিন
Published: 2020-05-08
Category: ভ্রমণ
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%bf%e0%a6%a3-%e0%a6%ac/

টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নীল সমুদ্রের বুকে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ দ্বীপ সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিনের সর্ব দক্ষিণ বিন্দু তথা বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ বিন্দুর নামই ছেড়াদিয়া দ্বীপ বা ছেড়া দ্বীপ নামে পরিচিত। দক্ষিণ দিকে এর পরে বাংলাদেশের আর কোনো ভূখণ্ড নেই। সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে ৫ কি: মিটার দক্ষিণে এ দ্বীপটির অবস্থান। ছেড়া দ্বীপের আয়তন তিন বর্গ কিলোমিটার। ২০০০ সালের শেষের দিকে এই দ্বীপটির সন্ধান পাওয়া যায়, এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপে রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক পাথর। দ্বীপের প্রায় অর্ধেকই জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানিতে ডুবে যায়। এই এলাকাটি সরকারের ঘোষিত একটি ‘পরিবেশ-প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা’। এরকম এলাকায় ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানায় জমি কেনা, এমনকি কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মাণ আইনত নিষিদ্ধ।

প্রচুর প্রবাল, পাথর, স্বচ্ছ পানিতে নানান জীব বৈচিত্র দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই ঘুরে আসতে হবে ছেড়া দ্বীপ। সেন্ট মার্টিন থেকে ট্রলারে মাত্র ২০/২৫ মিনিট লাগবে ছেড়া দ্বীপ পৌঁছতে। ভাটার সময় সেন্ট মার্টিন থেকে ৫ কিলোমিটার হেটেও ছেড়া দ্বীপ যাওয়া যায়।

![](https://c2.staticflickr.com/2/1497/25933360024_15106922c5_o.jpg)  
(২) সেন্টমার্টিন থেকে এমন সব ট্রলারে চড়েই যেতে হয় ছেড়াদ্বীপে, অবশ্য কিছু স্পীডবোটও ওখানে যাতায়াত করে।

![](https://c2.staticflickr.com/2/1650/26512365406_a1a506b0fc_o.jpg)  
(৩) ট্রলারে চড়ে ছেড়াদ্বীপে যাওয়ার সময় সেন্টমার্টিনের পুরো পূর্ব পাশটায় নজর বুলিয়ে নেওয়া যায়। সমুদ্রের নীল জলরাশির ভেতর নারকেল গাছ বেষ্টিত সেন্ট মার্টিনের এই রূপ দেখার জন্য বার বার এখানে আসতে ইচ্ছে করবে এটা নিশ্চিৎ।

![](https://c2.staticflickr.com/2/1445/26446012242_6a63f08ffa_o.jpg)  
(৪) ইদানিং সেন্টমার্টিনে সাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়, অনেকে এ্যডভেঞ্চার করার জন্য ভাটার সময় ভাড়া সাইকেল নিয়ে ওখানে চলে যায়। সাইকেল নিয়ে যাওয়া একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কেমন লাগলো, সে বলছে জীবন শেষ। আমাদের সাথের অনেকে হেটেও ছেড়া দ্বীপে গিয়েছে। আমি মনে করি এই বালিয়ারি ধরে সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার চাইতে পাঁচ কিলোমিটার হাঁটা অনেক সহজ।

![](https://c2.staticflickr.com/2/1596/26538346555_bafdf38800_o.jpg)  
(৫) ট্রলার ছেড়াদ্বীপের পাশে ভেড়ানো যায় না, ওখানের ধারালো প্রবালে ট্রলার ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা থাকে প্রবল। তাই ট্রলার দ্বীপ থেকে বেশ কিছুটা দূরে নোঙ্গর ফেলে। তারপর ছোট ডিঙ্গি নৌকাগুলো দিয়ে ছেড়াদ্বীপে গিয়ে নামতে হয়। সামনেই দেখা যাচ্ছে পাথুরে ছেড়াদ্বীপের একটা অংশ যেখানে কেয়া পাতার ছাওনি দেওয়া দুটি ঘর।এখান দিয়েই ছেড়াদ্বীপে যাতায়াত করতে হয়।

![](https://c2.staticflickr.com/2/1712/26446010882_298566df75_o.jpg)  
(৬) ছেড়াদ্বীপে নেমে কেয়া বন আর বালির উপর বিছিয়ে থাকা লতানো গাছগুলোর বেগুনী ফুল দেখে ইচ্ছে করবে যে, একটা জীবন এখানেই কাটিয়ে দিলে মন্দ কি?

![](https://c2.staticflickr.com/2/1625/26538344935_9697dd0a0b_o.jpg)  
(৭/৮) কিছু বালু ছাড়া এই দ্বীপের পুরোটাই প্রবাল, সাদা, কালো হরেক রং হরেক ডিজাইন। সাদা প্রবালগুলোর প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ বেশী বলে একজন স্থানীয় বাসিন্দা ছোট সাদা প্রবালগুলো ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিচ্ছে বিক্রি করার জন্য।  
![](https://c2.staticflickr.com/2/1574/26512366326_d2f73a717a_o.jpg)

![](https://c2.staticflickr.com/2/1719/26512366596_d3c1d6edc9_o.jpg)  
(৯) উপরে নীল আকাশ, আর নীচের ফেনীল সমুদ্র নিরন্তর প্রবালের উপর আছড়ে পড়ছে, এমন দৃশ্য দেখলে চক্ষু পবিত্র হয়।

![](https://c2.staticflickr.com/2/1598/25933363334_abaf9c694c_o.jpg)  
(১০) ধারালো প্রবালের উপর দিয়ে সাগরে নামা কঠিন, তবু পর্যটকদের সেই দিকে কোন ভ্রক্ষেপ নেই।

![](https://c2.staticflickr.com/2/1710/26472266531_97aa435473_o.jpg)  
(১১/১২) যেদিকে তাকানো যায় এমন পোকায় খাওয়া পাথর, যার নাম প্রবাল।  
![](https://c2.staticflickr.com/2/1522/25933363164_73092382a3_o.jpg)

![](https://c2.staticflickr.com/2/1477/26265462810_1514025d94_o.jpg)  
(১৩) তবে বিশালাকার এমন সাদা প্রবালগুলো আলাদাভাবে সবার দৃষ্টি কারে।

![](https://c2.staticflickr.com/2/1480/26446011722_c5a178655c_o.jpg)  
(১৪) এই ফলের নাম কেয়া, সেন্ট মার্টিন আর ছেড়াদ্বীপ ছাড়া অন্য কোথাও এই গাছ আর ফল দেখিনি।

![](https://c2.staticflickr.com/2/1466/26512364506_05e8179ea5_o.jpg)  
(১৫) জোয়ারের সময় এখানে এসে ভাটার সময় স্বল্প পানিতে আটকে পড়া মাছ।

![](https://c2.staticflickr.com/2/1643/26472265721_76c31e6dde_o.jpg)  
(১৬) দ্বীপের ভেতর কেয়া পাতার চালা দেওয়া এমন কিছু দোকান আছে, যেখানে সামুদ্রিক মাছ, কাকড়া, ডাব ও পানি বিক্রি হয়।

![](https://c2.staticflickr.com/2/1566/26446014802_9d1451207d_o.jpg)  
(১৭/১৮) বালতিতে রাখা কাকড়া, যা দামদর করার পর প্লেটে এমন ভাবে চলে আসে।  
![](https://c2.staticflickr.com/2/1511/25935435603_eee861ac99_o.jpg)

![](https://c2.staticflickr.com/2/1688/26512367576_1ffb4a512a_o.jpg)  
(১৯) পর্যটকদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ট্রলারগুলো ওই দূরে দাঁড়িয়ে আছে।

![](https://c2.staticflickr.com/2/1681/26446014222_28ff1045a9_o.jpg)  
(২০) পর্যটকরা ছোট নৌকায় করে ফিরে যাচ্ছে বড় ট্রলারগুলোতে, ট্রলারগুলো সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে সেন্টমার্টিনের মূল দ্বীপে।

**তিনবার ছেড়াদ্বীপে গিয়েও কোন চাঁদনী রাতে ওখানে থাকার সুযোগ হয়নি, অবশ্য ওখানে থাকাটা বেআইনী। তবু আমার কিছু বন্ধু বান্ধব ওখানে চাঁদনী রাতে তাবুতে থেকেছিলো। তাদের ভাষায় ওটা ছিল একটা স্বর্গীয় রাত। তেমন একটা স্বর্গীয় রাতের অপেক্ষায় আছি আমিও।**
