# “বঙ্গ” আর “বাঙ্গালি” শেকড়ের খোঁজে ( বাংলা ভাষা মাগধি প্রাকিত থেকে আসা এবং মাগধি প্রাকিত Austro-Asiatic ভাষা গ্রুপের)

- Author: [নার্গিস রশিদ](https://sonelablog.com/author/nargis-rashid/)
- Published: 2026-01-06T21:43:08+00:00
- Updated: 2026-01-17T21:53:37+00:00
- Category: [ইতিহাস ঐতিহ্য](https://sonelablog.com/category/misc/%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%90%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%af-misc/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%9c%e0%a7%87%e0%a6%b0-3/

---

**“বঙ্গ” আর “বাঙ্গালী”  **

**শেকড়ের খোঁজে ( বাংলা ভাষা মাগধি প্রাকৃত থেকে আসা এবং মাগধি প্রাকিত Austroasiatic ভাষা গ্রুপের ) **

*“কায়া তরুবরু পঞ্চভী ডালো,  চঞ্চলো চিয়ে পয়ঠো কালো”*

প্রাচীন চরযা পদের বাংলা ভাষা

কেমন করে বাংলা ভাষা এলো ?

চলে যায়  আজ সেই ইতিহাস টাই জানতে  ।

ছোটবেলা থেকেই আমরা জানি বাংলা সংস্কৃতি থেকে আসা । কিন্তু ব্যাপার টা তা নয় । আমরা হয়তো সংস্কৃতি ভাষার  কাছে ঋণী  এই কারনে যে অনেক শব্দ যোগ  দিয়ে বাংলাকে সে সমৃদ্ধি করেছে, কিন্তু প্রাচীন কালে বাঙ্গালি এই ভাষায় কথা বলত না।

তা হলে বাংলা এলো কোথা থেকে?

এটা বলার আগে আমাদের জানতে হবে ভাষা কি? “ভাষা” হল মানুষের ধ্বনি সমষ্টি । যা দিয়ে মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করে এবং এক মানুষ আর এক মানুষের সাথে যোগাযোগ করে।

 তাছাড়া ভাষা একটি জীবন্ত সংগঠন ।কারন মানুষ যেমন একটু একটু করে বৃদ্ধি পায় তেমন ভাষাও সময় এবং অন্য ভাষার কাছাকাছি এসে সেই ভাষা থেকে অনেক শব্দ নিয়ে নুতুন একটি ভাষায় রূপান্তর হয়।

যেমন আজকে আমরা যে ভাষায় কথা বলি ৬০/৭০ বছর আগে এই ভাষা দিয়ে আমরা কথা বলতাম না।

আমরা ছোটো বেলায় যে ভাষা দিয়ে কথা বলতাম,  এখনকার প্রজন্ম  সেই ভাষা ব্যাবহার করে না। অনেক নুতুন শব্দ যোগ হয়,বানানে পরিবর্তন আসে,উচ্চারণ অন্য রকম হয়।

বর্তমান প্রজন্মে ভাষায় অনেক ইংরেজি শব্দ যোগ হয়েছে। এমন কি একটি ব্যাক্যে বলতে গিয়ে তার  অর্ধেকই থাকে ইংলিশ । এবং এটাই এখন স্বাভাবিক ।

অনেক শব্দ আগে আমরা যা ব্যাবহার করি আগে তা করতাম না।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় “ব্রিটেনে বসবাসরত বাঙ্গালি “পেছনের বাগান ” না বলে “ব্যাক গার্ডন ”  বলে,  বা আম না বলে ম্যাংগো বলে ।কারন মেজোরিটি মানুষ যা বলে সেটাই গ্রহণ যোগ্য ভাষা হয়ে যায় । আর সেটাই চালু হয়ে যায়।

জানালা কে আমরা এক সময় গবাক্ষ বলতাম । এখন আর তার চল নাই।

 এই ভাবেই ভাষার পরিবর্তন  আসে ।

**বাংলা ভাষার গতি ধারাঃ**

আজকের পৃথিবীতে যতো গুলো ভাষা রয়েছে তা থেকে ভাষা  বিজ্ঞানীরা ভাষা কে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে।

মুল ভাষা বংশ গুলো কোথা থেকে আসে ?

ভাষা বংশ সেখান থেকেই আরম্ভ হয় যেখান থেকে মানুষের মাইগ্রেসান আরম্ভ হয়েছিলো ।

সেই মাগ্রেসানের গতি থেকে ভাষা বিজ্ঞানী ভাষার শ্রেণি বের করেছেন।

আর এই সূত্র ধরেই ভাষা বিজ্ঞানীরা  বাংলা ভাষার গতি বের করেছেন।

**ভাষার শ্রেণী বিভাগ গুলো হলঃ **

১) ইন্দো- ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠী

২)  বার্ন টু

৩) সোমিয় হোমিয়

৪) দ্রাবিড়

৫) Austric

৬) এস্কিমো

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2026/01/Screen-Shot-2026-01-03-at-16.30.08-300x195.png)

আজ যারা ইন্দো -ইউরোপিয়ান ভাষায় কথা বলে তারা  মোটামুটি ৪০০০ হাজার বছর পুর্বে মধ্য ইউরোপের তৃন ভূমী এলাকায় বাস করতো । তারপরে সেখান থেকে খাদ্যের প্রয়োজনে, বাসস্থানের প্রয়োজনে সেখান থেকে মাইগ্রেন্ট হতে থাকে।

কেন এই মাইগ্রেসান ?

কারন মানুষ তখন  ছিল পশু পালক। তখন পশু চারনের জন্য  এবং পশুর খাদ্যের জন্য তারা সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পরতে থাকে।

এই যে তারা চলে গেলেন বিভিন্ন শাখার উপর ভিত্তি   করে  এবং যে শাখা যেখানে গেছে সেখানে তারা তাদের ভাষা নিয়ে গেছে ।

তাই তাদের শব্দ চয়ন এবং ভাষা দেখে ভাষা বিজ্ঞানী বুঝেন  কে কোন ভাষা গ্রুপের  ।

একটি শাখা চলে যায় ইরানের দিকে । তাকে বলা হয় ইন্দ-ইরানিয় শাখা ।

ইন্দো ইওরোপিয় ভাষায় মোট দশ টি  ভাগ হয়েছে।

১) ইন্দো ইরানীয়

২) বাল্ট স্লাভিক

৩) আর্মেনিয়

৪) আলবেনীয়

৫) হিত্তিয়

৬) তুখারিয়

৭) গ্রীক

8) কেলটিক

৫) ইতালিক

৬) টিউটারিক

** **

**পাক ভারতে যে ভাষা আসে আর্য দের সঙ্গেঃ  **

খ্রিস্টপুর্ব ২৫০০ শতাব্দী আগে ইন্দ-ইরানিয় ভাষা ইন্ডিয়া এবং ইরানে চলে যায় ।

যেটা  ভারতে আসে তার নাম “প্রাচীন ভারতীয় আর্য ”  ।  তারাই প্রথম “আর্য ” যারা  ভারতে আসে।

ভারতের দক্ষিণে এই আর্য ভাষা যায় নিঃ

কেন যায় নি ?

কারন সেই দ্রাবিড় তাদের নিজস্ব ভাষা কে গুরুত্ব দিত বেশি । নিজেদের ভাষা, কালচার এবং ধর্ম বিসর্জন দিতে চায় নি । তাই এখনো তারা  দ্রাবিড় ভাষায় কথা বলে এবং সেখানে হিন্দী  চলে না।

তারা  “তামিল” বা “তেলেগু” দিয়ে কথা বলে। তারা  নিজস্ব ভাষা নিয়ে গর্ব বোধ করে।

বাংলা ভাষা গ্রুপ সাঁওতাল এবং মুন্ডারি ভাষা থেকে এসেছে।  তাই  বাংলা  ভাষাকে Austric- এশিয়াটিক ভাষা গ্রুপের মধ্যে ফেলা হয়।

**বলেন ভাষাবিজ্ঞানী সুকুমার সেন, ডঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ, সুনীতি কুমার চট্টপাদ্ধায় এবং ডঃ আহমেদ শামিম**

তবে পরে অনেক শব্দ হিন্দী এবং সংস্কৃত থেকে যোগ হয়েছে  আর্যরা এদেশে আসার পরে। খ্রিস্টপুর্ব ১৫০০ থেকে খ্রিস্টপুর্ব ৬০০  পর্যন্ত ভারতীয় আর্য বিকাশ লাভ করে।

**বাংলা ভাষার ইতিহাস **

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2026/01/Screen-Shot-2025-12-24-at-12.18.01.png)

প্রাচ্য থেকে এলো “মাগিধ  প্রাকিত” ।

“মাগিধ প্রাকৃত থেকে এলো “মাগিধ অপভ্রংশ” ।

মাগিধ অপভ্রংশ থেকে এলো “পুর্বী” এবং “পশ্চিমা” । “পুর্বী” থেকে এলো “বঙ্গ অসমীয়া” এবং “উড়িয়” ।

“বঙ্গ অসমীয়া” থেকে “বাংলা” ।”অসমীয়া” থেকে বাংলা ভাগ হয়ে গেল খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ  শতকে ।

বাংলা ভাষার সবচেয়ে পুরানো নিদর্শন “চর্যাপদ”। এই চর্যাপদ বাংলা ভাষায় লেখা হয়।

**মাগিধি প্রাকৃত ভাষার উদাহরণঃ **

*আহং ধর্মং শিখামি – আমি ধর্ম শিখছি  *

*ত্বং কুহি গচ্ছাসি – তুমি কোথায় যাচ্ছ *

*সঃ বুধং পূজয়তি – সে বুদ্ধকে পূজা করে *

*অহং গচ্ছামি -আমি যাচ্ছি *

*ত্বং  ভজনং করষি  -তুমি খাচ্ছ *

মধ্য যুগের বাংলাঃ শ্রী কৃষ্ণের পদাবলী

*“কালিয়া কাহ্ন কি হেরল তাঁহি মোর মুখখানি” *

*“কাহ্ন কাহ্ন করি বনে বনে মরি ” *

*“শুন রাই কৃষ্ণের বচন”*

চলবে

---

Comments: 2 — https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%9c%e0%a7%87%e0%a6%b0-3/#comments
