# “বঙ্গ” আর “বাঙ্গালি” শেকড়ের খোঁজে (বাঙ্গালির DNA)

Author: নার্গিস রশিদ
Published: 2026-01-04
Category: ইতিহাস ঐতিহ্য
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%86%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%9c%e0%a7%87%e0%a6%b0-2/

**“বঙ্গ” আরে “বাঙ্গালী”** 

**শেকড়ের খোঁজে ( বাঙ্গালীর DNA )** 

ডিএনএ (DNA) আমাদের কথা বলে ।

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2026/01/Screen-Shot-2025-12-31-at-16.40.46.png)

আমরা যেহেতু একটি মিশ্র জাতি । তাই আমাদের এই মিশ্রণে কে কে  আছে, কত পারসেন্ট আছে সব বলে দায় এই আধুনিক বিজ্ঞান ভিত্তিক পরীক্ষা টি ।

বাঙ্গালীর DNA রহস্য,  জিনগত গত তথ্য  প্রচলিত ধারনাকে নুতুন করে ভাবতে সাহায্য করে।

কি ভাবে?

বাঙ্গালী পরিচয় টি কোনো একক শ্রেণী থেকে আসেনি। তার পরিষ্কার বিশ্লেষণ এই জিনগত পরীক্ষা বলে দায় ।

বহু ধারা বহু প্রাচীন গোষ্টি একে একে এখানে এসেছে । তাই বাঙ্গালী একটি মিশ্র জাতি হয়ে মিশেছে এই বঙ্গে।

**কি ভাবে DNA এর বিশ্লেষণ হয়** 

তিন ভাবে হয়ঃ

১) অটোমেসান DNA,যা বাবা মা দুই জনের কাছ থেকেই পায়

২) মাইটোকন্দ্রিয়াল DNA (MT DNA) মাতৃকুলের ধারা । যা কেবল মায়ের কাছ থেকে আসে । তাই এটি মাতৃ পক্ষীয় বংশ পরিচয় ট্র্যাক করে ।

৩) Y ক্রোমোজোম DNA (Y-DNA) পিতৃ কুলের ধারা যা শুধু  বাবার থেকে ছেলের মধ্যে যায় এবং এটা দিয়ে পিতৃ পক্ষীয় বংশ পরিচয় জানা যায় ।

এই তিন সূত্র ধরে বিজ্ঞানীরা আমাদের পুর্ব পুরুষের যাত্রা পথের গল্প জানাতে চেষ্টা করে।

এই সূত্র ধরে বাঙ্গালীর জিনে কোন কোন জাতি গোস্টির উপাদান আছে তার ধারনা পাওয়া যায় ।

পুর্ব বঙ্গে মানুষের জিনে  অস্টৃক  (Asiatik – Austric) জিনের  আধিক্য বেশি আছে।

ভাষা গত ভাবে ভাষায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে । কিন্তু জিনগত ব্যাপার টি সব থেকে গেছে।

তার মানে বাঙ্গালি  প্রথমে যে ভাষায় কথা বলতো তা এখন আর বলে না। ক্রমাগত ভাবে তা পরিবর্তন হয়। তার মানে ভাষা দিয়ে জিন বিচার যাবে  না।

**ঠিক তেমন ধর্ম দিয়েও বাঙ্গালীর জিন বদল  হবে না।**  

**আমরা এক সময় হিন্দুও ছিলাম না মুসলমানও ছিলাম না। উভয় বাঙ্গালীর ধর্ম ছিল এই বঙ্গদেশে “প্রকৃতি”**

যা সাঁওতাল, মুনডা, কোঁচ,  ওরাও এদের মধ্যে এখনও থেকে গেছে । তাদের ছিল অনেক রকমের প্রথা ।

এখনও অনেক প্রথা সে হিন্দুই হোক আর মুসলমান হোক তা পালন করে।

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2026/01/Screen-Shot-2026-01-03-at-19.07.56.png) ![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2026/01/Screen-Shot-2026-01-03-at-19.10.28.png)১) পিঠা উৎসব ২) পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালির আদিম পরিচয়

যেমন বৈশাখী ,পৌষপার্বণ, হালখাতা, বনবিবি, বিয়েতে কাঁচা হলুদের ব্যাবহার, ধান ছিটিয়ে শুভ কাজ আরম্ভ , পান পাতা মাথায় রেখে বিয়ের বর বা কনেকে স্নান করানো,  নুতুন কিছু কে বরন করতে ধান বা চাল ছিটিয়ে বরন করার  প্রথা এখনো গ্রাম অঞ্চলে দেখা যায়। ।

 এখনো  নুতুন ধান কাটা উৎসব আমরা বাঙ্গালী হাজার হাজার বছর ধরে পালন করি ।

এখনও এই অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায় বট পাকুড়ের বিয়ে এবং পূজা, মনসা পূজা,শীতলা পূজা করে । যেখানে বামুন দরকার হয় না ।

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2026/01/Screen-Shot-2025-12-27-at-21.31.43.png) ![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2026/01/Screen-Shot-2025-12-27-at-21.33.01.png)১) ডাব আর আম পাতার ব্যাবহার ২) বট পাকুড়ের বিয়ে

দরজায় আম পাতা ঝুলিয়ে রাখা, পূজায় ধান দুর্বার ব্যাবহার, কলা এবং কলা গাছের ব্যাবহার ,পান পাতা এবং  নারকেলের ব্যাবহার করে যা সাঁওতাল , মুন্ডা তাদের মধ্যে এখনো চলমান এবং তা সাধারণ বাঙ্গালি পালন করে।

 কারন  বাঙ্গালীরা তাদের ধারক এবং বাহক। কারন এগুলো প্রকৃতি থেকে আসা এবং তারা প্রকৃতি পূজা করতো ।এই সব পূজা করতে বামুন ডাকার প্রচলন ছিল না।

এর পেছনের কারন হল বাঙ্গালি তার ফসল কে রক্ষা করতে বা ভালো ফসল পেতে প্রকৃতি কে স্মরণ করে । বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, তুফান আর জলোচ্ছ্বাস যেন তার ফসল

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2026/01/Screen-Shot-2026-01-03-at-19.13.11.png)ধান দুর্বা দিয়ে বরন করা

কে রক্ষা  করে আর জঙ্গলে যাওয়ার আগে বনবিবি বা বন দুর্গা যেন বাঘের আক্রমণ প্রতিহত করে।

চলবে
