# “বঙ্গ” আর “বাঙ্গালি” শেকড়ের খোঁজে

Author: নার্গিস রশিদ
Published: 2025-12-29
Category: ইতিহাস ঐতিহ্য
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%80-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%9c%e0%a7%87%e0%a6%b0/

**“বঙ্গ” আর “বাঙ্গালী”** 

**শেকড়ের খোঁজে    (ভাষা)** 

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2025/12/Screen-Shot-2025-12-24-at-12.42.31.png) ![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2025/12/Screen-Shot-2025-12-24-at-12.36.24.png)

***“বসন্ত বহিলো সখী ,কোকিলা ডাকিল রে, এমন সময় প্রিয় সখা   বিদ্যাসে রহিল রে”*** 

নদী,পলি,মনসুন, বন্যা এই এলাকা কে এক পৃথক

জিয়োগ্রাফিক বৈশিষ্ট্য দান করেছে। যার ফলে এই এলাকা পানি আর নদী দ্বারা প্রভাবিত এবং এখানকার জিনগত বৈশিষ্ট্য আটকা পড়ে গেছে যা এখনো বিদ্যমান।

পাক ভারতের অন্য অঞ্চল থেকে এই অঞ্চলের জিন আটকে পড়ে থাকে এবং বাইরের জিন আসতে বাধা প্রাপ্ত হয়। কারন পানি আর নদী ।

ভারতের অন্য সব অঞ্চলের মানুষের জিনে ক্রমাগত ভাবে মিশ্রণ হতে থাকে ।  উত্তরের অঞ্চলে ব্যাবসা বাণিজ্য ,  যুদ্ধ আর আক্রমণ দ্বারা নানান জাতের মানুষ আসে এবং জিনের পরিবর্তন হয় খুব বেশি।

যার ফলে তাদের কালচার,ধর্ম, ভাষা, ট্রেডিসান evolved হয়ে যায় । কিন্তু এই বঙ্গে বহিরাগত প্রভাব বিস্তার তেমন হয়নি ।

যারা এসেছে তাদের কথা এক এক করে বলা হবে।

প্রায় ৬ হাজার বছর আগে অস্টিক -এশিয়াটিক জাতি বীজ হাতে এখানে আসে অস্ত্র হাতে নয়।

কিসের বীজ ?

হ্যাঁ তা ছিল ধানের  বীজ । তাদের ছিল ধান চাষের অভিজ্ঞতা । তাই ভিইয়েতনাম কম্বোডিয়া,থাইল্যান্ড, বার্মা, হয়ে তারা  এই অঞ্চল কে বেছে নায় ধান চাষের উপযোগী মাটি  আর আবহাওয়া হওয়া তে এবং এখানে স্থায়ি ভাবে বাস করতে আরম্ভ করে।

এই Asiatic Austric     জাতি Austric ভাষা ভাষী গোত্রের।

বিখ্যাত ভাষাবিদ ডঃ সুনীতি কুমার চট্টোপদ্ধায়

আর

 Anthropology রিসার্চ করে বের করেন  এরা Austro-Asiatic  মানুষের ভাষা গোত্রের।  এবং H.H Risley ,JH Hutton Anthropologist রিসার্চ করে বের করেন  এদের ধর্ম, খাবার এবং   প্রথায় মিল আছে ।

ভাষাঃ

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2025/12/Screen-Shot-2025-12-24-at-12.18.01.png)দক্ষিণ- পুর্ব এশিয়ার যে সব অঞ্চলে Austric-Asiatic ভাষা ভাষীর মানুষ থাকে তার মানচিত্র

Austro-Asiatic ভাষা একটি বিরাট ভাষা গ্রুপের মধ্যে পড়ে। যা কিনা দক্ষিণ পুর্ব এশিয়া এবং  দক্ষিণ এশিয়া  পর্যন্ত বিস্তৃত ।

এই ভাষা ফ্যামিলির মধ্যে পড়ে ১) নর্দান  মায়ানমার ২) ভারতের উত্তর পুর্ব ৩) বঙ্গপো সাগরের তীর ঘেঁষে অঞ্চল ৪) বাংলাদেশ ৫) মেকং রিভার বেসিন দক্ষিণ পুর্ব এশিয়া ৬) ইয়াঞ্ছি রিভারের মাঝামাঝি এলাকা ৭) চীনের দক্ষিণ দিক এবং বঙ্গের মুনডা , খাসিয়া,  সাঁওতাল আদিবাসীর মধ্যে। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস এবং  নেপাল।

এই সব এলাকার ভুপ্রকৃতি , আবহাওয়া,প্রচুর বৃষ্টিপাত,   জীবজন্তু, খ্যাদ্যাভাস একটি পৃথক বৈশিষ্ট্য দান করেছে যা অন্য সব স্থান থেকে আলাদা করে।

আগে আমরা জানতাম বাংলা ভাষা সংস্কৃতি থেকে  আসা । কিন্তু আধুনিক ভাষাবিদ ডঃ সুনীতি কুমার চ্যাটারজি  গবেষণা করে দেখেছেন বাংলা ভাষার উৎপত্তি “মাগধী  প্রাকৃত” থেকে ।

মাগধী  প্রাকিত ভারতের একটি আদি ভাষা থেকে উৎপন্ন হয়েছে এবং ভোজপুরী,মৈথিলি, ওড়িয়া,অসমিয়  এবং  বাংলা এই মাগধী প্রাকিত ভাষা গ্রুপের  । সুনীতি কুমার চট্টোপদ্ধায়ের  মতে বাংলা মাগধী প্রাকিত থেকে উৎপত্তি  ।

আর মুনডা জাতি গোষ্ঠী এই Austro-Asiatic গোত্রের মধ্যে ।

তাই আমরা বলতে পারি  বাংলা ভাষা Indo Aryan ভাষা সংস্কৃতি থেকে নয়। “মাগধী প্রাকিত” থেকে সৃষ্টি ।পরে  Indo Aryan বা সংস্কৃতি থেকে অনেক শব্দ বাংলায় যোগ হয়।

সুনীতি কুমার চট্টোপদ্ধায় এর গবেষণায় দেখা যায় আমাদের বিভিন্ন জেলার আঞ্চলিক ভাষাই  বাংলার আদি ভাষা। গ্রামাঞ্চলে মানুষ যে ভাষায় কথা বলে সেটাই  আসল বাংলা ভাষা।  তিনি বলেন মুনডা ভাষা থেকে ধার করে বাংলা ভাষা সৃষ্টি ।

ফ্রেঞ্চ ভাষাবিদ Jean Przyhuski গবেষণা করে দেখেন Austro-Asiatic গল্প গুলো এখনো আমাদের অঞ্চলে প্রচলিত ।

মহাভারতের “সত্যাভতী” নাগা গল্পের সাথে মিল পড়ে ।

ডঃ সুনীতি কুমার এর সাউথ ইস্ট এশিয়া থেকে  মিথ ফোকলোর রিসার্চ করেন এবং বলেন

 ” There is evidently no historical core below the surface no scholar of Indian history ,now think “Rama” the hero of the Ramayana was a historical person ,who can be relegated to a particular period of time.”

অর্থাৎ ভারতীয় ইতিহাসের  পৃষ্ঠার নিচে কোনো ঐতিহাসিক মূল নাই , এখন “রাম” রামায়ণের নায়ক ছিলেন কিনা যাকে  একটি সঠিক সময়ের  সম্পর্কের সাথে সম্পর্কিত করা যায় ,তা নিয়ে ভাবুন।”

ভাষাবিদ ডঃ সুনীতি কুমার চট্টোপদ্ধায়  বলেন আমাদের এই বঙ্গে অনেক স্থানের নাম মুনডা ভাষা থেকে আসা।

যেমনঃ নীলফামারী, রউমারি, চিলমারী,পুটিমারী, বোয়ালমারী, চিতলমারী,মারি অর্থ নদী,  ভুরুঙ্গামারি ,বীরভূম, সিংভুম,মানভুম, রাজভুম,ভূমি অর্থ জায়গা,   ঝিনাইদহ, পোড়াদহ,মহাস্থান গড়,চন্দ্রকেতুগড়,চন্দ্র গড়, বানগড়, পঞ্চগড়, সোনা গড়া , গড় অর্থ উঁচু জায়গা ।    কুড়িগ্রাম, চট্টগ্রাম। শব্দের শেষে ইল যুক্ত যেমন টাঙ্গাইল, ঘাটাইল, পুবাইল, নড়াইল, এগুলো মুনডা রিটি থেকে, শব্দের শেষে “টোলা” নয়াটোলা, করাতিটোলা ।নামের সাথে “বাড়িয়া”অর্থ বাড়ি   যেমন ব্রাম্ভন বাড়িয়া, ফুলবাড়ি, উলুবাড়িয়া

ওজন বা পরিমাপ, মন , সের, ওজন করার  জন্য ব্যাবহৃত

সংখ্যাঃ গণ্ডা, এক কুড়ি , দুই কুড়ি ইত্যাদি।

ডুমুর,চাল, ঝুম, গাব, চিংড়ি, লাঙ্গল , কাংগন (ব্রেসলেট) ইত্যাদি শব্দ মুনডা ভাষা থেকে আসা ।

চলবে
