# বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৩৩) “আমি টেলিফোন তাঁর হাতে তুলে দিয়ে বললাম, “বলে দেন খাজা সাহেবকে ইলেকশন হবে।” শহীদ সাহেব নাজিমুদ্দীন সাহেবকে টেলিফোন করে বললেন, “ইলেকশনই হবে। ।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।

- Author: [মারজানা ফেরদৌস রুবা](https://sonelablog.com/author/marjanaruba2979/)
- Published: 2016-08-20T13:54:02+00:00
- Updated: 2016-08-20T13:54:02+00:00
- Category: [এদেশ](https://sonelablog.com/category/this_country/), [খ্যাতনামা ব্যক্তি](https://sonelablog.com/category/%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%86%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ae-32/

---

![iDxJmGLYdGEv](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/01/iDxJmGLYdGEv1-300x252.jpg)

দিন তারিখ আমার মনে নাই, তবে ঘটনাটা মনে আছে। বিকালে কলকাতা এসেম্বলি পার্টি রুমে এমএলএ, এমএলসি ও লীগ নেতাদের বৈঠক হবে, সেখানে আপোস হবে। আমরাও খবর পেলাম। বেকার হোস্টেল ও অন্যান্য হোস্টেলে খবর দিয়ে দুই তিনশত ছাত্র নিয়ে আমিও উপস্থিত হলাম। দরজা বন্ধ করে সভা হচ্ছিল। আমি দরজায় যেয়ে বললাম, ” আমাদের কথা আছে, শুনতে হবে।” শেষ পর্যন্ত নেতারা রাজি হলেন। দরজাগুলি খুলে দিলেন। ছাত্ররা ভিতরে বসল। আমিই প্রথম বক্তা, প্রায় আধা ঘন্টা বক্তৃতা করলাম এবং শহীদ সাহেবকে বললাম, “আপোস করার কোন অধিকার আপনার নাই। আমরা খাজাদের সাথে কোন আপোস করব না। কারণ, ১৯৪২ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে নিজের ভাইকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। আবার তাঁর বংশের থেকে এগারজনকেকে এমএলএ বানিয়েছিলেন। এদেশে তারা ছাড়া আর লোক ছিল না? মুসলিম লীগে কোটারি করতে আমরা দিব না। আমরাই হক সাহেবের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, দরকার হয় আপনাদের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করব।” শহীদ সাহেবকে বাধ্য করে সভা থেকে উঠিয়ে নিয়ে চলে এসেছিলাম। আমার পরে ফজলুল কাদের চৌধুরী ও ফরিদপুরের লাল মিয়া সাহেবও আমাকে সমর্থন করে বক্তৃতা করেন। রাতে আমাদের সভা হল। আমরা প্রায় রাতভরই শহীদ সাহেবের সাথে রইলাম। শহীদ সাহেবের কাছে জনাব নাজিমুদ্দীন সাহেব জানতে চেয়েছেন, আপোস হবে কি না তাকে জানাতে। তিনি শহীদ সাহেবকে ফোনের মাধ্যমে অনুরোধ করলেন, আমরা বুঝতে পারলাম। শহীদ সাহেব বললেন, “যা হয় আগামীকাল সকাল নয়টার মধ্যে জানিয়ে দিব।” আমাদের সকাল আটটার মধ্যে তাঁর বাসায় আসতে বলে দিলেন। এই সময় নূরুদ্দিন, একরাম, নূরুল আলম, শরফুদ্দিন, জহির, আমরা প্রায় সকল সময় একসাথেই থাকি; ফজলুল কাদের চৌধুরী সাহেবও দলবল নিয়ে কলকাতায়ই ছিলেন। চট্টগ্রামের ছাত্রদের মধ্যে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন।

আমরা সকালে শহীদ সাহেবের বাড়িতে যথাসময়ে হাজির হলাম। তিনি রাতে অনেকের সাথে আলাপ করেছিলেন। তিনি আমাদের নিয়ে বসলেন, আমি তাঁর কাছেই বসলাম। শহীদ সাহেব বললেন, “বুঝতে পারছি না তোমরা পাঁচটা সিটই দখল করতে পারবে কি না? আমি বললাম, “স্যার, বিশ্বাস করেন আমরা নিশ্চয়ই জিতব, খোদার মর্জি থাকলে আমাদের পরাজিত হবার কোনো কারণ নাই।” আমি টেলিফোন তাঁর হাতে তুলে দিয়ে বললাম, “বলে দেন খাজা সাহেবকে ইলেকশন হবে।” শহীদ সাহেব নাজিমুদ্দীন সাহেবকে টেলিফোন করে বললেন, “ইলেকশনই হবে। যাই হোক না কেন, ইলেকশনের মাধ্যমেই হবে। সকলেই তো মুসলিম লীগার, আমরা কেন উপরের থেকে চাপাতে যাব।” নাজিমুদ্দীন সাহেব কি যেন বললেন । শহীদ সাহেব বললেন, “আর হয় না। আপনারা ভাল ব্যবহার করেন নাই।”

আমরা বিদায় নিয়ে চলে এলাম। রাতে জেলা প্রতিনিধিরা লীগ অফিসে আসলেন। একজনের কথা আমার বিশেষভাবে মনে আছে, তিনি হলেন নোয়াখালী জেলা মুসলিম লীগের সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান মোক্তার সাহেব। তিনি জেলার নেতাদের কাছে একটা চমৎকার বক্তৃতা করেন। সমস্ত নোয়াখালী জেলা শহীদ সাহেবের ভক্ত ছিল।

হাশিম সাহেবের নেতৃত্বে আমাদের অফিস ভালভাবে চলছিল। আমরা শিয়ালদহ ও হাওড়ায় লোক রাখলাম-কাউন্সিলারদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য, থাকার জায়গারও বন্দোবস্ত করলাম। ছাত্র কর্মীরা কলেজ হোস্টেল ছেড়ে বের হয়ে পড়েছে, যার যার জেলার কাউন্সিলারদের সাথে দেখা করার জন্য। দুই দিন পর্যন্ত রাতদিন ভীষণভাবে কাজ চলল। মওলানা রাগীব আহসান ও জনাব ওসমান সাহেব ছিলেন কলকাতা মুসলিম লীগের নেতা। কলকাতা মুসলিম লীগের সকলেই শহীদ সাহেবের ভক্ত। তারাও গাড়ী ও কর্মী নিয়ে প্রচারে নেমে পড়ল। সভার দিন দেখা গেল, শত শত কর্মী হাজির হয়ে গেছে। আমরা যারা কাউন্সিলের সভ্য তারা হলের ভিতরে চলে গেলাম, আর কর্মীরা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ক্যানভাস করতে লাগল। মাঝেমাঝে ‘শহীদ সোহরাওয়ার্দী জিন্দাবাদ’, ‘আবুল হাশিম জিন্দাবাদ’ ধ্বনি দিচ্ছিল।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান। (পৃষ্ঠা নং- ৪২ ও ৪৩)

---

Comments: 10 — https://sonelablog.com/%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%86%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%ae-32/#comments
